। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন কাজ জিহাদের সমতুল্য হতে পারে? তিনি বললেনঃ তোমরা তা করতে পারবে না। তারা দুই অথবা তিনবার একই প্রশ্ন করল। প্রতি বারই তিনি বললেন, তোমরা তা করতে পারবে না। তৃতীয় বারে তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারী লোকের সাথে এমন লোকের তুলনা হতে পারে যে লোক অক্লান্তভাবে নামায-রোযায় ব্যস্ত থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলার পথের মুজাহিদ ফিরে না আসে। সহীহ, সহীহা (২৮৯৬), মুসলিম শিফাআ, আব্দুল্লাহ ইবনু হুবশী, আবূ মুসা, আবূ সাঈদ, উম্মু মালিক আল-বাহযিয়্যা ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটা আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার পথে জিহাদকারীর জন্য আমি নিজেই যামিন। আমি তার জীবনটা নিয়ে নিলে তবে তাকে জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেই। আমি তাকে (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) ফিরিয়ে আনলে তবে তাকে সাওয়াব বা গানীমাতসহ ফিরিয়ে আনি। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে সহীহ গারীব বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1621SahihSahihHasan SahihIsnaad Hasan
। ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির সকল প্রকার কাজের উপর সীলমোহর করে দেওয়া হয় (কাজের পরিসমাপ্তি ঘটে)। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় পাহারাদানরত অবস্থায় যে লোক মৃত্যুবরণ করে কিয়ামত পর্যন্ত তার কর্মের সাওয়াব বাড়ানো হতে থাকে এবং তিনি কবরের সকল ফিতনা হতে নিরাপদে থাকেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে-ই আসল মুজাহিদ। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৪) এবং (৩৮২৩), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫০), সহীহা (৫৪৯), সহীহ আবূ দাউদ (১২৫৮) আবূ ঈসা বলেন, উকবা ইবনু আমির ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ফাজালা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একদিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে রোযা আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছরের (পথের) দূরত্বে রাখবেন। (উরওয়া ও সুলাইমানের) একজনের বর্ণনায় সত্তর বছর এবং অপরজনের বর্ণনায় চল্লিশ বছর উল্লেখ আছে। প্রথম শব্দে (অর্থাৎ সত্তর বছর) হাদীসটি সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/৬২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। আবূল আসওয়াদের নাম মুহাম্মাদ, বাবা আবদুর রাহমান, দাদা নাওফাল আল-আসাদী আল-মাদানী। আবূ সাঈদ, আনাস, উকবা ইবনু আমির ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 1623SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মানুষ যদি একদিন আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় রোযা আদায় করে তাহলে সেই দিনটি তার চেহারা হতে জাহান্নামকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1624Hasan SahihHasan SahihIsnaad Hasan
। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি একদিন আল্লাহ তা'আলা রাস্তায় রোযা আদায় করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার ও জাহান্নামের মাঝখানে আকাশ ও যমীনের মাঝখানের দূরত্বের সমতুল্য একটি পরিখা সৃষ্টি করে দিবেন। হাসান সহীহ, সহীহা (৫৬৩) আবূ উমামার হাদীস হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
। খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় কিছু ব্যয় করে (এর বিনিময়ে) তার জন্য সাতশত গুণ সাওয়াব লেখা হয়। সহীহ, মিশকাত (৩৮২৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৬) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র আর-রুকাইন ইবনুর রাবীর সূত্রেই জেনেছি।
। আদী ইবনু হাতিম তাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, কোন রকমের দান-খাইরাত বেশি উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় সেবার উদ্দেশ্যে গোলাম দান করা, অথবা ছায়ার ব্যবস্থা করার জন্য তাবু দান করা বা আল্লাহর রাস্তায় জাওয়ান উষ্ট্রী দান করা। হাসান, তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুআবিয়া ইবনু আবূ সালিহের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যাইদ তার কোন কোন সনদে গড়মিল করেছেন। যিয়াদ ইবনু আইয়ূব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হাদীসটি “ওয়ালীদ ইবনু জামীল বর্ণনা করেছেন আবূ আব্দুর রাহমান আল কাসিম হতে, তিনি আবূ উমামা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
জামে তিরমিজি 1627HasanHasanHasan SahihIsnaad Hasan
