আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা হতে বহিষ্কার করা হলো, তখন আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ তারা তাদের নবীকে বের করে দিল ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন' তারা নিশ্চয় ধ্বংস হবে, তখন নাযিল হলোঃ (أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ) "যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদের-যারা আক্রান্ত হয়েছে, কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। (সূরা হাজ্জঃ ৩৯)। তখন আমি বুঝলাম, শীঘ্রই জিহাদ আরম্ভ হবে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, জিহাদের ব্যাপারে এটিই প্রথম আয়াত।
সুনানে নাসায়ি 3086Sahih IsnaadSahih IsnaadIsnaad Sahih
মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হাসান ইবন শাকীক (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) তার কয়েকজন বন্ধুসহ মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মুশরিক অবস্থায় সম্মানিত ছিলাম এখন যখন আমরা ঈমান এনেছি অসম্মানিত হয়ে পড়লাম। তিনি বললেন আমাকে ক্ষমা করার আদেশ করা হয়েছে, অতএব তোমরা যুদ্ধ করবে না। এরপর যখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের মদীনায় নিয়ে গেলেন, তখন আমাদেরকে জিহাদের নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তারা জিহাদ থেকে বিরত থাকলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাযিল করলেনঃ (أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ) আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ করেন নি, যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হস্ত সংবরণ কর, এবং সালাত কায়েম কর। (সূরা নিসাঃ ৭৭)।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা, আহমদ ইবন আমর ইবন সারাহ ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ শব্দ কম কিন্তু অধিক অর্থবােধক বাক্যাবলীসহ আমি প্রেরিত হয়েছি। আর আমাকে ঐশী প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আর এক সময় আমি ঘুমন্ত ছিলাম, তখন পার্থিব ধনাগারের চাবি আমাকে প্রদান করা হলো। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে চলে গেছেন, আর তোমরা সে সম্পদ আহরণ করে ভোগ করছে।
হারূন ইন সায়ীদ (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুরূপ বলতে শুনেছি।
সুনানে নাসায়ি 3089SahihSahihSahih Muslim
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي " . فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَدْ ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْتُمْ تَنْتَثِلُونَهَا .
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব এবং আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি শব্দ কম কিন্তু অধিক অর্থবোধক বাক্যাবলীসহ প্রেরিত হয়েছি। আর আমাকে ঐশী প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আর আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, এমন সময় আমার হাতে পৃথিবীর ধনাগারের চাবি দান করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেছেন, আর তোমরা সে সম্পদ আহরণ করে ভোগ করছো।
সুনানে নাসায়ি 3090Sahih MutawatirSahih MutawatirSahih - Agreed Upon
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা ও হারিস ইন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত বলেন, 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) এ (তাওহীদ বাক্য) যে, রাসূল যতক্ষণ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই যে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে আমার পক্ষ থেকে সে তার সম্পদ ও প্রাণের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে ইসলামের হক ব্যতীত আর এর হিসাব আল্লাহর নিকট।
সুনানে নাসায়ি 3091SahihSahihHasan
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ .
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলো এবং আবূ বকর (রাঃ)-কে খলীফা নিযুক্ত করা হলো, তখন আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। উমর (রাঃ) তাকে বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি কিরূপে এমন লোকদের সাথে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যতক্ষণ লোকেরা 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তারপর যে ব্যক্তি 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামী বিধানে কারো জান-মাল হালাল হলে-তা স্বতন্ত্র ব্যপার। আর আল্লাহর কাছেই এর হিসাব। আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সে ব্যক্তির সাথে যুদ্ধ করব, যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অসম্মত হয়, যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিত, তাহলে তাদের এ অসম্মতির জন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আল্লাহর শপথ! এ আর কিছু না, বরং আমি বুঝলাম যে, আল্লাহ্ তায়ালা আবূ বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি অনুধাবন করলাম যে, তার ফয়সালাই সঠিক।
আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুগীরা ও কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলো, তারপর খলীফা হলেন আবু বকর (রাঃ)। 'আরবের কেউ কেউ কাফির হয়ে গেল। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি কিরূপে এ সকল লোকের সাথে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যতক্ষণ লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্' না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আর যখন তারা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো, তখন তারা আমার পক্ষ হতে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো। তবে ইসলামের হক ব্যতীত, আর এর মীমাংসা আল্লাহর কাছে? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তার সাথে নিশ্চয়ই যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর শপথ! তারা যে বকরীর বাচ্চা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যাকাত হিসেবে আদায় করতো, যদি তা আমাকে না দেয়, তবে তা না দেওয়ার অপরাধে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! এ আর কিছু নয়, বরং আমি অনুধাবন করলাম যে, আল্লাহ্ তায়ালা আবু বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম, এটাই সত্য। এ বর্ণনায় শব্দ, ভাষা আহমদ (রহঃ)-এর।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবূ বকর (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি লোকের সাথে কিরূপে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ লোকেরা 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার পক্ষ হতে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তাবে ইসলামের হক ব্যতীত। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আল্লাহর শপথ! তারা যে বকরীর বাচ্চা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিত, তা আমাকে দিতে অস্বীকার করলে তাদের এই না দেওয়ার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বলেন, এ আর কিছু নয়, বরং আমি বুঝলাম যে, আল্লাহু তা'আলা আবৃ বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, এটাই সঠিক।
মুহাম্মদ ইন বাশার (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলে আরবের কতিপয় লোক মুরতাদ হয়ে গেল। উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি কিরূপে আরবের লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল" এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত এবং সালাত কায়িম করা ও যাকাত আদায় করা পর্যন্ত আমি লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যা প্রদান করতো, তা থেকে একটি বকবীর বাচ্চা দান করতে যদি অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি আবু বকরের অভিমত উপলব্ধি করলাম, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর অন্তুর উন্মুক্ত করেছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তার অভিমতই সঠিক। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী ইমরান আল-কাত্তান (রহঃ) এর এ বর্ণনায় ভুল আছে, তিনি রাবী হিসেবে শক্তিশালী নন। এর আগে বর্ণিত যুহরী (রহঃ) উবায়দুল্লাহ্ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবা (রহঃ) থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশুদ্ধ। যাতে রয়েছে شُرِحَ এর স্থলে شَرَحَ।
আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুগীরা (রহঃ) ও আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ ইবন কাসীর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যার (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যে ব্যক্তি তা বললো, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো তবে ইসলামের হক ব্যতীত। তার হিসাব আল্লাহর কাছে।
সুনানে নাসায়ি 3096SahihSahihHasan
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ " .
