মূল বিষয়ে যান
Sunni Islam নির্দেশনা, ইবাদতের টুলস ও বিশুদ্ধ উৎস
27

সুনানে নাসায়ি

The Book of Divorce

174 টি হাদিস

সুনানে নাসায়ি 3389 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ السَّرَخْسِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَاسْتَفْتَى عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ ‏ "‏ مُرْ عَبْدَ اللَّهِ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يَدَعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا هَذِهِ ثُمَّ تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى فَإِذَا طَهُرَتْ فَإِنْ شَاءَ فَلْيُفَارِقْهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا وَإِنْ شَاءَ فَلْيُمْسِكْهَا فَإِنَّهَا الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ ‏"‏ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ সারাখসী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ছিল ঋতুমতী। তখন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর সমাধান চাইলেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ তার স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্থায় তালাক দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবদুল্লাহকে বলে দাও সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয় এবং হায়য থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাকে দূরে রাখে। এরপর সে আবার ঋতুমতী হয়ে যখন পবিত্র হবে, তখন সে যদি ইচ্ছা করে তবে তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই তাকে তালাক দেবে, আর যদি সে ইচ্ছা করে তাহলে তাকে রেখে দেবে। এটাই তার ঐ ইদ্দত, যে অনুযায়ী আল্লাহ্ তা'আলা আদেশ করেছেন, স্ত্রীদের তালাকের ব্যাপারে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 1
সুনানে নাসায়ি 3390 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তাকে বল, যেন তাকে ফিরিয়ে নেয় এবং পাক হওয়া পর্যন্ত তাকে দূরে রাখে। পরে হায়যের পর পাক হলে যদি সে ইচ্ছা করে তাকে রাখবে, আর যদি ইচ্ছা করে তালাক দেবে-স্পর্শ করার পূর্বে। ইহাই ঐ ইদ্দত, যে অনুযায়ী আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রীদের তালাকের ব্যাপারে আদেশ করেছেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 2
সুনানে নাসায়ি 3391 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنِي كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، قَالَ سُئِلَ الزُّهْرِيُّ كَيْفَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ فَقَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حَائِضٌ ‏.‏ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَالَ ‏ "‏ لِيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً وَتَطْهُرَ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَذَاكَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ كَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَرَاجَعْتُهَا وَحَسِبْتُ لَهَا التَّطْلِيقَةَ الَّتِي طَلَّقْتُهَا ‏.‏

কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাকালে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম হায়য অবস্থায়। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই ঘটনা বললেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। এরপর এক হায়য হওয়া পর্যন্ত তার থেকে দূরে থাকবে এবং যতক্ষণ না সে পবিত্র হবে। এরপর সে যদি তাকে তালাক দিতে চায়, তাহলে তার পাক অবস্থায় তাকে তালাক দেবে-সহবাস করার পূর্বে। এই তালাক হলো ইদ্দতের অনুযায়ী, যেমন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, আমি তাকে ফিরিয়ে আনলাম; আর আমি তাকে যে তালাক দিয়েছিলাম, তাকে এক তালাক হিসাবে গণ্য করলাম।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 3
সুনানে নাসায়ি 3392 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَيْمَنَ، يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ يَسْمَعُ كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَقَالَ لَهُ طَلَّقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَ هِيَ حَائِضٌ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لِيُرَاجِعْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَرَدَّهَا عَلَىَّ قَالَ ‏"‏ إِذَا طَهُرَتْ فَلْيُطَلِّقْ أَوْ لِيُمْسِكْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ ‏}‏ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন জুরায়জ (রহঃ) বলেন, আমাকে আবু যুবায়র সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আয়মন (রহঃ)-কে ইবন উমরের নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছেন, আর তখন আবু যুবায়র (রাঃ) শোনেন। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিলে আপনি তা কিরূপ মনে করেন? তিনি তাকে বললেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে হায়য অবস্থায় তালাক দিলে উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। এ কথা বলে তিনি আমার দেওয়া তালাক ফিরিয়ে রদ করলেন। তিনি বললেনঃ যখন সে পাক হবে, তখন ইচ্ছা হলে তাকে তালাক দেবে; আর না হয় তাকে রেখে দেবে। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ এরপর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 4
সুনানে নাসায়ি 3393 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ ‏}‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضى الله عنه قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمْ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ) সম্পর্কে বর্ণিত যে, এর অর্থ ইদ্দতের পূর্বে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 5
সুনানে নাসায়ি 3394 Sahih Sahih Daif

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ طَلاَقُ السُّنَّةِ تَطْلِيقَةٌ وَهِيَ طَاهِرٌ فِي غَيْرِ جِمَاعٍ فَإِذَا حَاضَتْ وَطَهُرَتْ طَلَّقَهَا أُخْرَى فَإِذَا حَاضَتْ وَطَهُرَتْ طَلَّقَهَا أُخْرَى ثُمَّ تَعْتَدُّ بَعْدَ ذَلِكَ بِحَيْضَةٍ ‏.‏ قَالَ الأَعْمَشُ سَأَلْتُ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ সুন্নত তালাক হলো, যে পাক অবস্থায় সহবাস করা হয়নি। তাতে এক তালাক দেওয়া। এরপর যখন হায়য় হওয়ার পর পাক হয়, তখন তাকে আর এক তালাক দেওয়া। এরপর যখন সে আবার হয়েয থেকে পাক হয়, তখন আরো এক তালাক দেওয়া, এরপর সে এক হায়েয পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। আ'মাশ (রহঃ) বলেন, আমি ইবরাহীমকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি এরূপ বললেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 6
সুনানে নাসায়ি 3395 Sahih Sahih Daif

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ طَلاَقُ السُّنَّةِ أَنْ يُطَلِّقَهَا طَاهِرًا فِي غَيْرِ جِمَاعٍ ‏.‏

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নত তালাক হলো স্ত্রীকে সহবাস ব্যতীত পাক অবস্থায় এক তালাক দেওয়া।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 7
সুনানে নাসায়ি 3396 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً فَانْطَلَقَ عُمَرُ فَأَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مُرْ عَبْدَ اللَّهِ فَلْيُرَاجِعْهَا فَإِذَا اغْتَسَلَتْ فَلْيَتْرُكْهَا حَتَّى تَحِيضَ فَإِذَا اغْتَسَلَتْ مِنْ حَيْضَتِهَا الأُخْرَى فَلاَ يَمَسَّهَا حَتَّى يُطَلِّقَهَا فَإِنْ شَاءَ أَنْ يُمْسِكَهَا فَلْيُمْسِكْهَا فَإِنَّهَا الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁহার স্ত্রীকে হয়েয অবস্থায় এক তালাক দেন। তখন উমর (রাঃ) গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সংবাদ দিলে তিনি তাকে বললেন, আবদুল্লাহকে বল, সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে, এবং যখন সে গোসল করবে, তখন তাকে অন্য হয়েয পর্যন্ত সহবাস করবে না, যখন অন্য হায়েয হতে গোসল করবে, তখন তাকে তালাক দেওয়ার আগে স্পর্শ করবে না। যদি তাকে রাখতে চায়, তবে রেখে দেবে। ইহাই সেই ইদ্দত- আল্লাহ পাক যার আদেশ করেছেন যে, স্ত্রীদেরকে ইদ্দতে তালাক দেবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 8
সুনানে নাসায়ি 3397 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى طَلْحَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا وَهِيَ طَاهِرٌ أَوْ حَامِلٌ ‏"‏ ‏.‏

মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন, এই খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, তাকে বল, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়; এরপর তাকে তালাক দেয় পাক অবস্থায় অথবা গর্ভাবস্থায়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 9
সুনানে নাসায়ি 3398 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَرَدَّهَا عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى طَلَّقَهَا وَهِيَ طَاهِرٌ ‏.‏

যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার নিকট ফিরিয়ে দেন। পরে তিনি তাকে পাক-পবিত্র অবস্থায় তালাক দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 10
সুনানে নাসায়ি 3399 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ هَلْ تَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يَسْتَقْبِلَ عِدَّتَهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ فَيَعْتَدُّ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ فَقَالَ مَهْ أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... ইউনুস ইবন জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, যে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে চিন? তিনি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন, তখন উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে আদেশ করলেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর তার ইদ্দতের অপেক্ষা করবে। তখন তাকে আমি বললামঃ এই তালাকের জন্যই কি ইদ্দত পালন করবে? তিনি বললেনঃ আস, যদি সে ফিরিয়ে না নেয় এবং মুর্খতার পরিচয় দেয়, তাহলে কি সে তালাক গণ্য হবে না?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 11
সুনানে নাসায়ি 3400 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ رَجُلٌ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ أَتَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يَسْتَقْبِلَ عِدَّتَهَا قُلْتُ لَهُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ أَيَعْتَدُّ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ فَقَالَ مَهْ وَإِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ ‏.‏

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বললাম; এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমর কে চিন, সে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়। তখন উমর (রাঃ) তার এ বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে, তিনি তাকে এ নির্দেশ দেন যে, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়; এরপর তার ইদ্দতের অপেক্ষা করে। আমি তাকে বললামঃ যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেয়, তখন এই তালাকের জন্যও কি তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে? তিনি বললেনঃ থাম, যদি সে ফিরিয়ে না নেয় এবং মূর্থিতার পরিচয় দেয়, তাহলে কি সে তালাক গণ্য হবে না?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 12
সুনানে নাসায়ি 3401 Daif Daif Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ لَبِيدٍ، قَالَ أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثَ تَطْلِيقَاتٍ جَمِيعًا فَقَامَ غَضْبَانًا ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ أَيُلْعَبُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ حَتَّى قَامَ رَجُلٌ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَقْتُلُهُ ‏.‏

সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ... ইবন মাখরামা (রহঃ) আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা হতে, তিনি বলেনঃ আমি মাহমুদ ইবন লবীদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক ব্যক্তি সম্বন্ধে সংবাদ দেওয়া হলো, সে তার স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দিয়েছে। এ কথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করছে? অথচ আমি তোমাদের মাঝেই রয়েছি! তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি তাকে হত্যা করবো না?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 13
সুনানে নাসায়ি 3402 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ فَقَالَ أَرَأَيْتَ يَا عَاصِمُ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَيَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ ‏.‏ فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتَ عَنْهَا ‏.‏ فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَدْ نَزَلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَائْتِ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَ عُوَيْمِرٌ قَالَ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا ‏.‏ فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবন সা'দ সাঈদী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উওয়াইমির আজলানী আসিম ইবন আদীর নিকট আগমন করলো এবং বললোঃ হে আসিম! তুমি কি মনে কর, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে কোন ব্যক্তিকে দেখতে পায়, তাহলে সে কি তাকে হত্যা করবে? যদ্দরুন লোকেরাও তাকে হত্যা করবে অথবা কি করবে? হে আসিম! তুমি আমার পক্ষ হয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর। তখন আসিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্নকারীর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং ঐ স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনলেন, তা আসিম অতিশয় গুরুতর মনে করলো। আসিম ঘরে ফিরে আসলে উওয়াইমির (রাঃ) তার নিকট এসে বললোঃ হে আসিম ! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কি বলেছেন? আসিম উওয়াইমির (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি তো আমার নিকট ভাল খবর নিয়ে আসোনি, আমি যা জিজ্ঞাসা করেছি, তাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হয়েছেন। উওয়াইমির বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা জিজ্ঞাসা না করে ক্ষান্ত হবে না। এরপর উওয়াইমির লোকের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে কী বলেন, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। সে কি তাকে হত্যা করবে, ফলে আপনারাও তাকে হত্যা করবেন অথবা সে কি করবে? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এবং তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা নাযিল হয়েছে। অতএব তুমি গিয়ে তাকে নিয়ে এসো। সাহল (রাঃ) বলেন, এরপর উভয়ে এসে লি আন’ করলো। আর তখন আমি অন্যান্য লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। যখন উওয়াইমির লি'আন শেষ করলো। তখন সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তাকে রাখি, তাহলে লোকেরা বলবে, আমি তার উপর মিথ্যা তোহমাত লাগিয়ে ছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ করার পূর্বেই সে তাকে তিন তালাক দিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 14
সুনানে নাসায়ি 3403 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ الأَحْمَسِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ، قَالَتْ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَنَا بِنْتُ آلِ خَالِدٍ وَإِنَّ زَوْجِي فُلاَنًا أَرْسَلَ إِلَىَّ بِطَلاَقِي وَإِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَهُ النَّفَقَةَ وَالسُّكْنَى فَأَبَوْا عَلَىَّ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ أَرْسَلَ إِلَيْهَا بِثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ ‏.‏ قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا النَّفَقَةُ وَالسُّكْنَى لِلْمَرْأَةِ إِذَا كَانَ لِزَوْجِهَا عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ ‏"‏ ‏.‏

আহমদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমি আলে খালিদের কন্যা। আর আমার স্বামী অমুক আমার নিকট তালাকের খবর পাঠিয়েছে। আমি তার অভিভাবকের নিকট খোরপোষ এবং বাসস্থান চাইলে তারা তা আমাকে দিতে অস্বীকার করেছে। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা বললোঃ সে তার নিকট তিন তালাকের খবর পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খোরপোষ এবং বাসস্থান স্ত্রীর জন্য ঐ সময় দেওয়া হবে যখন তাকে ফিরিয়ে আনার অধিকার স্বামীর থাকে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 15
সুনানে নাসায়ি 3404 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْمُطَلَّقَةُ ثَلاَثًا لَيْسَ لَهَا سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন তালাকপ্ৰাপ্ত নারীর জন্য কোন খোরপোষ ও বাসস্থান নেই।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 16
সুনানে নাসায়ি 3405 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو، - وَهُوَ الأَوْزَاعِيُّ - قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ الْمَخْزُومِيَّ، طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَانْطَلَقَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فِي نَفَرٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَ فَاطِمَةَ ثَلاَثًا فَهَلْ لَهَا نَفَقَةٌ فَقَالَ ‏ "‏ لَيْسَ لَهَا نَفَقَةٌ وَلاَ سُكْنَى ‏"‏ ‏.‏

আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আবু আমর ইবন হাফস মাখযুমী তাকে তিন তালাক দিলে খালিদ ইবন ওয়ালীদ বনী মাখযুমের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) ফাতিমাকে তিন তালাক দিয়েছে, এখন কি সে খোরপোষ পাবে? তখন তিনি বললেনঃ তার জন্য কোন খোরপোষ এবং বাসস্থান নেই।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 17
সুনানে নাসায়ি 3406 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا الصَّهْبَاءِ، جَاءَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ الثَّلاَثَ، كَانَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا تُرَدُّ إِلَى الْوَاحِدَةِ قَالَ نَعَمْ ‏.‏

আবু দাউদ সুলায়মান ইবন সায়ফ (রহঃ) ... ইবন তাউস (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। আবু সাহবা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে বললোঃ হে ইবন আব্বাস! আপনি কি জানেন না, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর প্রথম যুগে তিন তালাককে এক তালাক ধরা হতো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 18
সুনানে নাসায়ি 3407 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَتَزَوَّجَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ فَدَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يُوَاقِعَهَا أَتَحِلُّ لِلأَوَّلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ حَتَّى يَذُوقَ الآخَرُ عُسَيْلَتَهَا وَتَذُوقَ عُسَيْلَتَهُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করলো। সে স্বামী তার সাথে নির্জনবাস করলো। এরপর সে তাকে তালাক দিল সহবাসের পূর্বে, সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না; যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে, আর সেও তার স্বাদ গ্ৰহণ করবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 19
সুনানে নাসায়ি 3408 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَكَحْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ إِلاَّ مِثْلَ هَذِهِ الْهُدْبَةِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ ‏"‏ ‏.‏

আব্দুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আ' কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিবাহ করেছি। আল্লাহর কসম তার নিকট আমার এই কাপড় খণ্ডের মত ব্যতীত আর কিছু নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মনে হয় তুমি আবার রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে চাও, তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্ৰহণ কর, আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 20
সুনানে নাসায়ি 3409 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ تَحْتَ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ فَطَلَّقَنِي الْبَتَّةَ فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَأَنَّهُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مَعَهُ إِلاَّ مِثْلَ هَذِهِ الْهُدْبَةِ وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ جِلْبَابِهَا وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ بِالْبَابِ فَلَمْ يُأْذَنْ لَهُ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَلاَ تَسْمَعُ هَذِهِ تَجْهَرُ بِمَا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ ‏"‏ ‏.‏

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন, তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি রিফাআ কুরাযীর বিবাহাধীনে ছিলাম, সে আমাকে 'আলবাত্তা' অর্থাৎ তিন তালাক দেয়। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিবাহ করি। আর আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই কাপড়ের প্রান্ত ভাগের ন্যায় ব্যতীত তার নিকট কিছু নেই। এই বলে সে তার চাদরের অগ্রভাগ তুলে ধরে। তখন খালিদ ইবন সাঈদ ছিল দরজায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামন তাকে অনুমতি না দিয়ে বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি কি শুনছ না, এই মহিলা জোরে জোরে সশব্দে যা বলছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে! এরপর তিনি বললেনঃ তুমি কি আবার রিফা'আর নিকট প্রত্যাবর্তন করতে চাও? তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধু পান কর আর সে তোমার মধু পান করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 21
সুনানে নাসায়ি 3410 Daif Daif Daif

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَيُّوبَ هَلْ عَلِمْتَ أَحَدًا قَالَ فِي أَمْرِكِ بِيَدِكِ أَنَّهَا ثَلاَثٌ غَيْرَ الْحَسَنِ فَقَالَ لاَ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ غَفْرًا إِلاَّ مَا حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ كَثِيرٍ مَوْلَى ابْنِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ ثَلاَثٌ ‏"‏ ‏.‏ فَلَقِيتُ كَثِيرًا فَسَأَلْتُهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ فَرَجَعْتُ إِلَى قَتَادَةَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ نَسِيَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ ‏.‏

আলী ইবন নসর ইবন আলী (রহঃ) ... হাম্মাদ ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আইয়ূব (রাঃ)-কে বললাম, তুমি কি কাউকেও (أَمْرِكِ بِيَدِكِ) অৰ্থাৎ "তোমরা ব্যাপার তোমার হাতে" বলায় তাতে তিনি তালাক বলতে শুনেছ- হাসান ব্যতীত? তিনি বললেনঃ না। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহু ক্ষমা কর। কাতাদা আবু সালাম (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এরূপ বললে- তিন তালাক হয়ে যাবে। এরপর আমি কাছীর (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। এরপর আমি কাতাদা (রহঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাকে এ সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ সে ভুলে গেছে। আবু আবদুর রহমান বলেন, এটা মুনকার হাদীস।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 22
সুনানে নাসায়ি 3411 Sahih Sahih Hasan

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ زَوْجِي طَلَّقَنِي فَأَبَتَّ طَلاَقِي وَإِنِّي تَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَمَا مَعَهُ إِلاَّ مِثْلَ هُدْبَةِ الثَّوْبِ ‏.‏ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ‏ "‏ لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফা'আর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললো, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবন যুবায়র (রাঃ)-কে বিবাহ করি। কিন্তু তার নিকট কাপড়ের আঁচলের মত ব্যতীত কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা'আর নিকট ফিরে যেতে চাও। না, তা হয় না; যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্ৰহণ করে আর তুমি তার স্বাদ গ্ৰহণ কর।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 23
সুনানে নাসায়ি 3412 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَتَزَوَّجَتْ زَوْجًا فَطَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَحِلُّ لِلأَوَّلِ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا كَمَا ذَاقَ الأَوَّلُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। এরপর সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করলো, কিন্তু সে তাকে স্পর্শ করার (সংগত হওয়ার) পূর্বেই তালাক দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলোঃ সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে ? তিনি বললেন, না। হালাল হবে না, যতক্ষন দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে। যেমন প্রথম স্বামী স্বাদ গ্ৰহণ করেছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 24
সুনানে নাসায়ি 3413 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الْغُمَيْصَاءَ، أَوِ الرُّمَيْصَاءَ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَشْتَكِي زَوْجَهَا أَنَّهُ لاَ يَصِلُ إِلَيْهَا فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ جَاءَ زَوْجُهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هِيَ كَاذِبَةٌ وَهُوَ يَصِلُ إِلَيْهَا وَلَكِنَّهَا تُرِيدُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى زَوْجِهَا الأَوَّلِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَيْسَ ذَلِكَ حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ ‏"‏ ‏.‏

আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, গুমায়সা অথবা রুমায়সা নাম্নী এক মহিলা তার স্বামী সম্বন্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো যে, সে তার নিকট আসে না। অল্পক্ষণ পরেই তার স্বামী আসলো এবং বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে মিথ্যুক। আমি তার নিকট যেয়ে থাকি, কিন্তু সে তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হতে পারে না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্ৰহণ কর।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 25
সুনানে নাসায়ি 3414 Sahih Lighairihi Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ رَزِينٍ، يُحَدِّثُ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ تَكُونُ لَهُ الْمَرْأَةُ يُطَلِّقُهَا ثُمَّ يَتَزَوَّجُهَا رَجُلٌ آخَرُ فَيُطَلِّقُهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَتَرْجِعَ إِلَى زَوْجِهَا الأَوَّلِ قَالَ ‏ "‏ لاَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ ‏"‏ ‏.‏

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, সে তার স্ত্রীকে তালাক দিল। এরপর তাকে অন্য এক ব্যক্তি বিবাহ করলো এবং সে তার সাথে সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিল। সে কি তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারবে? তিনি বললেনঃ না, যতক্ষণ না সে স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 26
সুনানে নাসায়ি 3415 Sahih Lighairihi Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ رَزِينِ بْنِ سُلَيْمَانَ الأَحْمَرِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَيَتَزَوَّجُهَا الرَّجُلُ فَيُغْلِقُ الْبَابَ وَيُرْخِي السِّتْرَ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا قَالَ ‏ "‏ لاَ تَحِلُّ لِلأَوَّلِ حَتَّى يُجَامِعَهَا الآخَرُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا أَوْلَى بِالصَّوَابِ ‏.‏

মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। পরে অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিবাহ করলো। সে দরজা বন্ধ করে পর্দা ঝুলিয়ে দিল। এরপর তার সাথে সহবাস করার পূর্বে তাকে তালাক দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না। যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করে। ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি অধিক সঠিক।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 27
সুনানে নাসায়ি 3416 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَاشِمَةَ وَالْمُوتَشِمَةَ وَالْوَاصِلَةَ وَالْمَوْصُولَةَ وَآكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَالْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ ‏.‏

আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন সে সব নারীদের, যারা উল্কি আঁকায় এবং উল্কি আঁকার জন্য নির্দেশ দেয়। আর যে নারী নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল মিলায় এবং যে নারী এরূপ করার আদেশ করে। আর যে সুদ খায় এবং সুদ খাওয়ায়, আর যে হালাল করে এবং যার জন্য হালাল করা হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 28
সুনানে নাসায়ি 3417 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنِ الَّتِي، اسْتَعَاذَتْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ الْكِلاَبِيَّةَ لَمَّا دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَقَدْ عُذْتِ بِعَظِيمٍ الْحَقِي بِأَهْلِكِ ‏"‏ ‏.‏

হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ কিলাবিয়া গোত্রের মহিলাটি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমি আল্লাহর নিকট আপনার থেকে পানাহ চাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এক মহান সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করেছ। তুমি তোমার পরিজনের সাথে মিলিত হও।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 29
সুনানে নাসায়ি 3418 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي الْجَهْمِ - قَالَ سَمِعْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، تَقُولُ أَرْسَلَ إِلَىَّ زَوْجِي بِطَلاَقِي فَشَدَدْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ كَمْ طَلَّقَكِ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ وَاعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ ضَرِيرُ الْبَصَرِ تُلْقِينَ ثِيَابَكِ عِنْدَهُ فَإِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُكِ فَآذِنِينِي ‏"‏ ‏.‏ مُخْتَصَرٌ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... আবু জাহম পুত্র আবু বকর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়সকে বলতে শুনেছি, আমার স্বামী আমার নিকট তালাক প্রেরণ করলে আমি আমার কাপড় পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে কয় তালাক দিয়েছে? আমি বললামঃ তিন তালাক। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য কোন খোরপোেষ নেই। তুমি তোমার চাচাত ভাই ইবন উম্মে মাকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর। কেননা সে অন্ধ। তুমি তার সামনে তোমার কাপড় খুলতে পারবে। আর যখন তোমার ইদ্দত পূর্ণ হবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। এ হাদীস এখানে সংক্ষেপে বৰ্ণিত হয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 30
সুনানে নাসায়ি 3419 Daif Sahih

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ تَمِيمٍ، مَوْلَى فَاطِمَةَ عَنْ فَاطِمَةَ، نَحْوَهُ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... ফাতিমা (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 31
সুনানে নাসায়ি 3420 Daif Isnaad Daif Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي جَعَلْتُ امْرَأَتِي عَلَىَّ حَرَامًا ‏.‏ قَالَ كَذَبْتَ لَيْسَتْ عَلَيْكَ بِحَرَامٍ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ ‏}‏ عَلَيْكَ أَغْلَظُ الْكَفَّارَةِ عِتْقُ رَقَبَةٍ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবন আব্দুস সামাদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি আমার স্ত্রীকে আমার উপর হারাম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। সে তোমার উপর হারাম নয়। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ عَلَيْكَ) তোমার উপর দাসমুক্ত করার ন্যায় কঠিন কাফফার ওয়াজিব হয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 32
সুনানে নাসায়ি 3421 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ وَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً فَتَوَاصَيْتُ وَحَفْصَةَ أَيَّتُنَا مَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلْتَقُلْ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ‏"‏ بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ - وَقَالَ - لَنْ أَعُودَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَنَزَلَ ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ ‏}‏ ‏{‏ إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ ‏}‏ لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ ‏{‏ وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا ‏}‏ لِقَوْلِهِ ‏"‏ بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاَ ‏"‏ ‏.‏ كُلُّهُ فِي حَدِيثِ عَطَاءٍ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবায়দ ইবন উমোয়র (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব (রাঃ) এর নিকট অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট মধু পান করতেন। আমি এবং হাফসা (রাঃ) পরামর্শ করলাম, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন, সে যেন বলেঃ আমি আপনার থেকে মাগাফির-এর গন্ধ পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট আগমন করলে, তিনি তাকে তা বললেন। তখন তিনি বললেনঃ বরং আমি তো যায়নবের নিকট মধু পান করেছি। তিনি আরও বললেনঃ আমি আর পুনরায় তা পান করবো না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) আর আয়েশা এবং হাফসা (রাঃ) সম্বন্ধে নাযিল হয়ঃ (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ) আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিঃ বরং আমি মধু পান করেছি। এর জন্য (وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا) আয়াত নাযিল হয়। এর সমস্তই আতা (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 33
সুনানে নাসায়ি 3422 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَقَالَ فِيهِ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ح وَأَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَسَاقَ قِصَّتَهُ وَقَالَ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ ‏.‏ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا قَالَ لاَ بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي هَذَا الأَمْرِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন কা'ব ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি কা'ব ইবন মালিককে তার কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি যখন তাবুক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অংশ গ্ৰহণ করা থেকে বিরত রইলেন। তাতে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত এসে আমাকে বললোঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে দূরে থাকেন। তখন আমি বললামঃ আমি তাকে তালাক দেব, না কি করবো। তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের নিকট যাও, তাদের নিকট থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ হতে এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা আল্লাহ তা'আলা করে দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 34
সুনানে নাসায়ি 3423 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَبَلَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ أَعْيَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، - قَالَ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ - يُحَدِّثُ قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى صَاحِبَىَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْتَزِلُوا نِسَاءَكُمْ ‏.‏ فَقُلْتُ لِلرَّسُولِ أُطَلِّقُ امْرَأَتِي أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ لاَ بَلْ تَعْتَزِلُهَا فَلاَ تَقْرَبْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي فِيهِمْ فَلَحِقَتْ بِهِمْ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন জাবালা এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'ব ইবন মালিককে বলতে শুনেছিঃ তিনি ঐ তিন ব্যক্তির একজন, যার গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার অন্য দুই সাথীর নিকট সংবাদ পাঠান যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক। তখন আমি ঐ দূতকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি কি আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের লোকদের নিকট যাও এবং তাদের সাথে থাক। তখন সে তাদের নিকট চলে যায়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 35
সুনানে নাসায়ি 3424 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ كَعْبًا، يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَقَالَ فِيهِ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ ‏.‏ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ بَلِ اعْتَزِلْهَا وَلاَ تَقْرَبْهَا ‏.‏ وَأَرْسَلَ إِلَى صَاحِبَىَّ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ وَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي هَذَا الأَمْرِ ‏.‏ خَالَفَهُمْ مَعْقِلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ‏.‏

ইউসূফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন কা'ব বলেছেনঃ আমি ক’ব (রাঃ)-কে তার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি, যখন তিনি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন, এতে তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ আমি কি তাকে (স্ত্রীকে) তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বলেন, না, বরং আপনি তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। আমার দুই সাথীর নিকটও এই সংবাদ পাঠানো হয়। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলিঃ তুমি তোমার পরিবারে গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 36
সুনানে নাসায়ি 3425 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْدَانَ بْنِ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي كَعْبًا، يُحَدِّثُ قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى صَاحِبَىَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْتَزِلُوا نِسَاءَكُمْ فَقُلْتُ لِلرَّسُولِ أُطَلِّقُ امْرَأَتِي أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ لاَ بَلْ تَعْتَزِلُهَا وَلاَ تَقْرَبْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي فِيهِمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏.‏ فَلَحِقَتْ بِهِمْ ‏.‏ خَالَفَهُ مَعْمَرٌ ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবন মা'দান ইবন ঈসা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন কা'ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'বকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার দুই সাথীর নিকট এই বলে দূত পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদেরকে আপনাদের বিবিগণ হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি দূতকে বললাম, আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন। তার কাছে যাবেন না। তখন আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারস্থ লোকদের নিকট গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতদিন আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন। তখন সে তাদের নিকট চলে গেল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 37
সুনানে নাসায়ি 3426 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ ثَوْرٍ - عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ فِي حَدِيثِهِ إِذَا رَسُولٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَتَانِي فَقَالَ اعْتَزِلِ امْرَأَتَكَ ‏.‏ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا قَالَ لاَ وَلَكِنْ لاَ تَقْرَبْهَا ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْحَقِي بِأَهْلِكِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে আমাকে বললেন, আপনি আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকুন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাকে তালাক দেব? তিনি বললেন, না, কিন্তু তার কাছে যাবেন না। এতে তিনি “তুমি তোমার পরিবারের সাথে গিয়ে থাক” উল্লেখ করেন নি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 38
সুনানে নাসায়ি 3427 Daif Daif Daif

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُعَتِّبٍ، أَنَّ أَبَا حَسَنٍ، مَوْلَى بَنِي نَوْفَلٍ أَخْبَرَهُ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَامْرَأَتِي، مَمْلُوكَيْنِ فَطَلَّقْتُهَا تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ أُعْتِقْنَا جَمِيعًا فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنْ رَاجَعْتَهَا كَانَتْ عِنْدَكَ عَلَى وَاحِدَةٍ قَضَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ خَالَفَهُ مَعْمَرٌ ‏.‏

আমার আলী (রহঃ) ... উমর ইবন মুআত্তিব (রহঃ) বলেন, বনী মওফলের গোলাম আবু হাসান তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি এবং আমার স্ত্রী উভয়ে ছিলাম ক্রীতদাস, এমতাবস্থায় আমি তাকে দুই তালাক দিলাম। এরপর আমরা উভয়ে মুক্ত হলাম। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যদি তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও, তবে সে তোমার নিকট এক তালাকের উপর থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা করেছেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 39
সুনানে নাসায়ি 3428 Daif Daif Daif

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُعَتِّبٍ، عَنِ الْحَسَنِ، مَوْلَى بَنِي نَوْفَلٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدٍ طَلَّقَ، امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ عُتِقَا أَيَتَزَوَّجُهَا قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ عَمَّنْ قَالَ أَفْتَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لِمَعْمَرٍ الْحَسَنُ هَذَا مَنْ هُوَ لَقَدْ حَمَلَ صَخْرَةً عَظِيمَةً ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... মুআত্তিব (রহঃ) বনী নওফলের ক্রীতদাস আবু হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে ক্রীতদাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে, সে তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছে। এরপর তাদের উভয়কে মুক্ত করা হয়েছে। সে কি তাকে আবার বিবাহ করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বলা হলো কিরূপে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা দিয়াছেন। আবদুর রাযযাক (রহঃ) বলেন, ইবন মুবারক মা’মার (রহঃ)-কে বলেনঃ এই আবু হাসান কে? সে তো নিজের উপর বড় পাথর তুলে নিল, অর্থাৎ এ বর্ণনা যদি সঠিক না হয়, তাহলে অসংখ্য অবৈধ বিবাহের পাপের বোঝা তার উপর বর্তবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 40
সুনানে নাসায়ি 3429 Sahih Lighairihi Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْخَطْمِيِّ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبْنَاءُ، قُرَيْظَةَ أَنَّهُمْ عُرِضُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ قُرَيْظَةَ فَمَنْ كَانَ مُحْتَلِمًا أَوْ نَبَتَتْ عَانَتُهُ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مُحْتَلِمًا أَوْ لَمْ تَنْبُتْ عَانَتُهُ تُرِكَ ‏.‏

রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... কাছীর ইবন সায়েব (রহঃ) বলেন, কুরাইযার ছেলেরা আমাকে সংবাদ দিয়েছে যে, বনী কুরাইযার যুদ্ধে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তাদের মধ্যে যে বালিগ হয়েছে এবং যার নাভীর নীচের পশম গজিয়েছে, তাদেরকে হত্যা করা হলো এবং যে বালিগ হয়নি এবং তাদের নাভীর নীচের পশমও গজায়নি, তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 41
সুনানে নাসায়ি 3430 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ، قَالَ كُنْتُ يَوْمَ حُكْمِ سَعْدٍ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ غُلاَمًا فَشَكُّوا فِيَّ فَلَمْ يَجِدُونِي أَنْبَتُّ فَاسْتُبْقِيتُ فَهَا أَنَا ذَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ) বলেন, বনী কুরাইযার ব্যাপারে সা'দ (রাঃ) এর বিচারক নিযুক্ত হওয়ার দিন আমি ছিলাম একজন বালক। তখন তারা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করলো। তখন তারা আমার নাভীর নীচের পশম গজানো দেখলে না, তাই আমি রেহাই পেলাম। আমি সেই বালক, এখন তোমাদের মধ্যে রয়েছি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 42
সুনানে নাসায়ি 3431 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَضَهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُجِزْهُ وَعَرَضَهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَهُ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না, তখন তিনি ছিলেন ১৪ বছর বয়সের। আর পরিখার যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল পনের বছর, তখন তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 43
সুনানে নাসায়ি 3432 Sahih Sahih Daif

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبُرَ وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يَفِيقَ ‏"‏ ‏.‏

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন প্রকার ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ১. নিদ্ৰিত ব্যক্তি, যাবত না সে জাগ্রত হয়। ২. নাবিলেগ, যতক্ষণ না সে বলেগ হয়, এবং ৩ উন্মাদ, যাবত না সে জ্ঞান ফিরে পায়, অথবা সে রোগমুক্ত হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 44
সুনানে নাসায়ি 3433 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلاَّمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي كُلَّ شَىْءٍ حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ ‏"‏ ‏.‏

ইবরাহীম ইবন হাসান ও আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয়, আল্লাহ তা’আলা তা ক্ষমা করে দেবেন, যতক্ষণ না সে তা করে অথবা বলে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 45
সুনানে নাসায়ি 3434 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ وَحَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয় বা খটকা লাগে, আল্লাহ্ তাআলা তা ক্ষমা করে দেবেন, যতক্ষণ না সে তা করে অথবা বলে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 46
সুনানে নাসায়ি 3435 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَجَاوَزَ لأُمَّتِي عَمَّا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَكَلَّمْ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

মূসা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন আমার উম্মতের মনে যা উদয় হয়, যতক্ষণ না সে তা বলে, অথবা তা করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 47
সুনানে নাসায়ি 3436 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَارٌ فَارِسِيٌّ طَيِّبُ الْمَرَقَةِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ وَعِنْدَهُ عَائِشَةُ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ أَنْ تَعَالَ وَأَوْمَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَائِشَةَ أَىْ وَهَذِهِ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ الآخَرُ هَكَذَا بِيَدِهِ أَنْ لاَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ‏.‏

আবু বকর ইবন নাফে' (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন পারশিক প্রতিবেশী ছিল, যে উত্তমরূপে সুরুয়া পাকাতে পারতো। সে একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেদমতে আগমন করলো, তখন তাঁর নিকট আয়েশা (রাঃ) ছিলেন, তখন সে তার দিকে হাতের ইশারায় প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করলেন আয়েশা (রাঃ)-এর দিকে অর্থাৎ তিনি রয়েছেন। তখন অন্য একজন তাঁর দিকে হাতে দুই কি তিনবার ইঙ্গিত করলে যে, না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 48
সুনানে নাসায়ি 3437 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه - وَفِي حَدِيثِ الْحَارِثِ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ يَقُولُ - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لاِمْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আলকামা ইবন ওক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের সকল কাজের ফলাফল তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকেই হবে। আর যদি কারো হিজরতের উদ্দেশ্য দুনিয়া উপাৰ্জন করা হয়, অথবা কোন রমণীকে বিবাহ করা হয়, তাহলে তার হিজরত হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 49
সুনানে নাসায়ি 3438 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنِي شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، مِمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، مِمَّا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ ‏ "‏ انْظُرُوا كَيْفَ يَصْرِفُ اللَّهُ عَنِّي شَتْمَ قُرَيْشٍ وَلَعْنَهُمْ إِنَّهُمْ يَشْتِمُونَ مُذَمَّمًا وَيَلْعَنُونَ مُذَمَّمًا وَأَنَا مُحَمَّدٌ ‏"‏ ‏.‏

ইমরান ইবন বাককার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দেখ, আল্লাহ তা'আলা কিরূপে আমার থেকে কুরাইশের গালি ও অভিসম্পাত দূর করেছেন। তারা তো গালি দিতেছে মুযাম্‌মাম বলে, এবং অভিসম্পাত দিতেছে মুযাম্‌মাম বলে, অথচ আমি হলাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 50
সুনানে নাসায়ি 3439 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، وَمُوسَى بْنُ عُلَىٍّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُولُ اللَّهِ بِتَخْيِيرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِي فَقَالَ ‏"‏ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تُعَجِّلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ قَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَاىَ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِّي بِفِرَاقِهِ - قَالَتْ - ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏ جَمِيلاً ‏}‏ فَقُلْتُ أَفِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ - قَالَتْ عَائِشَةُ - ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ مَا فَعَلْتُ وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ حِينَ قَالَ لَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاخْتَرْنَهُ طَلاَقًا مِنْ أَجْلِ أَنَّهُنَّ اخْتَرْنَهُ ‏.‏

ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করা হলো, তাঁর স্ত্রীদেরকে এখতিয়ার দিতে, তখন তিনি আমার থেকে আরম্ভ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমার নিকট একটি কথা বলবো, তুমি এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করে তোমার মাতাপিতার সাথে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি জানতেন, আমার মাতা-পিতা কখনও আমাকে আদেশ করবেন না তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করেনঃ "হে নবী! আপনি আপনার ভার্যগণকে বলে দিন, যদি তোমরা পার্থিব জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ কামনা কর, ইত্যাদি"। তখন আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আমি আমার মাতাপিতার কি অনুমতি গ্ৰহণ করবো? আমি আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং পরকালকে গ্ৰহণ করবো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য স্ত্রীগণ আমি যা করি তারাও তা-ই করলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদেরকে বললেন, আর তারা তাকেই গ্রহণ করলেন, তখন তা তালাক হয়নি তাকে গ্রহণ করার দরুন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 51
সুনানে নাসায়ি 3440 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ ‏{‏ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏}‏ دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَدَأَ بِي فَقَالَ ‏"‏ يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تُعَجِّلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ قَدْ عَلِمَ وَاللَّهِ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِّي بِفِرَاقِهِ فَقَرَأَ عَلَىَّ ‏{‏ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا ‏}‏ فَقُلْتُ أَفِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالأَوَّلُ أَوْلَى بِالصَّوَابِ وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন (إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ) নাযিল হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমাকেই প্রথম বলেন, হে আয়েশা! আমি তোমার নিকট একটি কথা বলবো, তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করে বরং তোমার মাতাপিতার সাথে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন, আমার মাতাপিতা কখনও আমাকে তঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আদেশ করবেন না। তিনি এরপরও আমার নিকট এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا) তখন আমি বললামঃ এ ব্যাপারে কি আমি আমার মাতাপিতাকে জিজ্ঞাসা করবো? আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করছি। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ এই রেওয়ায়ত ভুল, বরং প্রথম বৰ্ণনাই সঠিক। আল্লাহ সম্যক অবগত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 52
সুনানে নাসায়ি 3441 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَهَلْ كَانَ طَلاَقًا

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার প্রদান করলে আমরা তাকেই গ্ৰহণ করলাম। তাতে কি তালাক হয়েছিল?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 53
সুনানে নাসায়ি 3442 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ قَالَ الشَّعْبِيُّ عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدْ خَيَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ فَلَمْ يَكُنْ طَلاَقًا ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, তাতে তালাক হয়নি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 54
সুনানে নাসায়ি 3443 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ صُدْرَانَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ - عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدْ خَيَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ فَلَمْ يَكُنْ طَلاَقًا ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে ইখতিয়ার দিলে তাতে তালাক হয়নি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 55
সুনানে নাসায়ি 3444 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدْ خَيَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ أَفَكَانَ طَلاَقًا ‏.‏

মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, তাতে কি তালাক হয়েছিল?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 56
সুনানে নাসায়ি 3445 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الضَّعِيفُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ يَعُدَّهَا عَلَيْنَا شَيْئًا ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ যয়ীফ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইখতিয়ার প্রদান করলে আমরা তাঁকেই গ্রহণ করলাম, তাতে আমাদের উপর কিছুই আরোপিত হয়নি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 57
সুনানে নাসায়ি 3446 Daif Daif Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ مَوْهَبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ كَانَ لِعَائِشَةَ غُلاَمٌ وَجَارِيَةٌ قَالَتْ فَأَرَدْتُ أَنْ أُعْتِقَهُمَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ ابْدَئِي بِالْغُلاَمِ قَبْلَ الْجَارِيَةِ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর একজন দাস ও একজন দাসী ছিল। তিনি বলেন, আমি তাদেরকে আযাদ করার ইচ্ছা করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেনঃ দাসীর পূর্বে দাসকে আযাদ করা।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 58
সুনানে নাসায়ি 3447 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ سُنَنٍ إِحْدَى السُّنَنِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لاَ تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাবীরা (রাঃ)-এর মধ্যে তিনটি সুন্নত ছিল। একটি এই যে, তাকে আযাদ করা হলে তার স্বামী সম্বন্ধে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, দুই, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে আযাদ করবে, মীরাস সেই পাবে। তিন. একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন, ডোগে গোশত রান্না হচ্ছে তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘরের তরকারী উপস্থিত করা হলে, তিনি বলেনঃ আমি কি ডোগে গোশত দেখিনি? তখন তারা বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ গোশত বারীরাকে সাদকা দেওয়া হয়েছে, আর আপনি তো সাদকার বস্তু খান না। তখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উহা তার জন্য তো সাদকা, কিন্তু তা আমাদের জন্য হাদিয়া।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 59
সুনানে নাসায়ি 3448 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ قَضِيَّاتٍ أَرَادَ أَهْلُهَا أَنْ يَبِيعُوهَا وَيَشْتَرِطُوا الْوَلاَءَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ وَأُعْتِقَتْ فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا وَكَانَ يُتَصَدَّقُ عَلَيْهَا فَتُهْدِي لَنَا مِنْهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ كُلُوهُ فَإِنَّهُ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, বারীরার মধ্যে তিনটি বিষয় ছিল, ১, তার মালিকগণ তাকে বিক্রি করার ইচ্ছা করলে এবং তাকে মীরাছ-এর শর্ত আরোপ করলে আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রকাশ করি। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কেননা, মীরাছ যে আযাদ করবে, সে-ই পাবে। ২. তাকে আযাদ করা হলে রাসূলুল্লাহ হয় তাকে (তার স্বামী) সম্বন্ধে ইখতিয়ার দিলে সে নিজকেই গ্রহণ করলো। ৩. তাকে সাদক দেওয়া হতো, আর সে তা থেকে আমাদের হাদিয়া দিত। আমি এ বিষয়টি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তোমরা তা খেতে পার; কেননা, তাতো তার জন্য সাদাকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 60
সুনানে নাসায়ি 3449 Shadh Shadh Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اشْتَرَيْتُ بَرِيرَةَ فَاشْتَرَطَ أَهْلُهَا وَلاَءَهَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ أَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الْوَرِقَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَأَعْتَقْتُهَا فَدَعَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَيَّرَهَا مِنْ زَوْجِهَا قَالَتْ لَوْ أَعْطَانِي كَذَا وَكَذَا مَا أَقَمْتُ عِنْدَهُ ‏.‏ فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি বারীরাকে ক্রয় করলে তার মনিবরা তার মীলাছ দাবী করলো। আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এটি বর্ণনা করলে, তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও। কেননা, মীরাছ অভিভাবকত্ব যে মুক্ত করে, সে-ই পাবে। তখন আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে তার স্বামী সম্বন্ধে তাকে ইখতিয়ার দিলে, তিনি বলেন, যদি সে এত এতও দান করে, তা হলেও আমি তার নিকট যাব না। সে নিজেকে গ্ৰহণ করলো, তখন তার স্বামী ছিল স্বাধীন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 61
সুনানে নাসায়ি 3450 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ، بَرِيرَةَ فَاشْتَرَطُوا وَلاَءَهَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ وَأُتِيَ بِلَحْمٍ فَقِيلَ إِنَّ هَذَا مِمَّا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏ وَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا ‏.‏

