নামাজের প্রকারভেদ
| প্রকার | অর্থ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ফরজ | ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ; ছুটে গেলে কাজা করতে হয় | পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা |
| ফরজে কিফায়া (সামষ্টিক দায়িত্ব) | সমাজের ওপর ফরজ; কিছু লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায় | জানাজার নামাজ |
| ওয়াজিব (হানাফি) | ফরজের নিচে, সুন্নতের ওপরে; ছেড়ে দেওয়া গুনাহ | বিতর, দুই ঈদের নামাজ |
| সুন্নতে মুয়াক্কাদা | নবী ﷺ নিয়মিত আদায় করতেন; ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় | ফজরের আগের দুই রাকাত, তারাবিহ, ঈদ (অন্যান্য মাযহাব) |
| নফল | অতিরিক্ত সওয়াব; ছেড়ে দিলে গুনাহ নেই | তাহাজ্জুদ, চাশত, তাহিয়্যাতুল মসজিদ, ইস্তিখারা |
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
| নামাজ | রাকাত (ফরজ) | কিরাত | টীকা |
|---|---|---|---|
| ফজর | 2 | উভয় রাকাতে সশব্দে | এর আগের দুই রাকাত সুন্নত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সূর্যোদয়ের আগে আদায় করুন। |
| জোহর | 4 | নিঃশব্দে | শুক্রবার যারা জুমায় উপস্থিত হন, তাদের জন্য এর পরিবর্তে জুমা। প্রচণ্ড গরমে কিছুটা দেরি করা যায়। |
| আসর | 4 | নিঃশব্দে | সূর্য হলদে হওয়া পর্যন্ত দেরি করবেন না। হানাফি মতে পরে শুরু হয় (বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হলে)। |
| মাগরিব | 3 | প্রথম দুই রাকাতে সশব্দে | সূর্যাস্তের পর দ্রুত আদায় করুন; এর সময় সংক্ষিপ্ত। |
| ইশা | 4 | প্রথম দুই রাকাতে সশব্দে | মধ্যরাতের আগে আদায় করা উত্তম, তারপর বিতর। |
তিন বা চার রাকাতের নামাজ
- ১
প্রথম দুই রাকাত
মৌলিক পদ্ধতির মতো আদায় করুন: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা, রুকু, দুই সিজদা।
- ২
প্রথম বৈঠক
দ্বিতীয় রাকাতের পর বসে শুধু তাশাহহুদ পড়ুন, তারপর “আল্লাহু আকবার” বলে দাঁড়ান।
- ৩
তৃতীয় (ও চতুর্থ) রাকাত
শুধু সূরা ফাতিহা (নিঃশব্দে) পড়ুন, তারপর রুকু ও দুই সিজদা।
- ৪
শেষ বৈঠক
তাশাহহুদ, দরুদে ইবরাহিম ও একটি দোয়া পড়ুন, তারপর ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে শেষ করুন।
বিতর
বিতর ইশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত পড়া হয়। নবী ﷺ বলেছেন: “রাতে তোমাদের শেষ নামাজ বিতর বানাও।” (সহিহ বুখারি ৯৯৮)
ওয়াজিব। এক সালামে তিন রাকাত। দ্বিতীয় রাকাতের পর তাশাহহুদের জন্য বসুন; তৃতীয় রাকাতে সূরার পর তাকবির বলে হাত তুলুন এবং রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়ুন।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এক থেকে এগারো রাকাত, সাধারণত দুই রাকাত তারপর এক রাকাত। রমজানের দ্বিতীয়ার্ধে শেষ রাকাতে রুকুর পর কুনুত।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা। দুই রাকাতের জোড় নামাজের (শাফ্আ) পর এক রাকাত; বিতরে কুনুত নেই।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এক থেকে এগারো রাকাত; সারা বছর শেষ রাকাতে রুকুর পর কুনুত।
কুনুতের দোয়া
- ১
হানাফি মাযহাবের দোয়া কুনুত
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ، اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
