। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আর চেয়ে কোন জিনিস বেশি সম্মানিত নয়। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা কেবল 'ইমরান আল-কাত্তানের সূত্রেই মারফুরূপে অবগত হয়েছি। ইমরান আল-কাত্তান দাওয়ার-এর ছেলে তার উপনাম আবূল আওওয়াম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি ইমরান আল কাত্তান (রাহঃ) হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’আ হল ইবাদাতের মূল বা সার। এই শব্দে হাদীসটি যঈফ, রাওজুন নায়ীর (২/২৮৯), মিশকাত (২২৩১) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইবনু লাহীআর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি।
নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আই হল ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ) “এবং তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে তোমরা আহবান কর, আমি তোমাদের আহবানে সাড়া দিব। নিশ্চয় যে সকল লোক আমার ইবাদাত করতে অহংকার করে (বিরত থাকে), শীঘ্রই তারা ভৎসনার সঙ্গে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”— (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মানসূর ও আমাশ (রাহঃ) যার-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি কেবল যার-এর সনদেই অবগত হয়েছি। যার ইবনু আবদুল্লাহ আল-হামদানী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি উমার ইবনু যার-এর পিতা।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে যে লোক চায় না, আল্লাহ তা'আলা তার উপর নাখোশ হন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৭)। আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াকী এবং আরো অনেকে হাদীসটি আবূল মালীহ (রাহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি আমরা কেবল এই সূত্রেই অবগত হয়েছি। আবূল মালীহ-এর নাম সাবীহ। আমি মুহাম্মাদকে এ কথা বলতে শুনেছি। তাকে ফারিসীও বলা হয়। ইসহাক ইবনু মানসূর-আবূ আসিম হতে, তিনি হুমাইদ-আবূল মালীহ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহঃ-এর সাথেই ছিলাম। আমরা যখন ফিরে আসলাম এবং মাদীনার উপকণ্ঠে উপস্থিত হলাম তখন কিছু লোক উচ্চস্বরে তাকবীর বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পালনকর্তা বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের সৈন্য দলের সাথেই আছেন। তারপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু কাইস আমি কি তোমাদের জান্নাতের গুপ্তধন শিখিয়ে দিব না? তা হল “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮২৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবূ উসমান আন নাহদী-এর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। আবূ না'আমাহ আস্ সা'দীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা।
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক অতিরিক্ত বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য ইসলামের শারী'আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেনঃ সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা'আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকট বান্দাদের মধ্যে কে মর্যাদায় সবোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার অধিক পরিমাণে যিকিরকারীগণ। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারীর চেয়েও অধিক মর্যাদাশালী? তিনি বললেনঃ যদি কেউ নিজের তলোয়ার দিয়ে কাফির ও মুশরিকদের উপর এমনভাবে আঘাত হানে যে, তা ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং নিজেও রক্তাক্ত হয়ে যায়, তবে অধিক পরিমাণে আল্লাহ তা'আলার যিকিরকারী বান্দাগণ মর্যাদায় তার চেয়েও উত্তম। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু দাররাজের রিওয়ায়াত হিসেবে তা জেনেছি।
। আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ প্রসঙ্গে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক হতে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খাইরাত করার চেয়েও বেশি ভাল এবং তোমাদের শক্রর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে তোমাদের সংহার করা ও তোমাদেরকে তাদের সংহার করার চাইতেও ভাল? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার যিকর। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলার শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলার যিকরের তুলনায় অগ্রগণ্য কোন জিনিস নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯০)। কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত সনদে এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। কিছু বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে এটিকে মুরসাল হিসেবেও রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখনই কোন এক স্থানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ তা'আলার যিকরে মাশগুল হয়, তখনই ফেরেশতাগণ তাদের আবূত করে রাখে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার রহমত ও করুণা ছেয়ে ফেলে এবং তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। আর আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার সমীপে উপস্থিতদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) মসজিদে গেলেন। তিনি (মসজিদে কিছুলোক বসা দেখে তাদেরকে) বললেন, তোমাদের কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আমরা বসে বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার যিকরই কি বসিয়ে রেখেছে? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ আল্লাহ তা'আলার যিকরই আমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেন, শোন! তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে শপথ করাইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারীও কেউ নেই। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের এক দরবারে পৌছে বললেনঃ তোমাদেরকে কিসে বসিয়ে রেখেছে? তারা বলেন, এখানে বসে আমরা আল্লাহ তা'আলার যিকর করছি এবং তার প্রশংসা করছি, কেননা ইসলামের দিকে তিনিই আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন এবং ইসলামের মাধ্যমে আমাদের প্রতি বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এটাই তোমাদেরকে বসিয়ে রেখেছে কি? তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে শুধুমাত্র এটাই বসিয়ে রেখেছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের মিথ্যা বলার সন্দেহে আমি তোমাদেরকে কসম দেইনি। জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের সম্মুখে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি। আবূ না'আমাহ্ আস-সাদীর নাম 'আমর ইবনু ঈসা এবং আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মাল্ল।
জামে তিরমিজি 3380SahihSahihDaif
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعْنَى قَوْلِهِ تِرَةً يَعْنِي حَسْرَةً وَنَدَامَةً . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْعَرَبِيَّةِ: التِّرَةُ هُوَ الثَّأْرُ
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে সমস্ত লোক কোন দরবারে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা'আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তা'আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। তিরাতুন অর্থঃ আক্ষেপ, আফসোস। কোন কোন আরবী ভাষায় পারদর্শীগণ বলেছেন, এর অর্থ প্রতিশোধ। ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব হাফস্ ইবনু উমার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাকু বলেন, আমি আবূ মুসলিম আল-আগার-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা উভয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, অতঃপর উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি (আল্লাহ তা'আলার কাছে) কোন কিছু দুআ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার পরিপ্রেক্ষিতে তার হতে কোন অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা না করে। হাসানঃ মিশকাত (হাঃ ২২৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ ও উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 3382HasanHasanHasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَطِيَّةَ اللَّيْثِيُّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ وَالْكُرَبِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিপদাপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায় সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দের সময় বেশি পরিমাণে দুআ করে। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহঃ-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" অতি উত্তম যিকর এবং "আলহামদু লিল্লাহ" অধিক উত্তম দুআ। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮০০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধু মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে অবগত হয়েছি। আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ মূসা ইবনু ইবরাহিম হতে হাদীসটি রিওয়য়াত করেছেন।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিটি সময়েই আল্লাহ তা'আলার যিকর করতেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া ইবনু আবী যাইদার সনদে অবগত হয়েছি। আল-বাহীর নাম ‘আবদুল্লাহ।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখপূর্বক কারো জন্য দু'আ করলে প্রথমে তার নিজের জন্য দুআ করতেন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, গারীব সহীহ। আবূ কাতানের নাম আমর ইবনুল হাঈসাম।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করার সময় যখন তার উভয় হাত উঠাতেন, তিনি তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মর্দন না করা পর্যন্ত নামাতেন না। যঈফ, মিশকাত (২২৪৫), ইরওয়া (৪৩৩) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় আছেঃ তার মুখমণ্ডলে না মোছা পর্যন্ত হাত দু’খানা তিনি সরিয়ে নিতেন না। আবূ ঈসা বলেন; এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাম্মদ ইবনু ঈসার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একাকী। উপরন্ত তিনি অতিঅল্প সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী। লোকেরা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হানজালা ইবনু আবূ সুফিয়ান আল-জুমাহী একজন বিশ্বস্ত রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
জামে তিরমিজি 3387SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির দু'আই কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলতে থাকে, দু’আ তো করলাম অথচ আমার দুআ কবুল হয়নি। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৩৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উবাইদের নাম সাদ, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আযহারের মুক্ত খাদিম। তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)-এর খাদিম বলেও কথিত। আবদুর রহমান ইবনু আযহার হলেন আবদুর রহমান ইবনু আওফের চাচাত ভাই। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 3388Hasan SahihHasan SahihHasan SahihIsnaad Hasan
। উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে নাঃ “বিসমিল্লা-হিল্লায়ী লা ইয়াযুররু মা'আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরযি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম”। (অর্থঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে” যার নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”) আবান (রহঃ)-এর শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। (উক্ত হাদীস রিওয়ায়াতকালে) এক লোক (অধঃস্তন বর্ণনাকারী) তার দিকে তাকাতে থাকলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কি প্রত্যক্ষ করছো? শোন! আমি তোমার কাছে যে হাদীস রিওয়ায়াত করেছি তা অবিকল বর্ণনা করেছি। তবে আমি যেদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছি সেদিন ঐ দু'আটি পাঠ করিনি এবং আল্লাহ তা'আলা ভাগ্যের লিখন আমার উপর কার্যকর করেছেন। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলে, 'আল্লাহ তা'আলা আমার রব, ইসলাম আমার দীন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রাসূল হওয়ায় আমি সর্বান্তকরণে পরিতৃপ্ত আছি", তাকে পরিতৃপ্ত করা আল্লাহ্ তা'আলার করণীয় হয়ে যায়। যঈফ, নাকদুল কিত্তানী (৩৩৩৪) আল-কালিমুত-তায়্যিব (২৪), যঈফা (৫০২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আমরা রাতে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও রাতে উপনীত হল। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই"। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেনঃ “রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসাও তারই। সর্ববিষয়ে তিনি সর্বশক্তিমান। (হে আল্লাহ) তোমার নিকট আমি এ রাতের মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং এ রাতের পরে নিহিত মঙ্গল কামনা করি। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি এ রাতের অমঙ্গল এবং এ রাতের পরে সমস্ত অমঙ্গল হতে। তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই অলসতা ও বার্ধক্যের অনিষ্ট হতে। আমি তোমার কাছে আরো আশ্রয় চাই (জাহান্নামের) আগুনের আযাব ও কবরের শাস্তি হতে।” তিনি ভোরে উপনীত হয়েও একই দুআ করতেনঃ “আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তা'আলার বিশ্বজাহানও ভোরে উপনীত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য...। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৮২) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ (রহঃ)-ও উক্ত সনদে ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন ভোরে উপনীত হয় তখন সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার নির্দেশেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নির্দেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হয় তখন যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমেই সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই সকালে উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। আবার তোমার কাছেই পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে যেতে হবে"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
জামে তিরমিজি 3392SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছুর হুকুম দিন যা আমি সকালে ও বিকেলে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আকাশ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আমি আমার শরীরের ক্ষতি হতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও শিরকি কার্যকালাপ হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এই দু’আ সকালে, বিকেলে ও শয্যা গ্রহণকালে পাঠ করবে। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২), সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ তোমাকে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু'আ) আমি কি বলে দিব না? তা হলঃ “হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রভু, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমাকে তুমিই সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারে আমি দৃঢ় থাকব। আমি আমার কার্যকলাপের খারাপ পরিণতি হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নি’আমাতের কথা স্বীকার করি। আমি আরও স্বীকার করি আমার গুনাহের কথা। কাজেই আমার গুনাহগুলো তুমি ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সন্ধ্যাবেলায় এ কথাগুলো বললে, তারপর ভোর হওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। একইভাবে তোমাদের কেউ ভোরবেলায় তা বললে, তারপর সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্যও জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৭৪৭), বুখারী হাদীসটি “আমি কি তোমাকে বলে দিব না" অংশটুকু ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ, ইবনু উমার, ইবনু মাসউদ, ইবনু আবূযা ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল আযীয ইবনু আবী হাযিম হলেন আবূ হাযিম আয-যাহিদের ছেলে। এ হাদীসটি শাদদাদ ইবনু আওস হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3394SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু দুআ শিখিয়ে দিব না যা তুমি বিছানাগত হওয়ার সময় পাঠ করবে? তাহলে ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হলে ফিতরাতের (ইসলামের) উপরই মৃত্যুবরণ করবে। আর তুমি (জীবিত থাকলে) ভোরে উপনীত হলে মঙ্গল লাভ করবে। তুমি বল, “হে আল্লাহ! নিজেকে আমি তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমি আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। আমার সকল বিষয় আমি তোমার উপর সমর্পণ করলাম, তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় নিয়ে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম। তোমার হতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন আশ্রয়স্থল নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর আমি ঈমান এনেছি।" আল-বারাআ (রাযিঃ) বলেন, আমি (বিনাবিয়্যিকা-এর স্থলে) বিরাসূলিকাল্লায়ী আরসালতা (তুমি যে রাসূল প্রেরণ করেছ) বললাম। সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে নিজের হাত দিয়ে খোঁচা মেরে বললেনঃ ‘ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লায়ী আরসালতা বল। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৪১/২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। অন্যভাবেও আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। মানসূর ইবনুল মু'তামির-সাদ ইবনু উবাইদাহ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এতে উদ্ধৃত্ত আছেঃ “যখন তুমি বিছানাগত হওয়ার ইচ্ছা করবে, সে সময় উযূ অবস্থায় বলবে"। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব হাদীস।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন বিছানায় ডান কাতে শুয়ে বলেঃ “হে আল্লাহ! আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে তোমার নিকট সমর্পন করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পন করলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর ছেড়ে দিলাম, তোমার থেকে আশ্রয় নেয়ার স্থান তুমি ছাড়া আর কোথাও নেই, আমি তোমার কিতাব ও তোমার রাসূলের উপর ঈমান আনলাম", সে ঐ রাতে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। সনদ দুর্বল। “তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম" হাদীসে বর্ণিত এই অংশটুকু সহীহ হাদীসের বিরোধী। সহীহ (৩৩৯৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর হাদীস হিসাবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
জামে তিরমিজি 3396SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا وَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানাগত হতেন তখন (ঘুমানোর জন্য) বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, (সৃষ্টির অনিষ্ট হতে) আমাদের রক্ষা করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন (বিছানায়)। কিন্তু অনেক লোক আছে যাদের কোন রক্ষাকারী নেই এবং আশ্রয়স্থলও নেই"। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক (শোয়ার জন্য) বিছানাগত হয়ে তিনবার বলেঃ “আমি আল্লাহ আ'আলার নিকট মাফের আবেদন করি, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, এবং তার নিকট তাওবা করি", আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমতুল্য হয়ে থাকে, যদিও তা গাছের পাতার মত অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলার বালিরাশির সমান হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিনসমূহের সমসংখ্যক হয়। যঈফ, আল-কালিমুত তায়্যিব (৩৯), তা’লীকুর রাগীব (১/২১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উবাইদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফীর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, সে সময় তিনি নিজের (ডান) হাত মাথার নীচে রেখে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্রিত করবে অথবা পুনজীবিত করবে সেদিন আমাকে তোমার আযাব হতে হিফাযাতে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ২৭৫৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৩৭/৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ঘুমানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাতের উপর মাথা রাখতেন, তারপর বলতেনঃ “হে আমার প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে উত্থিত করবে, আমাকে সেদিন তোমার শাস্তি হতে নিরাপদে রেখ।" সহীহঃ সহীহাহ আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। সাওরী (রহঃ) উপরোক্ত হাদীস আবূ ইসহাক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যখানে অপর কোন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেননি। এ হাদীস শুবাহ (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ উবাইদাহ ও অপর লোক হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। ইসরাঈল (রহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাক আবূ উবাইদাহ হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে তিরমিজি 3400SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে হুকুম করতেন যে, আমাদের কেউ ঘুমানোর জন্য যখন বিছানাগত হয় সে সময় সে যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলীর প্রভু, মাটিসমূহের প্রভু, আমাদের প্রভু, প্রতিটি বস্তুর প্রভু, শস্যবীজ ও আঁটির অংকুরোদগমনকারী এবং তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর ক্ষতি হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। এগুলো তোমারই আয়ত্তাধীন, তুমিই শুরু, তোমার আগে কিছুই নেই। আর তুমিই শেষ, তোমার পরে কিছুই নেই। তুমিই প্রকাশিত, তোমার উপরে কিছুই নেই। তুমিই লুকায়িত, তোমার হতে কিছুই গোপন নয়। সুতরাং তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দাও এবং দরিদ্রতা হতে আমাকে সাবলম্বী করে দাও"। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার বিছানা হতে উঠার পর আবার বিছানায় প্রত্যাবর্তন করলে সে যেন তার লুঙ্গীর শেষাংশ দিয়ে বিছানাটি তিনবার পরিষ্কার করে নেয়। কারণ সে জানে না, তার অনুপস্থিতিতে তাতে কি পতিত হয়েছে (ময়লা বা ক্ষতিকর কিছু)। আর যখন সে শুয়ে পড়ে সে সময় যেন বলেঃ “হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমার পাশ্বদেশ আমি বিছানায় সোপর্দ করলাম এবং আবার তোমার নামেই তা উঠাব। যদি আমার জান তুমি রেখে দাও (মৃত্যু দান কর) তবে তার প্রতি দয়া কর, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তা সেভাবে প্রতিরক্ষা কর যেভাবে তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের প্রতিরক্ষা কর”। আর ঘুম হতে জেগে উঠে সে যেন বলেঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমার দেহকে হিফাযাত করেছেন এবং আমার জান আবার আমাকে ফেরত দিয়েছেন এবং তাকে স্মরণ করারও অনুমতি (তাওফীক) দান করেছেন”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৩৪), বুখারী ও মুসলিম “আর ঘুম থেকে জেগে” অংশ বাদে। এই অনুচ্ছেদে জাবির ও আয়িশাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর হাদীসটি হাসান। কোন কোন বর্ণনাকারী এই হাদীসের বর্ণনায় বলেছেনঃ “সে যেন তার লুঙ্গির (বিছানার) অভ্যন্তর ভাগ ঝেড়ে নেয়”।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, সে সময় “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযূ বিরব্বিল ফালাক" ও "কুল আউযূ বিরব্বিন নাস" (সূরা তিনটি) পাঠ করে হাত যথাসম্ভব সারা শরীরে মলতেন। তিনি মাথা, চেহারা ও দেহের সম্মুখের অংশ হতে আরম্ভ করতেন। তিনি তিনবার এরূপ করতেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
জামে তিরমিজি 3403SahihSahihHasan
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، رضى الله عنه أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَقُولُهُ إِذَا أَوَيْتُ إِلَى فِرَاشِي قَالَ " اقْرَأْْ : ( قلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ " . قَالَ شُعْبَةُ أَحْيَانًا يَقُولُ مَرَّةً وَأَحْيَانًا لاَ يَقُولُهَا . حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَهَذَا أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى زُهَيْرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَهَذَا أَشْبَهُ وَأَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ . وَقَدِ اضْطَرَبَ أَصْحَابُ أَبِي إِسْحَاقَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ قَدْ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ أَخُو فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ .
। ফরওয়াহ ইবনু নাওফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, যা আমি বিছানাগত হওয়াকালে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি "কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন" সূরাটি তিলাওয়াত কর। কারণ তা শিরক হতে মুক্তির ঘোষণা। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২০৯)। শুবাহ (রাহঃ) বলেন, তিনি (আবূ ইসহাক) কক্ষনো মাররাতান (একবার) শব্দটি সংযুক্ত করছেন, আরার কক্ষনো তা যোগ করেননি। তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল হতে, তিনি তার বাবা হতে এই সনদে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসেন.....তারপর উক্ত মর্মে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। এই সনদসূত্র অনেক বেশি সহীহ। এ হাদীস যুহাইর (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ সনদসূত্র শু'বাহর বর্ণিত সনদের তুলনায়, বেশি নির্ভরযোগ্য ও সহীহ। আবূ ইসহাকের শাগরিদগণ এ হাদীসের সনদে গড়মিল করেছেন। এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনু নাওফাল (রাহঃ) তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান হলেন ফরওয়া ইবনু নাওফালের ভাই।
জামে তিরমিজি 3404SahihSahihDaif
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُونُسَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ بِتَنْزِيلَ السَّجْدَةِ وَبِتَبَارَكَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى سُفْيَانُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَرَوَى زُهَيْرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ قُلْتُ لَهُ سَمِعْتَهُ مِنْ جَابِرٍ قَالَ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ جَابِرٍ إِنَّمَا سَمِعْتُهُ مِنْ صَفْوَانَ أَوِ ابْنِ صَفْوَانَ . وَرَوَى شَبَابَةُ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ نَحْوَ حَدِيثِ لَيْثٍ .