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বারীরাকে ক্রয় করতে মনস্থ করলে তার মনিবারা মীরাছের শর্ত আরোপ করে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কেননা, যে আযাদ করবে, মীরাছ সে-ই পাবে। তার নিকট কিছু গোশত আনা হলে, বলা হলোঃ ইহা ঐ গোশত, যা বারীরাকে সাদকারূপে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ তা তার জন্য সাদক কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার দেন। আর এ সময় তার স্বামী আযাদ ছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 62
সুনানে নাসায়ি 3451 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَاتَبَتْ بَرِيرَةُ عَلَى نَفْسِهَا بِتِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ سَنَةٍ بِأُوقِيَّةٍ فَأَتَتْ عَائِشَةَ تَسْتَعِينُهَا فَقَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَشَاءُوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَيَكُونُ الْوَلاَءُ لِي ‏.‏ فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ فَكَلَّمَتْ فِي ذَلِكَ أَهْلَهَا فَأَبَوْا عَلَيْهَا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ فَجَاءَتْ إِلَى عَائِشَةَ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَتْ لَهَا مَا قَالَ أَهْلُهَا فَقَالَتْ لاَهَا اللَّهِ إِذًا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بَرِيرَةَ أَتَتْنِي تَسْتَعِينُ بِي عَلَى كِتَابَتِهَا فَقُلْتُ لاَ إِلاَّ أَنْ يَشَاءُوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَيَكُونُ الْوَلاَءُ لِي فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا عَلَيْهَا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ابْتَاعِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُونَ أَعْتِقْ فُلاَنًا وَالْوَلاَءُ لِي كِتَابُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ وَكُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ ‏"‏ ‏.‏ فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ زَوْجِهَا وَكَانَ عَبْدًا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا ‏.‏ قَالَ عُرْوَةُ فَلَوْ كَانَ حُرًّا مَا خَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা নিজের ব্যাপারে তার মালিকের কাছ থেকে দাসত্বের মুক্তি চুক্তি লিখিয়ে নেয় যে, সে নয় বছরে তার মালিককে নয় আউকিয়া প্রতি বছর এক উকিয়া করে আদায় করলে, সে তাকে মুক্ত করে দেবে। এরপর সে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট সাহায্য প্রার্থ হয়ে আগমন করলে তিনি বলেন, না, তবে যদি তারা চায়, তাহলে আমি তাদেরকে একত্রে সব পাওনা আদায় করে দেব। আর মীরাছ হবে আমার জন্য। বাবীরা এরপর তার মালিকদের নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করলে তারা তা মানলো না। তারা বললো, মীরাছ আমাদের থাকবে। তখন বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট এসে তার মালিক যা বলেছে, তা তাঁকে বললেন। ইত্যাবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ তা হয় না, মীরাছ আমারই থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কি ব্যাপার? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বারীরা তার মালিকের দাসত্ব মুক্তির অর্থ আদায়ের ব্যাপারে আমার নিকট সাহায্য চাইলে, আমি বললামঃ না, তা হবে না, যদি তারা ইচ্ছা করে, তবে আমি একসঙ্গে তাদের পাওনা আদায় করে দেব, কিন্তু মীরাছ আমার থাকবে। সে তার মালিকের নিকট একথা বললে তারা তা মানতে অস্বীকার করে এবং বলে, মীরাছ আমাদের থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে নাও তাদের জন্য মীরাছের শর্তে। কেননা, মীরাছ যে মুক্ত করবে তারই থাকবে। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা বর্ণনার পর বললেনঃ মানুষের কী হলো, তারা এমন এমন শর্ত করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। তারা বলেঃ অমুককে মুক্ত করে তার মীরাছ আমি পাব। আল্লাহর কিতাব অধিক সত্য। আল্লাহ্ তা'আলা যে শর্ত ঠিক করেছেন, তা খুবই মজবুত। আর যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল, অসত্য। যদিও তা একশত শর্তও হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা (রাঃ)-কে তার স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করেন, আর সে ছিল দাস। তখন সে নিজের স্বামীকে ছেড়ে দেয়। উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ যদি তার স্বামী স্বাধীন হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার দিতেন না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 63
সুনানে নাসায়ি 3452 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ زَوْجُ بَرِيرَةَ عَبْدًا ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ)-এর স্বামী ছিল দাস।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 64
সুনানে নাসায়ি 3453 Hasan Sahih Hasan Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا اشْتَرَتْ بَرِيرَةَ مِنْ أُنَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَاشْتَرَطُوا الْوَلاَءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْوَلاَءُ لِمَنْ وَلِيَ النِّعْمَةَ ‏"‏ ‏.‏ وَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا وَأَهْدَتْ لِعَائِشَةَ لَحْمًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ وَضَعْتُمْ لَنَا مِنْ هَذَا اللَّحْمِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কয়েকজন আনসারী হতে বারীরা (রাঃ)-কে ক্ৰয় করেন। তারা মীরাছের শর্ত আরোপ করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে আযাদ করে, সে-ই মীরাছের হকদার। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। আর তার স্বামী ছিল দাস। একদা বারীরা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে গোশত হাদিয়া দিলে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আমার জন্য এর কিছু রেখে দিলে ভাল হতো। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ এ তো বারীরাকে সাদকা স্বরূপ দান করা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, তা তার জন্য তো সাদকা কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 65
সুনানে নাসায়ি 3454 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ الْكَرْمَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - قَالَ وَكَانَ وَصِيَّ أَبِيهِ قَالَ وَفَرِقْتُ أَنْ أَقُولَ، سَمِعْتُهُ مِنْ، أَبِيكَ - قَالَتْ عَائِشَةُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَرِيرَةَ وَأَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِيَهَا وَاشْتُرِطَ الْوَلاَءُ لأَهْلِهَا فَقَالَ ‏"‏ اشْتَرِيهَا فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَخُيِّرَتْ وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ مَا أَدْرِي وَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلَحْمٍ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا مِمَّا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারীরা (রাঃ)-এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। আমি বলিঃ আমার ইচ্ছা আমি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করি, আর তার মালিকের জন্য মীরাছের শর্ত করি। তিনি বলেন, তুমি তাকে ক্রয় কর। কেননা, যে মুক্ত করে মীরাছ তারই। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন তার স্বামীর ব্যাপারে, আর তার স্বামী ছিল দাস। এরপর রাবী বলেনঃ আমি জানি না, তিনি দাস না স্বাধীন। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গোশত আনা হলে তার পরিবারস্থ লোক বললেনঃ ইহা কেহ বারীরাকে সাদকা দিয়েছে। তিনি বললেন, তা তার জন্য সাদকা ছিল, এখন তা আমাদের জন্য হাদিয়া।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 66
সুনানে নাসায়ি 3455 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَصْرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو يَعْفُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، قَالَ تَذَاكَرْنَا الشَّهْرَ عِنْدَهُ فَقَالَ بَعْضُنَا ثَلاَثِينَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُنَا تِسْعًا وَعِشْرِينَ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو الضُّحَى حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ أَصْبَحْنَا يَوْمًا وَنِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَبْكِينَ عِنْدَ كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ أَهْلُهَا فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ مَلآنُ مِنَ النَّاسِ - قَالَ - فَجَاءَ عُمَرُ رضى الله عنه فَصَعِدَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي عُلِّيَّةٍ لَهُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ سَلَّمَ فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ سَلَّمَ فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ فَرَجَعَ فَنَادَى بِلاَلاً فَدَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَطَلَّقْتَ نِسَاءَكَ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ وَلَكِنِّي آلَيْتُ مِنْهُنَّ شَهْرًا ‏"‏ ‏.‏ فَمَكَثَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ ثُمَّ نَزَلَ فَدَخَلَ عَلَى نِسَائِهِ ‏.‏

আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাকাম বসরী (রহঃ) ... আবু যুহা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু ইয়াকুব (রহঃ) বলেনঃ আমরা তাঁর নিকট মাসের উল্লেখ করলে আমাদের কেউ বললোঃ মাস ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে, আবার কেউ বললো, উনত্রিশ দিনের। এর মধ্যে আবু যুহা বললেনঃ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। একদিন আমরা সকালে উঠে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ ক্ৰন্দন করছেন এবং তাদের প্রত্যেকের নিকট তাদের পরিবারের লোক উপস্থিত রয়েছে। এরপর আমি মসজিদে গিয়ে দেখলাম, মসজিদ লোকে ভর্তি। তিনি বললেন, এরপর উমর (রাঃ) আসলেন, এবং উপরে উঠে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কক্ষে ছিলেন। উমর (রাঃ) তাকে সালাম করলেন, কিন্তু কেউ তাঁর সালামের জওয়াব দিলেন না। তিনি আবার সালাম করলেন, এবারও কেউ সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি আবার সালাম করলেন, কিন্তু কেউ সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি ফিরে এসে বিলাল (রাঃ)-কে ডাকলেন। বিলাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। বরং আমি তাদের সাথে এক মাসের জন্য ঈলা করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উনত্রিশ দিন ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে অবতরণ করে তার স্ত্রীদের নিকট গমন করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 67
সুনানে নাসায়ি 3456 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ آلَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ نِسَائِهِ شَهْرًا فِي مَشْرَبَةٍ لَهُ فَمَكَثَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً ثُمَّ نَزَلَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ آلَيْتَ عَلَى شَهْرٍ قَالَ ‏ "‏ الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস বিবিদের নিকট না যাওয়ার কসম করলেন, এ সময় তিনি উনত্রিশ দিন প্রকোষ্ঠে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি অবতরণ করলে লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি এক মাসের ঈলা করেন নি? তিনি বললেনঃ মাস উনত্রিশ দিনেরও হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 68
সুনানে নাসায়ি 3457 Hasan Hasan Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ ظَاهَرَ مِنِ امْرَأَتِهِ فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ظَاهَرْتُ مِنِ امْرَأَتِي فَوَقَعْتُ قَبْلَ أَنْ أُكَفِّرَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَمَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَأَيْتُ خَلْخَالَهَا فِي ضَوْءِ الْقَمَرِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ لاَ تَقْرَبْهَا حَتَّى تَفْعَلَ مَا أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো, যে তার স্ত্রীর সাথে যিহার করেছিলো। আর কাফফারা আদায় করার পূর্বেই সে তার সাথে সহবাস করে। সে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করেছি এবং কাফফারা আদায়ের পূর্বে তার সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কেন এরূপ করলে? সে বললোঃ আমি চাদের আলোতে তার পায়ের মল দেখলাম। তিনি বললেনঃ এখন তুমি আল্লাহর আদেশ পালন না করা পর্যন্ত তার নিকট গমন করো না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 69
সুনানে নাসায়ি 3458 Hasan Hasan Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ تَظَاهَرَ رَجُلٌ مِنِ امْرَأَتِهِ فَأَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَحِمَكَ اللَّهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُ خَلْخَالَهَا أَوْ سَاقَيْهَا فِي ضَوْءِ الْقَمَرِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَاعْتَزِلْهَا حَتَّى تَفْعَلَ مَا أَمَرَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে কাফফারা আদায় করার পূর্বেই তার সাথে সহবাস করলো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা বর্ণনা করলো। তিনি বললেনঃ কোন বস্তু তোমাকে এক কাজের প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করলো? সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। আমি তার পায়ের মল দেখলাম, অথবা সে বললোঃ আমি চাঁদের আলোতে তার পায়ের গোছা দেখলাম। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার উপর যা আদায় করা জরুরী, তা আদায় না করা পর্যন্ত তুমি তার থেকে দূরে থাকবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 70
সুনানে নাসায়ি 3459 Hasan Hasan Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْمُعْتَمِرُ، ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَكَمَ بْنَ أَبَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّهُ ظَاهَرَ مِنِ امْرَأَتِهِ ثُمَّ غَشِيَهَا قَبْلَ أَنْ يَفْعَلَ مَا عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ رَأَيْتُ بَيَاضَ سَاقَيْهَا فِي الْقَمَرِ ‏.‏ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَاعْتَزِلْ حَتَّى تَقْضِيَ مَا عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ فِي حَدِيثِهِ ‏"‏ فَاعْتَزِلْهَا حَتَّى تَقْضِيَ مَا عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُرْسَلُ أَوْلَى بِالصَّوَابِ مِنَ الْمُسْنَدِ وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করি এবং কাফফারা দেওয়ার পূর্বেই তার সাথে সহবাস করি। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি এরূপ করলে কেন? আর এ কাজ করার জন্য তোমাকে কে উদ্বুদ্ধ করলো? সে বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! চাঁদের আলোতে তার সুন্দর পায়ের গোছা আমার দৃষ্টিগোচর হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার উপর যা আদায় করা জরুরী তা আদায় না করা পর্যন্ত দূরে থাক। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেনঃ ইসহাক তার বর্ণিত হাদীসে, "তুমি তার থেকে দূরে থাক' বৰ্ণনা করেছেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 71
সুনানে নাসায়ি 3460 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ الأَصْوَاتَ لَقَدْ جَاءَتْ خَوْلَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَشْكُو زَوْجَهَا فَكَانَ يَخْفَى عَلَىَّ كَلاَمُهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا ‏}‏ الآيَةَ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শোকর যিনি শব্দসমূহ শ্রবণ করে থাকেন। খাওলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে তার স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করলো। সে তার কথা আমার নিকট গোপন রাখলো। তখন আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত নাযিল করলেন, আল্লাহ্ তা'আলা ঐ মহিলার কথা শ্ৰবণ করেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক করছে এবং আল্লাহর নিকট অভিযোগ করছে। আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উভয়ের প্রশ্নোত্তর শ্রবণ করছেন। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রবণকারী এবং দর্শনকারী। এরপর আল্লাহ তা’আলা যিহার এবং এর কাফফারার আদেশ নাযিল করলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 72
সুনানে নাসায়ি 3461 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْمَخْزُومِيُّ، - وَهُوَ الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ - قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ الْمُنْتَزِعَاتُ وَالْمُخْتَلِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الْحَسَنُ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ غَيْرِ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَسَنُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ شَيْئًا ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলারা স্বীয় স্বামীর সাথে মনোমালিন্য করে এবং খুলা করে, তারা মুনাফিক এবং ধোঁকাবাজ।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 73
সুনানে নাসায়ি 3462 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ أَنَا وَلاَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ ‏.‏ لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ قَدْ ذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَذْكُرَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِثَابِتٍ ‏"‏ خُذْ مِنْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ فِي أَهْلِهَا ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... হাবীবা বিনতে সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী ছিলেন। হাবীব (রাঃ) বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ভোরে নামায পড়তে গেলেন। তিনি হাবীবা বিনতে সাহলকে দরজায় পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কে? হাবীব (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি হাবীব বিনতে সাহল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কি ব্যাপার, তুমি কেন এসেছ? তিনি বললেন ? আমার মধ্যে এবং আমার স্বামীর মধ্যে মিল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যখন সাবিত ইবন কায়স আগমন করলো, তখন তিনি বললেন, এই যে হাবীব বিনতে সাহল! আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন, তা-ই সে বলছে। হাবীব (রাঃ) বলে উঠলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই ব্যক্তি যা আমাকে দান করেছে, তা আমার নিকট রয়েছে। তিনি সাবিত ইবন কায়সকে বললেনঃ তুমি যা দিয়েছ তা তার থেকে নিয়ে নাও। সাবিত (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ মত তাকে যা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে নিলেন। আর হাবীবা বিনতে সাহল (রাঃ) তার পরিজনদের মধ্যে অবস্থান করলেন, অর্থাৎ সাবিতের ঘর থেকে চলে গেলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 74
সুনানে নাসায়ি 3463 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ، ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ أَمَا إِنِّي مَا أَعِيبُ عَلَيْهِ فِي خُلُقٍ وَلاَ دِينٍ وَلَكِنِّي أَكْرَهُ الْكُفْرَ فِي الإِسْلاَمِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اقْبَلِ الْحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً ‏"‏ ‏.‏

আযহার ইবন জামিল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সাবিত ইবন কায়সের অভ্যাস এবং ধর্মের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু আমি ইসলামে নাশোকরীকে অপছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তাকে বাগান ফিরিয়ে দেবে? সে বললোঃ হ্যাঁ, দেব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবন কায়সকে বললেনঃ তুমি তোমার বাগান নিয়ে নাও এবং তাকে এক তালাক দিয়ে দাও।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 75
সুনানে নাসায়ি 3464 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي لاَ تَمْنَعُ يَدَ لاَمِسٍ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ غَرِّبْهَا إِنْ شِئْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنِّي أَخَافُ أَنْ تَتَّبِعَهَا نَفْسِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اسْتَمْتِعْ بِهَا ‏"‏ ‏.‏

হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমার স্ত্রী এমন যে, কেউ তাকে গায়ে হাত দেয়, সে তাকে নিষেধ করে না। তিনি বললেনঃ যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে তাকে তালাক দিয়ে দাও। ঐ লোকটি বললোঃ কিন্তু আমার ভয় হয়, আমার মন তার সাথে লেগে থাকবে এবং সবর করতে না পেরে আমি গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এরূপ করতে না পার, তবে তাকে নিজের কাজে লাগাও।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 76
সুনানে নাসায়ি 3465 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ أَنْبَأَنَا هَارُونُ بْنُ رِئَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ تَحْتِي امْرَأَةً لاَ تَرُدُّ يَدَ لاَمِسٍ قَالَ ‏"‏ طَلِّقْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنِّي لاَ أَصْبِرُ عَنْهَا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَمْسِكْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ مُرْسَلٌ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্ত্রী সে এমন, যে কোন ব্যক্তি তার গায়ে হাত দিলে সে তাকে বাধা দেয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তালাক দিয়ে দাও। সে ব্যক্তি বললোঃ আমি তাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তাকে রেখে দাও।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 77
সুনানে নাসায়ি 3466 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ، قَالَ جَاءَنِي عُوَيْمِرٌ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي الْعَجْلاَنِ - فَقَالَ أَىْ عَاصِمُ أَرَأَيْتُمْ رَجُلاً رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ يَا عَاصِمُ سَلْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَسَأَلَ عَاصِمٌ عَنْ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَعَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَكَرِهَهَا ‏.‏ فَجَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ مَا صَنَعْتَ يَا عَاصِمُ فَقَالَ صَنَعْتُ أَنَّكَ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا ‏.‏ قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لأَسْأَلَنَّ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَانْطَلَقَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَائْتِ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ بِهَا فَتَلاَعَنَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَئِنْ أَمْسَكْتُهَا لَقَدْ كَذَبْتُ عَلَيْهَا ‏.‏ فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِفِرَاقِهَا فَصَارَتْ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... আসিম ইবন আদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আজলান গোত্রের উওয়াইমির আমার নিকট এসে বললোঃ হে আসিম! এ ব্যাপারে তোমার মত কি, কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে দেখলো, যদি ঐ স্ত্রীর স্বামী তার বন্ধুকে হত্যা করে, তাকে কি তোমরা হত্যা করবে? অথবা কি করবে? অতএব হে আসিম! তুমি আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা কর। আসিম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তা অপছন্দ করলেন। এরপর উওয়াইমির তার নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আসিম! তুমি কি করেছ? তিনি বললেনঃ কি করবো, তুমি কল্যাণ নিয়ে আস নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা উত্থাপন করাকে অপছন্দ করেছেন। উওয়াইমির (রাঃ) বললেন : আল্লাহর কসম! আমি ইহা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করবো। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত নাযিল করেছেন। অতএব, তাকে (তোমার স্ত্রীকে) ডেকে আনো। সাহল (রাঃ) বললেনঃ এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। যখন উওয়াইমির (রাঃ) সেই মহিলাকে নিয়ে আসলো এবং উভয়ে লি”আন করলো এবং উওয়াইমির কসম করে বলতে লাগলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তাকে রেখে দেই তা হলে আমাকে মিথ্যা দোষারোপকারী বলা হবে। এ বলে তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বলার পূর্বেই পৃথক করে দিলেন। ইহাই পরে লি'আনের নিয়ম হয়ে গেল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 78
সুনানে নাসায়ি 3467 Sahih Sahih Isnaad Sahih

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْعَجْلاَنِيِّ وَامْرَأَتِهِ وَكَانَتْ حُبْلَى ‏.‏

