ইসলামি উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর الفرائض
কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ারিসের অংশ, চার সুন্নি মাযহাবের বিধানসহ।
যেভাবে কাজ করে
বণ্টনের আগে
প্রথমে দাফন-কাফনের খরচ, তারপর ঋণ, তারপর ওয়ারিস নন এমন ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অসিয়ত পরিশোধ করা হয়। অবশিষ্ট সম্পদ ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টিত হয়।
নির্ধারিত অংশ ও অবশিষ্টাংশ
নির্ধারিত অংশের ওয়ারিসরা (আসহাবুল ফুরুজ) — যেমন স্বামী/স্ত্রী, মা-বাবা ও কন্যা — প্রথমে পান; অবশিষ্টাংশ যায় নিকটতম পুরুষ আসাবার কাছে।
আউল ও রদ
নির্ধারিত অংশগুলো সম্পদের চেয়ে বেশি হলে সবার অংশ আনুপাতিক হারে কমে (আউল)। কম হলে এবং কোনো আসাবা না থাকলে অতিরিক্ত অংশ স্বামী/স্ত্রী ছাড়া নির্ধারিত অংশের ওয়ারিসদের কাছে ফিরে যায় (রদ)।
অন্তর্ভুক্ত নয়
দূরবর্তী আত্মীয় (যাবিল আরহাম), নিখোঁজ ব্যক্তি, গর্ভস্থ সন্তান, একসাথে মৃত্যু এবং ধর্মের ভিন্নতা বা হত্যার কারণে বঞ্চিত ওয়ারিসের ক্ষেত্রে আলেমের প্রয়োজন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ফলাফল কি প্রত্যেক দেশে প্রযোজ্য?
অংশগুলো কুরআন, সুন্নাহ ও চার মাযহাব অনুসরণ করে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযোজ্য। কিছু দেশ আইনের মাধ্যমে এগুলো পরিবর্তন করেছে — যেমন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এতিম নাতি-নাতনি তাদের মৃত বাবা/মায়ের অংশ পায় (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১)। আপনার স্থানীয় আইন ও একজন যোগ্য আলেমের কাছে যাচাই করুন।
ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায় কেন?
কুরআন এই অনুপাত নির্ধারণ করেছে (সূরা নিসা ৪:১১)। আলেমগণ ব্যাখ্যা করেন যে পুরুষ মোহর, বাসস্থান ও পরিবারের ভরণপোষণের আর্থিক দায়িত্ব বহন করেন, আর নারীর অংশ সম্পূর্ণ তার নিজের।
অসিয়তে কি এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেওয়া যায়?
এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত, অথবা কোনো ওয়ারিসের জন্য যেকোনো অসিয়ত, অন্য ওয়ারিসদের সম্মতি সাপেক্ষ।
কোন মাযহাব বেছে নেব?
আপনার দেশে বা আপনার পরিবারে যে মাযহাব অনুসরণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাযহাবগুলো একমত; মূলত ভাইবোনের সাথে দাদা, মুশতারাকা মাসআলা এবং বাবার সাথে দাদির ক্ষেত্রে মতভেদ আছে।