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা তানূয়ীলুস সাজদা ও তাবারাকা (আল-মুলক) না পাঠ করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২১৫৫), সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৫৮৫), রাওবুন নাৰীৰ (হাঃ ২২৭)। সুফইয়ান সাওরী প্রমুখ হাদীসটি লাইস হতে, তিনি আবু্য যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। উক্ত হাদীস যুহাইর আবূয যুবাইরের সনদে আপনি এটি প্রত্যক্ষভাবে জাবির (রাযিঃ)-এর কাছে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, না, প্রত্যক্ষভাবে আমি এটা জাবিরের নিকট হতে শুনিনি। আমি সাফওয়ান অথবা ইবনু সাফওয়ানের কাছে শুনেছি। শাবাবাহ (রাহঃ) মুগীরাহ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আবূয যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাষিঃ) হতে এই সনদে লাইসের হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে তিরমিজি 3405SahihSahihHasan
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الزُّمَرَ وَبَنِي إِسْرَائِيلَ . أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ أَبُو لُبَابَةَ هَذَا اسْمُهُ مَرْوَانُ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ وَسَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ سَمِعَ مِنْهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয-যুমার ও বনী ইসরাঈল সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। সহীহঃ ২৯২০ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেছেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদের মুক্তদাস মারওয়ান (রাহঃ) শুনেছেন এবং আবূ লুবাবাহ-এর নাম হল মারওয়ান তার নিকট হতে হাম্মাদ ইবনু যাইদ শুনেছেন।
। আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী " মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। তিনি বলতেনঃ এমন একটি আয়াত তাতে আছে যা হাজার আয়াত হতেও শ্রেষ্ঠ। হাসানঃ ২৯২১ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। বানী হানযালার কোন এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ)-এর সাথী হলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলতে শিখাতেন? “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি কাজে অবিচলতা, সৎপথে দৃঢ়তা, তোমার দেয়া নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা ও নিষ্ঠার সাথে তোমার ইবাদাত করার যোগ্যতা। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহবা ও বিশুদ্ধ অন্তর। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার জানা সকল মন্দ হতে এবং কামনা করি তোমার জানা সকল কল্যাণ। আমি ক্ষমা চাই তোমার জানা সর্বপ্রকারের অপকর্ম হতে। অবশ্যই তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞাত"। যঈফ, মিশকাত (৯৫৫), আল-কালি-মুত তায়্যিব (১০৪/৬৫) রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলতেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি বিছানাগত হওয়ার সময় আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের একটি সূরা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার নিরাপত্তার জন্য একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করেন। ফলে তার ঘুমভঙ্গ হওয়া পর্যন্ত কোন ৷ ক্ষতিকর জিনিস তার নিকট পৌছাতে পারবে না। যঈফ, মিশকাত (২৪০৫), তা’লীকুর রাগীব (১/২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা শুধু উক্ত সনদসূত্রে জেনেছি। জুরাইরীর নাম সাঈদ ইবনু ইয়াস আবূ মাসউদ আল-জুরাইরী। আবূল আ'লার নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর।
। ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার কাছে ফাতিমাহ (রাযিঃ) অভিযোগ করে যে, গম পেষার চাকতি ঘুরানোর ফলে তার প্রত্যেক হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে। আমি বললাম, তুমি তোমার বাবার (রাসূলুল্লাহর) কাছে গিয়ে যদি তার নিকট একটি খাদিম প্রদানের আবেদন করতে। (ফাতিমাহ আবেদন জানানোর পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের দু’জনকে এমন জিনিস কি বলে দিব না যা তোমাদের জন্য দাসের চেয়ে ভাল? তোমরা শয়নকালে ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ", ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ” এবং ৩৪ বার “আল্লাহু আকবার" বলবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। হাদীসে আরও ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং ইবনু আওনের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। এ হাদীসটি আলী (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3409SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ السَّمَّانُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَشْكُو مَجَلاً بِيَدَيْهَا فَأَمَرَهَا بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ফাতিমাহ (রাযিঃ) তার দু হাতে ফোস্কা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবর ও আলহামদুলিল্লাহ্ পাঠ করার হুকুম দেন। সহীহঃ যঈফ আদাবুল মুফরাদ (হাঃ ১০০/৬৩৫), বুখারী ও মুসলিম।
জামে তিরমিজি 3410SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি দুইটি অভ্যাসে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারলে সে নিশ্চিয় জান্নাতে প্রবেশ করবে। জেনে রাখ! উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত করা সহজ। সে অনুসারে অনেক অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই তা আমল করে থাকে। (এক) প্রতি ওয়াক্তের (ফরয) নামাযের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার "আলহামদুলিল্লাহ ও দশবার আল্লাহু আকবার বলবে। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি নামাযের পর স্বীয় হস্তে গণনা করতে দেখেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (পাঁচ ওয়াক্তে) মুখের উচ্চারণে একশত পঞ্চাশ বার এবং মীযানে (দাড়িপাল্লায়) দেড় হাজার হবে। (দুই) আর (ঘুমাতে) শয্যা গ্রহণকালে তুমি “সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদু লিল্লাহ" এক শত বার বলবে, ফলে তা মীযানে এক হাজারে রূপান্তর হবে। তোমাদের মাঝে কে এক দিন ও এক রাতে দুই হাজার পাঁচশত গুনাহে লিপ্ত হয়? (অর্থাৎ এতগুলো পাপও ক্ষমাযোগ্য হবে)। সাহাবীগণ বলেন, কোন ব্যক্তি সব সময় এরূপ একটি ইবাদাত কেন করবে না! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে অবস্থানরত থাকাকালে তার কাছে শাইতান এসে বলতে থাকে, এটা মনে কর ওটা মনে কর। ফলে সেই নামায়ী (শাইতানের ধোকাবাজির মাঝেই রত থাকা অবস্থায়) নামায শেষ করে। আর উক্ত তাসবীহ আমল করার সে সুযোগ পায় না। পুনরায় তোমাদের কেউ শোয়ার জন্য শয্যা গ্রহণ করলে শাইতান তার নিকট এসে তাকে ঘুম পাড়ায় এবং সে তাসবীহ না পাঠ করেই ঘুমিয়ে পড়ে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৯২৬)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ ও সাওরী (রাহঃ) আতা ইবনুস সায়িব (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীস আমাশ (রাহঃ) আতা ইবনুস সায়িব হতে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে যাইদ ইবনু সাবিত, আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 3411SahihSahihHasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، رضى الله عنهما قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ .
। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। সহীহঃ প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আ'মাশের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের পরে তিলাওয়াত করার মত এমন কিছু বিষয় আছে যে, যার তিলাওয়াতকারী কখনো বঞ্চিত হয় না। প্রতি ওয়াক্তের নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ' এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার' পাঠ করবে। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমর ইবনু কাইস আল-মুলাঈ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয। এ হাদীস শুবাহ (রহঃ) হাকাম (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তা মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। কিন্তু মানসূর ইবনুল মু'তামির (রহঃ) এ হাদীস হাকাম (রাহঃ) হতে মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক নামাযের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার "আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করতে আদিষ্ট হলাম। এক আনসারী ব্যক্তি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কোন এক ব্যক্তি তাকে বলছে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, ৩৩ বার তাহমীদ ও ৩৪ বার তাকবীর পাঠ করতে আদেশ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এগুলো তোমরা ২৫ বার করে পাঠ কর। আর তার সাথে ২৫ বার তাহলীল অর্থাৎ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' পাঠ কর। লোকটি সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাই কর। সহীহঃ ইবনু খুযাইমাহ (৭৫২)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ।
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতে জাগ্রত হয়ে যে লোক বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, সার্বভৌমত্ব তার, সকল প্রশংসা তার জন্য এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তা'আলা সম্পূর্ণ পবিত্র, আল্লাহ তা'আলাই সকল প্রশংসার অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ তা'আলা সুমহান। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ছাড়া অন্যায় হতে বিরত থাকার কিংবা ন্যায় কাজ করার শক্তি কারো নেই"। অতঃপর সে বলবে, “হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও”। কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে দু'আ করলে তা কবুল করা হয়। আর যদি সে সাহস করে উযূ করে নামায আদায় করে তবে তার নামাযও কবুল করা হয়। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। মাসলামা ইবনু আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উমাইর ইবনু হাণী প্রত্যেকদিন এক হাজার রাকাআত নামায আদায় করতেন এবং এক লক্ষবার তাসবীহ পাঠ করতেন। সনদ দুর্বল, বিচ্ছিন্ন
। রাবী'আহ ইবনু কাব আল-আসলামী (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের দ্বারদেশে আমি রাত যাপন করতাম এবং তার উয়ুর পানি সরবরাহ করতাম। রাতে আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বলতে শুনতাম, সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ (যে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে, তিনি তা শুনেন)। আমি আরো শুনতে পেলাম যে, দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তিনি আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলারই) বলছেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি ও জীবন লাভ করি"। তিনি ঘুম হতে উঠে বলতেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যিনি মৃত্যুদানের পর আমার এ দেহকে পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তার নিকটই ফিরে যেতে হবে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮০), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3418SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাঝরাতে বা গভীর রাতে (তাহাজ্জুদের) নামাযে দাড়াতেন সে সময় বলতেনঃ “হে প্ৰভু! সকল প্রশংসা তোমার জন্য, তুমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো এবং সকল প্রশংসার অধিকারী তুমিই। তুমিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছ। সকল প্রশংসা তোমার। তুমিই আকাশমণ্ডলী, দুনিয়া এবং উভয়ের মাঝখানের সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, তুমি সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য, (আখিরাতে) তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎলাভ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত (সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গটি) সত্য। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াককুল (নির্ভর) করেছি, তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি, তোমার জন্যই যুদ্ধ করি এবং তোমাকেই বিচারক মানি। সুতরাং আমার পূর্বের-পরের এবং লুকায়িত ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমার মা’বুদ, তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায শেষে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হতে রহমত ও দয়া আশা করি, এর দ্বারা তুমি আমার মনকে হিদায়াত দান কর, আমার সকল কাজ গুছিয়ে দাও, আমার অগোছাল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে দাও, আমার অজানা কাজকে সংশোধন করে দাও, আমার উপস্থিতিকে উন্নত কর, আমার কাজকর্ম পরিচ্ছন্ন করে দাও, সরল-সঠিক পথ আমাকে শিখিয়ে দাও, তোমার প্রতি আমার ভালবাসাকে বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খারাপ হতে আমাকে নির্বিঘ্ন রাখ। হে আল্লাহ! আমাকে ঈমান ও দৃঢ় প্রত্যয় দান কর, যার পরে আর যেন কুফর অবশিষ্ট না থাকে। আর তুমি আমাকে রহমত দান কর যার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমার মহান করুণার অধিকারী হতে পারি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দানের ব্যাপারে সাফল্য চাই, আরো আশা করি শহীদদের মত আতিথেয়তা, সৌভাগ্যবানদের জীবন এবং শক্রর বিরুদ্ধে সাহায্য। হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন তোমার নিকটেই পেশ করলাম। আমার বুদ্ধিমত্তা অক্ষম ও ক্রটিপূর্ণ এবং আমার কর্মতৎপরতা দুর্বল হওয়ায় আমি তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। অতএব আমি তোমার নিকটে আশা করি, হে সকল কাজকর্ম ফায়সালাকারী, বক্ষসমূহের আরোগ্যকারী আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হতে এমনভাবে দূরে সরিয়ে রাখ যেমন তুমি দুই সমুদ্রের মিলনকে প্রতিরোধ করে রাখ। তুমি আমাকে ধ্বংসকারী আহবান হতে ও কবরের সংকট হতে বিপদমুক্ত রাখ। হে আল্লাহ আমার ধারণায় যে কল্যাণের কথা আসেনি, আমার ইচ্ছায় ও প্রার্থনা যে পর্যন্ত পৌছাতে পারেনি, যে কল্যাণ তুমি তোমার কোন সৃষ্টিকে দান করার শপথ করেছ অথবা তোমার কোন বান্দাকে যে কল্যাণ তুমি দান করবে, হে বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী! তোমার দয়ার উসীলায় আমি সেই কল্যাণ আশা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মহাভীতির (কিয়ামতের) দিন নিরাপত্তা আশা করি এবং রুকূ-সিজদাকারী, তোমার নৈকট্য লাভকারী ও তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণকারী বান্দাদের সাথে চিরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা করি। নিশ্চয় তুমি অধিক দয়ালু ও অনুগ্রহপরায়ণ বন্ধু। তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হিদায়াতকারীদের ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তৰ্ভুক্ত কর, যারা বিপথগামীও নয় এবং বিপথগামীকারীও নয়, যারা তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে শান্তি স্থাপনকারী এবং তোমার শক্রদের সাথে শক্রতা পোষণকারী। যে তোমায় ভালোবাসে আমরা তোমার মুহাব্বাতে তাকে ভালোবাসি এবং শক্রতা বশতঃ যে তোমার বিরোধিতা করে, আমরা তার সাথে শক্ৰতা রাখি। হে আল্লাহ! এই আমার আরযি এবং এটা কুবুল করা তোমার ইচ্ছাধীন। এই আমার প্রচেষ্টা এবং তোমার উপরই আমার আস্থা। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে একটি নূর ঢেলে দাও। আমার কবরে নূর দাও, আমার সম্মুখে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে (দৃষ্টিশক্তিতে) নূর, আমার পশমে নূর, আমার চামড়ায় নুর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর এবং আমার হাড়ে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার নূরকে বৃদ্ধি কর, আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য স্থায়ী নূরের ব্যবস্থা কর। তিনিই (আল্লাহ) পবিত্র যিনি সম্মান ও মহত্বের চাদরে আবত এবং নিজের জন্য তাকে বিশিষ্ট করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র, যিনি সম্মানের পোষাক পরিহিত এবং মর্যাদার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনিই সুমহান, যিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য তাসবীহ পড়া উচিত নয়। তিনিই পবিত্র, যিনি সমস্ত দানের ও নিয়ামাতের অধিকারী, যিনি সুমহান ও মর্যাদাবান। পবিত্র তিনি যিনি মহিমাময় ও মহানুভব”। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইবনু আবূ লাইলার রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস এরকম জেনেছি। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) সালামা ইবনু কুহাইল হতে, তিনি কুরাইব হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন এবং এত দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেননি।
। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দণ্ডায়মান হতেন তখন কিসের মাধ্যমে নামায শুরু করতেন (তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে কি পাঠ করতেন)? তিনি বলেন, তিনি রাতে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করতে দাঁড়িয়ে তা আরম্ভ করে বলতেনঃ “হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাক”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৩৫৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3421SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার চেহারা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। "আমার নামায, আমার ইবাদাত (কুরবানী ও হাজ্জ), আমার প্রাণ ও আমার মৃত্যু জগতসমূহের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার জন্যই। তার কোন শরীক নেই এবং এ (ঘোষণা দেয়ার) জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিমদের দলভুক্ত"- (সূরা আন’আম ১৬২-৬৩)। হে আল্লাহ! তুমি রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তুমিই আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস। আমার নিজের উপর আমি অত্যাচার করেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে ভাল চরিত্রের পথনির্দেশ কর, তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সবচেয়ে ভাল চরিত্রের দিকে পথনির্দেশ করতে পারে না। তুমি আমার হতে মন্দ চরিত্র দূর করে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে তা দূর করতে পারে না। তোমার উপরে আমি ঈমান এনেছি। তুমি কল্যাণময়, সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি”। তারপর যখন রুকূ’ দিতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার খুশির জন্যই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাড় এবং আমার স্নায়ু তোমার জন্যই ঝুকে পড়েছে। তিনি রুকু হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমার প্রভু! আকাশমণ্ডলী ও সম্পূর্ণ জগৎসমূহ এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছু পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা এবং তুমি যা আকাঙ্ক্ষা কর সেটাও পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা”। তিনি সিজদাতে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আম্লাম, তোমার জন্যই ইসলাম কবুল করলাম। আমার মুখমণ্ডল তার জন্য সিজদা করল। যিনি আমার চেহারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে সুন্দর মুখমণ্ডল দান করেছেন এবং তা ভেদ করে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা কত মহান”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝখানের সময়ে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে যা কিছু আমি করেছি, তুমি তা ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ৭৩৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে তাহাজ্জুদ) নামাযে দণ্ডায়মান হতেন তখন বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি আমার মুখমণ্ডল তার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমণ্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” (সূরা আন’আম ৭৯)। "আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার প্রাণ, আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার জন্য। তার কোন অংশীদার নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”— (সূরা আন’আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ, তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই, তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার দাস। আমার আত্মার প্রতি আমি যুলুম করেছি এবং আমি আমার কৃত অন্যায় স্বীকার করেছি। সুতরাং আমার সকল অপরাধ তুমি ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। কেননা তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের রাস্তায় পরিচালিত করতে পারে না। আমাকে অপরাধ হতে তুমি ফিরিয়ে রাখ, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে খারাপ পথ হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তোমার সমীপে আমি উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য ও মঙ্গল তোমার আয়ত্তাধীন। আর খারাপের কিছুই তোমার দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। আমি তোমার জন্যই এবং তোমার নিকটেই আমার ফিরে আসা। তুমি মঙ্গলময় ও সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তিনি রুকূ’তে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। সুতরাং আমার কান, আমার চোখ, আমার সকল হাড় ও স্নায়ুগুলো তোমার জন্যই অবনমিত”। তিনি (রুকূ’ হতে) মাথা তুলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আকাশ, যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এ সকল পূর্ণ পরিমাণ”। তিনি সিজদাতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি সিজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা তার উদ্দেশে সিজদা করল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং (তা ভেদ করে) তার কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা বারাকাতময়”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে সবশেষে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য যে গুনাহ করেছি, যে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছি এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে, যা কিছু আমি (অন্যায়-অপরাধ) করেছি সে সব তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই"। সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3423Hasan SahihHasan SahihHasan SahihIsnaad Hasan
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয নামাযে দাড়াতেন তখন তার হাত দুইখানি তার কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন (রুকূতে যাওয়া ইচ্ছা করতেন) তখনও পুনরায় একই রকম করতেন (দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন), আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তার নামাযে কোথাও তিনি তার দু'হাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সিজদা্ সেরে (দুই রাকাআত শেষে) যখন উঠে দাড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তার দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামায আরম্ভ হতেই বলতেনঃ “একনিষ্ঠভাবে আমি তার দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- (সূরা আন’আম ৭৯)। আমার নামায, আমার ইবাদাত, আমার প্রাণ ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশে। তার কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”— (সূরা আন’আম ১৬২-১৬৩)। “হে আল্লাহ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করতে পারে না। তুমি আমার হতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হতে খারাপকে দূরীভূত করতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি"। তারপর তিনি কিরআত পাঠ করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক ও আমার হাড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার ভয়ে ভীত"। তিনি রুকু হতে মাথা তুলে বলতেনঃ “কেউ আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন"। এর সঙ্গে তিনি আরো বলতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সিজদাতে গিয়ে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সিজদা করেছে যিনি তা তৈরী করেছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা কত বারাকাতময়"। তিনি নামায শেষ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মা’বুদ, তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই"। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ৭২৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মতো ইমাম শাফিঈ ও আমাদের কিছু আলিম আমল করেন। ইমাম আহমাদ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করা প্রয়োজন মনে করেন না। কুফার অধিবাসী কিছু আলিম ও অপর আলিমগণ বলেন, এসব দু'আ নফল নামাযে পাঠ করবে, ফরয নামাযে নয়। আবূ ইসমাঈল আত-তিরমিয়ী (মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইউসুফ)-কে আমি বলতে শুনেছি, এ হাদীস আমি সুলাইমান ইবনু দাউদ আল-হাশিমীকে উল্লেখপূর্বক বলতে শুনেছি, এ হাদীস আমাদের কাছে যুহরী-সালিম হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত হাদীসের মতোই।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পেছনে নামায আদায় করছি। আমি সিজদা করলে আমার সিজদার মতো গাছটিও সিজদা করে। ঐ গাছটিকে আমি বলতে শুনলাম, “হে আল্লাহ! এ সাজদার বিনিময়ে আমার জন্য তোমার নিকট পুরষ্কার লিপিবদ্ধ কর, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ অপসারণ কর, আমার জন্য এটাকে পুঁজি হিসেবে জমা রাখ এবং এটাকে আমার পক্ষ হতে গ্রহণ কর, যেমন তুমি তোমার বান্দা দাউদ (আঃ) হতে গ্রহণ করেছিলে"। ইবনু জুরাইজ (রাহঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং সিজদা করলেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তাকে সেই গাছের একই রকম দুআ আমি তিলাওয়াত করতে শুনলাম, যে প্রসঙ্গে আগে লোকটি তাকে জানিয়েছিল। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১০৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সনদসূত্রে জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদাতে বলতেনঃ “সেই মহান সত্তার উদ্দেশে আমার মুখমণ্ডল সিজদা করল যিনি তাকে তৈরী করেছেন এবং নিজের প্রবল ক্ষমতায় তার মাঝে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করেছেন"। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ১০৩৫), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১২৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘর হতে কেউ বাইরে রাওয়ানা হওয়াকালে যদি বলে, “আল্লাহ তা'আলার নামে, আল্লাহ তা'আলার উপরই আমি নির্ভর করলাম, আল্লাহ তা'আলার সাহায্য ব্যতীত বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই”, তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তা'আলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, (অনিষ্ট হতে) তুমি হিফাযাত অবলম্বন করেছ। আর তার হতে শাইতান দূরে সরে যায়। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৪৪৩), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ৫৮/৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সূত্রেই অবগত হয়েছি।
। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বাইরে রাওয়ানা হতেন তখন বলতেনঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে, আল্লাহ তা'আলার উপর আমি নির্ভর করলাম। হে আল্লাহ আমরা পদস্খলন হতে কিংবা পথভ্রষ্টতা হতে কিংবা যুলুম করা হতে কিংবা অত্যাচারিত হওয়া হতে কিংবা অজ্ঞতাবশত কারো প্রতি মন্দ আচরণ হতে বা আমাদের প্রতি কারো অজ্ঞতা প্রসূত আচরণ হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' (রহঃ) বলেন, আমি মক্কায় পৌছালে আমার ভাই সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তার বাবা হতে, তার দাদার সনদে আমার কাছে হাদীস রিওয়ায়াত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বাজারে প্রবেশ করে বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সকল ক্ষমতা তারই, সমস্ত প্রশংসা তার জন্য, তিনিই প্রাণ দান করেন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তার হাতেই মঙ্গল এবং তিনিই সবসময় প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতার অধিকার", তার জন্য আল্লাহ তা'আলা দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার দশ লক্ষ গুণ সম্মান বৃদ্ধি করেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২২৩৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। এ হাদীস যুবাইর পরিবারের কোষাধ্যক্ষ আমর ইবনু দীনার সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাজারে গিয়ে বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, তিনিই সমস্ত কিছুর ক্ষমতার অধিকারী, সকল প্রশংসা তার তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তার হাতেই কল্যাণ, সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান,” আল্লাহ তা'আলা তার জন্য দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর তৈরি করেন। হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেনঃ এই আমর ইবনু দীনার বাসরার একজন আলিম। কিছু হাদীস বিশেষজ্ঞ তার সমালোচনা করেছেন। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম তায়িকী বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এতে তিনি উমর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” বললে সে সময় তার প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেনঃ আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক), তখন বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি এক। যখন বান্দা বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই), তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আমি এক, আমার কোন অংশীদার নেই। যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নেই, তারই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তার), তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্” (আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তক্ষনি আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আমি ছাড়া (আমার সহযোগিতা ব্যতীত) অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেনঃ যে লোক রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করল, তারপর মৃত্যুবরণ করল, জাহান্নামের আগুন তাকে ভক্ষণ করবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৭৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি শুবাহ (রহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি আল-আগারর আবূ মুসলিম হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উক্ত হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করেছেন। তবে হাদীসটি শুবাহ (রাহঃ) মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রের মতই বর্ণনা করেছেন।
উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন বিপদগ্রস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, তিনি যে বিপদে তোমাকে জড়িত করেছেন তা হতে আমাকে হিফাযাতে রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন", সে তার মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত অনিষ্ট হতে হিফাযাতে থাকবে। তা যে কোন বিপদই হোক না কেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৯২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। যুবাইর (রাযিঃ)-পরিবারের কোষাধ্যক্ষ আমর ইবনু দীনার বসরার অধিবাসী শাইখ (হাদীসবেত্তা), কিন্তু তিনি হাদীস শাস্ত্রে তেমন মজবুত নন। তিনি এককভাবে সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে কিছু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রাহঃ) হতেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন কেউ কোন বিপদগ্রস্ত লোক প্রত্যক্ষ করবে তখন সে মনে মনে তা হতে আল্লাহ তা'আলার নিকটে আশ্রয় চাইবে, যেন বিপদগ্ৰস্ত লোকটি তা শুনতে না পায়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্ৰস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করেছেন", সে উক্ত ব্যাধিতে কক্ষনো আক্রান্ত হবে না। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ২৭৩৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মাজলিসে বসে প্রয়োজন ছাড়া অনেক কথাবার্তা বলেছে, সে উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে যদি বলেঃ ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।’’ - “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই, তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”, তাহলে উক্ত মাজলিসে তার যে অপরাধ হয়েছিল তা ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৪৩৩)। এ অনুচ্ছেদে আবূ বারযাহ ও আয়িশাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে সুহাইলের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি অবগত হয়েছি।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারণ তুমিই তওবা কবুলকারী, ক্ষমাকারী”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮১৪)। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আবী উমার সুফইয়ান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সূক্বাহ হতে এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
জামে তিরমিজি 3435SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদকালে এই দুআ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু (মহান) ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীর প্রভু এবং মহা মর্যাদাবান আরশের প্রভু"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৩), বুখারী ও মুসলিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু আবী আদী হতে, তিনি হিমাশ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি আবূল আলিয়াহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আলী (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ভয়াবহ বিপদে পড়লে আকাশের দিকে নিজ মাথা তুলে বলতেনঃ মহান আল্লাহ খুবই পবিত্র”। আর যখন তিনি আকুতি সহকারে দু’আ করতেন তখন বলতেনঃ “হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী”। অত্যন্ত দুর্বল, আলকালিমুত তায়্যিব (১১৯/৭৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3437SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। খাওলা বিনতুল হাকীম আস-সুলামিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন জায়গায় অবতরণ করে বলে, “আমি আল্লাহ তা'আলার সম্পূর্ণ বাক্যের আশ্রয় প্রার্থনা করি তার সকল সৃষ্টির ক্ষতি হতে", সে উক্ত জায়গা ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৫৪৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এ হাদীস মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) ইয়াকুব ইবনুল আশাজ্জের সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু আজলান হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ হাদীস ইয়াকুব ইবনুল আশাজ্জের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) খাওলাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণনা করেছেন। ইবনু আজলানের বর্ণনার চাইতে লাইসের বর্ণনা অনেক বেশি বিশুদ্ধ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হতেন, সে সময় প্রথমে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন, তারপর নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। অধঃস্তন বর্ণনাকারী শুবাহ আঙ্গুল উঁচু করে ইশারা করে দেখিয়েছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে প্ৰভু! সফরে তুমি আমার সঙ্গী এবং আমার (অনুপস্থিতিতে) আমার পরিবার-পরিজনের (আমার) প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! মঙ্গল সহকারে তুমি আমাদের সঙ্গী হও এবং তোমার জামানতে আমাদেরকে ফিরাও। হে আল্লাহ! মাটিকে (সফরের দীর্ঘ পথ) আমাদের জন্য সংকুচিত করে দাও এবং সফর আমাদের জন্য সহজ কর। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি সফরের ক্লান্তি হতে এবং ফিরে আসার দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমি ইবনু আবী আদী-এর হাদীস হিসেবেই জানতাম। অতঃপর তা আমার নিকট সুয়াইদ ইবনু নাসর-আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি শু’বাহ (রাহঃ) হতে এই সনদে উক্ত মর্মের মত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। আমরা শুধু ইবনু আবী আদী হতে শুবাহর সনদে এ হাদীস অবগত হয়েছি।
জামে তিরমিজি 3439SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবদুল্লাহ ইবনুস সারজিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রাওয়ানা হতেন, সে সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি সফরে আমার সঙ্গী এবং আমার (অনুপস্থিতিতে) আমার পরিবার-পরিজনের তুমিই (আমার) স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! আমাদের সফরে তুমি আমাদের সাথী হও এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য আমাদের প্রতিনিধি হও। হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমরা সফরের ক্লান্তি, ফিরে আসার ব্যর্থতা, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, নির্যাতিতের অভিশাপ এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পত্তির প্রতি কু-দৃষ্টি হতে তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করি”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৮৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। অন্য এক বর্ণনায় “আল-কাওন”-এর স্থলে “আল-কাওর" এসেছে (অর্থ একই)। অর্থাৎ ঈমান হতে কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হতে আশ্রয় চাই অথবা আনুগত্যের পরিবর্তে গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন। এটাকে ভাল হতে খারাপের দিকে প্রত্যাবর্তন করা বুঝায়।
জামে তিরমিজি 3440SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) বলেন, সফর হতে প্রত্যাবর্তন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আমরা (সফর হতে হিফাযাতে) ফিরে আসা ব্যক্তি, তওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী।” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী আবূ ইসহাকু হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন কিন্তু আর-রাবী' ইবনুল বারাআ-এর উল্লেখ করেননি। শু'বাহুর বর্ণনাটিই অনেক বেশি বিশুদ্ধ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আনাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর হতে ফিরে এসে মাদীনার প্রাচীরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন এবং মাদীনার প্রতি মুহাব্বতের কারণে তার উষ্ট্রী দ্রুত হাকাতেন, আর অপর কোন পশু হলে তাও তাড়াতাড়ি চালাতেন। সহীহঃ বুখারী ৮৭৪ নং হাদীসের সংক্ষেপিত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, কোন লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় দেয়ার সময় তাকে নিজের হাতে ধরতেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে না ছাড়াতেন সে পর্যন্ত তিনিও তার হাত ছাড়তেন না। তিনি বলতেনঃ “তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারে আমি আল্লাহ তা'আলাকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম”৷ সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৬, ২৪৮৫), আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী (হাঃ ১৬৯/১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদ সূত্রে গারীব। এ হাদীস ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3443SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
। সালিম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন লোক সফরের উদ্দেশে রাওয়ানা হলে ইবনু উমার (রাযিঃ) তাকে বলতেন, আমার কাছে আস। আমি তোমাকে বিদায় সম্ভাষণ জানাব, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ৱিদায় সম্ভাষণ জানাতেন। তিনি বলতেনঃ “তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ "আমলের জন্য আমি আল্লাহ তা'আলাকে যিম্মাদার করলাম” ৷ সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ এবং সালিম ইবনু আবদুল্লাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
জামে তিরমিজি 3444Hasan SahihHasan SahihHasanIsnaad Hasan
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পাথেয় দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন। সে বলল, আরো বেশি দিন। তিনি বললেনঃ তোমার গুনাহ আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন। সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক! আমাকে আরো বেশি দান করুন। তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ তা'আলা) তোমার জন্য মঙ্গলকে সহজতর করুন, তুমি যেখানেই থাক। হাসান সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী (হাঃ ১৭০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, অতএব উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তুমি আল্লাহ তা'আলার ভয় (তাকওয়া) অবলম্বন করবে এবং প্রতিটি উচ্চ জায়গায় যাওয়ার সময় তাকবীর ধ্বনি দিবে। যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! তার পথের ব্যবধান কমিয়ে দাও এবং তার জন্য সফর সহজতর করে দাও”। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৭৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আলী ইবনু রাবী'আহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ)-এর কাছে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার নিকট আরোহণের জন্য একটি জন্তু আনা হল। তিনি পা দানীতে তার পা রেখে বললেন, “বিসমিল্লাহ"। তারপর তিনি তার পিঠের উপর ঠিকমত বসার পর বললেন, “আলহামদু লিল্লাহ", তারপর বললেন, “পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন, তা না হলে আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব”— (সূরা আয-যুখরুফ ১৩-১৪)। এরপর তিনি "আলহামদু লিল্লাহ্” তিনবার ও “আল্লাহু আকবার" তিনবার বললেন এবং আরো বললেনঃ “তুমি অত্যন্ত পবিত্র সত্তা, আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর, কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।” তারপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি কারণে হাসলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তা-ই করতে দেখেছি যা আমি করলাম। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি কারণে হাসলেন? তিনি বললেনঃ যখন বান্দা বলে, “হে আল্লাহ! আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না”, সে সময় আল্লাহ তা'আলা তার এ কথায় খুশি হন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৭২/১২৬), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৪২)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে রাওয়ানা হতেন তখন বাহনে আরোহণ করে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং আরো বলতেনঃ “অতি পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন, তা না হলে আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব”— (সূরা যুখরুফ ১৩-১৪)। তারপর তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার এ সফরে আমি তোমার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া এবং তোমার পছন্দনীয় কাজ করার তাওফীক প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের সফরটি আমাদের জন্য সহজসাধ্য করে দাও এবং আমাদের জন্য পথের ব্যবধান সংকুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমাদের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে তুমি আমাদের বন্ধু এবং আমাদের পরিজনের প্রতিনিধি হয়ে যাও।” তিনি সফর হতে পরিজনের কাছে প্রত্যাবর্তন করে বলতেনঃ ইনশা আল্লাহ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী এবং তওবাকারী, আমাদের রবের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি উক্ত সনদ সূত্রে হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন লোকের দুআ কবুল করা হয়। নির্যাতিতের দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং সন্তানদের উপর পিতার অভিশাপ। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৯৮, ১৭৯৭)। আলী ইবনু হুজর ইসমাইল ইবনু ইব্রাহীম হতে, তিনি হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর (রাহঃ) হতে এই সনদসূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এই রিওয়ায়াতে আছেঃ “মুসতাজাবাতুন লা শাক্কা ফাহিন্না" (কবুল করা হয়, তাতে কোন সন্দেহ নেই)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এই আবূ জাফার হলেন তিনি যার নিকট হতে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি আবূ জাফার আল-মুআযযিন নামেও পরিচিত। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর তার নিকট হতে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমরা তার নাম জানি না।
জামে তিরমিজি 3449SahihSahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى الرِّيحَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رضى الله عنه وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হতে দেখলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি এ বাতাসের মঙ্গল, এর মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং যে মঙ্গলসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা প্রার্থনা করি। আর এর ক্ষতিকর দিক, এর মাঝে নিহিত ক্ষতি এবং যে ক্ষতিসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ২৭৫৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও”। যঈফ, যঈফা (১০৪২), আল কালিমুত তায়্যিব (১৫৮১১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দুই লোক পরস্পরকে গালি-গালাজ করে। এমনকি তাদের একজনের মুখমণ্ডলের রাগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ ব্যক্তিটি যদি তা উচ্চারণ করত তবে অবশ্যই তার ক্রোধ চলে যেত। তা হলঃ “আমি বিতাড়িত শাইতান হতে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (হাঃ ৬৩৫), বুখারী (হাঃ ৬১১৫), মুসলিম (হাঃ ৮/৩০-৩১), সুলাইমান ইবনু সুরাদ হতে। এই অনুচ্ছেদে সুলাইমান ইবনু সুরাদ হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান (ইবনু আবূ লাইলা) হতে, তিনি সুফইয়ান (রহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি মুরসাল। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রাহঃ) মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে আদৌ হাদীস শুনেননি। কারণ মুআয (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন। আর যে সময় উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) শহীদ হন সে সময় আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা মাত্র ছয় বছরের বালক। শু'বাহ (রাহঃ) হাকাম হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলার সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রাহঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলার উপনাম আবূ ঈসা এবং তার পিতা আবী লাইলার নাম ইয়াসার। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক শত বিশজন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছি।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে থাকলে তা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে। অতএব সে যেন এজন্য আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে এবং যা সে দেখেছে তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে। আর সে এর বিপরীত মন্দ স্বপ্ন দেখলে তা শাইতানের পক্ষ হতে। অতএব সে যেন এর অনিষ্ট হতে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্য কারো নিকট তা ব্যক্ত না করে। তাহলে তাতে তার কোন অনিষ্ট হবে না। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬২), সহীহ আল-জামি" (হাঃ ৫৪৯, ৫৫০), বুখারী। এ অনুচ্ছেদে আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) কর্তৃক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। ইবনুল হাদ-এর নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উসামা ইবনুল হাদ আল-মাদীনী। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী। তার সনদে ইমাম মালিক প্রমুখ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে তিরমিজি 3454SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাহাবাগণ (তাদের বাগানে) সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (হাদীয়াহ স্বরূপ) নিয়ে আসত। ফলটি নিজ হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বারাকাত দাও, আমাদের শহরে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং আমাদের দাঁড়িপাল্লায় আমাদের বারাকাত দাও। হে আল্লাহ! ইবরাহীম নিশ্চয়ই তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নবী এবং আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তোমার নিকট তিনি মক্কা ভূমির জন্য দু'আ করেছিলেন। তোমার নিকট আমিও মাদীনার জন্য দু’আ করছি, যেভাবে তিনি মক্কার জন্য তোমার নিকট দু'আ করেছিলেন এবং আরও সম-পর্যায়ের"। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি কোন বালককে উপস্থিত দেখতে পেলে ফলটি তাকে দিয়ে দিতেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৩২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3455HasanHasanHasanDaif
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُمَرَ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ عَلَى مَيْمُونَةَ فَجَاءَتْنَا بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عَلَى يَمِينِهِ وَخَالِدٌ عَلَى شِمَالِهِ فَقَالَ لِي " الشَّرْبَةُ لَكَ فَإِنْ شِئْتَ آثَرْتَ بِهَا خَالِدًا " . فَقُلْتُ مَا كُنْتُ أُوثِرُ عَلَى سُؤْرِكَ أَحَدًا . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَطْعَمَهُ اللَّهُ الطَّعَامَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ . وَمَنْ سَقَاهُ اللَّهُ لَبَنًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ " . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ شَيْءٌ يَجْزِي مَكَانَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ غَيْرُ اللَّبَنِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ فَقَالَ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَرْمَلَةَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَمْرُو بْنُ حَرْمَلَةَ وَلاَ يَصِحُّ .