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা জিহাদ কর মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল, তোমাদের হাত, এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা।
আবদা ইবন আব্দুর রহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশ (জিহাদ বিমুখ হওয়া)-এর উপর।
আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ওয়াযীর ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের মধ্য হতে এমন কিছু সংখ্যক লোক না থাকতো-যাদের মন চায় না আমার সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হওয়া থেকে বিরত থাকুক, অথচ আমি তাদেরকে সওয়ারী দেওয়ার মত কিছু পাই না; তাহলে আমি এমন কোন যুদ্ধ হতে বিরত থাকতাম না, যা আল্লাহর রাস্তায় সংঘটিত হয়। যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়; আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই, আবার আমাকে জীবিত করা হয়, আবার শহীদ হই।
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বযী (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) বলেন, আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ)-কে দেখলাম তিনি বসে আছেন। আমিও তার নিকট গিয়ে বসে পড়লাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল হল (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) মু'মিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা এবং যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয়। (সূরা নিসাঃ ৯৫) ইতোমধ্যে ইবন উম্মে মাকতুম (রাঃ) আগমন করলেন। তিনি তা লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার শক্তি থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। তখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অসুস্থগণ ব্যতীত”। আর তখন তার উরু আমার উরুর উপর ছিল, তা আমার উপর ভারী লাগছিল। মনে। হলো আমার উরু ভেঙ্গে যাবে। এরপর তাঁর এ অবস্থা থেকে অবমুক্ত হলো। আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, আব্দুর রহমান ইবন ইসহাকের কোন ত্রুটি নেই, আব্দুর রহমান ইবন ইসহাক হতে আলী ইবন মুসহির ও আবু মু'আবিয়া এটি বর্ণনা করেন। আব্দুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ (রহঃ) নু'মান ইবন সা'দ (রহঃ) হতে এরূপ বর্ণনা করেন, তিনি নির্ভরযােগ্য নন।
মুহাম্মদ ইন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রহঃ) বলেন, আমি মারওয়ান (রহঃ)-কে মসজিদে উপবিষ্ট দেখলাম, আমি অগ্রসর হয়ে তার পার্শ্বে বসে পড়লাম। তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবন ছাবিত (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পড়ে শুনালেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) তিনি বললেন, তারপর তার নিকট ইবন উম্মে মাকতুম আগমন করলেন, তখনও তিনি আমাকে পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে আমিও জিহাদ করতাম। আর তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ করলেন, তখন তার উরু ছিল আমার উরুর উপর, এমনকি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তার উপর হতে ওহীর প্রভাব কেটে গেল আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) “অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত”।
নসর ইবন আলী (রহঃ) ... বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত, এরপর তিনি এমন কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেন, রাবী বলেন, যার অর্থ আমার নিকট কলম এবং তখতী আনয়ন কর, এরপর তিনি লিখলেনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) অর্থাৎ মুমিন, যারা বসে থাকে, তারা সমান নয়। আর তখন আমর ইবন উম্মে মাকতুম তার পেছনে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার জন্য কি অব্যাহতি রয়েছে? তখন অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) অর্থাৎ অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত।
মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ... বারা (রাঃ) বলেন, যখনঃ (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ) এ আয়াত নাযিল হলো, তখন অন্ধ সাহাবী ইবন উম্মে মাকতুম আগমন করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর কিভাবে এই আয়াত প্রযােজ্য হবে অথচ আমি অন্ধ? বর্ণনাকারী বলেন, অল্পক্ষণ পরেই অবতীর্ণ হলোঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ)।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মাতাপিতা জীবিত আছে কি? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাঁদের সেবায় সব সময় রত থাকার জিহাদ কর।
সুনানে নাসায়ি 3104Hasan SahihHasan SahihIsnaad Sahih
আব্দুল ওয়াহহাব ইবন আব্দুল হাকাম ওয়ারাক (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবন জাহিমা সালামী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা জাহিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে গমন করতে ইচ্ছা করেছি। এখন আপনার নিকট মতামত জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেনঃ তোমার মাতা আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার খেদমতে লেগে থাক। কেননা, জান্নাত তার পদদ্বয়ের নিচে।
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি উত্তম? তিনি বললেনঃ যে নিজের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। সে ব্যক্তি বললো ও ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারপর কোন ব্যক্তি? তিনি বললেনঃ সে মুমিন ব্যক্তি, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং পর্বতের উপত্যকাসমূহের কোন উপত্যকায় বসবাস করে এবং নিজের অনিষ্ট থেকে লোকদের রক্ষা করে।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাবুকের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশে খুৎবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সওয়ারীতে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে উত্তম ও অধম ব্যক্তির সংবাদ দেব না? লোকের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে ব্যক্তি আমৃত্যু আল্লাহর রাস্তায় কাজ করে, ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করে অথবা তার উটের পৃষ্ঠে থেকে অথবা পদব্রজে। আর অধম সে ব্যক্তি, যে ব্যক্তি গুনাহর কাজ করে, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, কিন্তু মন্দ থেকে বিরত থাকে না।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করবে, তাকে জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করাবে না; যতক্ষণ না দুধ পুনঃ প্রবেশ করবে এর স্তনে। আর কখনও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একজন মুমিনের নাকের ছিদ্রে একত্রিত হবে না।
হান্নান ইন সারি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেছে, সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত না দুধ এর স্তনে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর রাস্তায় ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।
ঈসা ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামে একত্রিত হবে না সে মুসলিম যে কোন কাফিরকে হত্যা করেছে, এরপর সঠিক ও সরল পথে দৃঢ় রয়েছে। আর কোন মুমিনের পেটে আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের শিখা একত্রিত হবে না। আর আল্লাহর বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হবে না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পেটে কখনো আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের আগুনের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কখনো কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কোন বান্দার চেহারায় আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।
মুহাম্মাদ ইবন আমির (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোন মুসলিমের উদরে একত্রিত হবে না। আর কৃপণতা ও ঈমান কোন বান্দার উদরে (অন্তরে) একত্রিত হবে না।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোন মুসলিমের নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করবে না।
শু'আয়ব ইবন ইউসুফ (রহঃ) ... হুসায়ন ইবন লাজলাজ (রহঃ) সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের নাকের ছিদ্রে আল্লাহর রাস্তার ধূলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না। আর কোন মুসলিমের অন্তর আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত হবে না।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... আব্দুল আলা ইবন লাজলাজ (রহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা কোন মুসলিমের উদরে আল্লাহর রাস্তার ধূলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত করবেন না এবং কোন মুসলিমের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃপণতাকে একত্রিত করবেন না।
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবন আবু মারইয়াম (রহঃ) বলেন, আবায়া ইবন রাফি (রহঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাত করলেন, তখন আমি জুমআর সালাত আদায়ের জন্য যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার এই পদক্ষেপ হচ্ছে আল্লাহর পথে। আমি আবূ আবস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির পদদ্বয় আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, সে জাহান্নামের জন্য হারাম হয়ে যায়।
ইসমত ইবন ফযল (রহঃ) ... আবূ রায়হানা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে চক্ষু আল্লাহ্ রাস্তায় বিনিদ্র থাকে, সে চক্ষুর জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করা হয়েছে।
আবদা ইবন আব্দুল্লাহ্ (রহঃ) ... সাহল ইন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় এক সকালে এবং এক বিকালে বের হওয়া পৃথিবী এবং তন্মধ্যস্থিত সকল বস্তু অপেক্ষা উত্তম।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) বলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন। আল্লাহর রাস্তায় এক বিকেল অথবা এক সকাল বের হওয়া সেসব বস্তু থেকে উত্তম, যে সবের উপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্ত যায়।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইয়াযীদ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি এমন যে, যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর উপর অবধারিত। আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ, যে বিবাহকারী পরহেযগারীর উদ্দেশ্য বিবাহ করে, যে মুকাতার গোলাম কিতাবাতের অর্থ আদায় করার ইচ্ছা রাখে।