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম সাদকা হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় ছায়া সৃষ্টির জন্যে তাবু দান করা, আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় সেবার উদ্দেশ্যে গোলাম দান করা অথবা আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জাওয়ান উস্ত্রী দান করা। হাসান, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমার মতে এই বর্ণনাটি মুআবিয়া ইবনু সালিহের বর্ণনার চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
জামে তিরমিজি 1628SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারী কোন যোদ্ধার যুদ্ধে যাওয়ার সকল সাজ-সরামের যোগাড় করল সে যেন নিজেই জিহাদ করল। আর যে মানুষ কোন সৈনিকের পরিবার-পরিজনের খোজখবর রাখলো সেও যেন জিহাদ করল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৫৯) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি এ সূত্র ব্যতীত অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদের জন্য কোন যোদ্ধার সাজ-সরঞ্জাম যোগাড় করে দিল অথবা তার পরিবার-পরিজনের খোঁজখবর রাখল, সে যেন নিজেই জিহাদ করল। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1630Isnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনু আবী সুলাইমান হতে, তিনি আতা হতে, তিনি যাইদ ইবনু খালিদ আল জুহানি হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
জামে তিরমিজি 1631SahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় কোন মুজাহিদের সাজ-সরঞ্জামের যোগাড় করে দিল সে যেন নিজেই জিহাদ করল। আর যে লোক কোন যোদ্ধার পরিবার-পরিজনের খোঁজখবর রাখলো সেও যেন জিহাদ করল। সহীহ, দেখুন এই হাদীসের পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সহীহ বলেছেন।
। ইয়াযীদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি পায়ে হেটে জুমুআর সালাত আদায় করতে যাচ্ছিলাম। এ সময় আবাইয়া ইবনু রিফাআ ইবনু রাফি (রাঃ) আমার সাথে মিলিত হন। তিনি (আমাকে) বললেন, তোমার জন্য সুখবর। আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায়ই তোমার এই পথ চলা। আবূ আবৃস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় যে লোকের পা দুটি ধুলিমলিন হয় তা জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম হয়ে যায়। সহীহ, ইরওয়া (১১৮৩), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আবূ আব্স-এর নাম আবদুর রাহমান ইবনু জাবর। আবূ বাকর (রাঃ) ও আরো একজন সাহাবী হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইয়াযীদ ইবনু আবূ মারইয়াম হচ্ছেন সিরিয়ার অধিবাসী। তার সূত্রে ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনু হামযা এবং আরো কয়েকজন সিরীয় মুহাদ্দিস হাদীস বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে কূফার অধিবাসী বুরাইদ ইবনু আবূ মারইয়ামের পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তার নাম মালিক, পিতা রাবীআ। বুরাইদ ইবনু আবী মারইয়াম আনাস ইবনু মালিকের নিকট হাদিস শুনেছেন। আবূ ইসহাক আল হামদানী, আতা ইবনুস সাইব, ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক ও শুবা প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বুরাইদ ইবনু আবী মারইয়াম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে যে লোক ক্ৰন্দন করে তার জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব যেমন অসম্ভব দোহন করা দুধ আবার পালানের মধ্যে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তা'আলার পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধুঁয়া কখনও একত্র হবে না (আল্লাহ্ তা'আলার পথের পথিক জাহান্নামে যাবে না)। সহীহ, মিশকাত (৩৮২৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১৬৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ তালহা (রাঃ)-এর মুক্তদাস ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান (রাহঃ) এর মুক্তদাস ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রাহমান (রাহঃ)। তিনি একজন মাদীনার অধিবাসী।
জামে তিরমিজি 1634SahihSahihDaif
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، أَنَّ شُرَحْبِيلَ بْنَ السِّمْطِ، قَالَ يَا كَعْبُ بْنَ مُرَّةَ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحْذَرْ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الإِسْلاَمِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَحَدِيثُ كَعْبِ بْنِ مُرَّةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . هَكَذَا رَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ وَأَدْخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ كَعْبِ بْنِ مُرَّةَ فِي الإِسْنَادِ رَجُلاً . وَيُقَالُ كَعْبُ بْنُ مُرَّةَ وَيُقَالُ مُرَّةُ بْنُ كَعْبٍ الْبَهْزِيُّ وَالْمَعْرُوفُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرَّةُ بْنُ كَعْبٍ الْبَهْزِيُّ وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ .
। সালিম ইবনু আবূল জাদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, শুরাহবীল ইবনুস সিমত (রাহঃ) বলেন, হে কা’ব ইবনু মুররা! আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শুনান এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে লোক মুসলিম অবস্থায় বুড়ো হল, তার জন্য কিয়ামতের দিন একটি বিশেষ আলোকবর্তিকা থাকবে। সহীহ, সহীহা (১২৪৪), মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৪৫৯) আবূ ঈসা বলেন, ফাযালা ইবনু উবাইদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। কাব ইবনু মুররার হাদীসটি হাসান। কাব ইবনু মুররার হাদীসটি আমর ইবনু মুররা হতে আমাশ এরূপই বর্ণনা করেছেন। মানসূর-সালিম ইবনু আবিল জাদ হতেও এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে সনদের মধ্যে অন্য একজন বর্ণনাকারীকে সালিম ও কাব-এর মাঝখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাকে কাব ইবনু মুররাও বলা হয় এবং মুররা ইবনু কাব আল-বাহযীও বলা হয়। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী হিসাবেই মুররা ইবনু কাব আল-বাহষী (রাঃ) প্রসিদ্ধ ও স্বতন্ত্র ব্যক্তি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেকগুলো হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে, তার জন্য কিয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা থাকবে। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। হাইওয়া ইবনু শুরাইহু হচ্ছেন ইয়ামীদ আল-হিমসী-এর ছেলে।
জামে তিরমিজি 1636SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাধা রয়েছে। তিন প্রকার মানুষের জন্য ঘোড়া তিন ধরণের ফল বয়ে আনে। তা কোন মানুষের জন্য সাওয়াবের মাধ্যম, কোন মানুষের জন্য আবরণস্বরূপ এবং কোন মানুষের জন্য গুনাহের কারণ হয়ে থাকে। এটা সেই প্রকার মানুষের জন্য সাওয়াবের মাধ্যম হয় যে আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (জিহাদের উদ্দেশ্যে) তা লালন-পালন করে এবং এটাকে (সর্বদা) প্রস্তুত রাখে। এটা তার জন্য সাওয়াবের মাধ্যম হবে। সে এর পেটে যা কিছুই ঢালে আল্লাহ তা'আলা তার বিনিময়ে তার জন্য সাওয়াব লিখে দেন। সহীহ, মুসলিম এ হাদীসে আরও বিবরণ আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মত মালিক ইবনু আনাস-যাইদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইসূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ নাজীহ আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় যে লোক তীর ছুড়লো তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করার অনুরূপ সাওয়াব। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮১২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সহীহ বলেছেন। আবূ নাজীহর নাম আমর, পিতা আবাসা আস-সুলামী। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ নামেও আবদুল্লাহ ইবনুল আযরাক (রাহঃ)-এর পরিচিত রয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না। আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে যে চোখ ক্ৰন্দন করে এবং আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় যে চোখ (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে ঘুমবিহীনভাবে রাত পার করে দেয়। সহীহ, মিশকাত (৩৮২৯), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৩) আবূ ঈসা বলেন, উসমান ও আবূ রাইহানা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শুয়াইব ইবনু যুরাইক-এর সূত্রেই জেনেছি।
জামে তিরমিজি 1640SahihSahihSahih
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ الْيَرْبُوعِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُكَفِّرُ كُلَّ خَطِيئَةٍ " . فَقَالَ جِبْرِيلُ إِلاَّ الدَّيْنَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ الدَّيْنَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي قَتَادَةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هَذَا الشَّيْخِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ وَقَالَ أُرَى أَنَّهُ أَرَادَ حَدِيثَ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَسُرُّهُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا إِلاَّ الشَّهِيدُ " .