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাইমূনাহ (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। আমাদের জন্য তিনি এক পাত্র দুধ নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তা হতে) পান করলেন। তার ডান পাশে ছিলাম আমি এবং খালিদ ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি আমাকে বললেনঃ এখন তোমার পান করার পালা। তবে তুমি চাইলে তোমার উপর খালিদকে অগ্রাধিকার দিতে পার। আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্টে আমি আমার উপর কোন লোককে অগ্রাধিকার দিব না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা যাকে আহার করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ খাদ্যে বারাকাত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার আহার করাও।” আর আল্লাহ তা'আলা যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং এর চাইতেও বেশি আমাদেরকে দান কর।” এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মত দুধের বিকল্প কোন খাবার নেই। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৩২২)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী আলী ইবনু যাইদ কর্তৃক রিওয়ায়াত করেছেন এবং এক বর্ণনাকারীর নাম বলেছেনঃ উমার ইবনু হারমালাহ্। আবার কয়েকজন বর্ণনাকারী বলেছেন, 'আমর ইবনু হারমালাহ, আসলে এটা সঠিক নয়।
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হতে (খাবার শেষে) দস্তরখান তুলে নেয়া কালে তিনি বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, পবিত্র ও বারাকাতময় বিপুল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তা কখনো ছাড়তে পারব না এবং তা হতে অমুখাপেক্ষীও হতে পারব না”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩২৮৪), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খেতেন অথবা কিছু পান করতেন, তখন বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য, যিনি আমাদেরকে খাবার খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন এবং মুসলিমদের অন্তর্গত করেছেন"। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। সাহল ইবনু মু'আয ইবনু আনাস (রাযিঃ) হতে তার পিতার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আহার করার পর বলল, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে এটা আহার করিয়েছেন এবং এটা আমাকে রিযক দিয়েছেন, আমার তা লাভ করার প্রচেষ্টা বা শক্তি ব্যতীত”, তার আগের সকল অপরাধ ক্ষমা করা হয়। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩২৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ মারহুমের নাম আবদুর রহীম ইবনু মাইমূন।
জামে তিরমিজি 3459SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মোরগের ডাক শুনতে পেলে সে সময় আল্লাহ তা'আলার কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে। কেননা সে ফেরেশতাকে প্রত্যক্ষ করেছে। আর যখন তোমরা গাধার চীৎকার শুনবে তখন আল্লাই তা'আলার নিকট শাইতান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। কেননা সে শাইতানকে দেখেছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীর বক্ষে যে লোকই বলে, “আল্লাহু তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আল্লাহ সুমহান, খারাপকে রোধ করা এবং কল্যাণকে লাভ করার শক্তি আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কারো নেই", তার অপরাধগুলো মাফ করা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির ন্যায় (বেশি) হয়। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শুবাহ্ (রহঃ) আবূ বালজ হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন,তবে তা তিনি মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। আবূ বালজের নাম ইয়াহইয়া ইবনু আবী সুলাইম, তিনি ইবনু সুলাইম বলেও অবহিত। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ইবনু আবী আদী হতে, তিনি হাতিম ইবনু আবী সাগীরাহ হতে, তিনি আবু বালজ হতে, তিনি আমর ইবনু মায়মুন হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি আবূ বালজ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তা মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।
জামে তিরমিজি 3461SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। ফেরার কালে যখন আমরা মাদীনার উঁচু ভূমি পার হচ্ছিলাম সে সময় লোকেরা সজোরে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলনঃ তোমাদের প্রভু বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝেই আছেন এবং তোমাদের সওয়ারীর সম্মুখেই আছেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে 'আবদুল্লাহ ইবনু কাইস (আবূ মূসা)। আমি কি তোমাকে জান্নাতের অন্যতম রত্ন ভাণ্ডার সম্পর্কে জানাব না? তা হল “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। সহীহঃ সহীহ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। আবূ না'আমার নাম 'আমর ইবনু ঈসা। “তিনি তোমাদের মাঝে আছেন এবং তোমাদের বাহনের সম্মুখে আছেন” বাক্যাংশের মর্মার্থ এই যে, তার জ্ঞান ও কুদরত সব জায়গায় পরিব্যপ্ত।
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি'রাজের রাতে আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ" আপনার উম্মাতকে আমার সালাম পৌছিয়ে দিন এবং তাদেরকে জানান যে, জান্নাতের যমীন অতীব সুগন্ধি সমৃদ্ধ এবং সেখানকার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার"। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৫, ২৫৬), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১৫/৬), সহীহাহ (হাঃ ১০৬)। আবূ আইউব (রাযিঃ) কর্তৃকও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান এবং ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
জামে তিরমিজি 3463SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গে উপস্থিত সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমাদের কেউ কি এক হাজার নেকী অর্জন করতে অক্ষম? উপস্থিতদের একজন প্রশ্ন করলেন, আমাদের একজন কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ একশতবার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার ‘আমলনামায় এক হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার এক হাজার অপরাধ ক্ষমা করা হবে। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (একবার) বলে “সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়াবিহামদিহী”, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (হাঃ ২৪৩), সহীহাহ (হাঃ ৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবূয যুবাইর এর বরাতে জাবির (রাযিঃ) হতে অবগত হয়েছি।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বলে “সুবহানাল্লাহিল আযম ওয়াবিহামদিহী” (আমি মহান আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি) জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3466SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একশত বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” বলে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়, তা সাগরের ফেনারাশির সমপর্যায় হলেও। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী, বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3467SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দুটি বাক্য আছে যা মুখে উচ্চারণ করা অতি সহজ, ওজনে খুবই ভারী এবং করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নিকট অতি প্রিয়ঃ “সুবৃহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আমীম” (মহা পবিত্র আল্লাহ তা'আলা, তিনি মহামহিম, মহা পবিত্র আল্লাহ তা'আলা, সকল প্রশংসা তার জন্য)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক প্রত্যহ একশত বার বলেঃ “আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সকল প্রশংসা তার জন্য। তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন। সকল কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”, সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব পায়, একশত সাওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার (‘আমলনামা হতে) একশত গুনাহ মুছে ফেলা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে শয়তান হতে রক্ষা করা হয় এবং তার চাইতে উত্তম বস্তু নিয়ে আর কেউ আসবে না, তবে যে লোক উক্ত দুআ তার তুলনায় বেশী সংখ্যায় পাঠ করে তার কথা আলাদা। “প্ৰাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী পৃষ্ঠা (২৬) বুখারী ও মুসলিম ঐ অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত। একই সানাদসূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছেঃ “যে লোক একশতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” বলে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয় তা সাগরের ফেনারাশির চেয়ে বেশি হলেও। সহীহঃ এটা (৩৪৬৬) নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3469SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সকালে ও বিকালে একশত বার বলেঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী,” কিয়ামতের দিন তার চাইতে উত্তম (আমলকারী) আর কেউ হবে না। তবে যে লোক তার ন্যায় কিংবা তার চাইতে অধিক পরিমাণ তা বলে (সে উত্তম আমলকারী বলে গণ্য হবে)। সহীহঃ তাহ‘লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২২৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমরা “সুবৃহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহী” এক শতবার বল। যে ব্যক্তি তা একবার বলে তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখা হয় যে ব্যক্তি তা দশবার বলে তার এক শত সাওয়াব হয়। আর যে ব্যক্তি তা এক শতবার বলে তার জন্য এক হাজার সাওয়াব লিখা হয় এবং যে ব্যক্তি তা এর চেয়েও বেশি বলে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আরও অধিক সাওয়াব দান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান তিনি তাকে মাফ করেন। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (৪০৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার “সবুহানাল্লাহ" বলে সে এক শতবার হাজ্জ আদায়কারীর অনুরূপ। যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার "আলহামদু লিল্লাহ" বলে সে আল্লাহ্ তা'আলার পথে (জিহাদে) এক শত ঘোড়া দানকারীর মত অথবা তিনি বলেছেনঃ এক শত জিহাদে অংশ গ্রহণকারীর মত। যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে সে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বংশের এক শত দাস আযাদকারীর মত। আর যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার আল্লাহু আকবার" বলে, সেই দিনের মধ্যে তার চেয়ে আর কেউ অধিক কিছু (আমল) উপস্থাপন করতে পারবে না, তবে যে ব্যক্তি তার অনুরূপ সংখ্যায় পড়েছে অথবা তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় পড়েছে সে ছাড়া। মুনকার, যঈফা (১৩১৫), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৩১২), তা’লীকুর রাগীব (১/২২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3472Daif Isnaad MaqtuDaif Isnaad MaqtuIsnaad Hasan
। তামীমুদ-দারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দশবার বলে, “আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, তিনি একমাত্র ইলাহ এবং একক সত্তা, তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ, তিনি গ্রহণ করেননি কোন বিবি এবং কোন সন্তান, তার সমকক্ষ কেউ নেই", আল্লাহ তা'আলা (তার আমলনামায়) চল্লিশ লক্ষ সাওয়াব লিখে দেন। যঈফ, যঈফা (৩৬১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব, এই একটি মাত্র সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। আল-খালীল ইবনু মুররা হাদীসবেত্তাদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী) (রাহঃ) বলেন, তিনি পরিত্যক্ত রাবী।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর তার দুই পা ভাজ করা অবস্থায় (তাশাহহুদের অবস্থায়) কোন কথাবার্তা বলার পূর্বে দশবার বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসা তার জন্য, তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন, তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান”, তার আমলনামায় দশটি সাওয়াব লেখা হয়, তার দশটি গুনাহ মুছে ফেলা হয় এবং তার সম্মান দশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। সে ঐ দিন সব রকমের সংকট হতে নিরাপদ থাকবে এবং শাইতানের ধোকা হতে তাকে পাহারা দেয়া হবে এবং ঐ দিন শিরকীর গুনাহ ছাড়া অন্য কোন প্রকারের গুনাহ তাকে সংকটাপন্ন করতে পারবে না। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৬৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ আল-আসলামী (রহঃ) হতে তার বাবার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে তার দুআ এভাবে বলতে শুনেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি, তার সমকক্ষ কেউ নেই।" বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! নিঃসন্দেহে এই লোক আল্লাহ তা'আলার মহান নামের ওয়াসীলায় তার নিকটে প্রার্থনা করেছে, যে নামের ওয়াসীলায় দুআ করা হলে তিনি কবুল করেন এবং যে নামের ওয়াসীলায় প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৭)। যাইদ ইবনু হুবাব (রাহঃ) বলেন, উক্ত হাদীস কয়েক বছর পর আমি যুহাইর ইবনু মু'আবিয়াহর কাছে উল্লেখ করলাম। সে সময় তিনি বললেন, আমার কাছে আবূ ইসহাক মালিক ইবনু মিগওয়ালের সূত্রে তা রিওয়ায়াত করেছেন। যাইদ (রাহঃ) বলেন, তারপর এ হাদীস আমি সুফইয়ানের কাছে উল্লেখ করলে তিনিও আমাকে মালিক ইবনু মিগওয়ালের সনদে তা বর্ণনা করেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শারীক (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ হতে, তিনি তার পিতার সনদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর এ হাদীস আবূ ইসহাক আল-হামদানী মালিক ইবনু মিগওয়ালের সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি তার শাইখের নাম গোপন করেছেন। শারীক এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
জামে তিরমিজি 3476SahihSahihHasanHasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهَ صلى الله عليه وسلم " عَجِلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي إِذَا صَلَّيْتَ فَقَعَدْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ وَصَلِّ عَلَىَّ ثُمَّ ادْعُهُ " . قَالَ ثُمَّ صَلَّى رَجُلٌ آخَرُ بَعْدَ ذَلِكَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا الْمُصَلِّي ادْعُ تُجَبْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ وَأَبُو هَانِئٍ اسْمُهُ حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ وَأَبُو عَلِيٍّ الْجَنْبِيُّ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ .
। ফাযালাহ্ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বসা অবস্থায় ছিলেন। সে সময় জনৈক লোক মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করল, তারপর বলল, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার প্রতি দয়া কর"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে নামায়ী! তুমি তো তড়িঘড়ি করলে। যখন তুমি নামায শেষ করে বসবে সে সময় শুরুতে আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে এবং আমার উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকটে দু'আ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর অপর লোক এসে নামায আদায় করে প্রথমে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করল, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে নামাযী! এবার দুআ কর কবুল করা হবে। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৩১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ হাদীস হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহ আবূ হানী আল-খাওলানী হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ হানীর নাম হুমাইদ, ইবনু হানী এবং আবূ আলী আল-জান্বীর নাম আমর ইবনু মালিক।
জামে তিরমিজি 3477SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ الْجَنْبِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَجِلَ هَذَا " . ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ اللَّهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لِيَدْعُ بَعْدُ بِمَا شَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) বলেন, এক লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামাযের মাঝে দু'আ করতে শুনলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সে দরূদ পড়েনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তিটি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অপর কাউকে বললেনঃ তোমাদের কেউ নামায আদায় করলে সে যেন আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও তার গুণগান করে, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দুআ করে। সহীহঃ দেখুন পূর্বে বর্ণিত হাদীসটির পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3478HasanHasanHasan SahihIsnaad Hasan
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার মহান নাম (ইসমে আযম) এই দুই আয়াতের মাঝে নিহিত আছে (অনুবাদ) “আর তোমাদের মা’বুদ একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই। তিনি দয়াময়, অতি দয়ালু”(সূরা বাক্কারাহ ১৬৩)। আর সূরা আ-লি ইমরানের প্রারম্ভিক আয়াত (অনুবাদ) “আলিফ-লাম-মীম। তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী”- (সূরা আ-লি ইমরান ১-২)। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআ কর। তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয় অমনোযোগী ও অসাড় মনের দুআ কবুল করেন না। হাসানঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৫৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই আমরা এ হাদীস জানতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আমি আব্বাস আল-"আনবারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা আবদুল্লাহ ইবনু মু'আবিয়াহ আল-জুমাহী হতে হাদীস লিপিবদ্ধ কর। কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে দৈহিক সুস্থতা দান কর, আমার দৃষ্টি শক্তির সুস্থতা দান কর এবং উহাকে আমার উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও। আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহনশীল ও দয়ালু। মহান আরশের মালিক আল্লাহ তা'আলা অতি পবিত্র। বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণাকারী আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সকল প্রশংসা”। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আরও বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, হাবীব ইবনু আবূ সাবিত উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) হতে সরাসরি কিছুই শুনেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ফাতিমাহ (রাযিঃ) একটি খাদিম চাইলেন। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ, সাত আকাশের প্রতিপালক এবং মহান আরশের প্রভু, আমাদের প্রতিপালক এবং প্রতিটি বস্তুর পালনকর্তা, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী এবং শস্যবীজ ও আঁটির অংকুর উদগমনকারী! আমি এমন প্রতিটি জিনিসের অনিষ্ট হতে তোমার নিকটে আশ্রয় চাই যার মস্তকের অগ্রভাগের চুলগুলো তুমি ধরে রেখেছ (অর্থাৎ তোমার নিয়ন্ত্রণাধীন)। তুমিই শুরু, তোমার আগে কিছুই নেই। তুমিই শেষ, তোমার পরেও কিছুই নেই। তুমিই প্রবল ও বিজয়ী, তোমার উপর কিছুই নেই। তুমিই লুকানো, তুমি ছাড়া আর কিছুই নেই। অতএব আমার ঋণ তুমি মিটিয়ে দাও এবং দরিদ্রতা হতে আমাকে স্বাবলম্বী করে দাও”। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমাশের কিছু শাগরিদ তার সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে এই সনদে এটিকে মুরসালভাবে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি এমন মন হতে যা (তোমার ভয়ে) ভীত হয় না, এমন দুআ হতে যা শুনা হয় না (প্রত্যাখ্যান করা হয়), এমন আত্মা হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন জ্ঞান হতে যা কাজে আসে না। তোমার নিকট আমি এ চার জিনিস হতে আশ্রয় চাই”। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/৭৫-৭৬), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৪-১৩৮৫)ו এ অনুচ্ছেদে জাবির, আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে আবদুল্লাহ ইবনু 'আমূরের বর্ণনা হিসেবে হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে বললেনঃ হে হুসাইন! তুমি প্রতিদিন কত উপাস্যের পূজা-আৰ্চনা কর? আমার পিতা বললেন, সাতজন, ছয়জন এ মাটির দুনিয়াতে এবং একজন আকাশে। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এদের মধ্যে কার থেকে আশা ও ভীতি অনুভব কর? তিনি বললেন, যে আকাশে আছে তার হতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হুসাইন, আহা! যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে তাহলে আমি তোমাকে দুটি বাক্য শিখিয়ে দিতাম যা তোমার কল্যাণে আসত। রাবী বলেনঃ হুসাইন (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করার পর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে যে দুটি বাক্য শিখিয়ে দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন, এখন তা আমাকে শিখিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত নসীব কর এবং আমার নাফসের অনিষ্ট হতে আমাকে বাঁচাও”। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৭৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অনেকবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিম্নোক্ত বাক্যের মাধ্যমে দু'আ করতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তা হতে, অক্ষমতা ও অলসতা হতে, কৃপণতা ও ঋণের বোঝা হতে এবং মানুষের প্রাধান্য থেকে।" সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (হাঃ ৩৪৭), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৭৭-১৩৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আমর ইবনু আবী আমরের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত সনদে গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি অলসতা, বাৰ্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, মাসীহ দাজ্জালের পরীক্ষা এবং কবরের শাস্তি হতে।” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৭৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3486SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، - بَصْرِيٌّ - حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ . وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ . وَرَوَى شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ بِطُولِهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ يُسَيْرَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ اعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ " .
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার স্বীয় হস্তে গুণে গুণে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। সহীহঃ এটি ৩৪১১ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সনদে-আতা ইবনুস সায়িব হতে আ'মাশের বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব। এ হাদীস শুবাহ ও সুফইয়ান সাওরী আতা ইবনুস সায়িবের সনদে আরো দীর্ঘাকারে রিওয়ায়াত করেছেন। এ অনুচ্ছেদে ইউসাইরা বিনতু ইয়াসির (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মহিলা সম্প্রদায়! তোমরা আঙ্গুলে গুনে গুণে তাসবীহ পাঠ কর। কেননা ওগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা সাক্ষ্য দিবে।
জামে তিরমিজি 3487SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَادَ رَجُلاً قَدْ جُهِدَ حَتَّى صَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَهُ " أَمَا كُنْتَ تَدْعُو أَمَا كُنْتَ تَسْأَلُ رَبَّكَ الْعَافِيَةَ " . قَالَ كُنْتُ أَقُولُ اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي بِهِ فِي الآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّكَ لاَ تُطِيقُهُ - أَوْ لاَ تَسْتَطِيعُهُ أَفَلاَ كُنْتَ تَقُولُ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রোগাক্রান্ত লোকের খোজ-খবর নিতে গিয়ে দেখেন যে, সে রোগে জর্জরিত হয়ে একেবারে চড়ুই পাখির বাচ্চার ন্যায় ক্ষীণ হয়ে গেছে। তিনি তাকে বললেনঃ রোগমুক্তির জন্য তুমি কি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুআ করনি, তুমি কি তোমার প্রভুর কাছে শান্তি ও সুস্থতা কামনা করনি? সে বলল, আমি বলেছিলাম, “হে আল্লাহ! আমাকে তুমি আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা এ দুনিয়াতে আগেভাগেই দিয়ে দাও।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা সহ্য করার মত শক্তি-সামর্থ্য তোমার কোনটাই নেই। তুমি এভাবে কি বলতে পারলে নাঃ “হে আল্লাহ! দুনিয়াতেও আমাদেরকে মঙ্গল দান কর, আখিরাতেও মঙ্গল দান কর এবং জাহান্নামের অগ্নি হতে আমাদেরকে হিফাযাত কর?” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩২৯), মুসলিম, বুখারী শুধুমাত্র দু'আর অংশ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। “রাববানা আ-তিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাহ" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান (রহঃ) বলেনঃ দুনিয়ার কল্যাণ হল জ্ঞান ও ইবাদাত, আখিরাতের কল্যাণ হল জান্নাত। হাসান লিগাইরিহীঃ তাফসীর ত্বাবারী (৪/২০৫)। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না খালিদ ইবনুল হারিস হতে, তিনি হুমাইদ হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে উপরিউক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।
জামে তিরমিজি 3489SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাউদ (আঃ)-এর দু'আসমূহের একটি হল এই যে, তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার ভালোবাসা এবং যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা প্রার্থনা করি এবং এমন আমল করার সামর্থ্য চাই যা তোমার ভালোবাসা লাভ করা পর্যন্ত পৌছে দিবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার নিজের জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও ঠান্ডা পানির চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।” রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই দাউদ (আঃ)-এর আলোচনা করতেন তখনই তার প্রসঙ্গে বলতেনঃ তিনি সকল লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন। হাদীসে বর্ণিত, “দাউদ (আঃ) সমস্ত লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন” এই অংশটুকু মুসলিমে ইবনু উমার হতে বর্ণিত আছে। বাকী অংশ যঈফ, সহীহা (৭০৭), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-খাতমী আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু'আয় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে তোমার ভালোবাসা দান কর এবং ঐ ব্যক্তির ভালোবাসাও দান কর যার ভালোবাসা তোমার নিকটে আমার উপকারে আসবে। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আমাকে দান করেছ এটিকে আমার শক্তিতে পরিণত কর, তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আটকে রেখেছ সেটিকে তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য আমার অবকাশ বা সুযোগে পরিণত কর"। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ জাফর আল-খাতমীর নাম উমাইর, পিতা ইয়াযীদ এবং দাদা খুমাশা।
। শাকাল ইবনু হুমাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি বাক্য শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি (আল্লাহ তা'আলার নিকটে) আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার হাত ধরে তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার কানের অনিষ্ট, আমার চোখের (দৃষ্টির) অনিষ্ট, আমার জিহবার (কথার) অনিষ্ট, আমার মনের অনিষ্ট এবং আমার বীর্য অর্থাৎ লজ্জাস্থানের অনিষ্ট হতে”। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৪৭২), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র সাদ ইবনু আওস-এর বরাতে বিলাল ইবনু ইয়াহইয়া হতে অবগত হয়েছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশেই আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। রাতে আমি তাকে (বিছানা হতে) হারিয়ে ফেললাম। তাই (অন্ধকারে) তাকে আমি খুঁজতে থাকলাম। আমার হস্ত তার দু'পায়ের উপরে পড়ল। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তিনি বলছিলেনঃ “(হে আল্লাহ), আমি তোমার অখুশি হতে তোমার খুশির আশ্রয় চাই, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করা আমার সাধ্যাতীত, তুমি তেমন গুণেই গুণান্বিত যেভাবে তুমি নিজের গুণ উল্লেখ করেছ”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কুতাইবাহ-লাইস হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আরো আছেঃ “আমি তোমার (শাস্তি) হতে তোমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করতে আমি অক্ষম।”
জামে তিরমিজি 3494SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এ দু'আটি রাসূলুল্লাহঃ তাদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের কোন সূরা তাদেরকে শিক্ষা দিতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের শাস্তি হতে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা হতে। তোমার নিকট আমি আরো আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ।
জামে তিরমিজি 3495SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল বাক্য দিয়ে দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাইঃ জাহান্নামের বিপর্যয় ও জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি হতে, প্রাচুর্যের বিপর্যয়কর অনিষ্ট হতে, দরিদ্রতার বিপর্যয়কর অকল্যাণ হতে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফ-শিলা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেল, আমার মনকে সকল পাপ হতে পরিচ্ছন্ন কর যেমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেছ সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে এবং আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এতটা ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও যতটা ব্যবধান তুমি সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য, গুনাহে প্রলুব্ধকর বস্তু ও ঋণগ্রস্ততা হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3496SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার মৃত্যুবরণ কালে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং সুমহান সঙ্গীর সঙ্গে আমাকে মিলিত করুন"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলেঃ “হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে মাফ কর। হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমার প্রতি দয়া কর।” বরং সে যেন পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে কামনা করে। কেননা আল্লাহ তা'আলার উপর জবরদস্তকারী কেউ নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3498SahihSahihHasan SahihSahih - Bukhari And Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে আমাদের প্রভু দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “আমার কাছে যে দুআ করবে তার দুআ আমি কবুল করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট (কিছু) প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দিব। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ৪৪৬ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহ আল-আগার-এর নাম সালমান। এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ, জুবাইর ইবনু মুত্ব'ইম, রিফা'আহ আল-জুহানী, আবূদ দারদা ও উসমান ইবনু আবীল ‘আস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দুআ বেশি (শোনা) গ্রহণযোগ্য হয়? তিনি বললেনঃ শেষ রাতের মাঝ ভাগের এবং ফরয নামাযগুলোর পরবর্তী দুআ। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৭৬), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১১৩/৭০), তাহকীক সানী। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আবূ যার ও ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ ... “শেষ রাতের দু'আ বেশি উত্তম এবং কবুল হওয়ার আশা করা যায় কিংবা এরূপ কিছু বলেছেন”।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আজ রাতে আমি আপনার দু'আ শুনেছি। আমি তা হতে যা মনে রাখতে পেরেছি তা এই যে, আপনি বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার ঘর প্রশস্ত কর এবং তুমি আমাকে যে রিযিক দিয়েছ তাতে বারকাত দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, এ দু'আ কিছু বাদ দিয়েছে। যঈফ, দু'আট হাসান। রাওয়ূন নাযীর (১১৬৭), গায়াতুল মারাম (১১২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূ সালীলের নাম যুরাইব, পিতা নুকাইর অথবা নুফাইর।
। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকাল বেলায় উপনীত হয়ে বলে হে আল্লাহ। আমরা ভোরে উপনীত হলাম, আমরা তোমাকে সাক্ষী বানালাম, আরও সাক্ষী বানালাম তোমার আরশ বহনকারীদেরকে এবং তোমার ফিরিশতাগণকে ও তোমার সকল সৃষ্টিকে এই বিষয়ে যে, তুমিই অংশীদার নেই এবং মুহাম্মাদ তোমার বান্দা ও রাসূল", আল্লাহ তা'আলা তার সে দিনে সম্পাদিত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। আর সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে ঐ কথা বলে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার সেই রাতের কৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। যঈফ, আলকালিমুত তায়্যিব (২৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (২৩৯৮), যঈফা (১০৪১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে তার সাহাবীগণের জন্য দু'আ না করে হঠাৎ কোন মাজলিস হতে খুব কমই বিদায় হতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে তুমি এত পরিমাণ আল্লাহভীতি ভাগ কর যা আমাদের মাঝে ও তোমার প্রতি অবাধ্যাচারী হওয়ার মাঝে বাধা হতে পারে এবং আমাদের মাঝে তোমার প্রতি আনুগত্য এত পরিমাণ প্রদান কর যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌছে দিবে, এতটা দৃঢ় প্রত্যয় প্রদান কর যার মাধ্যমে তুমি পৃথিবীর যে কোন অনিষ্ট আমাদের জন্য সহজসাধ্য করবে, যতক্ষণ আমাদের তুমি জীবিত রাখ ততক্ষণ আমাদের কৰ্ণ, আমাদের চক্ষু ও আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে আমাদের জীবনোপকরণ দান কর (কিংবা আমাদের চোখ-কান মৃত্যু পর্যন্ত তাজা ও সুস্থ রাখ), আর তাকে আমাদের উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও। আমাদের উপর যে যুলুম করে তার প্রতি আমাদের প্রতিশোধ সুনির্ধারিত কর, আমাদের প্রতি যে দুশমনী করে তার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সহযোগিতা কর, আমাদের ধর্ম পালনে আমাদেরকে বিপদাক্রান্ত করো না, দুনিয়া অর্জনকে আমাদের ও আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশে রূপান্তর করো না এবং আমাদের প্রতি যে দয়া করবে না তাকে আমাদের উপর প্রভাবশালী (শাসক নিয়োগ) করো না”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২৫/১৬৯), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৪৯২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু আবী ইমরান হতে, তিনি নাফি' হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে তিরমিজি 3503Sahih IsnaadSahih IsnaadHasanIsnaad Hasan
। মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমাকে বলতে শুনলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুশ্চিন্তা, অলসতা ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! এটা তুমি কার নিকট শুনেছ? আমি বললাম, আমি এ বাক্যগুলো আপনাকেই বলতে শুনেছি। তিনি বললেন, তোমার জন্য এগুলোকে আবশ্যকীয় করে নাও। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ শব্দগুলো বলতে শুনেছি। সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না, যেগুলো তুমি বললে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করবেন, যদিও তুমি ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি বললেন, তুমি বলঃ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সম্মান সম্পন্ন, অতি মহান। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সহনশীল, অতি দয়ালু। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি পবিত্র, তিনি মহান আরশের মালিক"। আলী ইবনু খাশরাম (রাহঃ) বলেনঃ আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট একই রকম,হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হাদীসের শেষে বলেছেনঃ "আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক)। যঈফ, রাওযুন নায়ীর (৬৭৯-৭১৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ ইসহাক-আল-হারিস-আলী (রাঃ) সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নবী যুন-নূন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু'আ করেছিলেন তা হলঃ “তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত"- (সূরা আম্বিয়া ৮৭)। যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দু'আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ কবুল করেন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১২২/৭৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭৫, ৩/৪৩), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৯২)। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ কখনো বলেন, ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে। এ হাদীস একাধিক বর্ণনাকারী ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে, তিনি ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে তিনি সা'দ হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে “আন আবীহি" (তার বাবা হতে) উল্লেখ করেননি। কতিপয় বর্ণনাকারী, যেমন আবূ আহমাদ আয-যুবাইরী-ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে তারপর তারা প্রত্যেকে-ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ হতে তার বাবা সা'দ (রাযিঃ)-এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফের বর্ণনার মতই উল্লেখ করেছেন। ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক কখনো কখনো এ হাদীসটির সনদে “আন আবীহি" উল্লেখ করতেন। আবার কখনো তা উল্লেখ করেননি।
জামে তিরমিজি 3506SahihSahihHasan SahihHasan
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً غَيْرَ وَاحِدٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قَالَ يُوسُفُ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি নাম আছে অর্থাৎ এক কম এক শত। যে লোক এই নামসমূহ মুখস্থ করবে বা পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮), বুখারী ও মুসলিম। ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ বলেন, আব্দুল আলা হিশাম ইবনু হাসসান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮)। এ হাদীসে সেই নামগুলোর উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখনই জান্নাতের বাগানসমূহ পার হতে যাবে তখনই ওখান হতে পাকা ফল সংগ্রহ করবে। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগানসমূহ কি? তিনি বললেনঃ মসজিদসমূহ। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পাকা ফল সংগ্রহ করার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ "সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ মহাপবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান) বলা। যঈফ, যঈফা (১১৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পার্শ্ব দিয়ে যাবে সে সময় সেখান হতে পাকা ফল তুলে নিবে। লোকজন প্রশ্ন করল, জান্নাতের বাগানগুলো কি? তিনি বললেন, যিকরের মাজলিস। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ২৫৬২), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/৩৩৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং সাবিত-আনাস (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
জামে তিরমিজি 3511Sahih IsnaadSahih IsnaadHasanIsnaad Hasan
। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে অবশ্যই সে যেন বলেঃ ”নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তা'আলার এবং আমাদেরকে অবশ্যই তার দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আমার বিপদের প্রতিদান চাই। অতএব তুমি আমাকে এর প্রতিদান দাও এবং এর বিনিময়ে ভালো কিছু দান কর।” তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর মৃত্যু হাযির হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের জন্য আমার চাইতে উত্তম স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করে দাও”। তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করলে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, “আমরা আল্লাহ তা'আলার জন্য এবং আমাদেরকে তার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমার এই বিপদের প্রতিদান আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট পাওয়ার আশা করি। অতএব হে আল্লাহ! তুমি আমাকে প্রতিদান দাও”। সানাদ সহীহ। উম্মু সালামাহ হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর নাম আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল আসাদ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন দুআ সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার রবের নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা কর। তারপর সে দ্বিতীয় দিন তার নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন দুআ সর্বোত্তম তিনি তাকে আগের মতই উত্তর দেন। তারপর সে তার নিকট তৃতীয় দিন এলে তিনি আগের মতই উত্তর দেন এবং বলেনঃ যদি তুমি দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতের নিরাপত্তা লাভ করতে পার তাহলে মনে রেখো তুমি সফলতা লাভ করলে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৮৪৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। আমরা শুধু সালামা ইবনু ওয়ারদানের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি “লাইলাতুল কদর" জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেনঃ “তুমি বল, হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও" সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল মুত্তালিব ইবনু রবীআ ইবনুল হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) রাগান্বিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে যান। তখন আমি তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কিসে আপনাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথে কুরাইশদের কি হল? তারা নিজেরা যখন পরস্পর মিলিত হয় তখন উজ্জ্বল চেহারায় মিলিত হয়। কিন্তু তারা আমাদের (হাশিমীদের) সাথে এর বিপরীত অবস্থায় মিলিত হয়। রাবী বলেন, (এ বক্তব্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতই রাগান্বিত হন যে, তার মুখমণ্ডল রক্তিম রর্ণ ধারণ করে। তারপর তিনি বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান ঢুকতে পারে না, যাবত না সে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য আপনাদেরকে ভালোবাসে। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! যে কেউ আমার চাচাকে দুঃখ দিল সে যেন আমাকেই দুঃখ দিল। কেননা কোন লোকের চাচা তার পিতার সমান। “চাচা পিতৃস্থানীয়" অংশ ব্যতীত হাদীসটি যঈফ, আর ঐ অংশটুকু সহীহ, মিশকাত (৬১৪৭), সহীহা ৮০৬ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। যঈফ, মিশকাত (৬১৪৮), যঈফা (২৩১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু ইসরাঈলের সূত্রে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।
। আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজের ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার কাজে কল্যাণ দান করুন"। যঈফ, যঈফা (১৫১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু যানফালের রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। তিনি হাদীসবিদদের মতে যঈফ। তাকে যানফাল ইবনু আবদুল্লাহ আল-আরাফীও বলা হয়। কেননা তিনি ‘আরাফাত এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি এককভাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন পক্ষাবলম্বনকারী নেই।
। আবূ মালিক আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অযু ঈমানের অর্ধেক। আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ একসাথে আকাশমণ্ডলী ও যামীনের মধ্যবর্তী জায়গা ভর্তি করে দেয়। নামায হল নূর (জ্যোতি), সদাকাহ (দান-খাইরাত) হল (মুক্তির) দলীল এবং ধৈর্য ও সহনশীলতা হল আলোকবর্তিকা। কুরআন তোমার সপক্ষে অথবা বিপক্ষে সনদ বা সাক্ষ্যস্বরূপ। ভোরে উপনীত হয়ে প্রতিটি মানুষ নিজেকে বিক্রয় করে। (এর মাধ্যমে) সে নিজেকে হয় আযাদ করে অথবা ধ্বংস করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) মীযানের (দাড়িপাল্লার) অর্ধেক, "আলহামদুলিল্লাহ” মীযানকে পুরো করে দেয় এবং “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" ও আল্লাহ্ তা'আলার মাঝখানে কোন প্রকারের অন্তরায় বা বাধা নেই, এমনকি তা আল্লাহ তা'আলার নিকট পৌছে যায়। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৩১৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এর সনদসূত্র তেমন শক্তিশালী নয়।
। সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হতে অথবা তার হতে এসব বাক্য গুনে গুনে বলেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) হল মীযানের অর্ধেক, "আলহামদু লিল্লাহ" তাকে পূর্ণ করে দেয় এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আকাশ ও যমিনের মধ্যবর্তী জায়গা পরিপূর্ণ করে দেয়। রোযা সবর ও সহিষ্ণুতার অর্ধেক এবং পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। যঈফ, মিশকাত (২৯৬), তা’লীকুর রাগীব (২/২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী এ হাদীস আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাত দিবসে আরাফাতে অবস্থানকালে দুপুরের পর বেশিরভাগ সময় যে দু’আ পাঠ করতেন তা এই যে, “হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার যেভাবে তুমি বলেছ এবং আমরা যা বর্ণনা করি তার চেয়েও বেশি উত্তম। হে আল্লাহ! আমার নামায, আমার ইবাদাত (হাজ্জ ও কুরবানী), আমার জীবন ও আমার মরণ তোমার জন্য। পরিশেষে তোমার দিকেই আমার ফিরে আসা এবং আমার মালিকানা তোমার মালিকানাভুক্ত। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সহায়তা চাই কবরের শাস্তি, অন্তরের কুচিন্তা ও কাজ কর্মের অনিশ্চয়তা হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই বায়ু বাহিত ক্ষতি হতেও”। যঈফ, যঈফা (২৯১৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উক্ত সনদসূত্রে গারীব। এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দু'আই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অনেক দু'আই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিব না, যা সেই সকল দু'আর সমষ্টি হবে? তোমরা বলঃ “হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সেই কল্যাণ আশা করি যা তোমার নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার নিকট আশা করেছেন এবং আমরা তোমার নিকট সেই অনিষ্ট হতে রক্ষা চাই যে অনিষ্ট হতে তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই (কল্যাণ) পৌছিয়ে দাও। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার এবং কল্যাণ পৌছানোর আর কোন ক্ষমতাবান নেই"। যঈফ, যঈফা (৩৩৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। শাহর ইবনু হাওশাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-কে আমি বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছে অবস্থানকালে অধিকাংশ সময় কোন দু'আটি পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দু'আ পাঠ করতেনঃ “হে মনের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখ"। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অধিকাংশ সময় “হে মনের পরিবর্তনকারী! আমার মনকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখ” দু'আটি কেন পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামাহ! এরূপ কোন মানুষ নেই যার মন আল্লাহ তা'আলার দুই আঙ্গুলের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত নয়। যাকে ইচ্ছা তিনি (দ্বীনের উপর) স্থির রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা (দ্বীন হতে) বিপথগামী করে দেন। তারপর অধঃস্তন বর্ণনাকারী মুআয (রহঃ) কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) “হে আমাদের রব! আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার পর তুমি আমাদের অন্তরসমূহকে বাকা করে দিও না”। সহীহঃ যিলালুল জান্নাহ (হাঃ ২২৩)। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, নাওয়াস ইবনু সাম্'আন, আনাস, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও নু'আইম ইবনু হাম্মার (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-মাখযুমী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুশ্চিন্তা বা স্নায়ুবিক চাপের কারণে রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ কর তখন বল, “হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রতিপালক এবং যা কিছুর উপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত যমিনের প্রতিপালক এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শাইতানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদেরকে বিপথগামী করেছে। তুমি আমাকে তোমার সকল সৃষ্টিকুলের খারাবী হতে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনটি আমার উপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই"। যঈফ, আল-কালিমুত তায়্যিব (৪৭/৩৩), মিশকাত (২৪১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। হাকাম ইবনু জুহাইর পরিত্যক্ত রাবী। কিছু হাদীস বিশারদ তার হতে হাদীস গ্রহণ বাদ দিয়েছেন। এ হাদীসটি ভিন্নসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3524HasanHasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُكْتِبُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنِ الرُّحَيْلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، أَخِي زُهَيْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَرَبَهُ أَمْرٌ قَالَ " يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ " . وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلِظُّوا بِيَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَنَسٍ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে কঠিন কাজ হাযির হলে তিনি বলতেনঃ “হে চিরজীবি, হে চিরস্থায়ী! আমি তোমার রহমতের ওয়াসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করি”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১১৮/৭৬)। একই সনদসূত্রে আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সবসময় “ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম" পাঠ করাকে অপরিহার্য করে নাও। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৫৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3525SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْمُؤَمِّلُ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلِظُّوا بِيَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ بِمَحْفُوظٍ . وَإِنَّمَا يُرْوَى هَذَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَذَا أَصَحُّ وَمُؤَمِّلٌ غَلِطَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ وَلاَ يُتَابَعُ فِيهِ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সবসময় “ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম" (হে গৌরব ও মহত্ত্বের অধিকারী) পাঠ করাকে অপরিহার্য করে নাও। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এটা নির্ভরযোগ্য নয়। এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ। মুয়াম্মাল এ হাদীসের সনদে ক্রটি করেছেন এবং বলেছেন, হুমাইদ হতে, আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। এতে তার অনুসরণ করা হয়নি।
। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে থাকে, সে পার্শ্ব পরিবর্তন করার আগেই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ হতে যা কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে নিসন্দেহে তা দান করবেন। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/২০৭), মিশকাত (১২৫০), আল-কালিমুত তায়্যিব তাহকীক ছানী (৪৩/২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শাহর ইবনু হাওশাব হতে, তিনি আবূ যাবিয়্যা হতে, তিনি আমর ইবনু আবাসার সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি তার দু'আয় বলছেঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার সকল নিআমাত কামনা করি"। তিনি বলেনঃ সকল নিআমাত কি? সে বলল, আমি একটি দুআ করেছি যার উসীলায় কল্যাণ লাভের কামনা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্ণ নিয়ামাত হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশলাভ এবং জাহান্নাম হতে রেহাই। তিনি আরেক ব্যক্তিকে বলতে শুনেনঃ “হে মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী”। তিনি বললেনঃ তোমার দু’আ কবুল করা হবে, অতএব প্রার্থনা কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক ব্যক্তিকে বলতে শুনেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সবরের প্রার্থনা করি”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে দুরবস্থা প্রার্থনা করেছ, অতএব তার নিকটে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা কর। যঈফ, যঈফা (৪৫২০) আহমাদ ইবনু মানী ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম হতে তিনি আল-জুরাইরী (রহঃ)-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
। 'আমর ইবনু শু'আইব (রাযিঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে সে যেন বলেঃ “আমি আল্লাহ্ তা'আলার পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা আশ্রয় চাই তার ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তার বান্দাদের খারাবী হতে, শাইতানদের কুমন্ত্রণা হতে এবং আমার নিকট যারা হাযির হয় সেগুলো হতে।” তাহলে সেগুলো তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) তার সন্তানদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্কদের উক্ত দুআ শিখিয়ে দিতেন এবং উক্ত দুআ কাগজের টুকরায় লিখে তার নাবালেগ সন্তানদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু “উমার...... ঝুলিয়ে দিতেন" অংশটুকু বাদে হাদীসটি হাসান। আল-কালিমুত তাইয়্যিব (৪৮/৩৫)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ রাশিদ আল-হুবরানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ)-এর কাছে এসে আমি তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা কিছু শুনেছেন, তা হতে আমাদের কাছে কিছু বর্ণনা করুন। একখানা পাণ্ডুলিপি তিনি আমাকে দিলেন এবং বললেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখিয়ে দিয়েছেন। আবূ রাশিদ বলেন, তাতে আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলাম, তাতে লিখা আছে আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু (দু'আ) আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি সকালে ও বিকালে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! বলুন, “হে আল্লাহ, আকাশসমূহ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা! তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই, তুমি প্রতিটি বস্তুর পালনকর্তা ও মালিক। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিজের অন্তরের অনিষ্ট হতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও তার শিরকী হতে এবং আমি আমার নিজের জন্য ক্ষতিকর কিছু লাভ করা হতে কিংবা উক্ত অনিষ্টকর জিনিস কোন মুসলিমের কাছে টেনে নিয়ে যাওয়া হতে"। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২/৯), সহীহাহ (হাঃ ২৭৬৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3530SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আমর ইবনু মুররাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ ওয়ায়িল (রাহঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি। আমর বলেন, আবূ ওয়ায়িলকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কি সত্যিই এ হাদীস আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর কাছে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি তা মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও লুকায়িত সর্বপ্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন। আল্লাহ তা'আলার চাইতে বেশি প্রশংসাপ্রিয় আর কেউ নেই। এজন্যই নিজের প্রশংসা তিনি নিজেই করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ এই সনদ সূত্রে গারীব।
জামে তিরমিজি 3531SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি দুআ আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযের মাঝে পাঠ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে প্ৰভু! আমার সত্তার উপর আমি অনেক যুলম করেছি। তুমি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। অতএব আমাকে তুমি নিজগুণে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি করুণা কর। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী, অতীব দয়ালু"। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এটি লাইস ইবনু সা'দ হতে বর্ণিত হাদীস। আবূল খাইর-এর নাম মারসাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানী।
। মুত্তালিব ইবনু আবী ওয়াদাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আব্বাস (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলেন, মনে হয় তিনি যেন কিছু শুনতে পেয়ে মিম্বারে আরোহন করলেন। অতঃপর বললেনঃ কোন ব্যক্তি প্রত্যাবর্তন (তাওবা) করেছে? সাহাবাগণ বললেনঃ আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক। তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু আদিল্লাহ ইবনি আবদিল মুত্তালিব। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি কুলকে সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম দলকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি উত্তম গোত্রকে বিভিন্ন ঘরে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ঘর ও উত্তম বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। যঈফ, যঈফা
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে হঠাৎ পাতাগুলো ঝরে পরে। অতঃপর তিনি বললেনঃ কোন বান্দা “আলহামদুলিল্লাহ", "সুবহানাল্লাহ" এবং “লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার, আল্লাহ তা'আলা অতি পবিত্র এবং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই, তিনি অতি মহান) বললে তা তার গুনাহগুসমূহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়েছে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
। উমারাহ ইবনু শাবীব আস-সাবায়ী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাগরিবের নামাযের পর যে লোক দশবার বলেঃ “আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সমস্ত কিছুই তার এবং তিনিই সকল প্রশংসার অধিকারী, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন এবং প্রতিটি জিনিসের উপর তিনিই মহা ক্ষমতাশালী”, আল্লাহ তা'আলা তার নিরাপত্তার জন্য ফেরেশতা পাঠান যারা তাকে শায়তানের ক্ষতি হতে ভোর পর্যন্ত নিরাপত্তা দান করেন, তার জন্য (আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ) অবশ্যম্ভাবী করার ন্যায় দশটি পুণ্য লিখে দেন, তার দশটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ বিলুপ্ত করে দেন এবং তার জন্য দশটি ঈমানদার দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। হাসানঃ সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/১৬০/৪৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু সা'দের সনদেই জানতে পেরেছি। উমারাহ ইবনু শাবীব প্রত্যক্ষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
। যির ইবনু হুবাইশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মোজাদ্বয়ের উপর মসিহ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার উদ্দেশে আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাযিঃ)-এর কাছে আগমন করলাম। তিনি বললেন, হে যির! তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, জ্ঞানের অন্বেষা! তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার ফেরেশতাগণ জ্ঞানের অন্বেষায় খুশি হয়ে জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। আমি বললাম, আমার মনে একটা দ্বিধাদ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছে মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার উপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে। আর আপনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী। তাই আপনাকে আমি প্রশ্ন করতে এসেছি যে, এ প্রসঙ্গে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি নির্দেশ দিতেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় থাকলে এবং নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত যেন আমাদের মোজাদ্বয় না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ এবং ঘুমানোর কারণে তা খোলার দরকার নেই, বরং শুধু তার উপর মাসেহ করলেই চলবে। যির (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, মহব্বত (ভালবাসা) প্রসঙ্গে আপনি কি তাকে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন আমরা তার নিকটেই ছিলাম, এমন সময় এক বেদুঈন উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিয়ে বলে, হে মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার ন্যায় একই রকম উচ্চ শব্দে তার ডাকে জবাব দিলেনঃ আস। সেই বেদুঈনকে আমরা বললাম, তোমার অমঙ্গল হোক, তোমার কণ্ঠস্বর নীচু কর। কেননা তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আছ। নবীর সম্মুখে তোমাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে (কুরআনে)। লোকটি বলল, আল্লাহর শপথ! আমি নীচু স্বরে কথা বলতে পারি না। এবার সে বলল, এক লোক এক গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন লোক যাকে ভালবাসে কিয়ামতের দিন সে তার সঙ্গেই থাকবে। তারপর তিনি আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে তিনি পাশ্চাত্যে অবস্থিত একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যা এত দীর্ঘ যে, একটি সওয়ারীর সেই দরজার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পার করতে চল্লিশ কিংবা সত্তর বছর সময় লাগবে। সুফইয়ান (রাহঃ) বলেন, পাশ্চাত্যের সেই দরজা সিরিয়ার দিকে অবস্থিত। যে দিন আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও যামীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন ঐ দরজাও সৃষ্টি করেছেন। তা তাওবার জন্য খোলা রয়েছে। পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তা রুদ্ধ করা হবে না। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (৪/৭৩), ৯৬ নং হাদীসে এর অংশ বিশেষ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3536Hasan IsnaadHasan IsnaadHasan SahihIsnaad Hasan
। যির ইবনু হুবাইশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাযিঃ)-এর কাছে আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, জ্ঞানের সন্ধানে। তিনি বললেন, আমি অবগত হয়েছি যে, জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ তার জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন। যির (রাহঃ) বলেন, মলমূত্র ত্যাগের পর মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করা প্রসঙ্গে আমার মনে একটা দ্বিধার সঞ্চার হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আপনি এ প্রসঙ্গে কিছু জানেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদেরকে তিনি হুকুম দিয়েছেন যে, আমরা সফররত অবস্থায় নাপাকির গোসলের প্রয়োজন না হলে যেন তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত আমাদের মোজা না খুলি। মলমূত্র ত্যাগ ও ঘুমানোর কারণেও তা খোলার প্রয়োজন নেই। যির (রাহঃ) বলেন, আমি পুনরায় বললাম, আপনি ভালবাসা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু জানেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। লোকদের একেবারে পেছন হতে এক লোক খুব উচ্চস্বরে তাকে ডাক দিল। লোকটি নির্বোধ বেদুঈন ও রুক্ষ ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! লোকেরা তাকে বলল, থাম! এভাবে আল্লাহ তা'আলার নবীকে সম্বোধন করতে তোমাকে (কুরআনে) বারণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাকে তার ন্যায় উচ্চস্বরে উত্তর দিলেনঃ আস। লোকটি বলল, এক লোক কোন গোত্রকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের সঙ্গে সে মিলিত হতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন লোক যাকে ভালবাসে সে তার সাথী হবে। যির (রাহঃ) বলেন, আমার সঙ্গে সাফওয়ান (রাযিঃ) অবিরত কথা বলে যাচ্ছিলেন। পরিশেষে তিনি আমাকে বললেন, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা তাওবার জন্য পাশ্চাত্যে একটি দরজা রেখেছেন, যার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তের ব্যবধান সত্তর বছরের। সূর্য সেদিক হতে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সেই দরজা বন্ধ হবে না। আর সে কথার প্রমাণ প্রাচুর্যময় মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী (অনুবাদ) “এমন একদিন সংঘটিত হবে যে দিন তোমার প্রভুর কিছু নিদর্শন আসবে, সেই দিন কোন লোকের ঈমান তার কাজে আসবে না যে আগে কখনো ঈমান আনেনি”। সানাদ সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া (মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত) পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবা কবুল করেন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু সনদে উক্ত মর্মের একই রকম বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3538SahihSahihHasan SahihSahih - Bukhari And Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার হারানো মাল ফিরে পেলে যতটা আনন্দিত হয়, তোমাদের কারো তাওবায় (ক্ষমা প্রার্থনায়) আল্লাহ তা'আলা তার চাইতে বেশি আনন্দিত হন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৪৭), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ, নুমান ইবনু বাশীর ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদে আবূয যিনাদ হতে বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উক্ত হাদীসটি মাকহুল হতে স্বীয় সনদে আবূ যার (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত
জামে তিরমিজি 3539SahihSahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، قَاصِّ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي صِرْمَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ قَالَ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَدْ كَتَمْتُ عَنْكُمْ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْلاَ أَنَّكُمْ تُذْنِبُونَ لَخَلَقَ اللَّهُ خَلْقًا يُذْنِبُونَ وَيَغْفِرُ لَهُمْ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عُمَرَ، مَوْلَى غَفْرَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। আবূ আইউব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় বলেন, তোমাদের হতে আমি একটি বিষয় লুকিয়ে রেখেছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমি শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা যদি গুনাহ না করতে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা এমন এক দলের আবির্ভাব করতেন যারা গুনাহ করত, তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মাফ করতেন। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ৯৬৭-৯৭০, ১৯৬৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। কুতাইবাহ আবদুর রহমান ইবনু আবূয যিনাদ হতে, তিনি গুফরার মুক্ত দাস উমার হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আল-কুরায়ী হতে, তিনি আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১২৭, ১২৮), রাওযুন নাযীর (হাঃ ৪৩২), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৩৩৬), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
জামে তিরমিজি 3541SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন, তা হতে কেবল একটি রহমত তার সৃষ্টিকুলের মাঝে রেখেছেন, তার মাধ্যমে তারা একে অপরের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করে। আর বাকি নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪২৯৩, ৪২৯৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সালমান ও জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সুফিয়ান আল-বাজালী (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3542SahihSahihSahih - Bukhari And Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুমিন বান্দা অবগত থাকত যে, কি ভীষণ শাস্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে তৈরী রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশের, কামনা করত না। আর যদি কাফির লোক অবগত থাকত যে, আল্লাহর কাছে কি অপরিসীম দয়া রয়েছে তাহলে কেউই জান্নাতে প্রবেশে আশাহত হত না। সহীহঃ সহীহাহ (১৬৩৪), বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উক্ত হাদীস আমরা শুধুমাত্র 'আলা ইবনু আবদুর রহমান হতে তাঁর বাবার বরাতে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে অবগত হয়েছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন, সে সময় নিজের হাতে নিজের উপর অনিবার্য করে লিখে নিয়েছেনঃ আমরা রহমত আমার ক্রোধের উপর বিজয়ী থাকবে। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৮৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, সে সময় এক লোক নামায আদায় করে দু'আ করছিল এবং সে তার দু'আয় বলছিলঃ “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই, তুমি পরম অনুগ্রহকারী, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অসীম ক্ষমতাবান ও মহাসম্মানিত।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো আল্লাহ তা'আলার নিকট সে কিসের মাধ্যমে দুআ করেছে? সে আল্লাহ তা'আলার নিকটে তার মহান নাম এর মাধ্যমে দু'আ করেছে। যে নামে দুআ করা হলে তিনি তা কবুল করেন এবং ঐ নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব। আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3545Hasan SahihHasan SahihHasanIsnaad Hasan
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ভূলুষ্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্তু সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে “কিংবা যে কোন একজন” কথাটুকুও আছে। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৯২৭), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৩), নবীর উপর দরূদ পাঠের ফাযীলাত (১৬), মুসলিম হাদীসের শেষ অংশ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। রিবঈ ইবনু ইবরাহীম হলেন ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমের ভাই। তিনি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী এবং ইনি হলেন ইবনু উলাইয়্যাহ (তার মাতার নাম)। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, কোন লোক মাজলিসে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করলে, তারপর যতক্ষণ সে উক্ত মাজলিসে অবস্থান করবে, তা যথেষ্ট হবে।