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায়- তাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং তার কালেমা-ই তাওহীদের বিশ্বাস ব্যতীত আর কিছু বের করেনি, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অথবা যে ঘর হতে সে বের হয়েছিল- সওয়াব ও গনীমতের সম্পদসহ সে ঘরে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বের হয়েছে আল্লাহর রাস্তায়, তাকে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কিছুই বের করেনি এমন ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আল্লাহ তায়ালা, তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে-তাকে শাহাদাত নসীব করে অথবা তার মৃত্যু দ্বারা; অথবা তাকে গনীমতের সম্পদ ও সওয়াবসহ ফিরিয়ে আনবেন সে স্থানে, যে স্থান হতে সে বের হয়েছিল।
আমর ইবন উছমান ইবন সাঈদ ইবন কাছীর ইবন দীনার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তা আল্লাহু ভাল জানেন, তার উদাহরণ হলো সে রোযাদারের ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে। আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের জন্য আল্লাহ তা'আলা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ হয়তো তাকে মৃত্যু দান করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন পুণ্য অথবা গনীমতের প্রাপ্ত সম্পদসহ।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে বাহিনী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আর তারা গনীমত প্রাপ্ত হয়, তাদেরকে সওয়াবের দুই তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই দেওয়া হয়, আর তাদের এক তৃতীয়াংশ পুণ্য অবশিষ্ট থাকে। আর যে বাহিনী গনীমত না পায়, তাদের বিনিময় পরিপূর্ণই আখিরাতের জন্য থাকে।
ইবরাহীম ইন ইয়াকূব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার যে বান্দা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে; আমার জিম্মায় রইলো- আমি তাকে ফিরিয়ে আনবাে। যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি, তা হলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনব তার পুণ্য ও গনীমতের সম্পদসহ, আর যদি আমি তাকে ওফাত দেই, তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তা আল্লাহই ভাল জানেন, ঐ সিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে, আল্লাহকে ভয় করে, রুকু করে এবং সিজদা করে।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন-যা জিহাদের সমতুল্য হয়। তিনি বললেনঃ আমি তোমরা এমন আমল পাচ্ছি না, আচ্ছা যখন মুজাহিদ জিহাদে বের হয়, তখন তুমি কি মসজিদে প্রবেশ করে এমন ইবাদত আরম্ভ করতে সক্ষম, যাতে একটুও বিরতি দেবে না? আর লাগাতার সাওম পালন করবে, যাতে কোন বিরতি হবে না? লোকটি বললোঃ এরূপ করতে কে সক্ষম হবে?
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহতে ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলোঃ কোন আমল সবোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনা। সে বললোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ তারপর কোনটি ? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর বা মাককূল হজ্জ।
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আবু সাঈদ (রাঃ) আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বাক্য আমাকে আবার বলুন। তিনি তা করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অন্য একটি আমল আছে, তা দ্বারা জান্নাতে বান্দার মর্যাদা একশত গুণ বৃদ্ধি করা হয়, এর প্রতি দুটি স্তরের দূরত্ব এমন- যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব। তিনি বললেনঃ তা কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
সুনানে নাসায়ি 3132Hasan IsnaadHasan IsnaadIsnaad Hasan
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাককার ইবন বিলাল (রহঃ) ... আবুদ্দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা আল্লাহর জন্য অবধারিত। সে হিজরত করুক অথবা স্বীয় আবাসে মৃত্যুবরণ করুক। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দেব না, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়? তিনি বললেনঃ জান্নাতে একশত স্তর আছে, প্রতি দুটি স্তরে দূরত্ব যমীন ও আসমানের দূরত্বের সমান, আল্লাহ্ তা'আলা তা আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যদি মুমিনদের উপর কষ্টদায়ক না হতো, আর আমি তাদের আরোহণের জন্য সওয়ারী ব্যবস্থা করতে অপারগ না হতাম, আর আমার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের মনোকষ্ট না হতো, তবে আমি কোন যুদ্ধ হতেই বিরত থাকতাম না। আমার ইচ্ছা হয় আমি একবার শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আমর ইবন মালিক জানবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সে ব্যক্তির যামিন হলাম, যে ঈমান আনলো আমার প্রতি এবং ইসলাম গ্রহণ করলো, হিজরত করলো, এমন একটি ঘরের যা জান্নাতের বহির্ভাগে হবে, আর একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে। আর আমি যামিন হলাম ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায় এমন ঘরের- যা বেহেশতের বহিভাগে এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে। এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের কক্ষসমূহের উপরিভাগে হবে। সে সেখানে কল্যাণের সন্ধান পায়, সেখান থেকে কল্যাণ সন্ধান করবে এবং মন্দ থেকে রক্ষার জন্য যেখানে ইচ্ছা পলায়ন করবে। সে যেখানে ইচ্ছা মৃত্যুবরণ করুক, জান্নাত তার জন্য অবধারিত।
ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব (রহঃ) ... সাবরতা ইবন আবু ফাকিহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলেঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দীন ও তোমার বাপ দাদার দীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলেঃ তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা। অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলেঃ তুমি কি জিহাদ করবে? এতে নিজকে এবং নিজের ধন সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী জান্নাত তার জন্য অবধারিত। আর যে ব্যক্তি শহীদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারী তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙ্গে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত।
উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হুমায়দ ইবন আব্দুর রহমান তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া দান করবে, জান্নাতে তাকে ডাকা হবে, হে আব্দুল্লাহ! ইহা কল্যাণের কাজ, অতি উত্তম! যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে সাদকা দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সাদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে সাওম পালনকারী হবে, তাকে সাওমের দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে একযোগে এ সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে তার কি অবস্থা হবে? এক ব্যক্তিকে কি এই সব দরজা দিয়ে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আর আমি আশা করি, তুমিও তাদের মধ্যে গণ্য হবে।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেনঃ একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে নিবেদন করলো, এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে গনীমতের মাল লাভের জন্য, অন্যজন যুদ্ধ করে বাহাদুরী প্রকাশের জন্য; তাহলে এদের মধ্যে আল্লাহর রাস্তায় কে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কলেমা সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তার সৈনিক।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেন, লোক আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে পৃথক হওয়ার পর সিরিয়ার নাতিল নামক এক ব্যক্তি তাকে বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, এমন একটি হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করুন । তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ লোকের মধ্যে কিয়ামতের দিন যাদের বিচার করা হবে, তারা হবে তিন শ্রেণীর লোক। প্রথমতঃ সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে তাকে আনা হবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করাবেন; যে তা স্মরণ করবে, তাকে বলা হবে, এসব নিয়ামত ভোগ করে কি আমল করেছ? সে ব্যক্তি বলবেঃ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছাে। বরং তুমি যুদ্ধ করেছিলে এই জন্য, যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি বাহাদুর; তোমাকে তা বলা হয়েছে। তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, ফলে তাকে তার মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি ইলম শিক্ষা করেছে এবং লোকদেরকে শিক্ষা দান করেছে এবং কুরআন পাঠ করেছে, তাকে আনা হবে, তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করানো হবে, সে তা স্বীকার করবে, তাকে বলা হবেঃ এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি 'ইলম শিক্ষা করেছি, অন্যকেও শিক্ষা দিয়েছি, আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ তায়ালা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি শিক্ষা কব্রেছিলে এজন্য যেন তোমাকে আলিম বলা হয় । আর কুরআন শিক্ষা করেছিলে, যেন তোমাকে কারী বলা হয়; তা বলা হয়েছে। এরপর তার সম্বন্ধে আদেশ করা হবে, আর তাকে মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি যাকে প্রশস্ততা দান করা হয়েছিল এবং তাকে সর্বপ্রকার মাল দান করা হয়েছিল। তাকে আনা হবে। তাকে তার নিয়ামত সম্বন্ধে অবহিত করা হবে, সে তা স্বীকার করবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি তোমার পছন্দনীয় কোন রাস্তাই ছাড়িনি, তোমার সন্তুষ্টির জন্য যাতে ব্যয় করিনি। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছে বরং তুমি এজন্য ব্যয় করেছ, যাতে দাতা বলা হয়; তা বলা হয়েছে। তারপর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, তাকে তার মুখ নিচের দিকে করে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন ওলীদ ইবন উবাদা ইবন সামিত তার দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ব্যতীত তার আর কিছুর নিয়্যত খাকলো না; সে যা নিয়ত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।
হারুন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন ওলীদ ইবন উবাদা ইবন সামিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ছাড়া তার আর কিছুর নিয়্যত থাকলো না; সে যা নিয়্যত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।
সুনানে নাসায়ি 3140Hasan SahihHasan SahihDaif
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ هِلاَلٍ الْحِمْصِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَرَأَيْتَ رَجُلاً غَزَا يَلْتَمِسُ الأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ شَىْءَ لَهُ " . فَأَعَادَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ شَىْءَ لَهُ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ " .
ঈসা ইন হিলাল হিমসী (রহঃ) ... আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললোঃ ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ এবং সুনামের জন্য জিহাদ করে, তার জন্য কি রয়েছে? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তার জন্য কিছুই নেই। তিনি তা তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা খালেস আমল ব্যতীত, যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য না হয়, আর কিছুই কবুল করেন না।
ইউসুফ ইন সাঈদ (রহঃ) ... মালিক ইবন ইউখামির (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় উটনীর দুধ দোহনের সময় পর্যন্ত (অর্থাৎ স্বল্প সময়ের জনা) জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর তাআলার নিকট নিজেই জিহাদ কামনা করে কায়মনোবাক্যে, তারপর মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সওয়াব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আঘাত প্রাপ্ত হয় অথবা বর্শার আঘাত পায়, কিয়ামতের দিন তা পানি পূর্ণ কৃপের ন্যায় হবে, যার রং হবে যাফরানের এবং গন্ধ হবে কস্তুরীর। আর যে আল্লাহর রাস্তায় জখমী হয়, তার উপর শহীদের চিহ্ন থাকবে।
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ ইবন কাছীর (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবন আবাসা (রাঃ)-কে বললেন, হে আমর! আমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বৃদ্ধ হবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য একটি নূর হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে, তা শক্রর গায়ে বিদ্ধ হোক বা না হোক, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ চরার ন্যায় সওয়াব লিখিত হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুমিন গোলাম আযাদ করবে, তা তার জন্য জাহান্নাম হতে পবিত্রাণের কারণ হবে, প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে এক একটি অঙ্গ।
সুনানে নাসায়ি 3143SahihSahihIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي نَجِيحٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَلَغَ بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ لَهُ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ " . فَبَلَّغْتُ يَوْمَئِذٍ سِتَّةَ عَشَرَ سَهْمًا . قَالَ وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ عِدْلُ مُحَرَّرٍ " .
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু নুজাইহ সালামী (আমর ইবন আবাসা) (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কাফিরদের দিকে একটি তীর নিক্ষেপ করলো, এটি তার জন্য জান্নাতে একটি স্তর লাভের কারণ হবে। অতএব আমি সেদিন ষোলটি তীর নিক্ষেপ করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরও বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর ছুঁড়বে, তা হবে গোলাম আযাদ করার সমতুল্য।
মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি কা'ব ইবন মুররাহ (রাঃ)-কে বললেনঃ হে কাব! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় বৃদ্ধ হয়েছে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে। তাঁকে আবার বলা হলোঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে। যে ব্যক্তি শত্রুর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করেছে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার একটি স্তর বর্ধিত করবেন। ইবন নাহহাম (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মর্যাদা কিরূপ? তিনি বললেনঃ তা তোমার মায়ের ঘরের চৌকাঠ নয়। ইহা এমন দুটি স্তর যে, যার মধ্যে পার্থক্য হবে একশত বছরের।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে অমর ইবন আবাসা! আমাদের নিকট এমন হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছেন, যাতে ভুল ভ্রান্তি ও পরিবর্তন না হয়। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে শক্রর প্রতি, এতে সে ভুল করলো কিংবা সঠিকভাবে পৌঁছালো, এটি তার জন্য একটি কৃতদাস আযাদ করার সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুসলিম কৃতদাস আযাদ করবে, তার প্রত্যেকটি অঙ্গ এর প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে জাহান্নামের অগ্নি হতে পবিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বার্ধক্যে উপনীত হবে, কিয়ামতের দিন এ হবে তার জন্য নূর।
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা একটি তীরের উসিলায় তিন প্রকার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এর প্রস্তুতকারক, যে তা প্রস্তুতকালে উত্তম নিয়্যত রাখবে, যে তা নিক্ষেপ করবে এবং যে তা কাউকে নিক্ষেপ করতে দেবে।
সুনানে নাসায়ি 3147SahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
মুহাম্মদ ইবন মনসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যখম হবে, আল্লাহই ভাল জানেন, কে তাঁর রাস্তায় যখম হয়েছে; সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরাতে থাকবে, এর বর্ণ হবে রক্তের ন্যায়, আর গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।
হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন ছা'লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদেরকে (শহীদদেরকে) তাদের রক্তসহ চাদরাবৃত কর। কেননা কেউ আল্লাহর রাস্তায় যখম হলে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত নির্গত হতে থাকবে। যার বর্ণ হবে রক্তের, কিন্তু সুগন্ধী হবে কস্তুরীর ন্যায়।
সুনানে নাসায়ি 3149HasanHasanDaif
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَذَكَرَ، آخَرَ قَبْلَهُ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَوَلَّى النَّاسُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَاحِيَةٍ فِي اثْنَىْ عَشَرَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ وَفِيهِمْ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَأَدْرَكَهُمُ الْمُشْرِكُونَ فَالْتَفَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمَا أَنْتَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " أَنْتَ " . فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَإِذَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . قَالَ " كَمَا أَنْتَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَا . فَقَالَ " أَنْتَ " . فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ وَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَيُقَاتِلُ قِتَالَ مَنْ قَبْلَهُ حَتَّى يُقْتَلَ حَتَّى بَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . فَقَاتَلَ طَلْحَةُ قِتَالَ الأَحَدَ عَشَرَ حَتَّى ضُرِبَتْ يَدُهُ فَقُطِعَتْ أَصَابِعُهُ فَقَالَ حَسِّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ قُلْتَ بِسْمِ اللَّهِ لَرَفَعَتْكَ الْمَلاَئِكَةُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ " . ثُمَّ رَدَّ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ .
আমর ইবন সওয়াদ (রহঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন যখন কিছু লোক ফিরে গেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিকে বারজন আনসার কর্তৃক বেষ্টিত ছিলেন, তাদের মধ্যে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-ও ছিলেন, মুশরিকরা তাদেরকে আক্রমণ করলো, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি পূর্বে যেমন ছিলে সেরূপ থাক। তখনই একজন আনসারী ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তুমিও। এ ব্যক্তি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। আবার তিনি লক্ষ্য করলেন, এবং দেখতে পেলেন যে, মুশরিকরা আক্রমণ করছে, তিনি বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? এবারও তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি। তিনি বললেনঃ তুমি পূর্বের মতই থাক। এক আনসারী ব্যক্তি বললেনঃ আমি আছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ হ্যাঁ তুমিও। এ ব্যক্তিও যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। এরপর তিনি এভাবে বলছিলেন এবং তার পূর্ববর্তীদের ন্যায় যুদ্ধ করছিলেন এবং শহীদ হলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) অবশিষ্ট থাকলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি আছি। তিনি এগারজনের যুদ্ধ একাই করলেন। পরিশেষে তার হাত আহত হলো এবং হাতের আঙ্গুল কর্তিত হালো। এতে তিনি উহ্ শব্দের ন্যায় শব্দ উচ্চারণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি বলতে ‘বিসমিল্লাহ', তা হলে তোমাকে ফিরিশতাগণ উপরে উঠিয়ে নিতেন, আর লোকেরা তা দেখতে পেতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ফিরিয়ে দিলেন।
সুনানে নাসায়ি 3150SahihSahihSahih Muslim
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدُ اللَّهِ، ابْنَا كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالاً شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ قَالَ سَلَمَةُ فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَرْتَجِزَ بِكَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه اعْلَمْ مَا تَقُولُ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَوْلاَ اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقْتَ " . فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِيَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ هَذَا " . قُلْتُ أَخِي . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَرْحَمُهُ اللَّهُ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ يَقُولُونَ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ حِينَ قُلْتُ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ " . وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ .
আমর ইবন সওয়াদ (রহঃ) ... সালামা ইবন আকওয়া (রাঃ) বলেন, খায়বর যুদ্ধে আমার ভাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্বে ভীষণ যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারী তার উপর আপতিত হলে তিনি শহীদ হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবা এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে লাগলেন এবং তার শাহাদাত সম্পর্কে সন্দেহ পােষণ করতে লাগলেন। কারণ তিনি এমন এক ব্যক্তি, যার মৃত্যু হয়েছে তারই অস্ত্রে। সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর হতে প্রত্যাবর্তন করার পর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে কবিতা পাঠ করতে আমাকে অনুমতি দিবেন কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তুমি কি বলবে তা অনুধাবন কর। আমি বললামঃ وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا অর্থাৎ আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাদের হিদায়ত না করতেন, তাহলে না আমরা হিদায়ত পেতাম, না আমরা সাদাকা করতাম, আর না আমরা সালাত আদায় করতাম। এপর্যন্ত বলতেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সত্যই বলেছ। فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا তিনি আমদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমাদের অটল রাখুন। মুশরিকরা 'আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। আমার কবিতা পাঠ শেষ হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা কে বলেছে? আমি বললামঃ আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাকে রহম করুন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোক তার উপর জানাযার নামায পড়তে ভয় পায়। তারা বলে, এ ব্যক্তি স্বীয় অস্ত্রে মারা গেছে। সে পুণ্যের পথে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে আল্লাহর শত্রুদের মুকাবিলায় জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়েছে। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামা ইবন আকওয়ার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তার পিতা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। উপরন্তু তিনি বললেন, যখন আমি বললাম, লোক তার উপর নামায পড়তে দ্বিধাবোধ করছে। তখন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা মিথ্যা বলছে। সে মুজাহিদের ন্যায় যুদ্ধ করেছে, তার জন্য দুইগুণ পুণ্য রয়েছে। আর তিনি তাঁর দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে আমি কোন যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতাম না। তারা কোন বাহন পায় না, আর আমিও তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে পারি না। আর যদি আমার সঙ্গে যাওয়া হতে বিরত থাকা তাদের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, পুনরায় শহীদ হই। তিনি তিনবার এরূপ বললেন।
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিছ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মু'মিনদের মধ্যে এমন লোক না হতো, যারা আমার সঙ্গে যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতে চায় না, আর আমি তাদের জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থাও করতে পারি না, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা হতে আমি বিরত থাকতাম না। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমার ইচ্ছা হয়- আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
আমর ইবন উছমান (রহঃ) ... ইবন আবু আমীরাতা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে আল্লাহ মৃত্যুদান করেছেন, আর সে পুনরায় তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে ভালবাসে-শহীদ ব্যতীত; অথচ তার জন্য পৃথিবী এবং পৃথিবীস্থ সব কিছুই রয়েছে। ইবন আবু আমীরাতা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন শহরবাসী এবং গ্রামবাসী (অর্থাৎ পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যা আছে সব কিছু) আমার জন্য হোক, তা হতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ওহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বলেন, জান্নাতে। তারপর সে ব্যক্তি তার হস্তস্থিত খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উপবেশন করে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যশীল হয়ে সওয়াবের নিয়তে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হই, পিছপা না হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমরা সব পাপ মার্জনা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন, পরে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? লোকটি বললোঃ এই যে, আমি এখানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বললোঃ আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্যসহকারে ইখলাসের সংগে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করি, পিছু না হটি- সওয়াবের আশা রাখি, তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত। এইমাত্র জিবরীল (আঃ) আমাকে তা বলে গেলেন আমার কানে কানে।
সুনানে নাসায়ি 3156SahihSahihSahih Muslim
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ قُلْتَ " . فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (তার পিতা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করলো, তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য তার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত; জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বোত্তম ইবাদত। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমার সব পাপ মার্জনা করবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যসহকারে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে যুদ্ধ কর, তবে ঋণ ব্যতীত। জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
আব্দুল জব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন 'আবু কাতাদা তার পিতা কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার এ তলোয়ার দিয়ে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হই; তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি চলে গেলে তাকে ডেকে বললেনঃ ইনি হলেন জিবরীল, তিনি বলছেন- তোমার উপর ঋণ থাকলে তা ব্যতীত।
সুনানে নাসায়ি 3159Hasan SahihHasan SahihIsnaad Hasan
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... কাছীর ইবন মুররা (রহঃ) বলেন, উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই, মৃত্যুবরণ করার পর তার জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও, তার জন্য পৃথিবী সব কিছু হওয়া সত্ত্বেও সে তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তনের আকাক্সক্ষা করবে-শহীদ ব্যতীত। কেননা, সে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় শহীদ হতে পছন্দ করবে।
আবু বকর ইবন নাফি (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের মধ্যে শহীদকে আনা হলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার বাসস্থান কেমন পেলে? সে বলবে, ইয়া আল্লাহ! সর্বোত্তম স্থান। তিনি বললেনঃ আরও কিছু চাও এবং আকাক্সক্ষা কর। তখন সে ব্যক্তি বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি চাই, আপনি আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমি আপনার রাস্তায় দশবার শহীদ হই। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার কষ্ট পিপীলিকার কামড় অথবা চিমটি কাটার কষ্টের চাইতে বেশী অনুভব করবে না।