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে মৃত্যুবরণ করা সকল পাপের কাফফারা হয়ে যায়। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, ঋণ ব্যতীত (তা ক্ষমা করা হয় না)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঋণ ব্যতীত। সহীহ, মুসলিম ইবনু উমার হতে, ইরওয়া (১১৯৬), গাইয়াতুল মারাম (৩৫১), তাখরাজ মুশকিলাতুল ফাকর (৬৭) আবূ ঈসা বলেন, কাব ইবনু উজরা, জাবির, আবূ হুরাইরা ও আবূ কাতাদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের নিকট হতে এই শাইখ (ইয়াহইয়া ইবনু তালহা) কর্তৃক বর্ণিত সূত্রেই জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে উল্লেখিত হাদীস প্রসঙ্গে আমি (তিরমিয়ী) প্রশ্ন করলে এ বিষয়ে তিনি তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় তিনি হয়ত আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হুমাইদ এর হাদীসটি বুঝাতে চেয়েছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাত হতে পৃথিবীতে ফিরে আসতে শহীদ ব্যতীত অন্য কেউই আনন্দবোধ করবে না।”
। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবুজ পাখির মধ্যে শহীদদের রূহ অবস্থান করে। তারা জান্নাতের বৃক্ষসমূহের ফল ভক্ষণ করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২৭১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবার আগে যে তিনজন জান্নাতে যাবে তাদেরকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। শহীদ, হারাম ও সংশয়পূর্ণ জিনিস হতে ও অপরের নিকটে হাত পাতা হতে দূরে অবস্থানকারী এবং উত্তমরূপে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতকারী ও মনিবদের কল্যাণকামী গোলাম। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/২৬৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
জামে তিরমিজি 1643SahihSahihSahihSahih - Agreed Upon
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট সঞ্চিত সাওয়াবের অধিকারী যে কোন বান্দার মৃত্যুর পর তাকে পৃথিবী এবং এর সকল কিছু দিলেও সে আবার পৃথিবীতে চলে আসা পছন্দ করবে না। কিন্তু যখন শহীদ ব্যক্তি শাহাদাত লাভের ফায়ীলাত ও মর্যাদা প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাবে তখন সে আবার দুনিয়াতে আসতে আগ্রহী হবে, যাতে সে আবার আল্লাহ তা'আলার পথে শহীদ হতে পারে। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু আবী উমার বলেন, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ বলেছেন যে, আমর ইবনু দীনার যুহরীর চাইতে বয়সে বড় ছিলেন।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ শহীদ চার প্রকারের।। (১) উত্তম ঈমানের অধিকারী মুমিন, যে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, অবশেষে মারা যায়। কিয়ামতের দিন লোকেরা তার প্রতি এভাবে উপরে চোখ তুলে তাকাবে, এই বলে তিনি মাথা উপরের দিকে তুলে (বাস্তবরূপে) দেখালেন, এমনকি তার মাথার টুপি পড়ে গেল। রাবী বলেন, এখানে উমারের টুপির কথা বলা হয়েছে না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের টুপি বুঝানো হয়েছে তা আমার জানা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (২) আরেক ব্যক্তিও উত্তম ঈমানের অধিকারী মু’মিন। সেও শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়, কিন্তু ভীরুতার কারণে তার দেহ এমনভাবে কম্পিত হতে থাকে যেন তাকে বাবলা গাছের কাঁটাযুক্ত ডাল দিয়ে মারা হয়েছে। একটি অদৃশ্য তীর এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলে তার আঘাতে সে মারা গেল! এ হল দ্বিতীয় পর্যায়ের শহীদ। (৩) আরেক মুমিন ব্যক্তি তার ভাল কাজের সাথে কিছু খারাপ কাজও করে ফেলেছে। সে শত্রুর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে অবশেষে মারা যায়। এ ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ের শহীদ। (৪) অপর মু'মিন ব্যক্তি নিজের উপর যুলুম করেছে। সেও শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, তারপর মারা যায়। এই ব্যক্তি চতুর্থ স্তরের শহীদ। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৮৫৮), যঈফা (২০০৪) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আতা ইবনু দীনারের বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, সাঈদ ইবনু আবূ আইউব (রাহঃ) আতা ইবনু দীনার হতে, তিনি বানু খাওলানের কিছু শাইখের সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে আবূ ইয়াযীদের উল্লেখ নেই। তিনি আরও বলেনঃ আতা ইবনু দীনারের মধ্যে কোন দোষ নেই।