জামে তিরমিজি 3546SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৃপণ সেই লোক যার কাছে আমার আলোচনা করা হয় অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ে না। সহীহঃ মিশকাত (৯৩৩), সালাতের ফাযীলাত (১৪/৩১-৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে বরফ, শিশির ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা শীতল করে দাও। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে গুনাহ হতে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করেছে।" সহীহঃ মুসলিম (২/৭৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দু'আর দরজা খুলে দেয়া হল, মূলত তার জন্য রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হল। আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু কামনা করা হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়। যঈফ, মিশকাত (২২৩৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ যে বিপদ-আপদ এসেছে আর যা (এখনও) আসেনি তাতে দু'আয় কল্যাণ হয়। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দু’আকে আবশ্যিক করে নাও। হাসান, মিশকাত (২৫৩৯) তা’লীকুর রাগীব, (২/২৭২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি আমরা শুধু আবদুর রহমান ইবনু আবু বাকর আল কুরাইশীর সুত্রেই জেনেছি। তিনি আল মাক্কী ও আল-মুলাইকী হিসেবেও পরিচিত। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। কতক হাদীসবিদ তার স্মরণশক্তির কারণে তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইসরাঈল এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর হতে তিনি মূসা ইবনু উকবা হতে তিনি নাফি হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ .... "আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে যা কিছু চাওয়া হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা তার নিকট বেশি প্রিয়”। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনু দীনার আল-কুকী হতে তিনি ইসহাক ইবনু মানসূর আল-কূফী হতে তিনি ইসরাঈল (রহঃ) সুত্রে।
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের নিত্য আচরণ ও প্রথা। রাতের ইবাদাত আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং দেহের রোগ দূরকারী। যঈফ, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত (১২২৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু বিলাল (রাঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে জেনেছি। সনদসূত্রের দিক হতে এটি সহীহ নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ আল-কুরাশী হলেন মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আশ-শামী। ইবনু আবূ কাইস হলেন মুহাম্মাদ ইবনু হাসসান এবং তার হাদীস বাদ দেয়া হয়েছে। মুআবিয়া ইবনু সালিহ (রাহঃ) এ হাদীস রবীআ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি আবূ ইদরীস আল-খাওলানী হতে তিনি আবূ উমামা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করবে। কেননা উহা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়নগণের অভ্যাস, আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপ কর্মের প্রতিবন্ধক" আবূ ঈসা বলেন, এই বর্ণনাটি ইদরীসের সূত্রে বিলালের বর্ণনা হতে অধিকতর সহীহ। হাসান, ইরওয়া (৪৫২), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৬), মিশকাত
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের স্বাভাবিক বয়স ষাট হতে সত্তর বছরের মাঝে হবে এবং তাদের কম সংখ্যকই এই বয়সসীমা পার করবে। হাসানঃ ২৩৩১ নং হাদীস পূর্বে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ হুরাইরাহর বরাতে আবূ সালামাহর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আমরের বর্ণনার প্রেক্ষিতে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি। এ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
জামে তিরমিজি 3551SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন এবং বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে সহযোগিতা কর এবং আমার বিরুদ্ধে (কাউকে) সহযোগিতা করো না, আমাকে সাহায্য কর এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমার জন্য পরিকল্পনা এঁটে দাও এবং আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এঁটো না, আমাকে হিদায়াত দান কর, আমার জন্য হিদায়াতের পথ সহজসাধ্য কর এবং যে লোক আমার উপর যুলম ও সীমালঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা কর। হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা কর, তোমার জন্য অধিক যিকরকারী, তোমাকে বেশি ভয়কারী, তোমার অনেক আনুগত্যকারী, তোমার কাছে অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কর। হে আমার প্রভু! আমার তওবা কবুল কর, আমার সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেল, আমার দু'আ কবুল কর, আমার সাক্ষ্য-প্রমাণ বহাল কর, আমার যবানকে দৃঢ় কর, আমার অন্তরে হিদায়াত দান কর এবং আমার বুক হতে সমস্ত হিংসা দূর কর”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৩০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাহমূদ ইবনু গাইলান-মুহাম্মাদ ইবনু বিশর আল-আবদী হতে, তিনি সুফইয়ান সাওরী (রাহঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার প্রতি অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে দু’আ করল সে প্রতিশোধ গ্রহণ করল। যঈফ, যঈফা (৪৫৯৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ হামযার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম আবূ হামযার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি হলেন মাইমূন আল-আওয়ার। কুতাইবা-হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান আর-রুয়াসী হতে, তিনি আবূল আহওয়াস হতে, তিনি আবূ হামযা (রাহঃ) হতে উক্ত সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবূ আইউব আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দশবার বলে, “আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তার, সকল প্রশংসা তার। তিনি জীবন দান করেন, তিনি মৃত্যু দেন এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী”, সে হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশের [অর্থাৎ কুরাইশ বংশের] চারজন দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। সহীহঃ যঈফাহ (৫১২৬) নং হাদীসের অধীনে, বুখারী ও মুসলিম “তিনি জীবিত করেন মৃত্যুদান করেন" এই অংশ বাদে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ আইউব (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি মাওকুফরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
। উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটে এলেন, তখন আমার নিকট চার হাজার খেজুরের বিচি ছিল, যা দিয়ে আমি তাসবীহ পাঠ করে থাকি। তিনি বললেনঃ তুমি কি এগুলো দিয়ে তাসবীহ গণনা করেছ? আমি কি তোমাকে এমন তাসবীহ শিখাব না যা সাওয়াবের দিক হতে এর চেয়ে বেশি হবে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ পবিত্র”। মুনকার, আর-রাদু আলাত তা’কীবিল হাসীস (৩৫-৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা সাফিয়্যা (রাঃ)-এর এ হাদীস আমরা শুধু হাশিম ইবনু সাঈদ আল-কূফীর সূত্রে জেনেছি। এর সনদ তেমন সুপরিচিত নয়। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 3555SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়াহ বিনতুল হারিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন, সে সময় তিনি তার (ঘরে) নামাযের জায়গায় ছিলেন। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্ৰায় দুপুরে তার কাছ দিয়ে গমন করেন এবং তাকে বললেনঃ তুমি কি তখন হতে এই অবস্থায় আছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না যা তুমি বলবে? “আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ মহাপবিত্র" (৩ বার), “আল্লাহ তা'আলা তার সত্তার সন্তোষ মোতাবিক মহাপবিত্র” (৩ বার), "আল্লাহ তা'আলা তার আবূশের ওজনের সমপরিমাণ মহাপবিত্র” (৩ বার), "আল্লাহ তার কালামের সমান মহাপবিত্র" (তিন বার)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮০৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান হলেন ত্বালহা পরিবারের মুক্তদাস। তিনি একজন প্রবীণ শাঈখ, মাদীনার বাসিন্দা এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। আল-মাসউদী ও সুফইয়ান সাওরীও তার সনদে উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
। সালমান আল-ফারিসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা অত্যধিক লজ্জাশীল ও দাতা। যখন কোন ব্যক্তি তার দরবারে তার দুই হাত তুলে (প্রার্থনা করে) তখন তিনি তার হাত দু'খানা শূন্য ও বঞ্চিত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৬৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তা মারফুরূপে নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক দুই আঙ্গুলে (ইঙ্গিত করে) দু'আ করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একটির মাধ্যমে একটির মাধ্যমে। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৯১৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীসের মর্ম এই যে, কোন লোক দু'আর মাঝে (নামাযের তাশাহহুদে) দুই আঙ্গুলে নয়, বরং এক আঙ্গুলে ইঙ্গিত করবে।
। মু'আয ইবনু রিফা'আহ (রহঃ) হতে তার বাবার বরাতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) মসজিদে নববীর মিম্বারে দাঁড়ালেন, তারপর কেঁদে দিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গত বছর এ মিম্বারে দাড়িয়ে কাঁদেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট তোমরা ক্ষমা, শান্তি ও হিফাযাত প্রার্থনা কর। কেননা ঈমানের পর তোমাদের কাউকে শান্তি ও হিফাযাতের চাইতে বেশি উত্তম আর কিছুই দেয়া হয়নি। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮৪৯)। আবূ ঈসা বলেন,উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান এবং আবূ বাকর (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।
। আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করেছে (গুনাহ হতে) সে গুনাহর উপর অটল থাকেনি, যদিও সে প্রতিদিন সত্তরবার গুনাহ করে থাকে। যঈফ, মিশকাত (২৩৪০), যঈফ আবূ দাউদ (২৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ নুসাইরার সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি। এ হাদীসের সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একখানা নতুন পোষাক পরেন এবং বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে সুসজ্জিত করেছি।” তারপর তিনি তার পুরাতন কাপড়টি দান করে দিলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পোশাক) পরে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে (দৈহিক সৌষ্ঠব) সুসজ্জিত করেছি", তারপর নিজের পরার পুরানো বস্ত্র দান করে, সে জীবনে ও মরণে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ে, আল্লাহ তা'আলার হিফাজাতে এবং আল্লাহ্ তা'আলার সুরক্ষিত প্রাচীরে থাকে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৫৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রাহঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর হতে, তিনি আলী ইবনু ইয়ামীদ হতে, তিনি কাসিম হতে, তিনি আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গানীমাতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সাথে যায়নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গানীমাত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোন সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গানীমাত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাযের জামা'আতে হাযির হয়, (নামায শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্ তা'আলার যিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গানীমাতসহ প্রত্যাবর্তনকারী। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৬৬), সহীহা (২৫৩১) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আর হাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদ এবং তিনি হলেন আবূ ইবরাহীম আল-আনসারী আল-মাদীনী। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, একটি চুক্তিবদ্ধ গোলাম তার নিকটে এসে বলে, আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব না যা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর (সাবীর) পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম হতে বিরত রাখ বা দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ব্যতীত অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া হতে আমাকে আত্মনির্ভরশীল কর”। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/৪০), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৪৩/৯৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অসুস্থ (রোগাক্রান্ত) ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটে এলেন এবং তখন আমি বলছিলামঃ “হে আল্লাহ! যদি আমার শেষ মুহূর্ত হাযির হয়ে থাকে তবে আমাকে দয়া কর, তাতে যদি দেরী থাকে তবে আমাকে উঠিয়ে দাও (সুস্থ কর), আর যদি বিপদের পরীক্ষায় ফেল তাহলে সবর দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কিভাবে বললে? তিনি তার কথার পুনরাবৃত্তি করে তাকে শুনান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পা দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং বলেনঃ “হে আল্লাহ! তাকে আরোগ্য দান কর, অথবা তাকে নিরাময় দান কর”। শুবার সন্দেহ (তার ঊর্ধ্বতন রাবী কোনটি বলেছেন)। আলী (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি ব্যথা অনুভব করি নাই। যঈফ, মিশকাত (৬০৯৮)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 3565SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَادَ مَرِيضًا قَالَ " اللَّهُمَّ أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ فَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন রোগীকে দেখতে গেলে বলতেনঃ “হে মানুষের প্রভু! তুমি রোগ দূর কর, তুমি সুস্থতা দান কর, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার আরোগ্যদান ব্যতীত কোন আরোগ্য নেই। তুমি এমনভাবে সুস্থতা দান কর যাতে কোন রোগই বাকি না থাকে"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিতরের নামাযে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার খুশির জন্য তোমার অখুশি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি, তোমার ক্ষমা ও অনুকম্পার জন্য তোমার শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তোমার সত্বা হতে তোমার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পরি না, তুমি তেমনি যেমন তুমি নিজের প্রশংসা করেছ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাযিঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।
। মুসআব ইবনু সা'দ ও আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা প্রত্যেকে বলেন, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) নিম্নোক্ত বাক্যগুলো তার সন্তানদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীরুতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌছার বয়স হতে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ঝগড়া-বিবাদ ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই।” সহীহঃ বুখারী (২৮২২, ৬৩৬৯)। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ-দারিমী বলেন, এ হাদীসে আবূ ইসহাক আল-হামদানী (সনদে) কিছুটা গড়মিল করে ফেলেছেন। তিনি কখনো বলেন, আমর ইনু মাইমূন (রাহঃ)-উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে, আবার কখনো অপরের হতে রিওয়ায়াত করেন। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আইশা বিনতু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মহিলার ঘরে যান, যার সামনে ছিল খেজুরের অনেকগুলো বিচি অথবা নুড়ি পাথর, যার সাহায্যে সে তাসবীহ পাঠ করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও সহজ ও উত্তম পথ প্রসঙ্গে জানাবো না? “আল্লাহ মহাপবিত্র আকাশে তার সৃষ্টি জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ মহাপবিত্র দুনিয়াতে তার সৃষ্ট জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ তা'আলা মহাপবিত্র এতদুভয়ের মধ্যকার সৃষ্টির সমসংখ্যক, আল্লাহ তা'আলা মহাপবিত্র তিনি যে সকল প্রাণী সৃষ্টি করবেন তার সমসংখ্যক, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলা মহান, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা, অনুরূপ সংখ্যকবার আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কল্যাণ করার বা ক্ষতিসাধনের আর কোন শক্তি নেই”। মুনকার, আর রাদ্দু আলা আত-তাকীবিল হাছীস (২৩-৩২), মিশকাত (২৩১১), যঈফা (৮৩), আল কালিমুত তায়্যিব (১৩/৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং সা'দ (রাঃ)-এর হাদীস হিসেবে গারীব।
। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা প্রতিদিন ভোরে উপনীত হলে একজন ঘোষক ডেকে বলেন, “সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ক্রটিমুক্ত আল্লাহ্ তা'আলা মহাপবিত্র ও মহিমাময়। যঈফ, যঈফা আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। তখন আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এসে বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! এই কুরআন আমার হৃদয় হতে বেরিয়ে যায় (মুখস্ত থাকে না)। আমি তা নিজের মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম নই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ হে আবূল হাসান! আমি কি তোমাকে এমন কথা শিখাব না যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উপকৃত করবেন, তুমি যাকে তা শিখাবে তাকেও উপকৃত করবেন এবং যা তুমি শিখবে তাও তোমার হৃদয়ের মধ্যে গেথে থাকবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তা আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ জুমু'আর রাত আসার পর তোমার পক্ষে সম্ভব হলে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে (নামাযে) দাড়িয়ে যাও।এ সময় আল্লাহ্ তা'আলার ফিরিশতা হাযির হয় এবং তখন দু’আ কুবুল হয়। আমার ভাই ইয়াকুব (আঃ) তার সন্তানদের বলেছিলেনঃ আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করব। পরিশেষে তিনি জুমুআর রাতেই তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদি তুমি (তখন নামায আদায় করতে) সক্ষম না হও তাহলে মধ্য রাতে দাঁড়াও এবং তখনও সম্ভব না হলে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশে দাড়াও এবং চার রাকাআত (নফল) নামায আদায় কর। প্রথম রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা ইয়াসীন, দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা হা-মীম আদ-দুখান, তৃতীয় রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীলুস সাজদা এবং চতুর্থ রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা তাবারাকা আল-মুফাসসাল (সূরা আল-মুলক) পাঠ করবে। তুমি তাশাহহুদ পাঠ শেষ করে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করবে এবং ভালভাবে তার গুণকীর্তন করবে, তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে এবং সকল নবী-রাসূলের প্রতি ভালভাবে দুরূদ ও সালাম পাঠ করবে, তারপর সকল মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদের জন্য এবং তোমার যে সকল ভাই ঈমানের সাথে অতীতে ইন্তিকাল করেছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। সবশেষে তুমি বলবেঃ “হে আল্লাহ! পাপাচার ছেড়ে দিতে আমাকে অনুগ্রহ কর যাবত তুমি আমাকে বাচিয়ে রাখ, আমার প্রতি দয়া কর যেন আমি নিষ্ফল আচরণে জড়িয়ে না পড়ি এবং তোমার পছন্দনীয় বিষয়ে আমাকে ভালভাবে ভাববার তাওফীক দাও। হে আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী এবং এমন মৰ্যদার অধিকারী যার আকাংখা করা যায় না, আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ, হে রহমান, তোমার অসীম মহত্ব ও চেহারার নূরের উসীলায় আমি প্রার্থনা করি যে, আমার অন্তরে তোমার কিতাবকে বদ্ধমূল করে দাও যেমন তুমি আমাকে শিখিয়েছ, যে ভাবে পাঠ করলে তুমি সন্তুষ্ট হও সেইভাবে পাঠ করতে আমাকে তাওফীক দান কর, হে আল্লাহ, আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী এবং মর্যাদার অধিকারী যার আকাংখা করা যায় না। হে দয়াময়, তোমার মহত্ব ও নুরের উসীলায় আমি প্রার্থনা করছি। তুমি তোমার কিতাবের উসীলায় আমার চক্ষুকে উজ্জ্বল করে দাও, তা দিয়ে আমার যবান (জিহ্বা) খুলে দাও এবং তা দিয়ে আমার অন্তরকে উম্মুক্ত কর, আর তা দিয়ে আমার বক্ষকে প্রসারিত, আমার দেহটিকে তা দিয়ে ধুয়ে ফেল। সত্যের উপর তুমি ব্যতীত অন্য কেউই আমার সাহায্য করতে পারে না এবং তুমি ব্যতীত কেউই আমাকে তা দিতে পারে না। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার এবং কল্যাণ অর্জনের আর কোন শক্তি নেই।” হে আবূল হাসান! তুমি তিন অথবা পাঁচ অথবা সাত জুমুআ পর্যন্ত এ আমল করতে থাক। আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় তোমার দু'আ কুবুল হবে। সেই মহান সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! কোন মু'মিনই (এ দু’আ পাঠ করে) কখনও বঞ্চিত হবে না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ আলী (রাঃ) পাঁচ অথবা সাত জুমুআ পর্যন্ত এই আমল করে একদিন এরকম এক আসরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আগে আমি চার আয়াত পাঠ করতাম আর তা আমার হৃদয় হতে চলে যেত। আর এখন আমি চল্লিশ আয়াত অথবা এরকম পরিমাণ মুখস্ত করে যখন পাঠ করি তখন মনে হয় যেন আল্লাহ্ তা'আলার কিতাব আমার চোখের সামনে উম্মুক্ত আছে। একইভাবে আমি হাদীস শুনতাম এবং পরে তা পুনঃপাঠ করতে গিয়ে দেখতাম যে, তা আমার অন্তর থেকে চলে গেছে। আর এখন আমি হাদীসসমূহ শুনি এবং পরে তা পুনঃপাঠ করি এবং তা হতে একটি শব্দও বাদ পড়ে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ হে হাসানের পিতা, কা'বার প্রভুর কসম! অবশ্যই তুমি একজন মু'মিন। মাওযু, তা’লীকুর রাগীব (২/২১৪), যঈফা (৩৩৭৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। ওয়ালীদ ইবনু মুসলিমের রিওয়ায়াত হিসেবেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে তার দয়া প্রার্থনা কর। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নিকট কিছু পাওয়ার প্রার্থনাকে ভালোবাসেন। আর সর্বোত্তম ইবাদাত হল দুআ কুবুল হওয়ার অপেক্ষায় থাকা। যঈফ, যঈফা (৪৯২) আবূ ঈসা বলেনঃ হাম্মাদ ইবনু ওয়াকিদ এভাবেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তার রিওয়ায়াতে মতভেদ করা হয়েছে। এই হাম্মাদ ইবনু ওয়াকিদ আস-সাফফার তিনি হাফিজ নন। আমাদের মতে তিনি বাসরার শাইখ। আবু নুয়াইম এই হাদিসটি ইসরাইল হতে, তিনি হাকীম ইবনু জুবাইর হতে, তিনি এক ব্যাক্তি হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। আবূ নূরাইমের বর্ণনাটি অধিক সহীহ।
জামে তিরমিজি 3572SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، رضى الله عنه قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْعَجْزِ وَالْبُخْلِ " . وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি অলসতা, অক্ষতমতা ও কৃপণতা হতে আশ্রয় চাই”। একই সনদসূত্রে আরও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “বার্ধক্য ও কবরের শাস্তি হতেও” আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। সহীহঃ মুসলিম (৮/৮১-৮২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীর বক্ষে যে মুসলিম লোকই আল্লাহ তা'আলার নিকটে কোন কিছুর জন্য দু'আ করে, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার হতে একই রকম পরিমাণ ক্ষতি সরিয়ে দেন, যতক্ষণ না সে পাপে জড়িত হওয়ার জন্য অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দু'আ করে। সমবেত ব্যক্তিদের একজন বলল, তাহলে আমরা অত্যধিক দুআ করতে পারি। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার চাইতেও বেশী কবুলকারী। হাসান সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২৭১-২৭২)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। ইবনু সাওবান হলেন আবদুর রহমান ইবনু সাবিত ইবনু সাওবান আল-আবিদ আশ-শামী।
জামে তিরমিজি 3574SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি শোয়ার জন্য বিছানায় যেতে চাও সে সময় নামাযের উযূর মত উযূ কর, অতঃপর তোমার ডান কাতে শয়ন কর, অতঃপর বলঃ “হে আল্লাহ! আমার চেহারা আমি তোমার দিকে সোপর্দ করলাম, আমার সমস্ত বিষয় তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আশা ও ভয় নিয়ে তোমার দিকে আমার পিঠ সপে দিলাম, তোমার হতে (পালিয়ে) আশ্রয় নেয়ার এবং রক্ষা পাওয়ার তুমি ব্যতীত আর কোন জায়গা নেই। আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার পাঠানো নবীর উপর।" তারপর যদি ঐ রাতে তুমি মারা যাও, তাহলে দ্বীনের (ইসলামের) উপরই মৃত্যুবরণ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ দু'আর বাক্যগুলো পুনরায় বললাম যাতে তা আমার মুখস্থ হয়ে যায়। আমি তাতে যোগ করলাম, আমি তোমার পাঠানো রাসূলের উপর ঈমান আনলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি বল, “আমি তোমার পাঠানো নবীর উপর ঈমান আনলাম"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, (৩৩৯৪) নং পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস ছাড়া অন্য কোন হাদীসে (শয়নকালে) উযূর উল্লেখ আছে বলে আমরা অবগত নই।