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হানীফ তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে শাহাদাত কামনা করবে সর্বান্তকরণে, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) .... উকবা ইবন আমির (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচ প্রকারের যে কোন এক প্রকারে মৃত্যুবরণ করবে- সে শহীদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি নদী ইত্যাদিতে ডুবে মরেছে—সে শহীদ, যে আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় মরেছে-সে শহীদ, যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ, আর যে স্ত্রীলোক সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করে-সেও শহীদ।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... ইবরায ইবন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদগণ এবং যারা বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমাদের রবের নিকট বাদানুবাদ করবে-তাউন রোগে মারা গেছে তার সম্বন্ধে। শহীদগণ বলবেন, আমাদের এ ভাইয়েরা নিহত হয়েছেন, যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবেন আমাদের এ ভাইয়েরা তাদের মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন আমাদের রব বলবেনঃ তাদের যখমের প্রতি লক্ষ্য কর, যদি তাদের যখম শহীদদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তাহলে তারা তাদের মধ্যে হবে এবং তাদের সাথে থাকবে, তখন দেখা যাবে তাদের ক্ষত শহীদের ক্ষতের সদৃশ।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে আশ্চর্যবােধ করবেন, তাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করবে। অন্য সময় তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন ঐ দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাদের একজন তার সাথীকে হত্যা করবে, এরপর তারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
মুহাম্মদ ইবন সালামা ইবন হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন, তাদের একে অন্যকে হত্যা করে-আর উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। একজন তো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন, তারপর সেও জিহাদ করে এবং শহীদ হয়।
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সালমানুল খায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন ও একরাত সীমানা পাহারায় কাটায় তার জন্য এক মাস রোযা রাখার ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি পাহারার কাজে নিয়ােজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার জন্যও ঐ সওয়াব রয়েছে। আর তাকে জান্নাত হতে রিযিক পৌছানো হবে, আর সে সমস্ত ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে।
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সীমানা পাহারায় রত থাকে একদিন এবং এক রাত, তার জন্য এক মাস রোজা রাখা ও ইবাদতের সওয়াব রয়েছে। সে ইন্তেকাল করলেও তার একাজ জারি থাকবে, আর সে সকল ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে, আর তাকে তার রিযিক পৌঁছানো হবে।
সুনানে নাসায়ি 3169HasanHasanIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ زَهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رضى الله عنه يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَنَازِلِ " .
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... যাহরা ইবন মা'বাদ (রহঃ) বলেন, আবূ সালিহ মাওলা উছমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উছমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় একদিনের সীমানা পাহারায় রত থাকা অন্যান্য স্থানের হাজার দিন হতে উত্তম।
মুহাম্মাদ ইবন সালমা এবং হারিছ ইন মিসকীন (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোবায় পদার্পণ করতেন, তখন তিনি মিলহান কন্যা উম্মে হারাসের নিকট যেতেন। তিনি তাকে আহার করাতেন। আর উম্মে হারাম বিনতে মিলহান ছিলেন উবাদা ইবন সামিতের স্ত্রী। একবার তিনি তার বাড়ীতে গেলে উম্মে হারাম তাকে আহার করালেন এবং তার মাথার উকুন তালাশ করতে বসে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রাভিভূত হলেন। এরপর তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। উম্মে হারাম বলেন, আমি তাকে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোককে আমাকে দেখান হলো তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে, এবং তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ। রাবী ইসহাক (রহঃ) বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু'আ করে আবার নিদ্রা গেলেন। হারিছ (রহঃ) বলেন, ন্দ্রিা যাওয়ার পর তিনি আবার হাসতে হাসতে জাগলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের কিছু লোককে আমাকে দেখান হলো, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, যেমন সিংহাসনের উপর বাদশাহ অথবা বাদশাহর মত, যেভাবে প্রথমবার বলেছিলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ না, তুমি প্রথম দলে থাকবে। উম্মে হারাম মুআবিয়া (রাঃ)-এর সময় সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন, এরপর সমুদ্র হতে ফিরে আসার পর তিনি তার সওয়ারীর উপর হতে পড়ে শহীদ হন।
ইয়াহইয়া ইবন হাবিব ইবন আরাবী (রহঃ) ... উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে খাওয়া দাওয়ার পর শয়ন করলেন, এরপর হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেনঃ আমি আমার উম্মতের একদল লোককে দেখলাম, সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে সিংহাসনের উপর বাদশাহর ন্যায়। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন এবং হাসতে হাসতে জাগরিত হলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম এবং তিনি আগের মত বললেন। আমি বললামঃ আল্লাহর নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলভুক্ত থাকবে। উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) তাকে বিবাহ করলেন, এরপর সমুদ্র পাড়ি দিলেন। তার সাথে তার স্ত্রীও সমুদ্রে পাড়ি দিলেন। যখন সমুদ্র হতে ফিরে এলে তার জন্য একটি খচ্চর আনা হলো, তিনি তাতে আরোহণ করলেন; খচ্চর তাঁকে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়, ফলে তিনি মারা যান।
আহমদ ইবন উছমান ইবন হাকিম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন। যদি আমি ঐ যুদ্ধের সুযোগ পাই, তা হলে আমি তাতে আমার জান-মাল ব্যয় করব। আর যদি আমি তাতে নিহত হই, তা হলে আমি শহীদের মধ্যে উত্তম সাব্যস্ত হব। আর যদি আমি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবূ হুরায়রা হবাে আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি তা পেলে তাতে আমার জান মাল উৎসর্গ করব। আর যদি আমি নিহত হই, তবে মর্যাদাবান শহীদ বলে গণ্য হব, আর যদি ফিরে আসি, তা হলে আমি আবু হুরায়রা হব আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত।
সুনানে নাসায়ি 3175SahihSahihHasan
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ أَخِيهِ، مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ " .
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহীম (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোলাম ছাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের দুটি দল আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পবিত্রাণ দান করবেন, একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইবন মারিয়াম (আঃ) এর সঙ্গে থাকবে।
সুনানে নাসায়ি 3176HasanHasanIsnaad Hasan
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي سُكَيْنَةَ، - رَجُلٌ مِنَ الْمُحَرَّرِينَ - عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِحَفْرِ الْخَنْدَقِ عَرَضَتْ لَهُمْ صَخْرَةٌ حَالَتْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْحَفْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ الْمِعْوَلَ وَوَضَعَ رِدَاءَهُ نَاحِيَةَ الْخَنْدَقِ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ ثُلُثُ الْحَجَرِ وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَائِمٌ يَنْظُرُ فَبَرَقَ مَعَ ضَرْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرْقَةٌ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّانِيَةَ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ الثُّلُثُ الآخَرُ فَبَرَقَتْ بَرْقَةٌ فَرَآهَا سَلْمَانُ ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ وَقَالَ " { تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ } " . فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْبَاقِي وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ رِدَاءَهُ وَجَلَسَ . قَالَ سَلْمَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُكَ حِينَ ضَرَبْتَ مَا تَضْرِبُ ضَرْبَةً إِلاَّ كَانَتْ مَعَهَا بَرْقَةٌ . قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا سَلْمَانُ رَأَيْتَ ذَلِكَ " . فَقَالَ إِي وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنِّي حِينَ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الأُولَى رُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ كِسْرَى وَمَا حَوْلَهَا وَمَدَائِنُ كَثِيرَةٌ حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالَ لَهُ مَنْ حَضَرَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلاَدَهُمْ . فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ " ثُمَّ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الثَّانِيَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ قَيْصَرَ وَمَا حَوْلَهَا حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلاَدَهُمْ . فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ " ثُمَّ ضَرَبْتُ الثَّالِثَةَ فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ الْحَبَشَةِ . وَمَا حَوْلَهَا مِنَ الْقُرَى حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَىَّ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ " .
ঈসা ইবন ইউনুস (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী বলেনঃযখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরীখা খননের আদেশ করলেন, তখন একটি কঠিন প্রস্তরখণ্ড দেখা গেল, যা খনন কার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেলচা (কোদাল জাতীয় যন্ত্র বিশেষ) নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তার চাদর পরীখার পাশে রাখলেন, তিনি বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অর্থঃ সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে আপনার রবের বাণী সম্পূর্ণ এবং তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আন'আমঃ ১১৫) তাতে ঐ প্রস্তর খণ্ডের এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। আর সালমান ফারসী সেখানে দণ্ডায়মান ছিলেন। তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বেলচা মারার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ চমকিত হলো। এরপর তিনি তিনিদ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ তাতে আর এক তৃতীয়াংশ পড়ে গেল এবং একটি বিদ্যুৎ চমকিয়ে উঠলো, সালমান ফারসী (রাঃ) তাও দেখতে পেলেন, তারপর তিনি তৃতীয়বার তাতে আঘাত করলেন এবং বললেনঃ تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ এতে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন, এবং তার চাদরখানা নিয়ে বসে পড়লেন সালমান ফারসী (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যখন আঘাত করছিলেন, আমি আপনার প্রতি লক্ষ্য করছিলাম, দেখলাম আপনি যখনই তাতে আঘাত করছিলেন, আর তা হতে বিদ্যুৎ চমকিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সালমান! আমিও তা দেখেছি। সালমান (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি যখন প্রথমবার আঘাত করেছিলাম, তখন কিসরার শহরসমূহ এবং এর চতুম্পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ এবং আরো বহু শহর আমার সামনে প্রকাশিত হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করেছি। উপস্থিত সাহাবীবৃন্দ আরয করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন এবং তাদের আবাসকে আমাদের গনীমত করে দেন, আর আমাদের হাতে তাদের দেশ ধ্বংস করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দু'আ করলেন। তিনি বললেনঃ এরপর আমি দ্বিতীয়বার আঘাত করলাম। তাতে রোম-সম্রাটের শহরসমূহ এবং এর পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ দেখানো হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করলাম। তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন আর তাদের বাড়ী ঘর আমরা গনীমতরূপে প্রাপ্ত হই এবং তাদের বাড়ী ঘর আমাদের হাতে ধ্বংস হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দু'আ করলেন। তিনি বললেনঃ এরপর আমি তৃতীয়বার আঘাত করলাম, আমাকে হাবশার শহরসমূহ এবং এর আশে পাশের গ্রামসমূহ দেখান হলো। আমি তা স্বচক্ষে দেখলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হাবশীদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তুর্কীদের নিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর তোমরা তুর্কীদের সাথেও যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে।
সুনানে নাসায়ি 3177SahihSahihSahih Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التُّرْكَ قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطَرَّقَةِ يَلْبَسُونَ الشَّعَرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعَرِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত না মুসলিমরা তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের চেহারা হবে ঢালের ন্যায়, তারা পশমের পােষাক পরিধান করবে এবং পশমের জুতা পরিধান করে চলাচল করবে।
সুনানে নাসায়ি 3178SahihSahihSahih Bukhari
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ ظَنَّ أَنَّ لَهُ، فَضْلاً عَلَى مَنْ دُونَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الأُمَّةَ بِضَعِيفِهَا بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلاَتِهِمْ وَإِخْلاَصِهِمْ " .
মুহাম্মদ ইবন ইদ্রীস (রহঃ) ... মুসআব ইবন সা'দ (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি মনে করতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের মধ্যে যাঁরা তা হতে নিম্নশ্রেণীর, তাদের উপর তার মর্যাদা রয়েছে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা এ উম্মতকে সাহায্য করবেন তার দুর্বলদের দ্বারা, তাদের দু'আ, নামায এবং ইখলাসের দরুন।
ইয়াহইয়া ইবন উছমান (রহঃ) ... জুবায়র ইবন নুফায়র হাযরামী (রহঃ) বলেন, তিনি আবুদ্দারদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার জন্য দুবর্লদের অন্বেষণ কর, কেননা তোমরা রিযিক পাচ্ছ এবং সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের দ্বারা।
সুলায়মান ইবন দাউদ এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) .... যায়িদ ইবন খালিদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই বলেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তার কোন যোদ্ধাকে সামান দান করবে, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করলো। আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার মঙ্গলের জন্য স্থলাভিষিক্ত হলো, সেও যেন যুদ্ধে যোগদান করলো।
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধাকে যুদ্ধের সামান দান করলো, সে যেন যুদ্ধ করলো, আর যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার পরিবারে তার স্থলাভিষিক্ত হলো পরিবারের মঙ্গলের জন্য; সেও যেন যুদ্ধ করলো।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আহনাফ ইন কায়স (রহঃ) বলেন, আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মদীনায় উপনীত হলাম। হজ্জে গমনের জন্য আমরা আমাদের মনযিলে পৌঁছে আমাদের হাওদা নামাচ্ছিলাম, এমন সময় আমাদের নিকট এক আগন্তুকের আবির্ভাব হলো। সে বললোঃ লোক মসজিদে একত্রিত হয়েছে। তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম, একদল লোকের চতুর্দিকে কিছু লোক একত্রিত হয়ে আছে মসজিদের মধ্যস্থলে। তাদের মধ্যে আলী, যুবায়র, তালহা এবং সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) রয়েছেন। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় উছমান (রাঃ) আগমন করলেন, তার পরনে রয়েছে হলুদ বর্ণের একখানা কাপড়, তা দ্বারা তিনি তাঁর মাথা ঢেকে রেখেছেন। তিনি বললেনঃ এখানে কি তালহা (রাঃ) আছেন? এখানে কি যুবায়র (রাঃ) আছেন? এখানে কি সা'দ (রাঃ) আছেন? সকলে বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমি ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে তোমদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অমুক গোত্রের উট বাঁধার বা খেজুর শুকাবার স্থানটি যে খরীদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন। এরপর আমি তা বিশ হাজার অথবা পঁচিশ হাজায় টাকার খরিদ করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে তাঁকে তার সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তা আমাদের মসজিদের জন্য দান কর, আর এর সওয়াব তোমারই থাকবে। তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সেই আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বীর-রুমা নামক কূপটি খরিদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন? আমি তা এত এত মূল্যে খরিদ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাকে সংবাদ দিলে তিনি বললেনঃ তুমি তা মুসলিমদের পানি-পানের স্থান করে দাও, তার সওয়াব হবে তোমার। তারা বললেনঃ আল্লাহুম্মা, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমাদের ঐ আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ এ জায়শে - উসরাতকে (তাবুকের সেনাবাহিনীকে) যে ব্যক্তি যুদ্ধের সামান দিয়ে সজ্জিত করবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন? আমি তাদেরকে এমনভাবে সজ্জিত করলাম যে, কেউ উটের একটি রশিও কম পায়নি। তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্। তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক; হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।
মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদ হতে দু'প্রকার মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতে ডাকা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা! এ তোমার জন্য উত্তম। যে ব্যক্তি নামাযী হবে, তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের মধ্যে শামিল হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি আহলে সাদকা অর্থাৎ দাতা হবে, তাকে সাদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, তাকে 'রাইয়ান' নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে এসকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে, তার আর কোন প্রয়োজন থাকবে কি? কাউকেও কি এ সকল দরজা হতে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।
সুনানে নাসায়ি 3184SahihSahihSahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دَعَتْهُ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا فُلاَنُ هَلُمَّ فَادْخُلْ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَاكَ الَّذِي لاَ تَوَى عَلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ " .
আমর ইবন উছমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দু'প্রকার দান করবে,তাকে জান্নাতের দ্বাররক্ষী ফিরিশতা জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকবে ও হে অমুক! এদিকে এসাে এবং জান্নাতে প্রবেশ কর। আবু বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তির তো কোন প্রকার ধ্বংস নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একান্তভাবে আশা করি আপনি তাদের মধ্যে হবেন।
ইসমাইল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... ছা'আছা ইবন মুয়াবিয়া (রহঃ) বলেন, আবু যার (রাঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তিনি বললেন, আমি বললাম আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম বান্দা আল্লাহর রাস্তায় তার সকল মাল হতে জোড়া-জোড়া দান করবে, তাকে জান্নাতের দ্বার রক্ষীগণের সকলেই তাঁর নিকট যা রয়েছে তার দিকে আহ্বান করবে। আমি বললামঃ তা কিভাবে হবে? তিনি বললেনঃ যদি তার মাল হয় উট, তবে দুটি উট; আর যদি গরু হয়, তবে দুটি গরু।
আবূ বকর ইবন আবূ নাদর (রহঃ) ... খুযায়ম ইবন ফাতিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করবে, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লেখা হবে।
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নাকে রশি যুক্ত একটি উটনী আল্লাহর রাস্তায় দান করল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নাকে রশিযুক্ত সাতশতটি উটনী পাবে।
আমর ইবন উছমান (রাঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনছ ধর্মযুদ্ধ দু' প্রকার। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে ইমামের অনুসরণ করে, উত্তম বস্তু দান করে, সাথীদের সাথে নরম ব্যবহার করে এবং ঝগড়া-ফাসাদ পরিত্যাগ করে; তা হলে তার নিদ্রা, জাগরণ সবই সওয়াব যোগ্য। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানো যুদ্ধ করে, শুনাবার জন্য যুদ্ধ করে, ইমামের অবাধ্য হয় অথবা পৃথিবীতে ফাসাদ বিস্তার করে, সে সওয়াব বা প্রতিদানের সাথে প্রত্যাবর্তন করবে না, বরং সে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।
হুসায়ন ইবন হুরায়ছ এবং মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন বুরায়দা তাঁর পিতার সূত্রে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা যুদ্ধে যায়নি, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীগণ এমন হারাম, যেমন তাদের জন্য তাদের মাতাগণ হারাম। আর কোন মুজাহিদের স্ত্রীর ব্যাপারে কোন ব্যক্তি যদি তার স্থলাভিষিক্ত থেকে খিয়ানত করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি তার বিচার প্রার্থী হয়ে দাঁড়াবে এবং তার আমল হতে যথেচ্ছা কেড়ে নেবে। অতএব তোমরা কি ধারণা কর?
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... সুলায়মান ইন বুরায়দা (রহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা যুদ্ধে গমন করে না তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীরা এমন হারাম, যেমন তাদের মাতাগণ তাদের জন্য হারাম। আর সে যদি তার পরিবারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে খিয়ানত করে, কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, এ ব্যক্তি তোমার পরিবারে তোমার খিয়ানত করেছে। কাজেই তুমি তার নেকী হতে যত ইচ্ছা গ্রহণ কর। সুতরাং এ ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কি?
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... ইবন বুরায়দা (রহঃ) তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যারা যুদ্ধে যোগদান করে নি, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীরা এমন হারাম, যেমন তাদের মাতা তাদের জন্য হারাম। যদি মুজাহিদের পরিবারে কোন ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হয়, যে যুদ্ধে গমন না করে রয়ে গেছে, তাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য দাঁড় করান হবে, বলা হবেঃ হে অমুক! এ অমুক ব্যক্তি তুমি তার নেকী হতে যা ইচ্ছা গ্রহণ কর। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীবৃন্দের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের কি ধারণা, তোমরা কি মনে কর এ ব্যক্তি তার নেকী হতে কিছু ছেড়ে দেবে?
সুনানে নাসায়ি 3192SahihSahihHasan
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جَاهِدُوا بِأَيْدِيكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ " .
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জিহাদ কর তোমাদের হাত দ্বারা, তোমাদের জিহবা দ্বারা এবং তোমাদের মাল দ্বারা।
আবু মুহাম্মাদ ইবন মূসা ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি সাপ মারতে আদেশ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি ওদের প্রতিশোধ নেয়াকে ভয় করে, সে আমাদের (দ্বীনের) অন্তর্ভুক্ত নয়।
আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন জাবর তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতা জারর (রাঃ)-কে তাঁর রোগ শয্যায় দেখতে গেলেন। তাঁর নিকট গিয়ে দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছেঃ আমরা মনে করেছিলাম, তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্র রাস্তায় শহীদ না হলে তোমরা কাউকে শহীদ মনে কর না, এমন হলে তো তোমাদের শহীদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে। আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হওয়া শাহাদাত, পেটের পীড়ায় মরাও শাহাদাত, আগুনে পুড়ে মরাও শাহাদাত, পানিতে ডুবে মরাও শাহাদাত, কোন কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা শাহাদাত, নিউমোনিয়া জাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত্যুবরণও শাহাদাত, যে স্ত্রীলোক গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ। এক ব্যাক্তি বললেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে উপবিষ্ট আর তোমরা ক্রন্দন করছো? তিনি বললেন, তাদের কাঁদতে দাও। সে যখন মরে যাবে, তখন যেন তার জন্য কোন ক্রন্দনকারী ক্রন্দন না করে।
সুনানে নাসায়ি 3195SahihSahihHasan
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي الطَّائِيَّ - عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَبْرٍ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَيِّتٍ فَبَكَى النِّسَاءُ فَقَالَ جَبْرٌ أَتَبْكِينَ مَا دَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا قَالَ " دَعْهُنَّ يَبْكِينَ مَا دَامَ بَيْنَهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلاَ تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ " .
আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... জাবর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক মৃত ব্যাক্তির নিকট পৌঁছলেন। তখন মহিলাগন ক্রন্দন করতে লাগল। জাবর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত রয়েছেন, এমন সময় তোমরা ক্রন্দন করছো? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যতক্ষন সে তাদের মধ্যে (জীবিত) রয়েছে, ততক্ষন তাদেরকে কাঁদতে দাও। মৃত্যু হয়ে গেলে আর কেউ তার জন্য ক্রন্দন করবে না।
মূল পাঠ, অনুবাদ ও মান নির্ণয়: ওপেন-সোর্স Hadith API (fawazahmed0/hadith-api)। মান নির্ণয়গুলো উল্লিখিত মুহাদ্দিসদের।