জামে তিরমিজি 1645SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলহানের মেয়ে উম্মু হারামের বাসায় গেলে তিনি তাকে খাবার খাওয়াতেন। উম্মু হারাম (রাঃ) ছিলেন উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী। এক দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাসায় গেলে তিনি তাকে খাওয়ান এবং তার ঘুমানোর ব্যবস্থা করে তার মাথায় বিলি কাটতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে যান। তারপর তিনি হাসতে হাসতে ঘুম হতে জেগে উঠেন। তিনি (উম্মু হারাম) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি কারণে হাসছেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোককে (স্বপ্নে) আমার সামনে হাযির করা হল। তারা সাগরের বুকে সিংহাসনে বসা শাসকের মত সাওয়ার হয়ে আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (নৌ) যুদ্ধে নিয়োজিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা'আলার নিকট আমার জন্য দু’আ করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। তিনি তার জন্য দু'আ করেন এবং (বালিশে) মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি পুনরায় হাসতে হাসতে ঘুম হতে সজাগ হন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছেন কেন? তিনি বললেনঃ আমার সামনে আমার উন্মাতের এক দল লোককে (স্বপ্লে) হাযির করা হয়, যারা আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (নেী) যুদ্ধে নিয়োজিত। তিনি পূর্বানুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি (উম্মু হারাম) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আমার জন্য দু’আ করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর রাজত্বকালে উম্মু হারাম (রাঃ) নৌযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নৌযুদ্ধ হতে ফিরে এসে তার সাওয়ারী হতে পড়ে গিয়ে মারা যান। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উম্মু হারাম (রাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর বোন এবং আনাস (রাঃ)-এর খালা।
জামে তিরমিজি 1646SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, এক লোক বীরত্ব দেখানোর উদ্দেশ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, এক লোক গোত্রীয় মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে এবং এক লোক মানুষকে দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে এদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার পথে তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার বাণীকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে শুধুমাত্র সে-ই আল্লাহর পথে (জিহাদ করে)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৮৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিজি 1647SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল কর্মের ফলাফল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়্যাত (উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য) মতো ফলাফল রয়েছে। সুতরাং যে মানুষের হিজরাত আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে, আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই তার হিজরাত পরিগণিত হয়। যে মানুষের হিজরাত দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য সে তা-ই অর্জন করবে। অথবা তার হিজরাত কোন নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হলে সে যে উদ্দেশ্যে হিজরাত করেছে তার হিজরাত সেই উদ্দেশ্যের জন্যেই পরিগণিত হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২২৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের সূত্রে মালিক ইবনু আনাস, সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্য ইমামগণও বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের বর্ণনার মাধ্যমেই জেনেছি। আব্দুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেন, এই হাদীস প্রত্যেক অনুচ্ছেদেই সংযোজন করা উচিত।
। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় একটি সকালের ব্যয় পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৫৬), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, আবূ আইয়ূব ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় একটি সকালের অথবা একটি বিকালের ব্যয় পৃথিবী ও তার মধ্যকার সব কিছু হতে উত্তম। সহীহ, ইরওয়া (৫/৩-৪), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। যে আবূ হাযিম সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি ছিলেন আবূ হাযিম আয-যাহিদ আল-মাদানী, তার নাম সালামা ইবনু দীনার। আর এই আবূ হাযিম যিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি ছিলেন আৰূ হাযিম আল-আশজাঈ আল-কূফী, তার নাম সালমান এবং তিনি আযযা আল-আশজাইয়্যার আযাদকৃত গোলাম।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে একজন সাহাবী একটি পাহাড়ী উপত্যকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে স্থানে একটি মিঠা পানির ছোট ঝর্ণা ছিল। নির্মল-স্বচ্ছ এই ঝর্ণার পানির স্বাদ ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি (মনে মনে) বললেন, আমি যদি সাখীদের হতে আলাদা হয়ে এই উপত্যকায় থেকে যেতাম! আমি তা কখনও করতে পারি না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি ব্যতীত। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করলেন। তিনি বললেনঃ তা কখনো কর না। কেননা তোমাদের কেউ বাড়ীতে থেকে সত্তর বছর ধরে নামায আদায় করার চেয়েও কিছু সময় আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় অবস্থান করা উত্তম। তোমরা কি এটা পছন্দ কর না যে, তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে দাখিল করান? তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদ কর। যে লোক আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দুইবার উষ্ট্রী দোহনের মধ্যবর্তী পরিমাণ সময় যুদ্ধ করে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায়। হাসান, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1651SahihSahihSahihSahih - Agreed Upon
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে এক সকাল অথবা এক বিকাল ব্যয় করা অবশ্যই পৃথিবী ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তোমাদের কারো ধনুকের জ্যা অথবা হাত পরিমাণ জান্নাতের জায়গা পৃথিবী ও তার মধ্যকার সকল কিছু হতে উত্তম। জান্নাতের মহিলাদের কেউ পৃথিবীর দিকে একবার উকি দিয়ে দেখলে অবশ্যই আকাশ-যমীনের মাঝে অবস্থিত সবকিছু আলোকিত হয়ে যেত এবং দুনিয়ার সমস্ত জায়গা সুগন্ধময় হয়ে যেত। তার মাথার ওড়নাটিও পৃথিবী ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৫৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কে উত্তম মানুষ, আমি কি তোমাদের তা জানিয়ে দেবো না? আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় যে নিজের ঘোড়ার লাগাম ধরে প্রস্তুত থাকে। আমি কি তোমাদের বলে দেবো না, তারপর কোন মানুষ উত্তম? যে নিজের মেষপাল নিয়ে মানুষদের কাছ হতে দূরে অবস্থান করে থাকে এবং তাতে আল্লাহ তা'আলার যে হক (যাকাত) রয়েছে তা দিয়ে দেয়। কে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট লোক তা কি আমি তোমাদের বলে দেবো না? যার নিকট আল্লাহ্ তা'আলার নাম নিয়ে কিছু চাওয়া হয় কিন্তু (সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) দান করে না। সহীহ, সহীহা (২৫৫), তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৩) হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
। সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট সত্যিকারভাবে সর্বান্তকরণে শাহাদাতের প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মনযিলে পৌছাবেন, সে তার বিছানাতে মারা গেলেও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৯৭), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাহমান ইবনু শুরাইহ-এর সূত্রেই জেনেছি। এ হাদীসটি আবদুর রাহমান ইবনু শুরাইহ হতে আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমানের উপনাম আবূ শুরাইহ, তিনি ইসকান্দারিয়ার অধিবাসী। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিজি 1654SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সত্যিকারভাবেই আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ্ তা'আলার পথে নিহত হওয়ার জন্য তার নিকট প্রার্থনা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে শহীদের সাওয়াব দান করবেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৯২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তিন প্রকারের মানুষকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদকারী, মুকাতাব গোলাম- যে চুক্তির অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা করে এবং বিবাহে আগ্রহী লোক- যে বিয়ের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৫১৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1656SahihSahihHasan