আহমদ ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উওয়াইমির আজলানী এবং তার স্ত্রীর মধ্যে লি আন করান। আর এ সময় উওয়াইমির আজলানীর স্ত্রী গর্ভাবস্থায় ছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 79
সুনানে নাসায়ি 3468 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ سُئِلَ هِشَامٌ عَنِ الرَّجُلِ، يَقْذِفُ امْرَأَتَهُ فَحَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنْ ذَلِكَ، وَأَنَا أَرَى، أَنَّ عِنْدَهُ، مِنْ ذَلِكَ عِلْمًا فَقَالَ إِنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ بِشَرِيكِ ابْنِ السَّحْمَاءِ - وَكَانَ أَخُو الْبَرَاءِ بْنِ مَالِكٍ لأُمِّهِ وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ لاَعَنَ - فَلاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ ابْصُرُوهُ فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَبْيَضَ سَبِطًا قَضِيءَ الْعَيْنَيْنِ فَهُوَ لِهِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ جَعْدًا أَحْمَشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ ابْنِ السَّحْمَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأُنْبِئْتُ أَنَّهَا جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ جَعْدًا أَحْمَشَ السَّاقَيْنِ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল আ'লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি হিশামের কাছে জিজ্ঞাসা করলো, ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে। তখন হিশাম বৰ্ণনা করলে যে, রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিল, কেননা সকলেই অবগত ছিল যে, এ ব্যাপারে তার জানা আছে। এরপর আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করলেন, হিলাল ইবন উমাইয়া স্বীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে এবং যার সাথে সে ব্যভিচার করতো, তার নাম শরীক ইবন সাহিমা ছিল। আর শরীক ইবন সাহমা বারা ইবন মালিক (রাঃ)-এর মায়ের দিক থেকে ভাই ছিলেন। আন্যাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, ঐ ব্যক্তিই প্রথম লি”আন করেছিল। এই জন্য লি'আনের নিয়ম পদ্ধতি তার লি'আনের দ্বারা জানা যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করার আদেশ দেন এবং বলেন, তোমরা ইহা দেখতে থাকে। যদি সে সাদা রং লটকান চুল এবং ত্রুটিযুক্ত চোখ বিশিষ্ট বাচ্চা প্রসব করে, তবে তা হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার। আর যদি সে হাল্কা পাতলা পা বিশিষ্ট সুরমা রং এর চক্ষু, আর কোঁকড়ান চুল বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে ঐ সন্তান হবে শরীক ইবন সাহমা-এর। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে যে, সে সুরমা চক্ষু, কোঁকড়ান চুল এবং হাল্কা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 80
সুনানে নাসায়ি 3469 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ حُسَيْنٍ الأَزْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنَّ أَوَّلَ لِعَانٍ كَانَ فِي الإِسْلاَمِ أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ شَرِيكَ ابْنَ السَّحْمَاءِ بِامْرَأَتِهِ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَرْبَعَةَ شُهَدَاءَ وَإِلاَّ فَحَدٌّ فِي ظَهْرِكَ ‏"‏ ‏.‏ يُرَدِّدُ ذَلِكَ عَلَيْهِ مِرَارًا فَقَالَ لَهُ هِلاَلٌ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَعْلَمُ أَنِّي صَادِقٌ وَلَيُنْزِلَنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكَ مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْجَلْدِ ‏.‏ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ آيَةُ اللِّعَانِ ‏{‏ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ ‏}‏ إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَدَعَا هِلاَلاً فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ دُعِيَتِ الْمَرْأَةُ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ فَلَمَّا أَنْ كَانَ فِي الرَّابِعَةِ أَوِ الْخَامِسَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَقِّفُوهَا فَإِنَّهَا مُوجِبَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَتَلَكَّأَتْ حَتَّى مَا شَكَكْنَا أَنَّهَا سَتَعْتَرِفُ ثُمَّ قَالَتْ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ ‏.‏ فَمَضَتْ عَلَى الْيَمِينِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انْظُرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَبْيَضَ سَبِطًا قَضِيءَ الْعَيْنَيْنِ فَهُوَ لِهِلاَلِ بْنِ أُمَيَّةَ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ آدَمَ جَعْدًا رَبْعًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ ابْنِ السَّحْمَاءِ ‏"‏ ‏.‏ فَجَاءَتْ بِهِ آدَمَ جَعْدًا رَبْعًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْلاَ مَا سَبَقَ فِيهَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الشَّيْخُ وَالْقَضِيءُ طَوِيلُ شَعْرِ الْعَيْنَيْنِ لَيْسَ بِمَفْتُوحِ الْعَيْنِ وَلاَ جَاحِظِهِمَا وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ ‏.‏

ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামে সর্বপ্রথম লি”আন করার নিয়ম হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) হতে আরম্ভ হয়। কেননা, তিনি তার স্ত্রীকে শরীক ইবন সমহার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেন এবং রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ সংবাদ দেন। তিনি তাকে বলেন, চারজন সাক্ষী আনো, তা না হলে তোমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে এবং তা তোমার পিঠে পড়বে, তিনি তাকে কয়েকবার এ কথা বললেনঃ তখন হিলাল বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ জানেন আমি সত্যবাদী এবং আল্লাহ্ তা'আলা আপনার উপর আদেশ অবতীর্ণ করবেন। যাতে আমার পিঠ শান্তি হতে নিষ্কৃতি পাবে। এভাবে কথা চলছিল, এমন সময় লি”আনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যিানার অপবাদ আরোপ করে, অথবা নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষী নেই। তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে সে বলবে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত হোক। আর স্ত্রীর উপর হতে শাস্তি এভাবে রহিত হবে যে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে চারবার। এভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যা বলছে এবং পঞ্চমবারে বলে, তার উপর আল্লাহর গযব, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিলালকে ডাকলেন, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী, আর পঞ্চমবারে বলেঃ যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত। এরপর স্ত্রী লোককে ডাকা হলো, সেও আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে, ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। বর্ণনাকারী বলেন, যখন চারবার অথবা পাঁচবার সাক্ষ্য দেওয়া হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এই মহিলাকে বিরত রাখ, কেননা, এই সাক্ষ্য ঐ রমণীর জন্য ধ্বংসের কারণ হবে, অর্থাৎ আল্লাহর গযব বৃথা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন ঐ রমণী বিব্রত রইলো, আমাদের ধারণা হলো, সে বুঝতে পেরেছে এবং সে এখন স্বীকার করবে। কিন্তু সে বললোঃ আমি আমার সম্প্রদায়কে সর্বদার জন্য কলংকিত করবো না। এই কথা বলে সে কসম পূর্ণ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মহিলার প্রতি লক্ষ্য রোখ, যদি সে ফর্সা, কোঁকড়ান চুল বিকৃত গড়নের সস্তান প্রসব করে, তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার সন্তান। আর যদি সে বাদামী রংয়ের এলোমেলো চুল বিশিষ্ট মধ্যম গড়নের এবং পাতলা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে সে সন্তান হবে শরীক ইবন সাহমার সন্তান। রাবী বলেনঃ সে বাদামী রংয়ের সন্তান প্রসব করলো, যে কোঁকড়ান চুল, মধ্যম গড়ন পাতলা পা বিশিষ্ট ছিল, সেই সন্তান প্রসবের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আল্লাহর কিতাবের আদেশ না হতো, তা হলে তোমরা আমাকে দেখতে, আমি তার কি অবস্থা করতাম।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 81
সুনানে নাসায়ি 3470 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ ذُكِرَ التَّلاَعُنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذَلِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يَشْكُو إِلَيْهِ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً قَالَ عَاصِمٌ مَا ابْتُلِيتُ بِهَذَا إِلاَّ بِقَوْلِي فَذَهَبَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ وَكَانَ ذَلِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا قَلِيلَ اللَّحْمِ سَبِطَ الشَّعَرِ وَكَانَ الَّذِي ادَّعَى عَلَيْهِ أَنَّهُ وَجَدَهُ عِنْدَ أَهْلِهِ آدَمَ خَدْلاً كَثِيرَ اللَّحْمِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اللَّهُمَّ بَيِّنْ ‏"‏ ‏.‏ فَوَضَعَتْ شَبِيهًا بِالرَّجُلِ الَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّهُ وَجَدَهُ عِنْدَهَا فَلاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمَجْلِسِ أَهِيَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ رَجَمْتُ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ فِي الإِسْلاَمِ الشَّرَّ ‏.‏

ঈসা ইবন হাম্মদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লি'আনের উল্লেখ তুলে আসিম ইবন আলী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং পরে প্রস্থান করলেন। এরপর তার নিকট তার গোত্রের এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ উত্থাপন করলেন, সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম ইবন আদী (রাঃ) একথা শুনে বললেন, আমার বলার জন্যই আমার উপর এই মুসীবত এসেছে। এরপর আসিম ইবন আদী (রাঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিয়ে গেলেন এবং ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, তা বর্ণনা করলেন। আর ঐ ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা পাতলা গড়ন এবং সরু চুল বিশিষ্ট। আর যে ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং ছিল বাদামী, পায়ের গোছা এবং শরীর ছিল মাংসল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ(اللَّهُمَّ بَيِّنْ) অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনি এই মাসআলার বিধান প্রকাশ করে দিন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন ঐ স্ত্রীলোকটি বাচ্চা প্রসব করলো, তখন দেখা গেল সে ঐ ব্যক্তির মতই হয়েছে, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে লি’আন করার আদেশ দেন। যে মজলিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসে এক ব্যক্তি বললেনঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আমি কাউকে সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এ মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, এই মহিলা মুসলিমদের মধ্যে ইসলামে যার ব্যাভিচার প্রকাশ পেয়েছিল, কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 82
সুনানে নাসায়ি 3471 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَهْضَمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ ذُكِرَ التَّلاَعُنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذَلِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ فَذَكَرَ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَذَهَبَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ وَكَانَ ذَلِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا قَلِيلَ اللَّحْمِ سَبِطَ الشَّعْرِ وَكَانَ الَّذِي ادَّعَى عَلَيْهِ أَنَّهُ وَجَدَ عِنْدَ أَهْلِهِ آدَمَ خَدْلاً كَثِيرَ اللَّحْمِ جَعْدًا قَطَطًا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اللَّهُمَّ بَيِّنْ ‏"‏ ‏.‏ فَوَضَعَتْ شَبِيهًا بِالَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّهُ وَجَدَهُ عِنْدَهَا فَلاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا فَقَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمَجْلِسِ أَهِيَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ رَجَمْتُ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ الشَّرَّ فِي الإِسْلاَمِ ‏.‏

ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সাকান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে লি'আনের আলোচনা হলে আসিম ইবন আদী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং প্রস্থান করলেন। তার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বললোঃ সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলেন, এবং যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিলেন, তার কথা বললো। আর সেই ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা-পাতলা গড়নের সরু চুল বিশিষ্ট। আর সে যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং বাদামী এবং পায়ের গোছা ছিল মাংসল, মোটা লোক আর তার ছিল কোঁকড়ান ছােট চুল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্! আপনি প্রকাশ করে দিন। রাবী বলেন, ঐ স্ত্রীলোকটি ঐ লোকের মত বাচ্চা প্রসব করলো, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করান। ইবন আব্বাস (রাঃ) যে মজলিসে এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসের এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যদি আমি কাউকে প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এই মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, সেই মহিলা হচ্ছে যার মন্দ কাজ (যিানা) মুসলিমদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 83
সুনানে নাসায়ি 3472 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً حِينَ أَمَرَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ أَنْ يَتَلاَعَنَا أَنْ يَضَعَ يَدَهُ عِنْدَ الْخَامِسَةِ عَلَى فِيهِ وَقَالَ ‏ "‏ إِنَّهَا مُوجِبَةٌ ‏"‏ ‏.‏

আলী ইবন মায়মুন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই ব্যক্তিকে লি’আন করার আদেশ দেন, তখন এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন যে, যখন সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, তখন তার মুখের উপর হাত রাখবে। কেননা, এই পঞ্চমবারের সাক্ষ্য আল্লাহ তা’আলার শাস্তিকে অবধারিত করে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 84
সুনানে নাসায়ি 3473 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ سُئِلْتُ عَنِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ، فِي إِمَارَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا فَمَا دَرَيْتُ مَا أَقُولُ فَقُمْتُ مِنْ مَقَامِي إِلَى مَنْزِلِ ابْنِ عُمَرَ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا قَالَ نَعَمْ ‏.‏ سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ - وَلَمْ يَقُلْ عَمْرٌو أَرَأَيْتَ - الرَّجُلَ مِنَّا يَرَى عَلَى امْرَأَتِهِ فَاحِشَةً إِنْ تَكَلَّمَ فَأَمْرٌ عَظِيمٌ - وَقَالَ عَمْرٌو أَتَى أَمْرًا عَظِيمًا - وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ ‏.‏ فَلَمْ يُجِبْهُ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ الأَمْرَ الَّذِي سَأَلْتُكَ ابْتُلِيتُ بِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ فِي سُورَةِ النُّورِ ‏{‏ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ ‏}‏ حَتَّى بَلَغَ ‏{‏ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ‏}‏ فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَوَعَظَهُ وَذَكَّرَهُ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا كَذَبْتُ ‏.‏ ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَوَعَظَهَا وَذَكَّرَهَا فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنَّهُ لَكَاذِبٌ فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا ‏.‏

আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর শাসনামলে এক ব্যক্তি আমার কাছে লি”আনকারীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলোঃ লি'আনের পরে ঐ দুইজনের মধ্যে কি পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমি কি উত্তর দেব কিছুই বলতে পারলাম না। এরপর আমি উঠে ইবন উমর (রাঃ)-এর ঘরে গেলাম এবং আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবু আবদুর রহমান! লি'আন করার পর কি স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি বললেনঃ সর্বপ্রথম এ কথাটি জিজ্ঞাসা করেছেন অমুকের পুত্র অমুক। ইবন উমর (রাঃ) তার নাম উল্লেখ করেন নি। আর সে বলেছিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমাদের কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল কাজ করতে দেখে, যদি সে বলে, তবে তো তা বড় মুসীবতের কথা। আর যদি না বলে, তবে এমন মন্দ কাজের উপর চুপ রইলো, তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না। এরপর সে ব্যক্তি আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ যে কথা আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি নিজেই সেই মুসীবতে পড়েছি। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা সূরা নূরের এ আয়াত নাযিল করেনঃ (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ) হতে (غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ) অর্থাৎ, আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী ... পঞ্চমবারে সে বলেঃ তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। (সূরা নূরঃ ৬–৯) পর্যন্ত। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে প্রথমে নসীহত করেন এবং বলেন, পরীকালের শান্তি অপেক্ষা ইহকালের শাস্তি অতি সহজ। সেই ব্যক্তি তাঁর নসীহত শ্ৰবণ করে বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি মিথ্যা বলছি না। এরপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে নসীহত করলেন এবং তাকে স্মরণ কবিয়ে দিলেন। সেই স্ত্রীলোকটিও বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। পুরুষ লোকটি সাক্ষ্য প্রদান আরম্ভ করলো। সে আল্লাহর নাম নিয়ে চারবার সাক্ষ্য প্ৰদান করলো, পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি সে মিথ্যা কথা বলে থাকে, তবে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। তারপর স্ত্রীলোকটিও আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দিল, নিশ্চয় সে মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি পুরুষ লোকটি সত্যবাদী হয়, তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব পড়বে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পৃথক করে দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 85
সুনানে নাসায়ি 3474 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ لَمْ يُفَرِّقِ الْمُصْعَبُ بَيْنَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏.‏ قَالَ سَعِيدٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لاِبْنِ عُمَرَ فَقَالَ فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَخَوَىْ بَنِي الْعَجْلاَنِ ‏.‏

আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, মুসআব (রাঃ) লি'আনকারীদের পৃথক করে দেননি। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমরের নিকট তা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পৃথক করে দিয়েছিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 86
সুনানে নাসায়ি 3475 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ رَجُلٌ قَذَفَ امْرَأَتَهُ ‏.‏ قَالَ فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَخَوَىْ بَنِي الْعَجْلاَنِ وَقَالَ ‏"‏ اللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لَهُمَا ثَلاَثًا فَأَبَيَا فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا ‏.‏ قَالَ أَيُّوبُ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ إِنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْئًا لاَ أَرَاكَ تُحَدِّثُ بِهِ قَالَ قَالَ الرَّجُلُ مَالِي قَالَ ‏"‏ لاَ مَالَ لَكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَقَدْ دَخَلْتَ بِهَا وَإِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَهِيَ أَبْعَدُ مِنْكَ ‏"‏ ‏.‏

যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তাহলে কি হবে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রী থেকে পৃথক করে দেন এবং বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার জানা আছে, তোমাদের মধ্যে কোন একজন মিথ্যাবাদী, যদি তোমাদের মধ্যে কোন একজন তাওবা করে, তবে ভাল, তিনি উভয়কে একথা তিনবার বলেন। কিন্তু উভয়ে তা করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। তিনি বলেনঃ লি'আনকারী পুরুষ ব্যক্তিটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ঐ স্ত্রী লোকটির নিকট আমার মাল আছে, আমি তা পাব কি না? তিনি বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি ঐ স্ত্রীকে নিজের কাজে ব্যবহার করেছ, কাজেই ঐ মাল তুমি পাবে না। আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে ঐ মাল নেয়া এবং ফেরৎ পাওয়া মুশকিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 87
সুনানে নাসায়ি 3476 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ، فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏"‏ حِسَابُكُمَا عَلَى اللَّهِ أَحَدُكُمَا كَاذِبٌ وَلاَ سَبِيلَ لَكَ عَلَيْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَالِي قَالَ ‏"‏ لاَ مَالَ لَكَ إِنْ كُنْتَ صَدَقْتَ عَلَيْهَا فَهُوَ بِمَا اسْتَحْلَلْتَ مِنْ فَرْجِهَا وَإِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ عَلَيْهَا فَذَاكَ أَبْعَدُ لَكَ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবাইর (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট লি'আনকারীদের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি'আনকারী পুরুষ এবং স্ত্রীকে বলেন, তোমাদের ব্যাপার আল্লাহর দায়িত্বে। তোমাদের একজন নিশ্চয় মিথ্যাবাদী, তোমার তার উপর কোন কর্তৃত্ব নেই। পুরুষ লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার কাছে আমার মাল রয়েছে। তিনি বললেনঃ তার কাছে এখন তুমি কিছুই পাবে না, অর্থাৎ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি তো তার লজ্জাস্থান ব্যবহার করেছ, এর বিনিময়ে তোমার মাল নিয়েছ, আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে ঐ মাল চাওয়ার তুমি উপযুক্ত নও এবং তোমার মর্যাদার পরিপন্থী।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 88
সুনানে নাসায়ি 3477 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لاَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ رَجُلٍ وَامْرَأَتِهِ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالأُمِّ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ এবং স্ত্রীলোকটির মধ্যে লি’আন করার আদেশ দেন এবং তাদের পৃথক করে দেন, আর সন্তানকে তার মায়ের হাতে ন্যাস্ত করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 89
সুনানে নাসায়ি 3478 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَنِي فَزَارَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَمَا أَلْوَانُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حُمْرٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَنَّى تَرَى أَتَى ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَهَذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা বলেনঃ কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে। তিনি তার নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললঃ হ্যাঁ আছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন রংয়ের উট আছে? সে বললোঃ লাল রংয়ের। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ মিশ্রিত (কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্ৰিত) রংয়ের কোন উট আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ, মিশ্রিত রংয়েরও আছে। তিনি বললেনঃ এই মিশ্রিত রংয়ের উট কি করে জন্মালো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়েছে। এরপর তিনি বললেনঃ এই সন্তানও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে কালো হয়ে থাকবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 90
সুনানে নাসায়ি 3479 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ ‏.‏ وَهُوَ يُرِيدُ الاِنْتِفَاءَ مِنْهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا أَلْوَانُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حُمْرٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فِيهَا ذَوْدٌ وُرْقٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَمَا ذَاكَ تُرَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ نَزَعَهَا عِرْقٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَلَعَلَّ هَذَا أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُ فِي الاِنْتِفَاءِ مِنْهُ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) বলেন, কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে এবং ঐ বাচ্চার রং কালো। তিনি ঐ কাযারী ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললোঃ আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে ব্যক্তি বললোঃ সেগুলো লাল রংয়ের। তিনি বললেনঃ দেখ সেগুলোর মধ্যে কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত রংয়ের উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, আছে। তিনি বলেনঃ মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়ে থাকবে। তিনি বললেনঃ এতেও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে সন্তান অস্বীকার করার অবকাশ দিলেন না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 91
সুনানে নাসায়ি 3480 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، - حِمْصِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي وُلِدَ لِي غُلاَمٌ أَسْوَدُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَأَنَّى كَانَ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَا أَدْرِي قَالَ ‏"‏ فَهَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَمَا أَلْوَانُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حُمْرٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَهَلْ فِيهَا جَمَلٌ أَوْرَقُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فِيهَا إِبِلٌ وُرْقٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَنَّى كَانَ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مَا أَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَهَذَا لَعَلَّهُ نَزَعَهُ عِرْقٌ ‏"‏ ‏.‏ فَمِنْ أَجْلِهِ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا لاَ يَجُوزُ لِرَجُلٍ أَنْ يَنْتَفِيَ مِنْ وَلَدٍ وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ إِلاَّ أَنْ يَزْعُمَ أَنَّهُ رَأَى فَاحِشَةً ‏.‏

আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুগীরা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ আমার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যার গায়ের রং কালো। তিনি বললেনঃ তার এই কালো রং কোথা হতে আসলো? সে বললঃ জানি না কোথা হতে এসেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে বললোঃ লাল বর্ণের। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে কালো উট কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত আছে কি? সে বললঃ মিশ্রিত রং এর উটও এগুলোর মধ্যে আছে। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ঐ লাল বর্ণের মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ বলতে পারি না কোথা হতে এসেছে, হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ এইজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, যে সন্তান তার স্ত্রীর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে তাকে অস্বীকার করা উচিত নয়। কিন্তু ঐ সময় অস্বীকার করতে পারবে, যখন সে বলে যে, আমি তাকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত দেখেছি, আর আমার এই কথাও জানা আছে যে, সে ব্যাভিচারিণী।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 92
সুনানে নাসায়ি 3481 Daif Daif Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ شُعَيْبٌ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْمُلاَعَنَةِ ‏ "‏ أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ رَجُلاً لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَىْءٍ وَلاَ يُدْخِلُهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লি'আনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর বলতে শুনেছেনঃ যে মহিলা এক গোত্রের পুরুষের বীর্য অন্য গোত্রের সাথে মিশ্রিত করে আল্লাহর নিকট এমন মহিলার কোন মূল্য নেই। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ তার সন্তানকে নিজের ঔরষজাত সন্তান বলে জানার পরেও অস্বীকার করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তার রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন এবং তাকে কিয়ামতের দিন সকল লোকের সামনে অসম্মান করবেন, যখন পূর্বের এবং পরের সকল লোক একত্রিত হবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 93
সুনানে নাসায়ি 3482 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ‏"‏ ‏.‏

কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই থাকবে, আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই থাকবে না, অর্থাৎ সে সন্তানের মালিক হবে না। অন্য ব্যাখ্যানুসারে তার হবে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 94
সুনানে নাসায়ি 3483 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই হবে, আর ব্যভিচারী সন্তানের মালিক হবে না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 95
সুনানে নাসায়ি 3484 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اخْتَصَمَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فِي غُلاَمٍ فَقَالَ سَعْدٌ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْنُ أَخِي عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَىَّ أَنَّهُ ابْنُهُ انْظُرْ إِلَى شَبَهِهِ ‏.‏ وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي مِنْ وَلِيدَتِهِ ‏.‏ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى شَبَهِهِ فَرَأَى شَبَهًا بَيِّنًا بِعُتْبَةَ فَقَالَ ‏ "‏ هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ وَاحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ بِنْتَ زَمْعَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمْ يَرَ سَوْدَةَ قَطُّ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে একটি সন্তান নিয়ে ঝগড়া হয়। সা'দ (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই বাচ্চা আমার ভাই উৎবা ইবন আবু ওয়াক্কাসের। আমাকে আমার ভাই ওসীয়ত করেছিলেন যে, যাম'আর বাঁদীর ছেলে আমার ঔরষের। তার শরীরের গঠনের প্রতি লক্ষ্য করুন। আবাদ ইবন যাম'আ (রাঃ) বলেনঃ এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভজাত সন্তান। তিনি দেখলেন, তার শরীরের গড়ন উৎবার সাথে মিল রয়েছে। তিনি বললেনঃ হে আবদ ইবন যাম'আ! এই ছেলে তোমার। কেননা সন্তান গৃহস্বামীর আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই নেই। আর তিনি স্বীয় স্ত্রী সওদা (রাঃ)-কে বললেনঃ যাম'আর কন্যা সওদা, এর থেকে পর্দা কর। এরপর তিনি সওদাকে কখনও দেখেন নি।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 96
সুনানে নাসায়ি 3485 Sahih Lighairihi Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ الزُّبَيْرِ، - مَوْلًى لَهُمْ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ كَانَتْ لِزَمْعَةَ جَارِيَةٌ يَطَؤُهَا هُوَ وَكَانَ يَظُنُّ بِآخَرَ يَقَعُ عَلَيْهَا فَجَاءَتْ بِوَلَدٍ شِبْهِ الَّذِي كَانَ يَظُنُّ بِهِ فَمَاتَ زَمْعَةُ وَهِيَ حُبْلَى فَذَكَرَتْ ذَلِكَ سَوْدَةُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَاحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ فَلَيْسَ لَكِ بِأَخٍ ‏"‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যাম'আ (রাঃ)-এর একজন বাঁদী ছিল যার সাথে তিনি সহবাস করতেন, আর যাম'আর এজন্য সন্দেহ ছিল যে, এই বাঁদীর সাথে অন্য কেহ যিনা করেছে। এরপর সে একটি বাচ্চা প্রসব করলো, ঐ ব্যক্তির মত, যার সাথে তিনি তার ব্যভিচার করার সন্দেহ করতেন। ইতিমধ্যে যাম'আ ইন্তিকাল করলেন, তখন ঐ বাদী অন্তঃস্বত্ব ছিল। এ কথা সওদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বৰ্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ বাচ্চা বিছানার মালিকেরই থাকে। আর হে সওদা, তুমি তার সাথে পর্দা কর। কেননা সে তোমার ভাই নয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 97
সুনানে নাসায়ি 3486 Sahih Lighairihi Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَلاَ أَحْسُبُ هَذَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান বিছানার মালিকেরই হবে। আর ব্যাভিচারকারী সন্তানের মালিক হবে না। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে ইনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) নন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 98
সুনানে নাসায়ি 3487 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اخْتَصَمَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فِي ابْنِ زَمْعَةَ قَالَ سَعْدٌ أَوْصَانِي أَخِي عُتْبَةُ إِذَا قَدِمْتَ مَكَّةَ فَانْظُرِ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ فَهُوَ ابْنِي ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ هُوَ ابْنُ أَمَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي ‏.‏ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَبَهًا بَيِّنًا بِعُتْبَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَاحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে সন্তান নিয়ে বিবাদ ছিল। সা'দ বলেনঃ যখন আমি মক্কায় আগমন করলাম, তখন আমার ভাই উৎবা আমাকে ওসীয়ত করলেন যে, যাম'আর বাঁদীর সন্তানকে দেখবে; কেননা সে আমার সন্তান। আর আবদ ইবন যাম'আ বর্ণনা করেন, সে আমার পিতার বাদীর সন্তান, সে আমার পিতার আধিপত্যে এবং ফিরাশে প্রসব করেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে দেখলেন, উতবা (রাঃ) এর সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান তাঁরই জন্য, যার জন্য বিছানা। তিনি আরও বললেনঃ হে সওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 99
সুনানে নাসায়ি 3488 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ صَالِحٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ أُتِيَ عَلِيٌّ رضى الله عنه بِثَلاَثَةٍ وَهُوَ بِالْيَمَنِ وَقَعُوا عَلَى امْرَأَةٍ فِي طُهْرٍ وَاحِدٍ فَسَأَلَ اثْنَيْنِ أَتُقِرَّانِ لِهَذَا بِالْوَلَدِ قَالاَ لاَ ‏.‏ ثُمَّ سَأَلَ اثْنَيْنِ أَتُقِرَّانِ لِهَذَا بِالْوَلَدِ قَالاَ لاَ ‏.‏ فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالَّذِي صَارَتْ عَلَيْهِ الْقُرْعَةُ وَجَعَلَ عَلَيْهِ ثُلُثَىِ الدِّيَةِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ‏.‏

আবু আসিম খুশাইশ ইবন আসরাম (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়ামান দেশে আলী (রাঃ)-এর নিকট তিনজন লোক আসলো, যারা সকলে এক মহিলার সাথে একই তুহরে সহবাস করেছিল। তিনি তাদের দুইজনকে পৃথক করে বললেন, তোমরা উভয়ে কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারা বললোঃ না। পরে তিনি অন্য দুইজনকে বললেনঃ তোমরা দুইজন কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারাও বললোঃ না। এরপর তিনি উক্ত তিন ব্যক্তির নামে লটারী করলেন। লটারীতে যার নাম আসলো, তাকে তিনি সন্তান দিয়ে দিলেন। আর তার উপর দিয়াতের অর্থাৎ মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা আমরা বর্ণনা করলে তিনি হাসলেন, যাতে তাঁর দাঁত মুবারক দেখা গিয়েছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 100
সুনানে নাসায়ি 3489 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْخَلِيلِ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنَ الْيَمَنِ فَجَعَلَ يُخْبِرُهُ وَيُحَدِّثُهُ وَعَلِيٌّ بِهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَى عَلِيًّا ثَلاَثَةُ نَفَرٍ يَخْتَصِمُونَ فِي وَلَدٍ وَقَعُوا عَلَى امْرَأَةٍ فِي طُهْرٍ ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ ‏.‏

আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় ইয়ামন থেকে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে সেখানকার সংবাদ বর্ণনা করতে লাগলো এবং কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করলো। তখন আলী (রাঃ) সেখানে ছিলেন। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিন ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে এক সন্তানের ব্যাপারে ঝগড়া করছিল, তার সকলেই এক তুহরে এক মহিলার সাথে সহবাস করেছিল। এভাবে পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 101
সুনানে নাসায়ি 3490 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَلِيٌّ رضى الله عنه يَوْمَئِذٍ بِالْيَمَنِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا أُتِيَ فِي ثَلاَثَةِ نَفَرٍ ادَّعَوْا وَلَدَ امْرَأَةٍ فَقَالَ عَلِيٌّ لأَحَدِهِمْ تَدَعُهُ لِهَذَا ‏.‏ فَأَبَى وَقَالَ لِهَذَا تَدَعُهُ لِهَذَا ‏.‏ فَأَبَى وَقَالَ لِهَذَا تَدَعُهُ لِهَذَا ‏.‏ فَأَبَى قَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه أَنْتُمْ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَسَأُقْرِعُ بَيْنَكُمْ فَأَيُّكُمْ أَصَابَتْهُ الْقُرْعَةُ فَهُوَ لَهُ وَعَلَيْهِ ثُلُثَا الدِّيَةِ ‏.‏ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ‏.‏

আমর ইবন আলী (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন আলী (রাঃ) ইয়ামনে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ একদিন আলী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিন ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে এক বাচ্চার দাবী করলো, যে এক রমণীর গর্ভে জন্মায়। তখন আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বললোঃ তুমি কি এই বাচ্চার দাবী অন্য জনের জন্য ছেড়ে দেবে? সে অস্বীকার করলো। এরপর তিনি অন্যজনকে বললেনঃ তুমি কি এই বাচ্চাকে তোমার কোন সাথীর জন্য ছেড়ে দেবে? সেও অস্বীকার করলো। এভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করায় সেও অস্বীকার করলো। আলী (রাঃ) বললেনঃ তোমরা পরস্পর আলাদা এবং ঝগড়া করছো। আমি এখন তোমাদের মধ্যে লটারী করবো। যার নাম লটারীতে আসবে সে এই বাচ্চা পাবে এবং তাকে দিয়াতের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই ঘটনা শুনলেন, তখন তিনি হাসলেন, এমনকি তার দাঁত মুবারক প্রকাশ হয়ে পড়লো।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 102
সুনানে নাসায়ি 3491 Sahih Lighairihi Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ شَاهِينَ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ حَضْرَمَوْتَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا عَلَى الْيَمَنِ فَأُتِيَ بِغُلاَمٍ تَنَازَعَ فِيهِ ثَلاَثَةٌ ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ ‏.‏ خَالَفَهُمْ سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ ‏.‏

ইসহাক ইবন শাহীন (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে ইয়ামনে পাঠান। একদিন এক বাচ্চা আনা হলো, যাকে তিন ব্যক্তি পাওয়ার জন্য ঝগড়া করছিল। হাদীসের শেষ পর্যন্ত অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 103
সুনানে নাসায়ি 3492 Daif Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، أَوِ ابْنِ أَبِي الْخَلِيلِ أَنَّ ثَلاَثَةَ، نَفَرٍ اشْتَرَكُوا فِي طُهْرٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا صَوَابٌ وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সালামা ইবন কুহায়াল (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি শা'বীকে আবুল খলীল অথবা ইবন আবুল খলীল হতে এক হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিন ব্যক্তি একই তুহরে শরীক ছিল। এরপর এভাবে হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি যায়দ ইবন আরকামের নাম উল্লেখ করেন নি। আর এই হাদীসকে হাদীসে মারফুও বলেন নি। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 104
সুনানে নাসায়ি 3493 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَىَّ مَسْرُورًا تَبْرُقُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ فَقَالَ ‏ "‏ أَلَمْ تَرَىْ أَنَّ مُجَزِّزًا نَظَرَ إِلَى زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَأُسَامَةَ فَقَالَ إِنَّ بَعْضَ هَذِهِ الأَقْدَامِ لَمِنْ بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

কুতায়াবা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তাঁর চেহারায় খুশীর চিহ্ন প্ৰস্ফুটিত ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি জান মুজাযিযিয নাম্নী এক ব্যক্তি যায়দ ইবন হারিসা এবং উসামা (রাঃ)-কে দেখে বললোঃ এই উভয় ব্যক্তির পায়ের গড়নের মধ্যে মিল আছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 105
সুনানে নাসায়ি 3494 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ مَسْرُورًا فَقَالَ ‏ "‏ يَا عَائِشَةُ أَلَمْ تَرَىْ أَنَّ مُجَزِّزًا الْمُدْلِجِيَّ دَخَلَ عَلَىَّ وَعِنْدِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَرَأَى أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَزَيْدًا وَعَلَيْهِمَا قَطِيفَةٌ وَقَدْ غَطَّيَا رُءُوسَهُمَا وَبَدَتْ أَقْدَامُهُمَا فَقَالَ هَذِهِ أَقْدَامٌ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন তখন তার চেহারায় খুশীর চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। তিনি বললেনঃ হে আয়েশা! মুজাযিযিয মুদলিজী, কিয়াফা অবগত ব্যক্তি আমার নিকট আসলো। তখন উসামা ইবন যায়দ আমার নিকট উপস্থিত ছিল। সে উসামা ইবন যায়ীদ এবং যায়দকে দেখলো। তাদের মুখ চাদরে ঢাকা এবং পা খোলা ছিল। সে বললোঃ এই দু'জনের পায়ের মধ্যে মিল রয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 106
সুনানে নাসায়ি 3495 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُثْمَانَ الْبَتِّيِّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سَلَمَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ أَسْلَمَ وَأَبَتِ امْرَأَتُهُ أَنْ تُسْلِمَ فَجَاءَ ابْنٌ لَهُمَا صَغِيرٌ لَمْ يَبْلُغِ الْحُلُمَ فَأَجْلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الأَبَ هَا هُنَا وَالأُمَّ هَا هُنَا ثُمَّ خَيَّرَهُ فَقَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ اهْدِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَذَهَبَ إِلَى أَبِيهِ ‏.‏

মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদুল হামীদ ইবন সালামা আনসারী তাঁর পিতা সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুসলিম হলে তাঁর স্ত্রী মুসলিম হতে অস্বীকার করলো। তাদের এক নাবালেগ সস্তান ছিল। সে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতাকে এখানে এবং মাতাকে ওখানে বসিয়ে ছেলেকে ইখতিয়ার দিয়ে দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ্ ! এই ছেলেকে হিদােয়ত দান করুন। তখন সেই ছেলে স্বীয় পিতার নিকট চলে গোল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 107
সুনানে নাসায়ি 3496 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ بَيْنَا أَنَا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ إِنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي إِنَّ زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي وَقَدْ نَفَعَنِي وَسَقَانِي مِنْ بِئْرِ أَبِي عِنَبَةَ ‏.‏ فَجَاءَ زَوْجُهَا وَقَالَ مَنْ يُخَاصِمُنِي فِي ابْنِي فَقَالَ ‏ "‏ يَا غُلاَمُ هَذَا أَبُوكَ وَهَذِهِ أُمُّكَ فَخُذْ بِيَدِ أَيِّهِمَا شِئْتَ ‏"‏ ‏.‏ فَأَخَذَ بِيَدِ أُمِّهِ فَانْطَلَقَتْ بِهِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু মায়মুনা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমার স্বামী আমার নিকট হতে আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে চায়। অথচ ঐ বাচ্চার দ্বারা আমার অনেক উপকার হয়ে থাকে। সে বীরে আবু ইনাবা থেকে পানি এনে আমাকে পান করায়। এমন সময় তার স্বামী সেখানে এসে বললোঃ আমার ছেলের ব্যাপারে আমার সাথে কে বিবাদ করছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ছেলে! এই তোমার পিতা, আর এই তোমার মাতা, এদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা, তার হাত ধর। তখন ছেলে তার মার হাত ধরল এবং সে তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 108
সুনানে নাসায়ি 3497 Sahih Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ، مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي شَاذَانُ بْنُ عُثْمَانَ، أَخُو عَبْدَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ ثَابِتَ بْنَ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ ضَرَبَ امْرَأَتَهُ فَكَسَرَ يَدَهَا وَهِيَ جَمِيلَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ فَأَتَى أَخُوهَا يَشْتَكِيهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ثَابِتٍ فَقَالَ لَهُ ‏ "‏ خُذِ الَّذِي لَهَا عَلَيْكَ وَخَلِّ سَبِيلَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَرَبَّصَ حَيْضَةً وَاحِدَةً فَتَلْحَقَ بِأَهْلِهَا ‏.‏

আবু আলী মুহাম্মদ ইবন মারওয়াযী (রহঃ) ... আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রুবাই বিনত মুআওয়ায ইবন আফরা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাবিত ইবন কায়স ইবন শামমাস তার স্ত্রীকে মারধর করলো এবং তার হাত ভেঙে দিল, তার নাম ছিল জামিলা বিনত আবদুল্লাহ ইবন উবাই। তার ভাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলো। তিনি ছাবিত (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন। ছবিত উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি তার নিকট হতে তোমার মাল নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। ছাবিত (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মহিলাকে এক হায়য পর্যন্ত ইদ্দত পালন করার আদেশ করলেন। এরপর তাকে তার মাতাপিতার নিকট চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 109
সুনানে নাসায়ি 3498 Hasan Sahih Hasan Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ رُبَيِّعٍ بِنْتِ مُعَوِّذٍ، قَالَ قُلْتُ لَهَا حَدِّثِينِي حَدِيثَكِ، ‏.‏ قَالَتِ اخْتَلَعْتُ مِنْ زَوْجِي ثُمَّ جِئْتُ عُثْمَانَ فَسَأَلْتُهُ مَاذَا عَلَىَّ مِنَ الْعِدَّةِ فَقَالَ لاَ عِدَّةَ عَلَيْكِ إِلاَّ أَنْ تَكُونِي حَدِيثَةَ عَهْدٍ بِهِ فَتَمْكُثِي حَتَّى تَحِيضِي حَيْضَةً - قَالَ - وَأَنَا مُتَّبِعٌ فِي ذَلِكَ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرْيَمَ الْمَغَالِيَّةِ كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ فَاخْتَلَعَتْ مِنْهُ ‏.‏

উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... রুবাঈ বিনূত মুআওয়ায (রাঃ) বলেন, আমি আমার স্বামীর সাথে খুলা করলাম। এরপর উসমান (রাঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমাকে কতদিন ইদ্দত পালন করতে হবে? উসমান (রাঃ) বললেন, তোমার কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না। তবে, যেহেতু তুমি তোমার স্বামীর নিকট অবস্থান করেছ, অতএব তুমি এক হায়য পর্যন্ত অপেক্ষা কর। এরপর তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করছি। তিনি মরিয়াম মাগালিয়ার ব্যাপারে এরূপ সমাধান দিয়েছিলেন। আর তিনি ছিলেন ছবিত ইবন কায়স ইবন শামমাসের স্ত্রী। সেই মহিলা তার সাথে খুলা করেছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 110
সুনানে নাসায়ি 3499 Hasan Sahih Hasan Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ‏{‏ مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا ‏}‏ وَقَالَ ‏{‏ وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ ‏}‏ الآيَةَ وَقَالَ ‏{‏ يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ ‏}‏ فَأَوَّلُ مَا نُسِخَ مِنَ الْقُرْآنِ الْقِبْلَةُ وَقَالَ ‏{‏ وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوءٍ ‏}‏ وَقَالَ ‏{‏ وَاللاَّئِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلاَثَةُ أَشْهُرٍ ‏}‏ فَنُسِخَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ تَعَالَى ‏{‏ وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ ‏}‏ ‏{‏ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا ‏}‏ ‏.‏

যাকারিয়া ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে উক্ত আয়াতঃ (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا) ইবন আব্বাস সম্পর্কে বলেনঃ বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআনে সর্বপ্রথম যা রহিত হয়েছে, তা হলো কিবলার হুকুম। আল্লাহর বাণীঃ (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَقَالَ وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنْ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنْ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ) এ হতে রহিত করা হয়েছে এবং ইরশাদ করা হয়েছেঃ (وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا)।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 111
সুনানে নাসায়ি 3500 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... উম্মে হাবীব (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং পরকালে বিশ্বাস করে, কারো মৃত্যুর পর তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়, স্বীয় স্বামী ব্যতীত। কেননা স্বামীর জন্য তাহার চার মাস দশদিন শোক পালন করা উচিত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 112
সুনানে নাসায়ি 3501 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، قُلْتُ عَنْ أُمِّهَا، قَالَ نَعَمْ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ امْرَأَةٍ تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَخَافُوا عَلَى عَيْنِهَا أَتَكْتَحِلُ فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَمْكُثُ فِي بَيْتِهَا فِي شَرِّ أَحْلاَسِهَا حَوْلاً ثُمَّ خَرَجَتْ فَلاَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... হামিদ ইবন নাফে যয়নব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, আমি বললামঃ যয়নব তার মাতা উম্মে সালামা হতে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কেউ এমন এক স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যার স্বামী মারা গেছেন; আমরা কি তার চোখে সুরমা লাগাব? কেননা, আমরা ভয় করছি, সুরমা না লাগালে তার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি বললেনঃ এর আগে প্রত্যেক স্ত্রীলোক নিজের ঘরে বসে থাকতো আর ঐ রূপ মোটা ও নিকৃষ্ট বস্ত্র পরিধান করতো, যা উটের হাওদার নীচে দেয়া হতো। আর সে এই কষ্টের মধ্যে পূর্ণ এক বছর কাটিয়ে দিত। এখন কি তোমাদের উপর চার মাস দশদিন অধিক কঠিন মনে হয়?