হে আল্লাহ, আমরা আপনার সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার প্রতি ঈমান আনি ও আপনার ওপর ভরসা করি, আপনার প্রশংসা করি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, অকৃতজ্ঞ হই না, এবং যে আপনার অবাধ্য হয় তাকে ত্যাগ করি। হে আল্লাহ, আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি, আপনার জন্যই নামাজ পড়ি ও সিজদা করি, আপনার দিকেই ছুটে যাই; আমরা আপনার রহমতের আশা করি ও আপনার শাস্তিকে ভয় করি — নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফিরদের ঘিরে ধরবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, উমর রা. থেকে)
- ২
হাসান (রা.)-কে শেখানো কুনুত
اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ، فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ
হে আল্লাহ, আপনি যাদের হিদায়াত দিয়েছেন তাদের মধ্যে আমাকেও হিদায়াত দিন, যাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন তাদের মধ্যে আমাকেও নিরাপত্তা দিন, যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে আমারও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আমাকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন এবং আপনার নির্ধারিত অকল্যাণ থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আপনিই ফয়সালা করেন, আপনার ওপর কেউ ফয়সালা করতে পারে না; আপনি যার বন্ধু হন সে কখনো লাঞ্ছিত হয় না। হে আমাদের রব, আপনি বরকতময় ও সমুন্নত। (সুনান আবু দাউদ ১৪২৫, জামে তিরমিজি ৪৬৪)
শেখার আগ পর্যন্ত “রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান্নার” পড়ুন অথবা ইস্তিগফার করুন।
জুমা (শুক্রবারের নামাজ)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نُودِىَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوْمِ ٱلْجُمُعَةِ فَٱسْعَوْا۟ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ وَذَرُوا۟ ٱلْبَيْعَ
হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ করো।
যাদের ওপর ফরজ
- প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম পুরুষ
- মুকিম (মুসাফির নন)
- অসুস্থতা বা বৈধ ওজরমুক্ত ব্যক্তি
- নারী, মুসাফির ও অসুস্থরা উপস্থিত হতে পারেন; তাদের জুমা জোহরের স্থলাভিষিক্ত হয়
- ১
প্রস্তুতি
গোসল করুন, পরিষ্কার পোশাক পরুন, সুগন্ধি লাগান (পুরুষ) এবং আগেভাগে যান।
- ২
আগের সুন্নত
খুতবার আগে তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা চার রাকাত সুন্নত (হানাফি) আদায় করুন।
- ৩
খুতবা শুনুন
নীরবে ও মনোযোগ দিয়ে বসুন; খুতবার সময় কথা বলা নিষেধ, এমনকি কাউকে চুপ করতে বলাও।
- ৪
দুই রাকাত ফরজ
ইমামের পেছনে সশব্দ কিরাতে দুই রাকাত আদায় করুন। এটি জোহরের স্থলাভিষিক্ত।
- ৫
পরের সুন্নত
চার রাকাত (হানাফি ও শাফেয়ি), অথবা নবী ﷺ-এর মতো ঘরে দুই রাকাত।
সূরা কাহফ পড়ুন, নবী ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন এবং দোয়া করুন — জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন দোয়া কবুল হয়, বিশেষত আসরের পর তা তালাশ করা হয়।
ঈদের নামাজ
ঈদুল ফিতর (১ শাওয়াল) ও ঈদুল আজহায় (১০ জিলহজ) জামাতে দুই রাকাত, সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত। এতে আজান বা ইকামত নেই, এবং খুতবা নামাজের পরে হয়।
ওয়াজিব। প্রতি রাকাতে হাত তুলে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির: প্রথম রাকাতে সানার পর ও কিরাতের আগে; দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর, রুকুর আগে।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা। প্রথম রাকাতে সানার পর সাতটি অতিরিক্ত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের আগে পাঁচটি।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমার পর ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি।