SahihSahih - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ إِلاَّ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে যে মানুষই আহত হয়, আর আল্লাহ তা'আলা ভালভাবেই জানেন, তার পথে কে আহত হয়; সে এমনভাবে কিয়ামত দিবসে হাযির হবে যে, রক্তের রং-এর মত হবে তার জখমের রং এবং কস্তুরীর সুগন্ধির মত হবে এর ঘ্ৰাণ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৯৫), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম লোক আল্লাহ তা'আলার পথে উষ্ট্রীর দুইবার দুধ দোহনের মধ্যবর্তী (সময়ের পরিমাণ) সময় জিহাদ করল তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে গেছে। আল্লাহ তা'আলার পথে যে লোক আহত হল অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হল, এই জখম কিয়ামতের দিবসে আরো তাজা হয়ে উপস্থিত হবে। এই জখমের রং যাফরানের মত হবে এবং এর ঘ্ৰাণ কন্তুরীর মত সুগন্ধময় হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৯২) এ হাদীসটি সহীহ।
জামে তিরমিজি 1658Hasan SahihHasan SahihHasan SahihIsnaad Hasan
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলঃ সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ কোনটি এবং উত্তম বা কল্যাণকর কোন ধরণের কাজ? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা। আবার প্রশ্ন করা হল, এরপর কোন জিনিস উত্তম? তিনি বললেনঃ জিহাদ হচ্ছে সকল কাজের চূড়া বা শিখর। আবার প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর কোন জিনিস উত্তম? তিনি বললেনঃ (আল্লাহ্ তা'আলার নিকট) কুবুল হওয়া হাজ্জ। হাসান সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ বকর ইবনু আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে (যুদ্ধক্ষেত্রে) বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজাসমূহ। দলের উস্ক খুষ্ক একজন লোক বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি তা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তার সাঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তোমাদের বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি। এই বলে তিনি নিজ তলোয়ারের খাপ ভেঙ্গে ফেললেন এবং তলোয়ার দ্বারা (শত্রুর প্রতি) আঘাত হানতে থাকেন। অবশেষে তিনি নিহত হন। সহীহ, ইরওয়া (৫/৭), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র জাফর ইবনু সুলাইমান আয-যুবাঈর সূত্রেই জেনেছি। আবূ ইমরান আল-জাওনীর নাম আবদুল মালিক, পিতা হাবীব। আবূ বাকর ইবনু আবূ মূসার ব্যাপারে আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ) বলেন, এটাই তার নাম, উপনাম নয়।
জামে তিরমিজি 1660SahihSahihHasan SahihSahih - Agreed Upon
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলঃ কোন ধরণের মানুষ সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে যে সকল মানুষ জিহাদ করে। তারা আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? তিনি বললেনঃ পাহাড়ের কোন উপত্যকায় যে মু'মিন আশ্রয় নিয়ে নিজের প্রতিপালককে ভয় করে চলে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট হতে নিরাপদে রাখে। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৩), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1661SahihSahihHasan SahihIsnaad Sahih
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে বসবাসকারীদের মধ্যে শহীদ ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউই পৃথিবীতে ফিরে আসার উৎসাহ বোধ করবে না। শহীদ ব্যক্তিই আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে যেসব নিয়ামাত ও মর্যাদা দিবেন তা দেখে সে বলবে, আমি দশবার আল্লাহর রাস্তায় নিহত হব। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1662Sahih - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। মিকদাম ইবনু মা'দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করা হয়, তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তরজন জান্নাতী হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তার সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে। সহীহ, আহকা-মুল জানায়িজ (৩৫-৩৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১৯৪), সহীহা (৩২১৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
জামে তিরমিজি 1664SahihSahihHasan SahihSahih - Bukhari And Muslim