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 113
সুনানে নাসায়ি 3502 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ قَيْسِ بْنِ قَهْدٍ الأَنْصَارِيِّ، - وَجَدُّهُ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَأُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتَا جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَإِنِّي أَخَافُ عَلَى عَيْنِهَا أَفَأَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَجْلِسُ حَوْلاً وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا كَانَ الْحَوْلُ خَرَجَتْ وَرَمَتْ وَرَاءَهَا بِبَعْرَةٍ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার কন্যার স্বামী ইনতিকাল করেছে। আর আমি ভয় করি, তার চোখ খারাপ না হয়ে যায়। আমি কি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি? তিনি বললেনঃ পূর্বে তো এ ধরনের নবী এক বছর পর্যন্ত বসে থাকতো, আর এই সময় তো কোন অধিক সময় নয়, মাত্র চার মাস দশদিন। আর যখন এক বছর পূর্ণ হতো, তখন ঐ মহিলা বের হয়ে নিজের পিঠের পেছনে উটের গোবর ছিটাতো।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 114
সুনানে নাসায়ি 3503 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ نَافِعًا، يَقُولُ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنَّهَا سَمِعَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تَحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা বিনতে উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এবং কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপনকারী কোন মহিলার জন্য নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর উপর চারমাস দশদিন শোক করা উচিত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 115
সুনানে নাসায়ি 3504 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ أَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تَحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ্ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ্ এবং কিয়ামতে বিশ্বাস করে তার জন্য কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক বৈধ নয়, নিজের স্বামী ব্যতীত। কেননা নিজের স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 116
সুনানে নাসায়ি 3505 Daif Hasan

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا السَّهْمِيُّ، - يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَكْرٍ - قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ أُمُّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 117
সুনানে নাসায়ি 3506 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ - قَالاَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّ سُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةَ، نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَأْذَنَتْ أَنْ تَنْكِحَ فَأَذِنَ لَهَا فَنَكَحَتْ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন সুবাইয়া আসলামী সন্তান প্রসব করলো, এর কয়েকদিন পূর্বে তার স্বামী মারা গেল। এখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিবাহ করার অনুমতি প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। পরে সে একজনের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হলো।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 118
সুনানে নাসায়ি 3507 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دَاوُدَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ سُبَيْعَةَ أَنْ تَنْكِحَ إِذَا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا ‏.‏

নসর ইবন আলী (রহঃ) ... মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবাইয়াকে বিয়ে করার অনুমতি দান করেন যখন সে নিফাস হতে পাক হবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 119
সুনানে নাসায়ি 3508 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي السَّنَابِلِ، قَالَ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِثَلاَثَةٍ وَعِشْرِينَ أَوْ خَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً فَلَمَّا تَعَلَّتْ تَشَوَّفَتْ لِلأَزْوَاجِ فَعِيبَ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ مَا يَمْنَعُهَا قَدِ انْقَضَى أَجَلُهَا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আবু সানাবিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যুর তেইশ অথবা পঁচিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে বাচ্চা প্রসব করলো। যখন তার নিফাসের সময় অতিবাহিত হলো, তখন সে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করার প্রস্তুতি গ্ৰহণ করতে লাগলো। ফলে লোকেরা কুৎসা করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ এখন তার বিয়ে করতে বাধা কোথায়? কারণ তার ইদ্দত পূর্ণ হয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 120
সুনানে নাসায়ি 3509 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، يَقُولُ اخْتَلَفَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَابْنُ عَبَّاسٍ فِي الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ تُزَوَّجُ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَبْعَدَ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ فَبَعَثُوا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ تُوُفِّيَ زَوْجُ سُبَيْعَةَ فَوَلَدَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِخَمْسَةَ عَشَرَ نِصْفِ شَهْرٍ - قَالَتْ - فَخَطَبَهَا رَجُلاَنِ فَحَطَّتْ بِنَفْسِهَا إِلَى أَحَدِهِمَا فَلَمَّا خَشُوا أَنْ تَفْتَاتَ بِنَفْسِهَا قَالُوا إِنَّكِ لاَ تَحِلِّينَ ‏.‏ قَالَتْ فَانْطَلَقْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ ‏"‏ ‏.‏

মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদে রাব্বিহী ইবন সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি আবু সালামাকে বলতে শুনেছিঃ আবু হুরায়রা এবং ইবন আব্বাস (রাঃ) ঐ স্ত্রীলোকের ব্যাপারে মতবিরোধ করলেন যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পর সে সন্তান প্রসব করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ সেই মহিলা প্রসব করার পর বিবাহ করতে পারবে। আর ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ উভয় মুদ্দতের মধ্যে যেটা দীর্ঘ হবে তা গ্ৰহণ করবে। পরে উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠান হলে তিনি বললেনঃ সুবা'আর স্বামী মারা যাওয়ার পনের দিন পর সে বাচ্চা প্রসব করে। এরপর দুই ব্যক্তি তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব করলে সে একজনের দিকে ঝুকে পড়লো। তার পরিবারের লোকেরা আশংকা করলো যে, পাছে সে তাকে বিয়ে করে কিনা। তারা তাকে বললোঃ এখনও তো তোমার ইদ্দত ও পূর্ণ হয়নি। সুবায়আ (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি বৈধ হয়ে গেছ, কাজেই এখন যার সাথে ইচ্ছা বিবাহ করতে পার।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 121
সুনানে নাসায়ি 3510 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ - قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ الْمُتَوَفَّى، عَنْهَا زَوْجُهَا وَهِيَ حَامِلٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ آخِرُ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِذَا وَلَدَتْ فَقَدْ حَلَّتْ ‏.‏ فَدَخَلَ أَبُو سَلَمَةَ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَتْ وَلَدَتْ سُبَيْعَةُ الأَسْلَمِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِنِصْفِ شَهْرٍ فَخَطَبَهَا رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا شَابٌّ وَالآخَرُ كَهْلٌ فَحَطَّتْ إِلَى الشَّابِّ فَقَالَ الْكَهْلُ لَمْ تَحْلِلْ ‏.‏ وَكَانَ أَهْلُهَا غُيَّبًا فَرَجَا إِذَا جَاءَ أَهْلُهَا أَنْ يُؤْثِرُوهُ بِهَا فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ আবু হুৱায়রা ও ইবন আব্বাসের নিকট ঐ মহিলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলো, যার স্বামী মারা যায় এবং সে তখন গর্ভবতী ছিল। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ সে তার দু'টি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘ হয়, সে তা গ্ৰহণ করবে। আর আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ যখনই সে প্রসব করেছে তখনই তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। আবু সালমা (রহঃ) এই মতবিরোধ শ্রবণ করে উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট গমন করলেন এবং তার নিকট এই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উম্মে সালমা (রাঃ) বললেনঃ সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্ধ মাস অতীত হলে সে সন্তান প্রসব করেছে। এরপর দুই ব্যক্তি তার নিকট বিবাহের পয়গাম পাঠায়, তাদের একজন ছিল যুবক, আর দ্বিতীয় জন ছিল আধা বয়সী। সে যুবকের দিকে ঝুকে গেল। তখন মধ্যম বয়সী ব্যক্তি বললোঃ এখন তোমার বিবাহ করা হালাল হবে না। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ তখন সুবাইয়ার পরিবারের লোক উপস্থিত ছিল না, মধ্য বয়সের লোকটি মনে করলো, যখন তার আত্মীয়-স্বজন আসবে, তখন হয়তো তারা বুঝিয়ে সুবাইয়াকে আমার জন্য রাজী করাবে। পরে ঐ মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তুমি হালাল হয়ে গেছ, এখন তুমি যাকে ইচ্ছা বিয়ে করতে পার।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 122
সুনানে নাসায়ি 3511 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ قِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي امْرَأَةٍ وَضَعَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِعِشْرِينَ لَيْلَةً أَيَصْلُحُ لَهَا أَنْ تَزَوَّجَ قَالَ لاَ إِلاَّ آخِرَ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ‏{‏ وَأُولاَتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ‏}‏ فَقَالَ إِنَّمَا ذَلِكَ فِي الطَّلاَقِ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي ‏.‏ يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ ‏.‏ فَأَرْسَلَ غُلاَمَهُ كُرَيْبًا فَقَالَ ائْتِ أُمَّ سَلَمَةَ فَسَلْهَا هَلْ كَانَ هَذَا سُنَّةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ فَقَالَ قَالَتْ نَعَمْ سُبَيْعَةُ الأَسْلَمِيَّةُ وَضَعَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِعِشْرِينَ لَيْلَةً فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَزَوَّجَ فَكَانَ أَبُو السَّنَابِلِ فِيمَنْ يَخْطُبُهَا ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ বাযী' (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলো, যদি কোন স্ত্রীলোক তার স্বামী মুত্যুবরণ করার বিশ দিনের মধ্যে সন্তান প্রসব করে, তবে কি তার বিবাহ করা বৈধ হবে? ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না। বিবাহ করা বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে তার দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘ ইদ্দতটি পূর্ণ না করে। আবু সালমা (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ "যার গর্ভে সন্তান রয়েছে, তার ইদ্দত হলো তার সন্তান প্রসব করা।" ইবন আব্বাস (রাঃ) আবু সালাম (রহঃ)-কে উত্তর দিলেন, এই আদেশ তালাকপ্রাপ্ত রমণীর ব্যাপারে। এরপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আমি আমার ভাইপো আবু সালামার সাথে আছি। অর্থাৎ যা সে বলছে তা-ই আমার নিকট উত্তম এবং সহীহ। এই কথার পর তিনি স্বীয় দাস কুরায়বকে ডাকলেন এবং উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন, এ খবরসহ যে, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সুন্নত আছে কি না। কুরায়ব (রহঃ) উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আবু হুরায়রা (রাঃ) যা বলেছেন তা ব্যক্ত করলে উম্মে সালমা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত এ ব্যাপারে এই যে, সুবাইয়া আসলামী তার স্বামীর মৃত্যুর বিশ দিন পর সন্তান প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন, আর আবু সানাবিল তার বিবাহের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 123
সুনানে নাসায়ি 3512 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَابْنَ، عَبَّاسٍ وَأَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ تَذَاكَرُوا عِدَّةَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا تَضَعُ عِنْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَعْتَدُّ آخِرَ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ بَلْ تَحِلُّ حِينَ تَضَعُ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي ‏.‏ فَأَرْسَلُوا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ الأَسْلَمِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِيَسِيرٍ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَتَزَوَّجَ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রাঃ), ইবন আব্বাস (রাঃ) ও আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) নিজেদের মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দত সম্বন্ধে আলোচনা করেন, যার স্বামী মারা যায়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ দু'টি ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পালন করবে। আর আবু সালাম (রহঃ) বললেনঃ সেই মহিলা তার সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আমি আমার ভ্রাতুষ্পপুত্রের সাথে একমত। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠালে তিনি বললেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এ ব্যাপারে সুবাইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর সমাধান চাইলে তিনি তাকে বিবাহের অনুমতি প্ৰদান করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 124
সুনানে নাসায়ি 3513 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِأَيَّامٍ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَزَوَّجَ ‏.‏

আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবাইয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 125
সুনানে নাসায়ি 3514 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَأَبَا، سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ اخْتَلَفَا فِي الْمَرْأَةِ تُنْفَسُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ آخِرُ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ إِذَا نُفِسَتْ فَقَدْ حَلَّتْ ‏.‏ فَجَاءَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي ‏.‏ يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏.‏ فَبَعَثُوا كُرَيْبًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمْ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّهَا قَالَتْ وَلَدَتْ سُبَيْعَةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ حَلَلْتِ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস এবং আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান এর মধ্যে ঐ মহিলার ইদ্দতের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেয়, যার স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পর সে সন্তান প্রসব করলো। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর হয়, ঐ মহিলা সেটি পালন করবে। আর আবু সালামা (রহঃ) বলেনঃ যখন সে সন্তান প্রসব করলো, তখন তার ইদ্দত পূর্ণ হলো। এরপর আবু হুরায়রা (রাঃ) আসলে তিনি বললেনঃ আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমানের পক্ষ অবলম্বন করছি। এরপর তাঁরা কুরায়ব (রহঃ)-কে উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠান। তিনি এই ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করে এসে তাদেরকে বললেন যে, উম্মে সালামা (রাঃ) বলেছেনঃ সুবাইয়া তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব করলো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এর উল্লেখ করলে, তিনি বললেনঃ তুমি হালাল হয়ে গেছ, অর্থাৎ তোমার ইদ্দত পূৰ্ণ হয়ে গেছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 126
সুনানে নাসায়ি 3515 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ كُنْتُ أَنَا وَابْنُ، عَبَّاسٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِذَا وَضَعَتِ الْمَرْأَةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَإِنَّ عِدَّتَهَا آخِرُ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَبَعَثْنَا كُرَيْبًا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَنَا مِنْ عِنْدِهَا أَنَّ سُبَيْعَةَ تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَوَضَعَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِأَيَّامٍ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَزَوَّجَ ‏.‏

হুসায়ন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা আমি, ইবন আব্বাস এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান প্রসব করে, তখন ঐ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হবে, দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর সেটি। আবু সালামা (রহঃ) বলেনঃ আমরা কুরাইবকে উম্মে সালাম (রাঃ)-এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালে, কুরাইব উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট থেকে সংবাদ নিয়ে আসলে যে, সুবাইয়ার স্বামীর মৃত্যু হলে কয়েকদিন পর তার সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করার অনুমতি প্ৰদান করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 127
সুনানে নাসায়ি 3516 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، أَخْبَرَتْهُ عَنْ أُمِّهَا أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ امْرَأَةً مِنْ أَسْلَمَ يُقَالُ لَهَا سُبَيْعَةُ كَانَتْ تَحْتَ زَوْجِهَا فَتُوُفِّيَ عَنْهَا وَهِيَ حُبْلَى فَخَطَبَهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ فَأَبَتْ أَنْ تَنْكِحَهُ فَقَالَ مَا يَصْلُحُ لَكِ أَنْ تَنْكِحِي حَتَّى تَعْتَدِّي آخِرَ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ فَمَكَثَتْ قَرِيبًا مِنْ عِشْرِينَ لَيْلَةً ثُمَّ نُفِسَتْ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ انْكِحِي ‏"‏ ‏.‏

আব্দুল মালিক ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যয়নব বিনত আবু সালামা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার মা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে সালামা হতে, বনী আসলাম গোত্রের সুবাইয়া নাম্নী এক মহিলা তার স্বামীর বিবাহে ছিল। তাকে গর্ভবতী অবস্থায় রেখে স্বামী মারা যায়। আবু সানাবিল ইবন বা'কাক তার বিবাহের পয়গাম দেন, কিন্তু সে তার প্রস্তাবে রাযী হলেন না। পরে তিনি বললেনঃ দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর, সেটি পূর্ণ করার পূর্বে তোমার বিয়ে করা ঠিক হবে না। সে বিশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করেল, তখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি এখন বিয়ে করতে পার।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 128
সুনানে নাসায়ি 3517 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ قَالَ بَيْنَمَا أَنَا وَأَبُو هُرَيْرَةَ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذْ جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَهِي حَامِلٌ فَوَلَدَتْ لأَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ مِنْ يَوْمِ مَاتَ ‏.‏ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ آخِرُ الأَجَلَيْنِ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ سُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةَ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَهِيَ حَامِلٌ فَوَلَدَتْ لأَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَزَوَّجَ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأَنَا أَشْهَدُ عَلَى ذَلِكَ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, একদিন আমি এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক মহিলা উপস্থিত হয়ে তার স্বামীর অবস্থা বর্ণনা করতে লাগলো যে, তার স্বামীর মৃত্যুবরণ করেছে, তখন সে গর্ভবতী ছিল। সে বললোঃ স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে চার মাস পূর্ণ না হতেই সে সন্তান ভূমিষ্ট হয়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ যে ইদ্দত দীর্ঘতর হবে, তা-ই তোমার ইদ্দত হবে। আবু সালামা (রহঃ) বললেনঃ আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন যে, সুবাইয়া আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বললে যে, আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, তখন আমি গর্ভবতী ছিলাম। এরপর আমার সন্তান প্রসব হয়েছে, তখন বাচ্চার পিতার মৃত্যুর পর চার মাস অতিবাহিত হয়নি। তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করার অনুমতি দান করেন। তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতে লাগলেনঃ আমি এ ব্যাপারে সাক্ষী।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 129
সুনানে নাসায়ি 3518 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَاهُ كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَرْقَمَ الزُّهْرِيِّ يَأْمُرُهُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَيَسْأَلَهَا حَدِيثَهَا وَعَمَّا قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَفْتَتْهُ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ - وَهُوَ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا فَتُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهِيَ حَامِلٌ - فَلَمْ تَنْشَبْ أَنْ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاتِهِ فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَجَمَّلَتْ لِلْخُطَّابِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَقَالَ لَهَا مَا لِي أَرَاكِ مُتَجَمِّلَةً لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ النِّكَاحَ إِنَّكِ وَاللَّهِ مَا أَنْتِ بِنَاكِحٍ حَتَّى تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏.‏ قَالَتْ سُبَيْعَةُ فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ جَمَعْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي حِينَ أَمْسَيْتُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَفْتَانِي بِأَنِّي قَدْ حَلَلْتُ حِينَ وَضَعْتُ حَمْلِي وَأَمَرَنِي بِالتَّزْوِيجِ إِنْ بَدَا لِي ‏.‏

ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ বর্ণনা করেন, তাহার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) উমর ইবন আবদুল্লাহ ইবন আরকাম যুহরী (রহঃ)-কে লিখলেন, আপনি গিয়ে সুবাইয়া বিনত হারিস আসলামী (রাঃ)-কে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করুন। যখন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার অবস্থার সমাধান চেয়েছিল, তখন তিনি তাকে কি বলেছিলেন। তখন উমর ইবন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ্ ইবন উতবাকে লিখলেন যে, সুবাইয়া (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সা'দ ইবন খাওলার বিবাহধীন ছিলেন, আর সা'দ ছিলেন আমির ইবন লুয়াই গোত্রের লোক। আর তিনি বদরী সাহাবীও ছিলেন, তিনি যখন বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন, তখন আমি গর্ভবতী ছিলাম। কিন্তু তার মৃত্যুর কয়েক দিন পরই বাচ্চ জন্ম নেয়। যখন সুবাইয়া (রাঃ) নিফাস হতে পাক হন। তখন তিনি বিবাহ প্রস্তাবকারীদের জন্য সাজসজ্জা করলেন। আবদুদ্দার গোত্রের আবু সানাবিল ইবন বা'কাক তার নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলোঃ তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখছি কেন? মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা করছে? আল্লাহর শপথ! তোমার জন্য বিবাহ করা ঠিক হবে না। চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগে। সুবাইয়া (রাঃ) বলেনঃ যখন সে একথা বললো, তখন আমি সন্ধ্যায় কাপড় পড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে ফতওয়া দিয়ে বললেনঃ তুমি যখন বাচ্চা প্রসব করেছ, তখনই তোমার ইদ্দত পূর্ণ হয়েছে। তিনি আমাকে আরো বললেনঃ যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে বিবাহ করে নাও।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 130
সুনানে নাসায়ি 3519 Sahih Lighairihi Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ كَتَبَ إِلَيْهِ يَذْكُرُ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَهُ أَنَّ زُفَرَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا السَّنَابِلِ بْنَ بَعْكَكِ بْنِ السَّبَّاقِ قَالَ لِسُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةِ لاَ تَحِلِّينَ حَتَّى يَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا أَقْصَى الأَجَلَيْنِ ‏.‏ فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَتْهُ عَنْ ذَلِكَ فَزَعَمَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْتَاهَا أَنْ تَنْكِحَ إِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا وَكَانَتْ حُبْلَى فِي تِسْعَةِ أَشْهُرٍ حِينَ تُوُفِّيَ زَوْجُهَا وَكَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ فَتُوُفِّيَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَكَحَتْ فَتًى مِنْ قَوْمِهَا حِينَ وَضَعَتْ مَا فِي بَطْنِهَا ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ওহাব (রহঃ) ... যুফার ইবন আওস ইবন হাদাছান নসরী বলেন, আবু সানাবিল ইবন বা‘কাক ইবন সাববাক সুবাইয়া আসলামী (রাঃ)-কে বললোঃ চার মাস দশদিন, যা দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘতর, তা শেষ হওয়ার পূর্বে তোমার বিবাহ করা ঠিক হবে না। একথা শুনে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সুবাইয়া (রাঃ)-এর কথা দ্বারা বুঝা গেল রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই সমাধান দিলেন যে, তোমার সন্তান প্রসব হলে, তুমি বিয়ে করে নিবে। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি সা'দ ইবন খাওলার বিবাহাধীন ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে ছিলেন এবং এ সময় তিনি মারা যান। পরে তার সন্তান প্রসব হওয়ার পর সেই গোত্রের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 131
সুনানে নাসায়ি 3520 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُتْبَةَ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ أَنِ ادْخُلْ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَاسْأَلْهَا عَمَّا أَفْتَاهَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَمْلِهَا ‏.‏ قَالَ فَدَخَلَ عَلَيْهَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا - فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَوَلَدَتْ قَبْلَ أَنْ تَمْضِيَ لَهَا أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا مِنْ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا دَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَرَآهَا مُتَجَمِّلَةً فَقَالَ لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ النِّكَاحَ قَبْلَ أَنْ تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏.‏ قَالَتْ فَلَمَّا سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنْ أَبِي السَّنَابِلِ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَدْ حَلَلْتِ حِينَ وَضَعْتِ حَمْلَكِ ‏"‏ ‏.‏

কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা উমর ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আরকাম যুহরীকে সুবাইয়া (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য পত্ৰ লিখলেন যে, আপনি গিয়ে সুবাইয়া আসলামী বিনত হারিস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, তার গর্ভ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কী সমাধান দিয়েছিলেন। রাবী বলেন, উমর ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তার নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন ; আমি সা’দ ইবন খাওলার স্ত্রী ছিলাম, সা’দ ইবন খাওলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বদরীও ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে আমি সন্তান প্রসব করলাম, চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই। রাবী বলেনঃ তার নিফাস হতে পাক হওয়ার পর বনী আবদুদ্দারের আবু সানাবিল নাম এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, তিনি সাজসজ্জা করছেন। সে বললোঃ মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা রাখ, চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই। সুবাইয়া (রাঃ) বলেন, আমি আবু সানাবিলের নিকট এ কথা শোনার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট আমার অবস্থা ব্যক্ত করিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি সন্তান প্রসব করার সাথে সাথেই তোমার ইদ্দত পূর্ণ করেছ।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 132
সুনানে নাসায়ি 3521 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا فِي نَاسٍ بِالْكُوفَةِ فِي مَجْلِسٍ - لِلأَنْصَارِ - عَظِيمٍ فِيهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى فَذَكَرُوا شَأْنَ سُبَيْعَةَ فَذَكَرْتُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ فِي مَعْنَى قَوْلِ ابْنِ عَوْنٍ حَتَّى تَضَعَ ‏.‏ قَالَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى لَكِنَّ عَمَّهُ لاَ يَقُولُ ذَلِكَ فَرَفَعْتُ صَوْتِي وَقُلْتُ إِنِّي لَجَرِيءٌ أَنْ أَكْذِبَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ وَهُوَ فِي نَاحِيَةِ الْكُوفَةِ ‏.‏ قَالَ فَلَقِيتُ مَالِكًا قُلْتُ كَيْفَ كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ يَقُولُ فِي شَأْنِ سُبَيْعَةَ قَالَ قَالَ أَتَجْعَلُونَ عَلَيْهَا التَّغْلِيظَ وَلاَ تَجْعَلُونَ لَهَا الرُّخْصَةَ لأُنْزِلَتْ سُورَةُ النِّسَاءِ الْقُصْرَى بَعْدَ الطُّولَى ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি কুফায় আনসারীদের এক বড় মজলিসে বসা ছিলাম, সেখানে আবদুর রহমান ইবন আবু লায়লাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে আলোচিত হলো। আমি আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদের বর্ণনার উল্লেখ করলাম, যা ইবন আওনের কথার অনুরূপ ছিল, অর্থাৎ বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত তার ইদ্দত ছিল। ইবন আবু লায়লা বললেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর এ কথার সমর্থক ছিলেন না যে, গৰ্ভধারিণীর ইদ্দত প্রসব পর্যন্ত, বরং তিনি দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি অধিক তাকেই ইদ্দত মনে করতেন। তখন আমি আমার আওয়ায উচু করে বললামঃ আমি কি এরূপ দুঃসাহস করতে পারি যে, আবদুল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করবো? অথচ তিনি কুফায় থাকেন। এরপর মালিকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে কি বলতেন? তিনি বললেনঃ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলতেনঃ তোমরা তার উপর কঠোর বিধান আরোপ করছো? আর তোমরা তাকে অনুমতি দিতেছ না? অথচ ছােট সূরায় নিসা, যা হলো সূরা তালাক, তা বড় সূরা অর্থাৎ সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 133
সুনানে নাসায়ি 3522 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Daif

