হারূন ইবন আবদুল্লাহ হাম্মাল (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন হুরমুয থেকে বর্ণিত যে, খারিজী নেতা নাজদা হারুরী যখন আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর আমলের গন্ডগোলের সময়ে মাঠে নামে, তখন সে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাসের নিকট বলে পাঠায় যে, নিকটাত্মীয়দের অংশ কে কে পেতে পারে বলে আপনি মনে করেন? তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটাত্মীয় তথা আমরাই পাব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যেই তা বণ্টন করেছেন। উমর (রাঃ) আমাদেরকে কিছু দিতে চাইলে আমরা দেখলাম যে, তা আমাদের প্রাপ্য অপেক্ষা কম। তখন আমরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করি। তিনি তা দ্বারা তাদের বিবাহকারীকে সাহায্য করতে এবং কর আদায় করতে এবং তাদের মধ্যে যে অভাবগ্রস্ত তাদের দিতে চেয়েছিলেন, আর এর অধিক দিতে অস্বীকার করেছিলেন।
সুনানে নাসায়ি 4134Sahih LighairihiSahihSahih Muslim
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন হুরমুয থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদা ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে লিখেন যে, নিকটাত্মীয়দের অংশ কারা পাবে? ইয়াযীদ ইবন হুরমু (রাঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর পক্ষ হতে নাজদাকে জবাবে লিখলামঃ তুমি আমার কাছে নিকটাত্মীয়দের অংশ সম্বন্ধে জানতে চেয়েছ, তা আহলে বায়তের জন্য। উমর (রাঃ) আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি এর দ্বারা আমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করে দেবেন, আমাদের মাঝে যারা গরীব, তাদের সাহায্য করবেন এবং আমাদের মাঝে যারা ঋণগ্রস্ত তাদের ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তা অস্বীকার করি এবং দাবি জানাই যে, তা আমাদের কাছেই অর্পণ করতে হবে। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করলেন। শেষে আমরা তা তার উপর ছেড়ে দেই।
সুনানে নাসায়ি 4135Sahih Isnaad MaqtuSahih Isnaad MaqtuIsnaad Sahih
আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আওযায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) উমর ইবন ওয়ালীদকে লিখলেনঃ তোমার পিতার খুমুসের অংশ সম্পূর্ণই তোমার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমার পিতার অংশ মুসলিমদের এক ব্যক্তির অংশের সমান ছিল। আর তাতে আল্লাহর এবং রাসূলের, নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের হক ছিল, চিন্তা করে দেখ কিয়ামতের দিন তোমার পিতার কাছে দাবিদার কত বেশি হবে? আর যার বিরুদ্ধে এত অধিক দাবিদার হবে, তার নিস্তার কিভাবে হবে? আর তুমি যে বাদ্যযন্ত্র ও সেতার বের করেছ, তা তোমরা ইসলামে বিদআত। আমি স্থির করেছি তোমার নিকট এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব, যে তোমার মাথার লম্বা বাবড়ি সমান করে কেটে দেবে।
আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... জুবায়র ইবন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং উসমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে হুনায়নের মালের ব্যাপারে বললেন, যা তিনি বনূ হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের মধ্যে বন্টন করেছিলেন। তারা দু’জন বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের ভাই বনূ আবদুল মুত্তালিবকে দান করলেন এবং আমাদেরকে কিছুই দিলেন না। অথচ আমরাও আপনার ঐরূপ আত্মীয়! তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি তো বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবকে একই মনে করি। জুবায়র ইবন মুতইম (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ আবদ শামস ও বন্ নওফলকে তা থেকে কিছুই দিলেন না, যেমন তিনি বনু হাশিম এবং আবদুল মুত্তালিবকে দিলেন।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... জুবায়র ইবন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আত্মীয়দের অংশ বনূ হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের মধ্যে বণ্টন করলেন তখন আমি ও উসমান ইবন আফফান তাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওই যে বনু হাশিম, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সাথে আপনার যে সম্পর্ক রেখেছেন, তজ্জনিত তাদের শ্রেষ্ঠত্বকে আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু আপনি আমাদের ভাই বনূ আবদুল মুত্তালিবকে দান করলেন এবং আমাদেরকে কিছুই দিলেন না। অথচ আমরা ও তারা সমপর্যায়ের আত্মীয়? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা জাহেলিয়াতে এবং ইসলামে আমাকে ছেড়ে যায়নি। আমি তো বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবকে একই মনে করি। এই বলে তিনি নিজ আঙ্গুলসমূহ পরস্পর গেঁথে দিলেন।
আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের দিন একটি উটের পার্শ্বদেশ থেকে কিছু পশম নিলেন। তারপর বললেন, হে লোক সকল! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে যে গনীমত দিয়েছেন, তা থেকে খুমুস ব্যতীত এটুকু নেয়াও আমার জন্য হালাল নয়, আর খুমুসও তোমাদের মধ্যেই ফিরিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ্ সম্যক অবগত।
আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটের নিকট গিয়ে তার কুঁজ হতে একটি পশম তাঁর দুই আঙ্গুলের মধ্যে নিয়ে বললেনঃ যুদ্ধলব্ধ মালের পঞ্চমাংশ ব্যতীত আমার জন্য এতটুকুও নেই। আর আমার পঞ্চমাংশও তোমাদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা বনূ নযীরের সম্পদ তাঁর রাসূলকে ফায় হিসেবে দান করেছেন। মুসলিমগণ তা পেতে ঘোড়াও দৌড়ায়নি এবং উটও না। তিনি তা থেকে এক বছরের খরচ নিজের জন্য নিতেন এবং অবশিষ্ট মাল যুদ্ধের জন্য ঘোড়া, হাতিয়ার এবং জিহাদের উপকরণ ক্রয়ের জন্য ব্যয় করতেন।
সুনানে নাসায়ি 4141SahihSahihSahih - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - هُوَ الْفَزَارِيُّ - عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَدَقَتِهِ وَمِمَّا تَرَكَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ " .
আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন হারিস (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট তাঁর মীরাস চাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে পাঠান, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকা এবং খায়বরের খুমুস থেকে রেখে যান। আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ আমাদের ওয়ারিস হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাই তা সাদকা।
সুনানে নাসায়ি 4142Sahih Isnaad MursalSahih Isnaad MursalIsnaad Hasan
আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ জেনে রাখ যে, তোমরা যুদ্ধে যা লাভ কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর, আল্লাহর রাসূলের, আর তাঁর আত্মীয়দের। এখানে আল্লাহর পঞ্চমাংশ এবং রাসূলের পঞ্চমাংশ একই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে লোকদের সওয়ারীর ব্যবস্থা করতেন, লোকদের দান করতেন। যেখানে ইচ্ছা খরচ করতেন এবং যা ইচ্ছা ব্যয় করতেন।
আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... কায়স ইবন মুসলিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাসান ইবন মুহাম্মদকে (وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ) এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, এটি (অর্থাৎ বণ্টনে আল্লাহর উল্লেখ এই হিসেবে যে এটি) দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কালামের চাবি (অর্থাৎ সূচনা) দুনিয়া ও আখিরাত তোমরা আল্লাহরই। তবে রাসূলের এবং রাসূলের নিকটাত্মীয়ের অংশের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পরে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ তাঁর পরে খলীফার প্রাপ্য। কেউ কেউ বললেনঃ আত্মীয়দের অংশ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের প্রাপ্য। কেউ বললেন, আত্মীয়দের অংশ খলীফার আত্মীয়দের জন্য। অবশেষে সকলে এ কথায় একমত হলেন যে, এই অংশদ্বয় ঘোড়া এবং যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করার জন্য ব্যয় হওয়া উচিত। আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-এর সময় এই দুই অংশ এভাবেই ব্যয় হতো।
সুনানে নাসায়ি 4144Sahih Isnaad MursalSahih Isnaad MursalIsnaad Hasan
আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন (রহঃ) ... মূসা ইবন আবূ আয়েশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন জাযযারকেঃ (وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ) এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খুমুসে কত অংশ ছিল, জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ খুমুসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এর অংশ ছিল পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، قَالَ سُئِلَ الشَّعْبِيُّ عَنْ سَهْمِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم وَصَفِيِّهِ فَقَالَ أَمَّا سَهْمُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَسَهْمِ رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَّا سَهْمُ الصَّفِيِّ فَغُرَّةٌ تُخْتَارُ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ شَاءَ .
আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন হারিস (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শা'বী (রহঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ এবং তাঁর সফী সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ তো ছিল একজন মুসলিম-এর অংশের সমান। আর ‘সফীর অংশ হিসেবে তার যা ইচ্ছা তা নেয়ার ইখতিয়ার ছিল।
সুনানে নাসায়ি 4146Sahih IsnaadSahih IsnaadSahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الشِّخِّيرِ، قَالَ بَيْنَا أَنَا مَعَ، مُطَرِّفٍ بِالْمِرْبَدِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مَعَهُ قِطْعَةُ أُدْمٍ قَالَ كَتَبَ لِي هَذِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَلْ أَحَدٌ مِنْكُمْ يَقْرَأُ قَالَ قُلْتُ أَنَا أَقْرَأُ فَإِذَا فِيهَا " مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِبَنِي زُهَيْرِ بْنِ أُقَيْشٍ أَنَّهُمْ إِنْ شَهِدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَفَارَقُوا الْمُشْرِكِينَ وَأَقَرُّوا بِالْخُمُسِ فِي غَنَائِمِهِمْ وَسَهْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَفِيِّهِ فَإِنَّهُمْ آمِنُونَ بِأَمَانِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ " .
আমর ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন শিখখীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিরবাদ নামক স্থানে মুতাররিফের সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি চামড়ার এক টুকরা নিয়ে উপস্থিত হলো এবং বললেনঃ এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখে দিয়েছেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ পড়তে পারে? আমি বললামঃ হ্যাঁ, আমি পড়তে পারবাে। তাতে লেখা ছিলঃ 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ এর পক্ষ হতে বনী যুহায়র ইবন উকায়শ এর প্রতি, তাদের জানা উচিত যদি তারা এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং তারা মুশরিক হতে পৃথক হয়ে যায়, আর তারা একথা স্বীকার করে যে, গনীমতের পঞ্চমাংশ নবীর অংশ এবং সফীও তাঁর, তবে তারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের প্রদত্ত নিরাপত্তায় থাকবে।
আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন হারিস (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআন মজীদে যে বলা হয়েছে, খুমুস বা পঞ্চমাংশ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের জন্য, তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য, কারণ তাঁদের জন্য সদকা গ্রহণ করা বৈধ ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পঞ্চমাংশের পঞ্চমাংশ গ্রহণ করতেন আর তার আত্মীয়দের জন্য ছিল পঞ্চমাংশের পঞ্চমাংশ। আর ইয়াতীমদের জন্যও ছিল অনুরূপ। আর মুসাফিরদের জন্য অনুরূপ এবং নিকট আত্মীয়দের জন্য অনুরূপ অংশ ছিল। আবু আবদুর রহমান (ইমাম নাসাঈ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা যে নিজের নাম নিয়ে শুরু করে (فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ) বলেছেন, এটা বাক্যের সূচনাবিশেষ। কারণ সমুদয় বস্তু আল্লাহরই। এবং ফায়’ ও ‘খুমুস’-এর ক্ষেত্রে তিনি প্রথমে নিজের নাম নিয়ে শুরু করেছেন। এর কারণ এই যে, এ দু'টো উত্তম অর্জন। আর সাদকার ক্ষেত্রে নিজের নাম নিয়ে আরম্ভ করেন নি। বরং বলেছেনঃ (إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ) অর্থাৎ সাদকা ফকীরদের জন্য ........। কারণ সাদকা মানুষের ময়লা-স্বরূপ। কেউ কেউ বলেছেনঃ গনীমতের মালের কিছু অংশ নিয়ে কা'বার মধ্যে রেখে দেওয়া হবে আর সেটাই আল্লাহর অংশ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ ইমাম বা শাসক পাবেন। তিনি তা দিয়ে ঘোড়া, অস্ত্র-শস্ত্র ক্রয় করবেন, যাকে দেওয়া ভাল মনে করবেন, দেবেন, যাকে দিলে মুসলিম সাধারণের উপকার ও কল্যাণ হয় তাকে এবং মুহাদ্দিস, ফুকাহা ও কুরআনচর্চাকারীদেরকে দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের অংশ বনু হাশিম ও বনূ মুত্তালিব পাবেন; চাই তারা ধনী হন বা দরিদ্র। কেউ কেউ বলেন, তাঁদের মধ্যে যারা দরিদ্র কেবল তারাই পাবেন, ধনীরা পাবেন না। যেমন ইয়াতীম ও মুসাফিরদের মধ্যে যারা দরিদ্র, তারাই পাবে। এ মতই আমার কাছে অধিক সঠিক বলে মনে হয়। কিন্তু পাওয়ার ক্ষেত্রে ছােট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই সমান। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা এই সম্পদ তাদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে বণ্টন করেছেন। আর হাদীসে উল্লেখ নেই যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে বেশি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কাউকে কম। এই মাসআলায় ইমামগণের কোন মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই যে, যদি কেউ কারো সন্তানদের জন্য নিজের এক-তৃতীয়াংশ মাল প্রদানের ওসীয়ত করে, তাহলে সকল সন্তানই সমান হারে পাবে; চাই তারা ছেলে হোক বা মেয়ে যদি তাদের পরিসংখ্যান জানা থাকে। এমনিভাবে যদি কোন জিনিস কারো সন্তানদের দেওয়ার জন্য বলা হয়, তাহলে ঐ জিনিস সকল সন্তানই সমান হারে পাবে। অবশ্য যে ব্যক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়, সে যদি পরিস্কার বলে দেয় যে, অমুক এতটুকু পাবে, আর অমুক এতটুকু, তাহলে তার কথানুযায়ী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর এক অংশ মুসলিম ইয়াতীমগণ পাবে। এক অংশ মুসলিম মিসকীনগণ এবং এক অংশ মুসাফিরগণ পাবে। আর কাউকে মিসকীনের অংশ ও মুসাফিরের অংশ-এই দুই অংশ একত্রে দেওয়া হবে না; বরং তাকে বলা হবে তুমি হয় মিসকীনের অংশ গ্রহণ কর অথবা মুসাফিরের অংশ গ্রহণ কর। গনীমতের মালের অবশিষ্ট চারভাগ ইমাম ঐ মুসলিমদের দেবেন, যারা বালেগ এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... মালিক ইবন আউস ইবন হাদাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস এবং আলী (রাঃ) বিবদমান অবস্থায় উমর (রাঃ)-এর কাছে আসেন। এরপর আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার এবং এর মধ্যে ফয়সালা করে দিন। লোকেরাও বললেনঃ এদের মধ্যে বণ্টন করে দিন। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ আমি তাদের মধ্যে বন্টন করবো না। তারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আমাদের ওয়ারিস হয় না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদকা। রাবী বলেনঃ এরপর যুহরী বলেন যে, উমর (রাঃ) সে সম্পদের মুতাওয়াল্লী ছিলেন। তিনি তা হতে তার পরিবারের খরচ পরিমাণমত গ্রহণ করতেন এবং অবশিষ্ট যা থাকতো তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতেন। তারপরে এই মালের মুতাওয়াল্লী ছিলেন আবু বকর (রাঃ)। আবু বকরের পর আমি এর মুতাওয়াল্লী হয়েছি। আমিও ঐরূপই করেছি, যেরূপ তিনি করতেন। এখন এঁরা দু’জন আমার নিকট এসে এই মাল তাদেরকে দেয়ার জন্য বললেন, যেন তারা এর মুতাওয়াল্লী হতে পারেন, যেরূপ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর (রাঃ) মুতাওয়াল্লী ছিলেন এবং আমি এর মুতাওয়াল্লী হয়েছি। সুতরাং তখন আমি ঐ মাল তাদেরকে দিয়ে দিলাম এবং তাদের হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম। পরে তারা উভয়ে আবার আসলেন। একজন বললেনঃ আমার ভাতিজার থেকে আমার অংশ ভাগ করে দিন। অপরজন বললেন, আমার স্ত্রীর পক্ষ হতে আমার প্রাপ্য অংশ আমাকে ভাগ করে দিন। তিনি বললেনঃ যদি তারা সম্মত হন তাহলে আমি এই মাল তাদেরকে দিয়ে দেব এই শর্তে যে, তারা মালের ব্যাপারে ঐরূপ কাজ করবেন, যেরূপ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন এবং তার পরে আবু বকর (রাঃ) করতেন এবং তার পরে আমি করেছি। যদি তারা দু'জন এতে সম্মত না হন তাহলে তাঁরা যেন তাদের ঘরে বসে থাকেন, আর মাল আমি আমার তত্ত্বাবধানে রাখবাে। এরপর উমর (রাঃ) বললেনঃ মালের গনীমত সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ জেনে রাখ, যুদ্ধে যা তোমার লাভ কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্ তা'আলার, রাসূলের এবং নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের ও মুসাফিরদের। আল্লাহ্ আরো বলেনঃ আর সাদকা ফকীর, মিসকীন, তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের এবং যাদের হৃদয় আকৃষ্ট করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। যে মাল আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে দান করেছেন। তোমরা তাতে নিজেদের ঘোড়া বা উট হাঁকাও নি। যুহরী (রহঃ) বলেন, এই মাল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট, আর তা হলো, কয়েকটি আরব গ্রাম, তথা ফিদক এবং অন্যান্য। এই মালের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, জনপদবাসীদের থেকে যে মাল আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলকে দান করলেন, তা আল্লাহ এবং তার রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফিরদের। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ এ সম্পদ ঐ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে উৎখাত হয়েছে। মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ এই মালে ঐ সকল লোকের হক রয়েছে। যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে এসে বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে। আর ঐ সকল লোকেরও হক রয়েছে, যারা এদের পরে এসেছে। এই আয়াতে মুসলিম শামিল রয়েছে, কোন মুসলিমই অবশিষ্ট নেই যার এ মালে হক নেই। তবে তোমাদের মাঝে কিছু দাস-দাসী রয়েছে, যাদের এ মালে হক নেই। এরপর উমর (রাঃ) বলেনঃ যদি আমি জীবিত থাকি, তবে ইনশাআল্লাহ্ প্রত্যেক মুসলিমের কাছে তার হক পৌছে যাবে।
মূল পাঠ, অনুবাদ ও মান নির্ণয়: ওপেন-সোর্স Hadith API (fawazahmed0/hadith-api)। মান নির্ণয়গুলো উল্লিখিত মুহাদ্দিসদের।