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার উপরের সকল কিছু হতে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও তার মধ্যকার (উপরের) সব কিছু হতে উত্তম। (জিহাদের মাঠে) বান্দার এক বিকাল অথবা এক সকালের ব্যয় পৃথিবী ও তার উপরের সকল কিছু হতে কল্যাণকর। সহীহ, বুখারী (২৭৯৪, ২৮৯২, ৬৪১৫) এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ) বলেন, কোন এক সময় শুরাহবীল ইবনুস সিমতের সামনে দিয়ে সালমান ফারসী (রাঃ) পথ চলছিলেন। তিনি তখন তার ঘাটিতে পাহারারত ছিলেন। তার ও তার সার্থীদের জন্য পাহারার কাজটি খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তিনি (সালমান) বললেন, হে সিমতের পুত্র! আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস বলব, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শুনেছি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সালমান (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এক দিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া একাধারে এক মাস রোযা রাখা এবং রাতে নামায আদায় হতেও উত্তম ও বেশি কল্যাণকর। এই কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় যে লোক মারা যাবে তাকে কবরের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে মুক্তি দেওয়া হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার আমল পরিবর্ধিত করা হবে। সহীহ, ইরওয়া (১২০০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (নিজ দেহে) জিহাদের কোন চিহ্ন ব্যতীত আল্লাহ তা'আলার নিকটে হাযির হবে, তার দীনদারী ও কাজের মধ্যে বিরাট ত্রুটি থেকে যাবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৭৬৩) আবূ ঈসা বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে ইসমাঈল ইবনু রাফি-এর সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনু রাফিকে কোন কোন হাদীস বিশারদ দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী বা তার সমপর্যায়ভুক্ত (মুকারিবুল হাদীস)। উল্লেখিত হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। সালমানের হাদীসের সনদ মুত্তাসিল নয়, কেননা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির সালমানের সাক্ষাৎ পান নাই। এই হাদীসটি আইয়ুব ইবনু মূসার সূত্রে, তিনি মাকহুল হতে তিনি শুরাহবীল হতে তিনি সালমান হতে হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর গোলাম আবূ সালিহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে মিম্বারের উপরে দাড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি (উসমান) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনা একটি হাদীস তোমাদেরকে বলিনি এই ভয়ে যে, হয়ত (তা শুনে) তোমরা আমার নিকট হতে আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু পরে আমার উপলব্ধি হল যে, তোমাদের নিকট এটা বর্ণনা করি, যাতে নিজের জন্য প্রত্যেকে তা পছন্দ করে নিতে পারে যা তার নিকট ভাল মনে হয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ অন্য (কোন কাজে) কোথাও এক হাজার দিন কাটানোর চাইতে এক দিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া (বা শত্রুর অপেক্ষায় থাকা) বেশি কল্যাণকর। হাসান, তা’লীকুর রাগীব, তাহকীক ছানী (২/১৫২), তা’লীক আলা-আহাদীস মুখতারাহ (৩০৫-৩১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ সালিহ-এর নাম বুরকান।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদ ব্যক্তি মৃত্যুর কষ্ট ততটুকু অনুভর করে, তোমাদের কাউকে একবার চিমটি কাটলে! সে যতটুকু কষ্ট অনুভব করে। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮০২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু'টি ফোটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে বেশি প্রিয় আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আর কিছু নেই। আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে যে অশ্রুর ফোটা পড়ে, আল্লাহ্ তা'আলার পথে (জিহাদে) যে রক্তের ফোটা নির্গত হয় এবং আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (জিহাদে) যে চিহ্ন (ক্ষত) সৃষ্টি হয়, আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত কোন ফরজ আদায় করতে গিয়ে যে চিহ্ন সৃষ্টি হয় (যেমন কপালে সিজদার চিহ্ন)। হাসান, মিশকাত (৩৮৩৭), তা’লীকুর রাগীব (২/১৮০) এ হাদীসটি হাসান গারীব।
মূল পাঠ, অনুবাদ ও মান নির্ণয়: ওপেন-সোর্স Hadith API (fawazahmed0/hadith-api)। মান নির্ণয়গুলো উল্লিখিত মুহাদ্দিসদের।