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينِ بْنِ نُمَيْلَةَ، - يَمَامِيٌّ - قَالَ أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَأَخْبَرَنِي مَيْمُونُ بْنُ الْعَبَّاسِ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شُبْرُمَةَ الْكُوفِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ مَنْ شَاءَ لاَعَنْتُهُ مَا أُنْزِلَتْ ‏{‏ وَأُولاَتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ‏}‏ إِلاَّ بَعْدَ آيَةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا فَقَدْ حَلَّتْ وَاللَّفْظُ لِمَيْمُونٍ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আলকামা ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, যদি কেউ ইচ্ছা করে, আমি তার সাথে এ ব্যাপারে মুবাহালা করতে পারি যে, (وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ) অর্থঃ আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত- এ আয়াতটি যে স্ত্রীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত সম্পর্কে। এ আয়াতঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চারমাস দশদিন অপেক্ষায় থাকবে - এরপর নাযিল হয়। যে গৰ্ভবতী স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তার সন্তান ভূমিষ্ট হলে তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 134
সুনানে নাসায়ি 3523 Sahih Lighairihi Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، وَهُوَ ابْنُ أَعْيَنَ قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، وَعَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ سُورَةَ النِّسَاءِ الْقُصْرَى، نَزَلَتْ بَعْدَ الْبَقَرَةِ ‏.‏

আবু দাউদ সুলায়মান ইবন সায়ফ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ছোট সূরার নিসা, অর্থাৎ সূরায়ে তালাক সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 135
সুনানে নাসায়ি 3524 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ، تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا حَتَّى مَاتَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَهَا مِثْلُ صَدَاقِ نِسَائِهَا لاَ وَكْسَ وَلاَ شَطَطَ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ ‏.‏ فَقَامَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ الأَشْجَعِيُّ فَقَالَ قَضَى فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ - امْرَأَةٍ مِنَّا - مِثْلَ مَا قَضَيْتَ ‏.‏ فَفَرِحَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضى الله عنه ‏.‏

মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করলো যে, এক ব্যক্তি এক স্ত্রীলোককে বিবাহ করলো, আর বিবাহের সময় তার জন্য কোন মাহর নির্ধারণ করলো না, এবং তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই সে মারা গেল। ইবন মাসউদ (রাঃ) বললেনঃ ঐ মহিলা তার বংশের অন্যান্য মহিলার ন্যায় মহর পাবে, কমও নয় এবং বেশীও নয়। আর তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে স্বামীর মীরাছের অংশ পাবে। এ কথা শুনে মাকাল ইবন সিনান আশজায়ী (রঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্প্রদায়ের এক মহিলার ফয়সালা এরূপই করেছিলেন, যার নাম ছিল বিরওয়া বিনুত ওয়াশিক, যেরূপ আপনি বললেন। একথা শুনে ইবন মাসউদ (রাঃ) সন্তুষ্ট হলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 136
সুনানে নাসায়ি 3525 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ أَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মহিলার জন্য তিন দিনের অধিক কোন মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করা বৈধ নয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 137
সুনানে নাসায়ি 3526 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মা’মার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না- নিজের স্বামী ব্যতীত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 138
সুনানে নাসায়ি 3527 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বরে বলতে শুনেছিঃ যে মহিলা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃত্যুর উদ্দেশে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ নয়। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 139
সুনানে নাসায়ি 3528 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ شُعْبَةَ، وَابْنِ، جُرَيْجٍ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبٍ، عَنِ الْفَارِعَةِ بِنْتِ مَالِكٍ، أَنَّ زَوْجَهَا، خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْلاَجٍ فَقَتَلُوهُ - قَالَ شُعْبَةُ وَابْنُ جُرَيْجٍ وَكَانَتْ فِي دَارٍ قَاصِيَةٍ فَجَاءَتْ وَمَعَهَا أَخُوهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ فَرَخَّصَ لَهَا حَتَّى إِذَا رَجَعَتْ دَعَاهَا فَقَالَ ‏ "‏ اجْلِسِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী স্বীয় গোলামের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শু'বা এবং ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ সেই মহিলার ঘর ছিল জনবসতি হতে দূরে। পরে সেই মহিলা তার ভাইকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করলেন, তিনি তাকে অন্য ঘরে বাস করার অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাকে, যতক্ষণ না ইদ্দত পূর্ণ হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 140
সুনানে নাসায়ি 3529 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمَّتِهِ، زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبٍ عَنِ الْفُرَيْعَةِ بِنْتِ مَالِكٍ، أَنَّ زَوْجَهَا، تَكَارَى عُلُوجًا لِيَعْمَلُوا لَهُ فَقَتَلُوهُ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ إِنِّي لَسْتُ فِي مَسْكَنٍ لَهُ وَلاَ يَجْرِي عَلَىَّ مِنْهُ رِزْقٌ أَفَأَنْتَقِلُ إِلَى أَهْلِي وَيَتَامَاىَ وَأَقُومُ عَلَيْهِمْ قَالَ ‏"‏ افْعَلِي ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ قُلْتِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَعَادَتْ عَلَيْهِ قَوْلَهَا قَالَ ‏"‏ اعْتَدِّي حَيْثُ بَلَغَكِ الْخَبَرُ ‏"‏ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার স্বামী আজমী গোলামাদেরকে চাকর রাখতেন তার কাজের জন্য। তারা তাকে হত্যা করলে তিনি এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছিয়ে বললেন, আমার স্বামীর কোন ঘরও নেই এবং তিনি খোরপোষের কোন ব্যবস্থাও করে যাননি। আমি আমার পরিবারস্থ লোকের নিকট গিয়ে আমার ইয়াতিম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি? তিনি তাকে বললেনঃ তুমি এরূপ করতে পার। এরপর তিনি বললেনঃ কী বলেছিলে? তখন সে যা বলেছিল, তা আবার বললো। তিনি বললেনঃ ইদ্দত ঐ স্থানেই পালন কর, যেখানে তুমি তোমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনেছ।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 141
সুনানে নাসায়ি 3530 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْنَبَ، عَنْ فُرَيْعَةَ، أَنَّ زَوْجَهَا، خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْلاَجٍ لَهُ فَقُتِلَ بِطَرَفِ الْقَدُّومِ - قَالَتْ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ لَهُ النُّقْلَةَ إِلَى أَهْلِي وَذَكَرَتْ لَهُ حَالاً مِنْ حَالِهَا - قَالَتْ - فَرَخَّصَ لِي فَلَمَّا أَقْبَلْتُ نَادَانِي فَقَالَ ‏ "‏ امْكُثِي فِي أَهْلِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ‏"‏ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... ফারি'আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী গোলামদের তালাশে বের হয়ে কাদুমের পথে নিহত হলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমি আমার পরিবারের লোকদের নিকট যেতে চাই এবং তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। যখন আমি রওয়ানা হলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললোঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিজের স্বামীর ঘরেই থাক।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 142
সুনানে নাসায়ি 3531 Sahih Sahih Sahih Bukhari

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، قَالَ عَطَاءٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَسَخَتْ هَذِهِ الآيَةُ عِدَّتَهَا فِي أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ‏}‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে আয়াতে বলা হয়েছে "স্ত্রী তার স্বামীর ঘরে ইদ্দত পূৰ্ণ করবে।" এই আয়াত এখন মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এখন তার জন্য যেখানে ইচ্ছা সেখানে থেকে ইদ্দত পূর্ণ করার ইখতিয়ার আছে। (غَيْرَ إِخْرَاجٍ) আয়াত দ্বারা তা রহিত হয়েছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 143
সুনানে নাসায়ি 3532 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَتْنِي زَيْنَبُ بِنْتُ كَعْبٍ، قَالَتْ حَدَّثَتْنِي فُرَيْعَةُ بِنْتُ مَالِكٍ، أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَتْ تُوُفِّيَ زَوْجِي بِالْقَدُّومِ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ دَارَنَا شَاسِعَةٌ فَأَذِنَ لَهَا ثُمَّ دَعَاهَا فَقَالَ ‏ "‏ امْكُثِي فِي بَيْتِكِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ‏"‏ ‏.‏

ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর বোন ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমার স্বামী কাদুম নামক স্থানে ইনতিকাল করেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আমার ঘর লোকালয় হতে বহু দূরে অবস্থিত। তিনি আমাকে আমার পরিবারের কাছে থাকার অনুমতি দান করলেন। এরপর ডেকে বললেনঃ নিজের স্বামীর ঘরেই চার মাস দশ দিন অতিবাহিত কর, তাহলে তোমার ইদ্দত পূর্ণ হবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 144
সুনানে নাসায়ি 3533 Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ الثَّلاَثَةِ، قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ فَدَعَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِطِيبٍ فَدَهَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 145
সুনানে নাসায়ি 3533.2

قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا وَقَدْ دَعَتْ بِطِيبٍ وَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 146
সুনানে নাসায়ি 3533.3

وَقَالَتْ زَيْنَبُ سَمِعْتُ أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنَهَا أَفَأَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ حُمَيْدٌ فَقُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ قَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلاَ شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعْرَةً فَتَرْمِي بِهَا وَتُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ تَفْتَضُّ تَمْسَحُ بِهِ فِي حَدِيثِ مُحَمَّدٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ الْحِفْشُ الْخُصُّ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 147
সুনানে নাসায়ি 3534 Sahih Sahih Sahih - Agreed Upon

أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَحِدُّ امْرَأَةٌ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تَحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا وَلاَ ثَوْبَ عَصْبٍ وَلاَ تَكْتَحِلُ وَلاَ تَمْتَشِطُ وَلاَ تَمَسُّ طِيبًا إِلاَّ عِنْدَ طُهْرِهَا حِينَ تَطْهُرُ نُبَذًا مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ ‏"‏ ‏.‏

হুসায়ন ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মু আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী কারো জন্য তিন দিনের অধিককাল শোক করবে না। তবে তার স্বামী ব্যতীত। কেননা, সে তার জন্য চার মাস দশ দিন শোক করবে। আর শোককারীণী কোন রঙ্গিন কাপড় পরিধান করবে না, আর না ঐ কাপড় যার সুতা রং করিয়ে বানানো হয় এবং সুরমা লাগাবে না, আর মাথায় চিরুনী করবে না এবং সুগন্ধি লাগবে না। কিন্তু যখন সে হায়য হতে পাক হবে, তখন কিছু কুসত এবং আযফার (সুগন্ধি জাতীয় জিনিস) ব্যবহার করতে পারে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 148
সুনানে নাসায়ি 3535 Sahih Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي بُدَيْلٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا لاَ تَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ مِنَ الثِّيَابِ وَلاَ الْمُمَشَّقَةَ وَلاَ تَخْتَضِبُ وَلاَ تَكْتَحِلُ ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, সে কুসুম রঙের কাপড় এবং লাল ফুলদ্বারা রং করা কাপড় পরিধান করবে না এবং খেযাব, সুরমা ইত্যাদিও লাগাবে না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 149
সুনানে নাসায়ি 3536 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ وَلاَ تَكْتَحِلُ وَلاَ تَخْتَضِبُ وَلاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... উম্মে আতিয়া (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারী আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দিনে ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না, তার স্বামী ব্যতীত। আর সে সুরমা ব্যবহার করবে না, খিযাব লাগবে না এবং রং করা কাপড় পরিধান করবে না।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 150
সুনানে নাসায়ি 3537 Daif Daif Daif

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ الضَّحَّاكِ، يَقُولُ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَكِيمٍ بِنْتُ أَسِيدٍ، عَنْ أُمِّهَا، أَنَّ زَوْجَهَا، تُوُفِّيَ وَكَانَتْ تَشْتَكِي عَيْنَهَا فَتَكْتَحِلُ الْجِلاَءَ فَأَرْسَلَتْ مَوْلاَةً لَهَا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلَتْهَا عَنْ كُحْلِ الْجِلاَءِ فَقَالَتْ لاَ تَكْتَحِلُ إِلاَّ مِنْ أَمْرٍ لاَ بُدَّ مِنْهُ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ وَقَدْ جَعَلْتُ عَلَى عَيْنِي صَبِرًا فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذَا يَا أُمَّ سَلَمَةَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ إِنَّمَا هُوَ صَبِرٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ فِيهِ طِيبٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّهُ يَشُبُّ الْوَجْهَ فَلاَ تَجْعَلِيهِ إِلاَّ بِاللَّيْلِ وَلاَ تَمْتَشِطِي بِالطِّيبِ وَلاَ بِالْحِنَّاءِ فَإِنَّهُ خِضَابٌ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ أَمْتَشِطُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ بِالسِّدْرِ تُغَلِّفِينَ بِهِ رَأْسَكِ ‏"‏ ‏.‏

আহমদ ইবন আমর ইবন সারাহ (রহঃ) ... উম্মে হাকীম বিনত উসায়দ তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেন; যখন তাঁর স্বামী মারা যায়, তখন তাঁর চােখে ব্যথা ছিল। তখন তিনি ইসমিদ সুরমা লাগান। পরে তিনি তার মুক্ত করা চাকরাণীকে উম্মে সালামা (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন, তার নিকট চোখের রোগ নিবারক সুরমা চেয়ে। উম্মে সালাম (রাঃ) বললেনঃ কোন সুরমা ব্যবহার করবে না। হ্যাঁ যদি কঠিন প্রয়োজন হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট ঐ সময় আসেন, যখন আবু সালামা (রাঃ)-এর ইনতিকাল হয়। আর আমি তখন আমার চোখে ইলুয়া লাগিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে উম্মে সালামা! এটা কি ? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইহা ইলুয়া। এতে সুগন্ধি নেই। তিনি বললেনঃ হে উম্মে সালামা! এর দ্বারা চেহারায় ঔজ্জ্বল্য আসে। এটা আর লাগবে না। যদি লাগাতেই হয় তবে রাতে লাগাবে। আর সুগন্ধি বস্তু দ্বারা মাথা ধোবে না, মেহেদী দ্বারাও নয়। কেননা, মেহেদীর মধ্যে রং রয়েছে। উম্মে সালাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি দিয়ে মাথা ধোব? তিনি বললেনঃ মাথায় কুলপাতা লাগাবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 151
সুনানে নাসায়ি 3538 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، - وَهُوَ ابْنُ مُوسَى - قَالَ حُمَيْدٌ وَحَدَّثَتْنِي زَيْنَبُ بِنْتُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّهَا أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي رَمِدَتْ أَفَأَكْحُلُهَا ‏.‏ وَكَانَتْ مُتَوَفًّى عَنْهَا ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَتْ إِنِّي أَخَافُ عَلَى بَصَرِهَا فَقَالَ ‏"‏ لاَ إِلاَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَحِدُّ عَلَى زَوْجِهَا سَنَةً ثُمَّ تَرْمِي عَلَى رَأْسِ السَّنَةِ بِالْبَعْرَةِ ‏"‏ ‏.‏

রবী' ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার চােখে ব্যথা, আমি কি তার চােখে সুরমা লাগিয়ে দেব? আর তার কন্যার স্বামীর মৃত্যুর পর সে ইদ্দত পালন করছিল। তিনি বললেনঃ চার মাস দশদিন পূর্ণ হওয়ার পর লাগাবে। ঐ মহিলা আবার বললোঃ এতে আমি তার চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি। তিনি বললেনঃ চার মোস দশদিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে বৈধ হবে না। তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে প্রত্যেক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর এক বছর পর্যন্ত শোক করতো। এক বছর পর তারা গোবর নিক্ষেপ করতো।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 152
সুনানে নাসায়ি 3539 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّهَا، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَتْهُ عَنِ ابْنَتِهَا مَاتَ زَوْجُهَا وَهِيَ تَشْتَكِي قَالَ ‏ "‏ قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَحِدُّ السَّنَةَ ثُمَّ تَرْمِي الْبَعْرَةَ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... যায়নব বিনত আবু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর মাতা উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো, যার স্বামী মারা গিয়েছিল, এবং সে চোখের অসুখে আক্রান্ত ছিল। তিনি বললেনঃ তোমরা প্রত্যেক নারী জাহিলী যুগে এক বছর শোক পালন করতে, এবং সাল পূর্ণ হলে গোবর ছিটাতো। এখন তো মাত্র চার মাস দশ দিন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 153
সুনানে নাসায়ি 3540 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْدَانَ بْنِ عِيسَى بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَعْيَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، مَوْلَى الأَنْصَارِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ قُرَيْشٍ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدْ خِفْتُ عَلَى عَيْنِهَا وَهِيَ تُرِيدُ الْكُحْلَ فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لِزَيْنَبَ مَا رَأْسُ الْحَوْلِ قَالَتْ كَانَتِ الْمَرْأَةُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا هَلَكَ زَوْجُهَا عَمَدَتْ إِلَى شَرِّ بَيْتٍ لَهَا فَجَلَسَتْ فِيهِ حَتَّى إِذَا مَرَّتْ بِهَا سَنَةٌ خَرَجَتْ فَرَمَتْ وَرَاءَهَا بِبَعْرَةٍ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মা'দান ইবন ঈসা (রহঃ) ... উম্মে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরাইশ-এর এক রমণী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো যে, আমার কন্যার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, আমার আশংকা হয় তার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, তার ইচ্ছা ছিল, তিনি তাকে সুরমা লাগাবার অনুমতি দেবেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের পূর্বে অর্থাৎ জাহিলী যুগে প্রত্যেক নারী বছর পূর্ণ হলে গোবর ছিটাতো। আর এখন তো মাত্র চার মাস দশদিন। হুমায়দ ইবন নাফি' (রহঃ) বলেন, আমি যায়নব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ এক বছর পূর্তির ঘটনা কি? যায়নব উত্তর করলেনঃ জাহিলী যুগে যখন কোন নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, তখন সে রমণী তাদের অতি নিকৃষ্ট ঘরে আশ্রয় নিত। যখন এক বছর পূর্ণ হতো, তখন সে নিজের পিঠের পেছনে গোবর ছিটিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসত।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 154
সুনানে নাসায়ি 3541 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ وَأُمَّ حَبِيبَةَ أَتَكْتَحِلُ فِي عِدَّتِهَا مِنْ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَقَالَتْ أَتَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَتْهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏ "‏ قَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا أَقَامَتْ سَنَةً ثُمَّ قَذَفَتْ خَلْفَهَا بِبَعْرَةٍ ثُمَّ خَرَجَتْ وَإِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا حَتَّى يَنْقَضِيَ الأَجَلُ ‏"‏ ‏.‏

ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) ... যয়নব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মহিলা উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবীবা (রাঃ)-এর নিকট স্বামীর মৃত্যু হলে নারীর ইদ্দতের কথা জিজ্ঞাসা করলো, তার সুরমা লাগান বৈধ হবে কি না। তারা বললেনঃ এক নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের পূর্বেই মহিলারা জাহিলী যুগে যখন তার স্বামী মারা যেত, তখন সে এক বছর ইদ্দত পালন করতো, এরপর তার পিঠের পেছনে গোবর ছিটিয়ে বের হতো। আর এখন তো চার মাস দশ দিন পরই তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 155
সুনানে নাসায়ি 3542 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - هُوَ الدُّورِيُّ - قَالَ حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَخَّصَ لِلْمُتَوَفَّى عَنْهَا عِنْدَ طُهْرِهَا فِي الْقُسْطِ وَالأَظْفَارِ ‏.‏

আব্বাস ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, যে নারীর স্বামী মারা গেছে ঐ নারীকে কুস্‌ত এবং আযফার লাগানোর অনুমতি দান করেন, তার পবিত্র অবস্থায়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 156
সুনানে নাসায়ি 3543 Hasan Sahih Hasan Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السِّجْزِيُّ، خَيَّاطُ السُّنَّةِ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ‏{‏ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ‏}‏ نُسِخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الْمِيرَاثِ مِمَّا فُرِضَ لَهَا مِنَ الرُّبُعِ وَالثُّمُنِ وَنَسَخَ أَجَلَ الْحَوْلِ أَنْ جُعِلَ أَجَلُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏.‏

যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ) অর্থাৎ 'তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন, তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণপোষণের ওসীয়ত করে'-এই আয়াতটি মীরাছের আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যে আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা স্ত্রীদের জন্য মীরাসের এক চতুর্থাংশ বা এক অষ্টমাংশ অংশ নির্ধারিত করেছেন। আর এক বছর ইদ্দতের আদেশ চার মাস দশ দিনের ইদ্দতের আদেশ দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 157
সুনানে নাসায়ি 3544 Hasan Sahih Hasan Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ‏}‏ قَالَ نَسَخَتْهَا ‏{‏ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ‏}‏ ‏.‏