ফরজে কিফায়া। কিরাতের আগে প্রথম রাকাতে ছয়টি এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি অতিরিক্ত তাকবির।
ঈদের সুন্নতসমূহ
- গোসল, উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি
- ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে খেজুর খাওয়া; ঈদুল আজহায় নামাজের পর পর্যন্ত না খেয়ে থাকা
- ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা
- পথে ঈদের তাকবির বলা
- এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফেরা
ٱللَّهُ أَكْبَرُ ٱللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ، وَٱللَّهُ أَكْبَرُ ٱللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ ٱلْحَمْدُ
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।
জানাজার নামাজ
দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরজে কিফায়া, চার তাকবিরসহ, রুকু-সিজদা ছাড়া। ইমাম মৃতের বুক বরাবর দাঁড়ান (হানাফি); শাফেয়ি ও হাম্বলি মতে পুরুষের মাথা এবং নারীর মাঝ বরাবর।
- ১
নিয়ত ও প্রথম তাকবির
জানাজার নামাজের নিয়ত করুন, হাত তুলে “আল্লাহু আকবার” বলুন। তারপর সানা (হানাফি) বা সূরা ফাতিহা (শাফেয়ি ও হাম্বলি) পড়ুন; মালেকিরা আল্লাহর প্রশংসা ও দোয়া করেন।
- ২
দ্বিতীয় তাকবির
“আল্লাহু আকবার” বলে নবী ﷺ-এর ওপর দরুদে ইবরাহিম পড়ুন।
- ৩
তৃতীয় তাকবির — মৃতের জন্য দোয়া
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ
হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড়, পুরুষ ও নারী সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন, আর যাকে মৃত্যু দেবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। (জামে তিরমিজি ১০২৪, সুনান আবু দাউদ ৩২০১)
- ৪
চতুর্থ তাকবির ও সালাম
“আল্লাহু আকবার” বলে সামান্য থামুন (কেউ কেউ ছোট দোয়া যোগ করেন), তারপর মাযহাব অনুযায়ী শুধু ডানে অথবা উভয় দিকে সালাম ফেরান।
ক্ষমা প্রার্থনার পরিবর্তে পড়ুন: “আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতান, ওয়াজ আলহু লানা আজরান ওয়া যুখরান” — হে আল্লাহ, তাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী, প্রতিদান ও সঞ্চয় বানিয়ে দিন।
তারাবিহ
তারাবিহ হলো রমজানের রাতের নামাজ, ইশার পর ও বিতরের আগে দুই দুই রাকাত করে পড়া হয় এবং প্রতি চার রাকাত পর সামান্য বিশ্রাম নেওয়া হয়। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা, জামাতে পড়া উত্তম। উমর (রা.)-এর সময়ে প্রতিষ্ঠিত আমলের অনুসরণে হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের মত বিশ রাকাত; নবী ﷺ-এর রাতের নামাজ সম্পর্কে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনার ভিত্তিতে আট রাকাতও ব্যাপকভাবে প্রচলিত (সহিহ বুখারি ১১৪৭)।
অনেক মসজিদে প্রতি রাতে এক পারা তিলাওয়াত করা হয়, যাতে মাসজুড়ে পুরো কুরআন খতম হয়।
রাতের ও নফল নামাজ
তাহাজ্জুদ
ঘুম থেকে উঠে রাতের নামাজ, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে উত্তম, দুই দুই রাকাত করে — সাধারণত দুই থেকে বারো রাকাত, শেষে বিতর।
চাশত / ইশরাক
সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের কিছু আগ পর্যন্ত দুই থেকে আট (বা বারো) রাকাত।
তাহিয়্যাতুল মসজিদ
মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুই রাকাত (সহিহ বুখারি ৪৪৪)।
তাহিয়্যাতুল অজু
অজু করার পর দুই রাকাত, বিলাল (রা.)-এর হাদিসে যার প্রশংসা এসেছে (সহিহ বুখারি ১১৪৯)।
সালাতুত তাওবা
পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন (সুনান আবু দাউদ ১৫২১)।
আসর ও ইশার আগে
আসর ও ইশার আগে চার রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা।
ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা)
- ১
দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন
ইস্তিখারার নিয়তে, নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যেকোনো সময়।
- ২
দোয়াটি পড়ুন
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
“হাযাল আমর” (এই বিষয়) বলার স্থানে আপনার বিষয়টি উল্লেখ করুন। (সহিহ বুখারি ১১৬২)
- ৩
ভরসা করে এগিয়ে যান
পরামর্শের পর যা উত্তম মনে হয় সে অনুযায়ী কাজ করুন; বিষয়টিতে সহজতা বা বাধা আসাও উত্তরের অংশ। স্বপ্ন দেখা আবশ্যক নয়।
সূর্যগ্রহণ ও বৃষ্টির নামাজ
সাধারণ নফল নামাজের মতো দুই রাকাত, দীর্ঘ কিরাতসহ, জামাতে, তারপর গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত দোয়া।
দুই রাকাত, প্রতি রাকাতে দুইবার কিয়াম, দুইবার কিরাত ও দুইবার রুকু, তারপর খুতবা।
দুই রাকাত, প্রতি রাকাতে দুইবার কিয়াম ও দুইবার রুকু; খুতবা নেই, তবে উপদেশ দেওয়া মুস্তাহাব।
দুই রাকাত, প্রতি রাকাতে দুইবার কিয়াম ও দুইবার রুকু, দীর্ঘ কিরাতসহ।
সালাতুল ইসতিসকা (বৃষ্টির নামাজ) — খরার সময় সমাজের মানুষ বিনয়ের সাথে খোলা মাঠে বের হন, দুই রাকাত নামাজ পড়েন (শাফেয়ি ও হাম্বলি মতে ঈদের নামাজের মতো), এবং ইমাম দোয়া ও ইস্তিগফার করেন। ইমাম আবু হানিফার মতে দোয়া ও ইস্তিগফারই যথেষ্ট, আর তাঁর শিষ্য আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ নামাজকে সাব্যস্ত করেছেন।
কাজা নামাজ
- ছুটে যাওয়া প্রতিটি ফরজ নামাজ কাজা করতে হবে — যত দ্রুত সম্ভব, বিনা ওজরে ছুটে থাকলে তাওবাসহ
- যেভাবে ফরজ ছিল সেভাবেই পড়ুন: সফরে কাজা করলেও চার রাকাত চারই থাকবে (আর সফরে ছুটে থাকলে দুই রাকাত)
- নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ত করুন, যেমন “আমার ছুটে যাওয়া প্রথম ফজর” বা “আমার ছুটে যাওয়া শেষ জোহর”
- হানাফি মাযহাবে বিতরও কাজা করতে হয়
- বহু বছরের ছুটে যাওয়া নামাজ: শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত ফরজ কাজা পড়ুন
ছুটে যাওয়া নামাজ ছয়টির কম হলে কাজা ও ওয়াক্তিয়া নামাজের মধ্যে ধারাবাহিকতা আবশ্যক, তবে সময় সংকীর্ণ হলে বা ভুলে গেলে নয়।
ধারাবাহিকতা রক্ষা মুস্তাহাব, আবশ্যক নয়।
অল্প সংখ্যক (চার বা তার কম) নামাজের ক্ষেত্রে মনে থাকলে ধারাবাহিকতা আবশ্যক।
ধারাবাহিকতা আবশ্যক, তবে ভুলে গেলে বা ওয়াক্তিয়া নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে নয়।
অসুস্থ ও মুসাফিরের নামাজ
- ১
সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে
যারা সক্ষম, তাদের জন্য ফরজ নামাজে দাঁড়ানো একটি রুকন।
- ২
নইলে বসে
মেঝেতে বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ুন, যতটা সম্ভব রুকু ও সিজদা করুন; সিজদা রুকুর চেয়ে নিচু হবে।
- ৩
নইলে শুয়ে
কিবলামুখী হয়ে ডান কাতে, অথবা কিবলার দিকে পা রেখে চিত হয়ে শুয়ে মাথার ইশারায় নামাজ আদায় করুন।
- ৪
কখনো নামাজ ছাড়বেন না
যতক্ষণ জ্ঞান থাকে, ততক্ষণ সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করা আবশ্যক (সহিহ বুখারি ১১১৭)।