জামে তিরমিজি 3575HasanHasanHasan SahihIsnaad Hasan
আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ঘুটঘুটে অন্ধকার ও বৃষ্টিমুখর রাতে আমাদের নামায আদায় করানোর জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধানে বের হলাম। আমি তার দেখা পেলে তিনি বললেনঃ বল। কিন্তু আমি কিছুই বললাম না। তিনি পুনরায় বললেনঃ বল। এবারও আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বল। এবার আমি প্রশ্ন করলাম, আমি কি বলব? তিনি বললেনঃ তুমি প্রতি দিন বিকালে ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার করে সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ (সূরা আর-ইখলাস) ও আল-মু'আওবিযাতাইন (সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস) পাঠ করবে, আর তা প্রত্যেকটি ব্যাপারে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (১/২২৪), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৯/৭) আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ সাঈদ আল-বাররাদ হলেন উসাইদ ইবনু আবী উসাইদ মাদীনার অধিবাসী।
জামে তিরমিজি 3576SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাবার নিকটে এলেন। আমরা তার জন্য খাদ্য পরিবেশন করলে তিনি তা আহার করলেন। তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে থাকলেন এবং দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে খেজুরের বিচি ফেলে দিতে লাগলেন মধ্যমা ও তর্জনী একত্র করে। শু'বাহ বলেন, এটা আমার সন্দেহ, ইনশাআল্লাহ এটাই সঠিক। তারপর পানীয় দ্রব্য আনা হলে তিনি তা পান করলেন, তারপর পানপাত্র তার ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমার বাবা তার সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য দু'আ করুন। তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাদের যে রিযিক দিয়েছ তাতে বারাকাত দান কর, তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের প্রতি দয়া কর"। সহীহঃ মুসলিম (৬/১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিঃ) হতে হাদীসটি অন্যসূত্রেও বর্ণিত আছে।
। যাইদ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে লোক বলে, “মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট আমি ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, যিনি চিরজীবি, চিরস্থায়ী এবং আমি তার কাছে তওবা করি”, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র হতে পলায়ন করে থাকে। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২৬৯), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
জামে তিরমিজি 3578SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। উসমান ইবনু হুনাইফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক অন্ধ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী। আমার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করুন, যেন আমাকে তিনি আরোগ্য দান করেন। তিনি বললেনঃ তুমি কামনা করলে আমি দুআ করব, আর তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পার, সেটা হবে তোমার জন্য উত্তম। সে বলল, তার নিকটে দু'আ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে উত্তমভাবে উযূ করার হুকুম করলেন এবং এই দুআ করতে বললেন, “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি প্রার্থনা করি এবং তোমার প্রতি মনোনিবেশ করি তোমার নবী, দয়ার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (দু'আর) মাধ্যমে। আমি তোমার দিকে ঝুঁকে পড়লাম, আমার প্রয়োজনের জন্য আমার প্রভুর দিকে ধাবিত হলাম, যাতে আমার এ প্রয়োজন পূর্ণ করে দেয়া হয়। হে আল্লাহ! আমার প্রসঙ্গে তুমি তার সুপারিশ কবুল কর”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৩৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। কেননা হাদীসটি আবূ জাফরের রিওয়ায়াত ছাড়া অপর কোন সনদে আমরা জানতে পারিনি। এই আবূ জাফর হলেন আল-খাতী, আর উসমান ইবনু হুনাইফ হলেন সাহল ইবনু হুনাইনের ভাই।
জামে তিরমিজি 3579SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমর ইবনু আবাসাহ (রাযিঃ) আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা শেষ রাতে তার বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকর করে (নামায পড়ে ও দু'আ করে), তুমি পারলে তাদের দলভুক্ত হয়ে যাও। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২৭৬), মিশকাত (১২২৯)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। উমারা ইবনু যাকারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার পূর্ণ বান্দা সেই ব্যক্তি যে তার শক্রর সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমাকে মনে করে। যঈফ, যঈফা (৩১৩৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এই হাদীসটি ব্যতীত উমার ইবনু যাকারার কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।
জামে তিরমিজি 3581SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
। কাইস ইবনু সা'দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার বাবা তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবার জন্য তার কাছে অর্পণ করেন। তিনি বলেন, আমি নামাযরত থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ দিয়ে গমন করলেন। তিনি নিজের পা দিয়ে আমাকে আঘাত (ইশারা) করে বললেনঃ আমি তোমাকে কি জান্নাতের দরজাগুলোর একটি দরজা সম্পর্কে জানাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোন শক্তি কারো নেই)। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ফেরেশতাই “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ না করে উর্ধ্বাকাশের দিকে গমন করেন না। এর সনদ সহীহ মাকতু"।
। ইউসাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ছিলেন হিজরতকারিণী মহিলাদের একজন— তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই তোমরা তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লাইলা-হা ইল্লাল্লাহ) ও তাকদীস (সুব্বুহুন কুদ্দূসুন রাববুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ অথবা সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস) আঙ্গুলের গিরায় হিসাব করে পড়বে। কেননা এগুলোকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে এবং কথা বলতে আদেশ দেয়া হবে। সুতরাং তোমরা রহমত (অনুগ্রহের কারণ) সম্পর্কে উদাসীন থেকো না এবং তা ভুলে যেও না। হাসানঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩৪৫), মিশকাত (২৩১৬), যঈফার (৮৩) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমরা হানী ইবনু উসমানের রিওয়ায়াত থেকেই জানতে পেরেছি। মুহাম্মাদ ইবনু রাবী'আহ (রাহঃ)ও এ হাদীস হানী ইবনু উসমানের সনদে উল্লেখ করেছেন।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, জিহাদ করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমিই আমার বাহুবল, তুমিই আমার সাহায্যকারী এবং তোমার সহযোগিতায় আমি যুদ্ধ করি”। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১২৫), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) কর্তৃক পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সনদে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফাতের দিনের দু'আই উত্তম দুআ। আমি ও আমার আগের নবীগণ যা বলেছিলেন তার মধ্যে সর্বোত্তম কথাঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তারই এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”। হাসানঃ মিশকাত (২৫৯৮), তা’লীকুর রাগীব (২/২৪২), সহীহাহ (১৫০৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাম্মাদ ইবনু আবী হুমাইদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমাইদ এবং তিনি আবূ ইবরাহীম আল-আনসারী আল-মাদীনী। তিনি মুহাদ্দীসগণের মতে খুব একটা মজবুত বর্ণনাকারী নন।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (দু’আ) শিখিয়ে বলেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! আমার বাহিরের অবস্থার চেয়ে আমার ভিতরের অবস্থাকে বেশি ভাল কর এবং আমার বাহিরের অবস্থাকেও অতি উত্তম কর। হে আল্লাহ! তুমি মানুষকে যে ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাক, তাতে আমাকে উত্তমগুলোই দাও, যারা বিপথগামী এবং বিপথগামীকারীও নয়।” যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৫০৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি এবং এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
। আসিম ইবনু কুলাইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ আল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম, তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। তিনি তার বাম হাত বাম উরুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখেন এবং তর্জনী উঠিয়ে অবশিষ্ট আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে বলেনঃ “হে অন্তরসমূহের ওলট-পালটকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অটল রাখ"। এই বর্ণনায় হাদীসটি মুনকার, দেখুন হাদীস নং (২৯১,.২৯২, ২১:২৮, ৩৩৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উক্ত সনদূত্রে গারীব।
। মুহাম্মাদ ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, সাবিত আল-বুনানী (রাহঃ) আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার কোন অংশে ব্যথা হলে তুমি ব্যথার জায়গায় তোমার হাত রেখে বলঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে, আমি আল্লাহ তা'আলার অসীম সম্মান ও তার বিরাট ক্ষমতার নিকট আমার এ ব্যথার অনুভূতি ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। তারপর তোমার হাত তুমি তুলে নাও, পরে পুনরায় ঐ নিয়মে বেজোড় সংখ্যায় উক্ত দুআ পাঠ কর। কেননা আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেছেন যে, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দুআ বলে দিয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১২৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই মুহাম্মাদ ইবনু সালিম হলেন বাসরার শাইখ।
উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই দু'আটি শিখিয়েছেন এবং বলেছেনঃ তুমি পাঠ কর “হে আল্লাহ! এটা তোমার রাত আসার, তোমার দিন চলে যাওয়ার, তোমার দিকে আহবানকারীর (মুয়াজ্জিনের) আওয়াজ দেয়ার এবং তোমার নামাযে হাযির হওয়ার সময়। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে, তুমি আমাকে মাফ করে দাও"। যঈফ, আল-কালিমুত-তায়্যির (৭৬/৩৫), যঈফ আবূ দাউদ (৮৫), মিশকাত (৬৬৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু উপরোক্ত সনদে জেনেছি। হাফসা বিনতি আবূ কাসীর ও তার পিতা প্রসঙ্গে আমরা অবহিত নই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা সততার সাথে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" বললে তার জন্য আকাশের দ্বারগুলো খোলা হয়। ফলে উক্ত কালিমাহ আরশে আজীম পর্যন্ত পৌছে যায়, যতক্ষণ সে কবীরাহ গুনাহ ত্যাগ করে”। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (২৩১৪), তা’লীকুর রাগীব (২/২৩৮)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3591SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَعَمُّ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ هُوَ قُطْبَةُ بْنُ مَالِكٍ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ (রহঃ) হতে তার চাচার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে গৰ্হিত চরিত্র, গৰ্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই”। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (২৪৭১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। যিয়াদ ইবনু ইলাক্বাহর চাচার নাম কুত্বাহ ইবনু মালিক আত-তাগলিবী (রাযিঃ) তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী।
জামে তিরমিজি 3592SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নামায পড়ছিলাম। সে সময় সমাগত লোকদের মাঝে হতে এক লোক বলল, "আল্লাহ্ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তা'আলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই এই কথা কে বলেছে? উপস্থিত লোকদের মাঝে এক লোক বলল, আমি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এ দুআয় আমি খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। এ বাক্যগুলোর জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমি এ কথা শুনার পর থেকে কখনো তা পাঠ করা পরিহার করিনি। সহীহঃ সিফাতুস সালাত (৭৪), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। হাজ্জাজ ইবনু আবী উসমান হলেন হাজ্জাজ ইবনু মাঈসারাহ আস-সাওওয়াফ এবং তার উপনাম আবূস সালত। তিনি হাদীস বিশেষজ্ঞদের মতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
জামে তিরমিজি 3593SahihSahihHasan SahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَسْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَادَهُ أَوْ أَنَّ أَبَا ذَرٍّ عَادَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الْكَلاَمِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ " مَا اصْطَفَى اللَّهُ لِمَلاَئِكَتِهِ سُبْحَانَ رَبِّي وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ رَبِّي وَبِحَمْدِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যান অথবা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে যান। আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহ রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন কথা বেশি প্রিয়? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার ফেরেশতাদের জন্য যে বাক্যটি নির্বাচন করেছেনঃ “সুবহানা রাব্বী ওয়া বিহামদিহী সুবহানা রাব্বী ওয়া বিহামদিহী” (আমার পালনকর্তা অতীব পবিত্র, সকল প্রশংসা তার জন্য, আমার পালনকর্তা অতীব পবিত্র, সকল প্রশংসা তার জন্য)। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২৪২), সহীহাহ (১৪৯৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আযান ও ইকামাতের মাঝের সময়ের দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না”। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! (ঐ সময়ে) আমরা কি বলব? তিনি বললেনঃ “তোমরা আল্লাহর নিকট ইহকাল ও পরকালের নিরাপত্তা প্রার্থনা কর।” এই পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাটি মুনকারঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (৪৭/৫১), "ইরওয়াহ (১/২৬২), নাকদুত তাজ (৯৫), তা’লীকুর রাগীব (১/১১৫), সহীহ আবূ দাউদ (৫৩৪)। তবে “সালুল্লাহা.....” বর্ণনাটি অন্য হাদীসে সাব্যস্ত আছে। ৩২৮৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। সাহাবাগণ বললেনঃ আমরা কি বলব..... শেষ পর্যন্ত এই অংশটি ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামান বর্ধিত করেছেন।
জামে তিরমিজি 3595SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَأَبُو أَحْمَدَ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدُّعَاءُ لاَ يُرَدُّ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ الْكُوفِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَهَذَا أَصَحُّ .
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু'আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। সহীহঃ ২১২ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ ইসহাক আল-হামদানী এ হাদীস বুরাইদ ইবনু আবূ মারইয়াম আল-কুফী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন এবং এ বর্ণনাটি বেশি সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হালকা-পাতলা লোকেরা অগ্রগামী হয়ে গেছে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! হালকা-পাতলা লোক কারা? তিনি বলেনঃ যে সকল লোক আল্লাহ তা'আলার স্মরণে নিমগ্ন থাকে এবং আল্লাহর যিকির (স্মরণ) তাদের (পাপের) ভারী বোঝাটি তাদের হতে সরিয়ে ফেলে। ফলে কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখে হালকা বোঝা নিয়েই হাযির হবে। যঈফ, যঈফা (৩৬৯০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিজি 3597SahihSahihSahihSahih Muslim
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْ أَقُولَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ্ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ অতীব পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলা আমার কাছে যে সকল জিনিসের উপর সূর্য উদিত হয় তা হতে বেশি পছন্দনীয়। সহীহঃ মুসলিম (৮/৭০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের দু'আ কখনও ফিরিয়ে দেয়া হয় না। রোযাদার যতক্ষণ ইফতার না করে, সুবিচারক শাসকের দু’আ এবং মজলুমের (নির্যাতিতের) দু'আ। আল্লাহ তা'আলা ঐ দু'আগুলি মেঘমালার উপরে (আকাশের) তুলে নেন এবং এর জন্য আকাশের দ্বারগুলো খুলে দেয়া হয়। রববুল আলামীন বলেনঃ আমার মর্যাদার শপথ! আমি নিশ্চয়ই তোমার সাহায্য করব কিছু দেরি হলেও। দুর্বল, কিন্তু হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ, আর তাতে ন্যায় পরায়ন শাসকের পরিবর্তে মুসাফির শব্দ আছে। আরেক বর্ণনায় পিতার উল্লেখ আছে। ইবনু মাজাহ (১৭৫২)। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। সাদান আল-কুম্মী হলেন সাদান ইবনু বিশর। ঈসা ইবনু ইউনুস, আবূ আসিম প্রমুখ বয়স্ক হাদীস বিশারদগণ তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ মুজাহিদ হলেন সা'দ আত-তাঈ এবং আবূ মুদিল্লাহ হলেন উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রাঃ)-এর স্বাধীন গোলাম। আমরা শুধু এ হাদীসের মাধ্যমেই তার পরিচয় পেয়েছি এবং তার হতে এ হাদীসটি আরো বর্ধিত ও সম্পূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমাকে তুমি যা শিখিয়েছ তা দিয়ে আমাকে উপকৃত কর, আমার জন্য যা উপকারী হবে তা আমাকে শিখিয়ে দাও এবং আমার ইলম (জ্ঞান) বাড়িয়ে দাও। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা এবং আমি জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে হিফাযাতের জন্য আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হাদীসে বর্ণিত আল-হামদুলিল্লাহ....... অংশ বাদে হাদীসটি সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৫১, ৩৮৩৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব।
জামে তিরমিজি 3600SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ হুরাইরাহ অথবা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাগণ ছাড়া আল্লাহ তা'আলার আরও কিছু ফেরেশতা আছেন যারা দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ান। তারা আল্লাহ তা'আলার যিকরেরত ব্যক্তিদের পেয়ে গেলে একে অন্যকে ডেকে বলেন, নিজেদের উদ্দেশে তোমরা এদিকে চলে এসো। অতএব তারা সেদিকে ছুটে আসেন এবং যিকরেরত লোকদের পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত পরিবেষ্টন করে রাখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা সে সময় (ফেরেশতাদের) বলেন, আমার বান্দাদেরকে তোমরা কি কাজে রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? ফেরেশতারা বলেন, আমরা তাদেরকে আপনার প্রশংসারত, আপনার মর্যাদা বর্ণনারত এবং আপনার যিকরে রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা বলেন, তারা আমাকে দেখেছে কি? তারা বলেন, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা পুনরায় প্রশ্ন করেন, তারা আমাকে দেখলে কেমন হত? ফেরেশতারা বলেন, তারা আপনার দর্শন পেলে আপনার অনেক বেশি প্রশংসাকারী, অধিক মাহাত্ম্য বর্ণনাকারী এবং অধিক যিকরকারী হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের আবারও বলেন, আমার কাছে তারা কি চায়? ফেরেশতারা বলেন, আপনার নিকট তারা জান্নাত পেতে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা প্রশ্ন করেন, তারা তা দেখেছে কি? ফেরেশতারা বলেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রশ্ন করেন, তারা তা প্রত্যক্ষ করলে কেমন হত? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ফেরেশতাগণ বলেন, তারা জান্নাতের দর্শন পেলে তা পাওয়ার আরও অধিক প্রার্থনা করত, আরো বেশি আকাঙ্ক্ষা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা আবারও প্রশ্ন করেন, তারা কোন বস্তু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে? ফেরেশতারা বলেন, তারা জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, তারা তা দেখেছে কি? ফেরেশতারা বলেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, তারা তা প্রত্যক্ষ করলে কেমন হত? ফেরেশতারা বলেন, তারা তা প্রত্যক্ষ করলে তা থেকে আরো অধিক পালিয়ে যেত, আরো বেশি ভয় করত এবং তা থেকে বাঁচার জন্য বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমাদেরকে আমি সাক্ষী করছি যে, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতারা বলেন, তাদের মাঝে এমন এক লোক আছে যে তাদের সঙ্গে একত্র হওয়ার জন্য আসেনি, বরং ভিন্ন কোন দরকারে এসেছে। সে সময় আল্লাহ তা'আলা বলেন, তারা এরূপ একদল ব্যক্তি যে, তাদের সাথে উপবেশনকারী-ও বঞ্চিত হয় না। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আমাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" বেশি বেশি বল। কেননা তা জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত। মাকহুল (রহঃ) বলেন, যে লোক "লা হাওলা ওয়াল কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি” পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার হতে সত্তর প্রকারের অনিষ্ট অপসারণ করেন এবং এগুলোর মাঝে সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিপদ হল দরিদ্রতা। মাকহুলের উক্তি “ফামান কালা......” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। কেননা ঐ অংশ মাকুতু" সহীহাহ (১০৫, ১৫২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়। মাকহুল (রহঃ) সরাসরি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেননি।
জামে তিরমিজি 3602SahihSahihSahih - Bukhari And Muslim
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি নবীরই একটি দুআ আছে যা কবুল হয়। আমার উক্ত দু'আ (কিয়ামতের দিন) আমি আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য সংরক্ষিত রেখেছি। ইনশাআল্লাহ সেই দু'আটি সে লোক পাবে যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে অন্য কিছুকে অংশীদার করেনি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমাকে আমার বান্দা যেভাবে ধারণা করে আমি (তার জন্য) সে রকম। যখন সে আমাকে মনে করে সে সময় আমি তার সঙ্গেই থাকি। সুতরাং সে আমাকে মনে মনে স্মরণ করলে তাকে আমিও মনে মনে স্মরণ করি। আমাকে সে মাজলিসে স্মরণ করলে আমিও তাকে তাদের চাইতে ভাল মজলিসে (ফেরেশতাদের মাজলিসে) মনে করি। সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে এলে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, তবে তার দিকে আমি এক বাহু এগিয়ে যাই। সে আমার দিকে হেটে অগ্রসর হলে আমি তার দিকে দৌড়িয়ে এগিয়ে যাই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮২২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাশ (রাহঃ) থেকে “যে লোক এক বিঘত পরিমাণ আমার নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই” শীর্ষক হাদীসের ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে যে, অর্থাৎ তিনি তার ক্ষমা ও অনুগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যান। কতিপয় বিশারদ আলিম এ হাদীসের এই রকম ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেন, হাদীসের মর্ম এই যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, কোন বান্দা যখন আমার দিকে আনুগত্য নিয়ে অগ্রসর হয়, আমি যার নির্দেশ দিয়েছি, সে সময় আমার ক্ষমা ও আমার দয়া নিয়ে তার দিকে আমি দ্রুত অগ্রসর হই। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি “ফাযকুরুনী আয কুরকুম" আয়াতের ব্যাখায় বলেন, তোমরা আমাকে আনুগত্যের মাধ্যমে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমার মাধ্যমে স্মরণ করব। আবদ ইবনু হুমাইদ আল-হাসান ইবনু মূসা ও আমর ইবনু হিশাম হতে, তিনি ইবনু লাহী'আহ হতে তিনি আত্বা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে এই সনদে এটা বর্ণনা করেছেন।