কুতায়বা (রহঃ) ... ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ) আয়াতটি (وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا) আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 158
সুনানে নাসায়ি 3545 Daif Isnaad Daif Isnaad Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَاصِمٍ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، أَخْبَرَتْهُ وَكَانَتْ، عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ أَنَّهُ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا وَخَرَجَ إِلَى بَعْضِ الْمَغَازِي وَأَمَرَ وَكِيلَهُ أَنْ يُعْطِيَهَا بَعْضَ النَّفَقَةِ فَتَقَالَّتْهَا فَانْطَلَقَتْ إِلَى بَعْضِ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عِنْدَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ طَلَّقَهَا فُلاَنٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا بِبَعْضِ النَّفَقَةِ فَرَدَّتْهَا وَزَعَمَ أَنَّهُ شَىْءٌ تَطَوَّلَ بِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ صَدَقَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَانْتَقِلِي إِلَى أُمِّ كُلْثُومٍ فَاعْتَدِّي عِنْدَهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّ أُمَّ كُلْثُومٍ امْرَأَةٌ يَكْثُرُ عُوَّادُهَا فَانْتَقِلِي إِلَى عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ أَعْمَى ‏"‏ ‏.‏ فَانْتَقَلَتْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَاعْتَدَّتْ عِنْدَهُ حَتَّى انْقَضَتْ عِدَّتُهَا ثُمَّ خَطَبَهَا أَبُو الْجَهْمِ وَمُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْتَأْمِرُهُ فِيهِمَا فَقَالَ ‏"‏ أَمَّا أَبُو الْجَهْمِ فَرَجُلٌ أَخَافُ عَلَيْكِ قَسْقَاسَتَهُ لِلْعَصَا وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَرَجُلٌ أَمْلَقُ مِنَ الْمَالِ ‏"‏ ‏.‏ فَتَزَوَّجَتْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ بَعْدَ ذَلِكَ ‏.‏

আব্দুল হামিদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মাখযুম গোত্রের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন, যিনি তাকে তিন তালাক দেন এবং কোন যুদ্ধে গমন করেন। আর তিনি নিজের উকীলের নিকট বলে যানঃ তুমি তাকে কিছু খরচ দিয়ে দিও। সেই উকীল তাকে কিছু দিল। কিন্তু ফাতিমা (রাঃ) তা কম মনে করে ফিরিয়ে দিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহধর্মিণীর নিকট গমন করেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করেন, তখন ঐ মহিলা ঐ ঘরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ফাতিমা বিনত কায়স! আমাকে অমুক ব্যক্তি তালাক দিয়েছে। আর অমুকের মারফত আমার খরচ পাঠিয়েছে। আমি একে সামান্য মনে করে তা ফিরিয়ে দিয়েছি। সে বলে, এতটুকু দেয়াও আমার ইহসান। তিনি বললেনঃ সে ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। এখন তুমি উম্মে কুলসুমের কাছে গিয়ে তোমার ইদ্দত পূর্ণ করা। এরপর তিনি আবার বললেন, উম্মে কুলসুমের ঘরে লোকের যাতায়াত অধিক হয়। অতএব তুমি এখন আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুমের কাছে গিয়ে থাক। কেননা, ঐ ব্যক্তি অন্ধ। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট চলে গেলাম এবং সেখানে আমার ইদ্দত পূর্ণ করলাম। আমার ইদ্দতের সময় পূর্ণ হলে আবু জাহম এবং মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে আমি পুনরায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে উক্ত দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে পরামর্শ নিলাম। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমার জন্য জাহামের লাঠির ভয় করি, আর মুআবিয়া তো গরীব লোক। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ)-কে বিবাহ করলাম।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 159
সুনানে নাসায়ি 3546 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ تَحْتَ أَبِي عَمْرِو بْنِ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَطَلَّقَهَا آخِرَ ثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ ‏.‏ فَزَعَمَتْ فَاطِمَةُ أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْهُ فِي خُرُوجِهَا مِنْ بَيْتِهَا فَأَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَأَبَى مَرْوَانُ أَنْ يُصَدِّقَ فَاطِمَةَ فِي خُرُوجِ الْمُطَلَّقَةِ مِنْ بَيْتِهَا ‏.‏ قَالَ عُرْوَةُ أَنْكَرَتْ عَائِشَةُ ذَلِكَ عَلَى فَاطِمَةَ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, তিনি আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) এর বিবাহাধীনে ছিলেন। তিনি ফাতিমাকে তিন তালাক দেন। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের ঘর হতে বের হওয়ার অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিজের ঘর থেকে ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। রাবী বলেনঃ মারওয়ান ইবন হাকাম এই মাসআলা অস্বীকার করেন এবং ফাতিমাকে তিনি এই বর্ণনায় সত্যবাদী মনে করেন না। আর উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ)-ও ফাতিমা (রাঃ)-এর কথা অস্বীকার করেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 160
সুনানে নাসায়ি 3547 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ فَاطِمَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَوْجِي طَلَّقَنِي ثَلاَثًا وَأَخَافُ أَنْ يُقْتَحَمَ عَلَىَّ ‏.‏ فَأَمَرَهَا فَتَحَوَّلَتْ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে; এখন আমার ভয় হয়, আমার নিকট কোন চোর আসতে পারে। তখন তিনি তাকে সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার অনুমতি দিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 161
সুনানে নাসায়ি 3548 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مَاهَانَ، - بَصْرِيٌّ - عَنْ هُشَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، وَحُصَيْنٌ، وَمُغِيرَةُ، وَدَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، وَذَكَرَ، آخَرِينَ عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا فَقَالَتْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَاصَمَتْهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ قَالَتْ فَلَمْ يَجْعَلْ لِي سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ ‏.‏

ইয়াকুব ইবন হামান (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনত কায়স আমার নিকট আসলে আমি তাঁর নিকট তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালার কথা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তাঁর স্বামী তাকে তিন তালাক দেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার উকীলের সাথে তর্ক করলাম এবং আমি ঘর এবং খরচাদির জন্য কথাবার্তা বললাম। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ তিনি আমার জন্য ঘর, খরচাদি দেওয়ার কথা বললেন না। আর তিনি আমাকে ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করার আদেশ দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 162
সুনানে নাসায়ি 3549 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمَّارٌ، - هُوَ ابْنُ رُزَيْقٍ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي فَأَرَدْتُ النُّقْلَةَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ انْتَقِلِي إِلَى بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ عَمْرِو ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَاعْتَدِّي فِيهِ ‏"‏ ‏.‏ فَحَصَبَهُ الأَسْوَدُ وَقَالَ وَيْلَكَ لِمَ تُفْتِي بِمِثْلِ هَذَا ‏.‏ قَالَ عُمَرُ إِنْ جِئْتِ بِشَاهِدَيْنِ يَشْهَدَانِ أَنَّهُمَا سَمِعَاهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلاَّ لَمْ نَتْرُكْ كِتَابَ اللَّهِ لِقَوْلِ امْرَأَةٍ ‏{‏ لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ‏}‏ ‏.‏

আবু বকর ইবন ইসহাক সাগানী (রহঃ) ... শা'বী (রহঃ) সূত্রে ফাতিমা বিনূত কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার স্বামী তালাক দিল, আমি তার ঘর থেকে চলে যাওয়ার ইচ্ছায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই আমর ইবন উম্মে মাকতুমের ঘরে গিয়ে সেখানে তোমার ইদ্দত পূর্ণ করা। একথা শুনে আসওয়াদ তাঁকে পাথর দ্বারা আঘাত করে বললেনঃ আপনার ধ্বংস হোক। আপনি এরূপ কথা কোন বর্ণনা করছেন? উমর (রাঃ) বললেন, যদি তুমি দুইজন সাক্ষী আনো, যারা এই সাক্ষ্য দিবে যে, আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি; তাহলে আমি তোমার কথা গ্রহণ করবো। তা-না হলে আমরা একজন মহিলার কথায় আল্লাহর কিতাব ছাড়তে পারি না, আল্লাহর কিতাবে নির্দেশ আছেঃ "ঐ সকল মহিলাদেরকে তাদের ঘর হতে বের করো না, আর তারাও যেন বের না হয়; যদি না তারা প্ৰকাশ্য অশ্লীলতার কাজে লিপ্ত হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 163
সুনানে নাসায়ি 3550 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ طُلِّقَتْ خَالَتُهُ فَأَرَادَتْ أَنْ تَخْرُجَ إِلَى نَخْلٍ لَهَا فَلَقِيَتْ رَجُلاً فَنَهَاهَا فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ اخْرُجِي فَجُدِّي نَخْلَكِ لَعَلَّكِ أَنْ تَصَدَّقِي وَتَفْعَلِي مَعْرُوفًا ‏"‏ ‏.‏

আব্দুল হামিদ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর খালাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি তার খেজুর বাগানে যেতে চাইলেন। পথে এক ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করলো। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলে, তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে তোমার খেজুর নিয়ে এসো। হয়তো তুমি সাদকা করবে এবং মানুষের উপকারের জন্য দিয়ে দেবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 164
সুনানে নাসায়ি 3551 Sahih Isnaad Sahih Isnaad Hasan

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو سَلَمَةَ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي فَلَمْ يَجْعَلْ لِي سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً - قَالَتْ - فَوَضَعَ لِي عَشْرَةَ أَقْفِزَةٍ عِنْدَ ابْنِ عَمٍّ لَهُ خَمْسَةُ شَعِيرٍ وَخَمْسَةُ تَمْرٍ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ ‏ "‏ صَدَقَ ‏"‏ ‏.‏ وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ فُلاَنٍ وَكَانَ زَوْجُهَا طَلَّقَهَا طَلاَقًا بَائِنًا ‏.‏

আহমদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন হাকাম (রহঃ) ... আবু বকর ইবন হাফস (রহঃ) বলেনঃ আমি এবং আবু সালামা ফাতিমা বিনত কায়সের নিকট গেলাম। ফাতিমা বললেন, আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়, কিন্তু আমার জন্য থাকার ঘর ও খোরপোষের ব্যবস্থা করেনি। তিনি বলেন, সে তার চাচাতো ভাইয়ের নিকট আমার জন্য দশ কাফীয রাখল। এর পাঁচ কাফীয ছিল যব, আর পাঁচ কাফীয ছিল খেজুর। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সে যা বলেছে সত্যই বলেছে। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, আমি যেন অমুকের ঘরে আমার ইদ্দত পূৰ্ণ করি। তার স্বামী তাকে বায়িন তালাক দিয়েছিল।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 165
সুনানে নাসায়ি 3552 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، قَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، طَلَّقَ ابْنَةَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ - وَأُمُّهَا حَمْنَةُ بِنْتُ قَيْسٍ - الْبَتَّةَ فَأَمَرَتْهَا خَالَتُهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ بِالاِنْتِقَالِ مِنْ بَيْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَسَمِعَ بِذَلِكَ، مَرْوَانُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى مَسْكَنِهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُخْبِرُهُ أَنَّ خَالَتَهَا فَاطِمَةَ أَفْتَتْهَا بِذَلِكَ وَأَخْبَرَتْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْتَاهَا بِالاِنْتِقَالِ حِينَ طَلَّقَهَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَفْصٍ الْمَخْزُومِيُّ فَأَرْسَلَ مَرْوَانُ قَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ إِلَى فَاطِمَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ فَزَعَمَتْ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ أَبِي عَمْرٍو لَمَّا أَمَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عَلَى الْيَمَنِ خَرَجَ مَعَهُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا بِتَطْلِيقَةٍ وَهِيَ بَقِيَّةُ طَلاَقِهَا فَأَمَرَ لَهَا الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِنَفَقَتِهَا فَأَرْسَلَتْ إِلَى الْحَارِثِ وَعَيَّاشٍ تَسْأَلُهُمَا النَّفَقَةَ الَّتِي أَمَرَ لَهَا بِهَا زَوْجُهَا فَقَالاَ وَاللَّهِ مَا لَهَا عَلَيْنَا نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ حَامِلاً وَمَا لَهَا أَنْ تَسْكُنَ فِي مَسْكَنِنَا إِلاَّ بِإِذْنِنَا ‏.‏ فَزَعَمَتْ فَاطِمَةُ أَنَّهَا أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَصَدَّقَهُمَا قَالَتْ فَقُلْتُ أَيْنَ أَنْتَقِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ‏ "‏ انْتَقِلِي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ ‏"‏ ‏.‏ وَهُوَ الأَعْمَى الَّذِي عَاتَبَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كِتَابِهِ فَانْتَقَلْتُ عِنْدَهُ فَكُنْتُ أَضَعُ ثِيَابِي عِنْدَهُ حَتَّى أَنْكَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَعَمَتْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ ‏.‏

আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা (রাঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান সাঈদ ইবন যায়দ এর কন্যাকে তালাক দিল, সেই কন্যার মাতার নাম ছিল হামনা বিনত কায়স। তিনি তাকে এমন তালাক দিলেন, যা দ্বারা সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অর্থাৎ তিন তালাক। সেই মহিলার খালা ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি আবদুল্লাহ ইবন আমার-এর ঘরে চলে যাও। মারওয়ান একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমানের স্ত্রীকে নির্দেশ দিলেনঃ তোমার ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি নিজের গৃহে অবস্থান কর। আবদুল্লাহ ইবন আমর-এর স্ত্রী মারওয়ানের কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আমাকে আমার খালা ফাতিমা ঘর হতে চলে যাওয়ার আদেশ করেছেন। আর তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ঐ সময় ঘর হতে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ করেন, যখন তাকে তার স্বামী আবু আমর ইবন হাফস তালাক দিয়েছিলেন। মারওয়ান যখন এ ঘটনা জানতে পারলো, তখন তিনি কাবীসা ইবন যুবায়রকে ফাতিমা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। এ ব্যাপারে ফাতিমাকে কাবীসা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমার স্বামী আবু আমার আলী (রাঃ)-এর সাথে চলে যান, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামনের শাসক নিযুক্ত করেন। সেখানে পিয়ে আমার স্বামী এক তালাক দিয়ে পাঠান, আর তা ছিল ঐ তালাক, যা অবশিষ্ট ছিল। তখন হারিস ইবন হিশাম, এবং আইয়াশ ইবন আবু রবীআকে বলে পাঠান আমাকে খোরপোেষ দেয়ার জন্য। আমি আমার খরচ চাওয়ার জন্য তাদের নিকট লোক পাঠালাম, যা আমার স্বামী আমাকে দিতে বলেছিল। তারা উভয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট তার জন্য কোন খোরপোেষ নেই। তবে যদি সে গৰ্ভবতী হতো, তা হলে তার জন্য খোরপোষ ছিল। আর আমরা যতক্ষণ না বলি, সে যেন আমাদের ঘরে না থাকে। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে এ ঘটনা জানালাম। তিনি তাদের উভয়কে সত্যবাদী মনে করলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এখন কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ ইবন উম্মে মাকতুমের নিকট চলে যাও, ইবন উম্মে মাকতুম অন্ধ লোক, যার জন্য আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। আমি তাঁর নিকট চলে গেলাম। আমি তাঁর নিকট গায়ের কাপড় ফেলে দিতাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ)-এর সাথে আমার বিবাহ দেন।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 166
সুনানে নাসায়ি 3553 Sahih Sahih Daif

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ فَاطِمَةَ ابْنَةَ أَبِي حُبَيْشٍ، حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَتْ إِلَيْهِ الدَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَانْظُرِي إِذَا أَتَاكِ قُرْؤُكِ فَلاَ تُصَلِّي فَإِذَا مَرَّ قُرْؤُكِ فَلْتَطْهُرِي - قَالَ - ثُمَّ صَلِّي مَا بَيْنَ الْقُرْءِ إِلَى الْقُرْءِ ‏"‏ ‏.‏

আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত আবু হুবায়শ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে রক্ত নির্গমনের কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি তাকে বললেনঃ এই রক্ত কোন শিরা হতে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ জরায়ু হতে আসে না। যখন তোমার হায়ায় আরম্ভ হয়, তখন তুমি এর প্রতি লক্ষ্য রাখ। তখন নামায় পড়বে না। হায়যের সময় চলে গেলে তুমি পাক হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ উভয় হয়েযের মধ্যবর্তী সময় নামায পড়বে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 167
সুনানে নাসায়ি 3554 Hasan Sahih Hasan Sahih Isnaad Hasan

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ النَّحْوِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ‏{‏ مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا ‏}‏ وَقَالَ ‏{‏ وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ ‏}‏ الآيَةَ وَقَالَ ‏{‏ يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ ‏}‏ فَأَوَّلُ مَا نُسِخَ مِنَ الْقُرْآنِ الْقِبْلَةُ وَقَالَ ‏{‏ وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوءٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏ إِنْ أَرَادُوا إِصْلاَحًا ‏}‏ وَذَلِكَ بِأَنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِرَجْعَتِهَا وَإِنْ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَنَسَخَ ذَلِكَ وَقَالَ ‏{‏ الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ‏}‏ ‏.‏

যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا) এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত যে, "আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা ভুলিয়ে দিলে, তা হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনি। ইবন আব্বাস (রাঃ) এরপর অন্য একটি আয়াত বর্ণনা করেন, (وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ) যখন আমি এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি, আল্লাহ যা নাযিল করেন, তা তিনি-ই ভাল জানেন, তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী। আল্লাহর বাণীঃ 'আল্লাহর যা ইচ্ছা তা নিশ্চিহ্ন ফরেন এবং যা ইচ্ছা তা প্রতিষ্ঠিত রাখেন, আর তারই নিকট আছে কিতাবের মূল।' এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সর্বপ্রথম কুরআনে যা রহিত হয়েছিল, তা ছিল কেবলা। ইবন আব্বাস (রাঃ) আরো বলেনঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ (وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ) 'মহিলারা তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, আর তাদের জন্য বৈধ হবে না, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা।' যদি তারা আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে। আর তাদের স্বামীগণ এই অবস্থায় তাদের ফিরিয়ে রাখার অধিক হকদার। যদি তারা অপেক্ষা করার ইচ্ছা রাখে।' তিনি এই আয়াত বৰ্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এই অবস্থা এইরূপ ছিল, যখন কোন লোক স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিত, তবে সে-ই তার রাজআত করার অধিকারী ছিল, যদিও সে তাকে তিন তালাক দিত। আল্লাহ্ তা'আলা তা রহিত করে বলেনঃ তালাক দু'বার। এরপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রেখে দেবে, অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দেবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 168
সুনানে নাসায়ি 3555 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عُمَرُ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مُرْهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَإِذَا طَهُرَتْ - يَعْنِي - فَإِنْ شَاءَ فَلْيُطَلِّقْهَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ فَاحْتَسَبْتَ مِنْهَا فَقَالَ مَا يَمْنَعُهَا أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার স্ত্রীকে তার হয়েয অবস্থায় তালাক দেই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উমর (রাঃ) এসে এই ঘটনা জানালে তিনি বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। তারপর যখন সে পাক হবে, তখন ইচ্ছা হলে তাকে রাখবে, অথবা তালাক দেবে। ইবন উমরের শাগরেদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই প্রথম তালাকও কি হিসাব করা হবে? তিনি বললেনঃ হিসাবে অসুবিধা কি? তুমি চিন্তা করে দেখ, যদি কোন ব্যক্তি অপরাগ হয়- কিংবা অজ্ঞতার কারণে তালাক দিয়ে বসে- তা তো হিসাবে ধরা হবে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 169
সুনানে নাসায়ি 3556 Sahih Sahih Isnaad Sahih

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَأَخْبَرَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالُوا إِنَّ ابْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ عُمَرُ رضى الله عنه لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى فَإِذَا طَهُرَتْ فَإِنْ شَاءَ طَلَّقَهَا وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا فَإِنَّهُ الطَّلاَقُ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ تَعَالَى ‏{‏ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ ‏}‏ ‏.‏

বিশার ইবন খালিদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়ে দিলেন। উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তাকে বলে দাও, অন্য হয়েয না আসা পর্যন্ত সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর যখন সে পাক হবে তখন ইচ্ছা করলে সে তাকে তালাক দেবে, বা রেখে দেবে। কেননা, এই তালাক আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ তাদের তালাক দেবে ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে।

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 170
সুনানে নাসায়ি 3557 Sahih Sahih Sahih Muslim

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَيَقُولُ أَمَّا إِنْ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً أَوِ اثْنَتَيْنِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا وَأَمَّا إِنْ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ عَصَيْتَ اللَّهَ فِيمَا أَمَرَكَ بِهِ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ وَبَانَتْ مِنْكَ امْرَأَتُكَ ‏.‏

আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... নাফে' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট যখন ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ ঐ ব্যক্তির এক অথবা দুই তালাক দেয়ার অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে বরং অন্য হায়েয আসা পর্যন্ত তাকে রাখবে, সে পাক হলে তাকে সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে; আর যদি সে তিন তালাক একত্রে দিয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে যে আদেশ করেছেন, সে তা আমান্য করলো। [তাহক্বীকঃ সহীহ।] ৩৫৬২. ইউসুফ ইবন ঈসা মারওয়ায়ী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হয়েয অবস্থায় তালাক দেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলে তিনি তাকে ফিরিয়ে নেন। [তাহক্বীকঃ সহীহ।] ৩৫৬৩. আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন তাউস (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি শুনেছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমরকে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলো, যে তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি আবদুল্লাহ ইবন উমরকে চিন? সে বললোঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ তিনি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দেন, পরে উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে এ সংবাদ দিলে তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে আদেশ করেন, পাক হওয়া পর্যন্ত । রাবী বলেনঃ এর অধিক বর্ণনা করতে আমি তাকে শুনিনি। [তাহক্বীকঃ সহীহ। ইরওয়া ৭/১৩০।] ৩৫৬৪. আবদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসা (রাঃ)-কে তালাক দেন, পরে তিনি তাঁকে ফিরিয়ে নেন। আল্লাহ্ সম্যক অবগত। [তাহক্বীকঃ সহীহ। ইবন মাজাহ ২০১৬।]

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 171
সুনানে নাসায়ি 3558 Sahih Sahih Isnaad Sahih

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، - مَرْوَزِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَاجَعَهَا ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 172
সুনানে নাসায়ি 3559 Sahih Sahih Hasan

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِيهِ ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يُسْأَلُ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَقَالَ أَتَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ الْخَبَرَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ‏.‏ وَلَمْ أَسْمَعْهُ يَزِيدُ عَلَى هَذَا ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 173
সুনানে নাসায়ি 3560 Sahih Sahih Sahih

أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، ح وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو سَعِيدٍ، قَالَ نُبِّئْتُ عَنْ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ عَمْرٌو إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - كَانَ طَلَّقَ حَفْصَةَ ثُمَّ رَاجَعَهَا ‏.‏ وَاللَّهُ أَعْلَمُ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 27, হাদিস 174

মূল পাঠ, অনুবাদ ও মান নির্ণয়: ওপেন-সোর্স Hadith API (fawazahmed0/hadith-api)। মান নির্ণয়গুলো উল্লিখিত মুহাদ্দিসদের।