মূল বিষয়ে যান
Sunni Islam নির্দেশনা, ইবাদতের টুলস ও বিশুদ্ধ উৎস
49

মুয়াত্তা ইমাম মালেক

The Description of the Prophet, may Allah Bless Him and Grant Him Peace

40 টি হাদিস

মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1671 Sahih

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلاَ بِالْقَصِيرِ وَلَيْسَ بِالأَبْيَضِ الأَمْهَقِ وَلاَ بِالآدَمِ وَلاَ بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلاَ بِالسَّبِطِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

রেওয়ায়ত ১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লম্বা বা অধিক খাটো ছিলেন না। আর না তিনি চুনের মতো সাদা ছিলেন, না একেবারে শ্যাম বর্ণ ছিলেন (বরং সাদা লাল মিশান রং ছিল)। তাহার চুল মুবারক (হাবশীদের মতো) খুব কোঁকড়ানও ছিল না আর একেবারে সোজাও ছিল না। যখন তিনি চল্লিশ বৎসর বয়সের হইলেন তখন আল্লাহ তা’আলা তাহাকে নবী করিলেন। নবী হওয়ার পর দশ বৎসর তিনি মক্কায় অবস্থান করিলেন। ষাট বৎসর বয়সে ইনতিকাল করেন।[1] ঐ সময় তাহার চুল ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা হয় নাই।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 1
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1672 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَرَانِي اللَّيْلَةَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَرَأَيْتُ رَجُلاً آدَمَ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنَ اللِّمَمِ قَدْ رَجَّلَهَا فَهِيَ تَقْطُرُ مَاءً مُتَّكِئًا عَلَى رَجُلَيْنِ - أَوْ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ - يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا قِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ثُمَّ إِذَا أَنَا بِرَجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ أَعْوَرِ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ لِي هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি কাবার কাছে রহিয়াছি এবং সেই অবস্থায় আমি মেটে রঙের একজন লোক দেখিলাম যেরূপ মেটে রঙের সুশ্রী লোক হইয়া থাকে। তাহার স্কন্ধদেশ পর্যন্ত চুল বিলম্বিত। তাহার চুলে তিনি চিরুনী দিয়া আঁচড়াইয়াছেন এবং উহা হইতে তখনও পানি ঝরিতেছে। তিনি দুইজন লোকের উপর ভর করিয়া অথবা তিনি বলিয়াছেন দুইজন লোকের স্কন্ধে ভর করিয়া কাবার তাওয়াফ করিতেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইনি কে? আমাকে উত্তর দেওয়া হইল, ইনি মসীহ ইবন মরিয়ম। অতঃপর আমি অন্য একজন লোককে দেখিলাম (যাহার) চুল খুব কোঁকড়ান। ডান চোখ তাহার কানা যেন ঐ চক্ষু ফোলা আঙ্গুর। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, এই ব্যক্তি কে? কেহ উত্তর দিল, ইনি মসীহ দাজ্জাল।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 2
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1673 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ تَقْلِيمُ الأَظَافِرِ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَالاِخْتِتَانُ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, প্রকৃতিগত সুন্নত পাঁচটি : (১) নখ কাটা, (২) গোঁফ কাটা, (৩) বগলের পশম উপড়াইয়া ফেলা, (৪) নাভীর নিচের চুল কামান, (৫) খাতনা করা।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 3
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1674 Maqtu Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ النَّاسِ ضَيَّفَ الضَّيْفَ وَأَوَّلَ النَّاسِ اخْتَتَنَ وَأَوَّلَ النَّاسِ قَصَّ الشَّارِبَ وَأَوَّلَ النَّاسِ رَأَى الشَّيْبَ فَقَالَ يَا رَبِّ مَا هَذَا فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَقَارٌ يَا إِبْرَاهِيمُ ‏.‏ فَقَالَ رَبِّ زِدْنِي وَقَارًا ‏.‏ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ يُؤْخَذُ مِنَ الشَّارِبِ حَتَّى يَبْدُوَ طَرَفُ الشَّفَةِ وَهُوَ الإِطَارُ وَلاَ يَجُزُّهُ فَيُمَثِّلُ بِنَفْسِهِ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৪. সায়ীদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন, ইবরাহীম (আঃ) সর্বপ্রথম মেহমানদারী করিয়াছেন, সর্বপ্রথম খাতনা করিয়াছেন, সর্বপ্রথম গোঁফ কাটিয়াছেন, আর সর্বপ্রথম সাদা চুল দেখিয়া বলিয়াছেন, ইয়া আল্লাহ, ইহা কি? আল্লাহ তা’আলা বলিলেনঃ ইহা ইজ্জত ও সম্মান। ইবরাহীম (আঃ) বলিলেনঃ হে প্রভু, আমার সম্মান বাড়াইয়া দাও। মালিক (রহঃ) বলেন, গোফ এমনভাবে কাটা উচিত যেন ঠোঁটের কিনারা দেখা যায়। একেবারে কামাইয়া ফেলিবে না।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 4
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1675 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّلَمِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ بِشِمَالِهِ أَوْ يَمْشِيَ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ وَأَنْ يَشْتَمِلَ الصَّمَّاءَ وَأَنْ يَحْتَبِيَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৫. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতে খাইতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি এক জুতা পরিধান করিয়া চলিতে, এক কাপড়ে নিজেকে ঢাকিয়া লইতে যাহাতে লজ্জাস্থানে কোন কাপড় না থাকে নিষেধ করিয়াছেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 5
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1676 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যখন কোন মুসলিম খাইতে বসে তখন ডান হাতে তাহার খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় এবং পান করে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 6
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1677 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِهَذَا الطَّوَّافِ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ فَتَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَمَا الْمِسْكِينُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ الَّذِي لاَ يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ وَلاَ يَفْطُنُ النَّاسُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ وَلاَ يَقُومُ فَيَسْأَلَ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে সে মিসকীন নহে, যাহাকে এক লোকমা, দুই লোকমা একটি খেজুর বা দুইটি খেজুর দান করা হয়। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহা হইলে মিসকীন কাহারা? তিনি বলিলেন, যাহার নিকট এই পরিমাণ মাল নাই যাহা সে নিজের প্রয়োজন মিটাইতে পারে আর তাহার অবস্থা কাহারও জানা নাই যে, তাহাকে সাদকা দেওয়া যাইতে পারে, আর না সে লোকের নিকট চাহিয়া বেড়ায়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 7
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1678 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ ابْنِ بُجَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، ثُمَّ الْحَارِثِيِّ عَنْ جَدَّتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ رُدُّوا الْمِسْكِينَ وَلَوْ بِظِلْفٍ مُحْرَقٍ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৮. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে, তিনি ইবন বুজাইদ আনসারী আল হারেসী (রাঃ) হইতে এবং তিনি তাহার দাদা হইতে রেওয়ায়ত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন যে, মিসকীনদেরকে (যাহা কিছু সম্ভব হয়) দাও, যদিও পোড়া খুর হউক না কেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 8
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1679 Sahih

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَأْكُلُ الْمُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, মুসলিম এক অন্ত্রে খায় এবং কাফির সাত অন্ত্রে খায়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 9
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1680 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلاَبَهَا ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ حَتَّى شَرِبَ حِلاَبَ سَبْعِ شِيَاهٍ ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلاَبَهَا ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ১০. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক কাফির (জাহজা ইবন সাঈদ গেফারী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মেহমান হইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছাগলের দুধ দোহন করিতে নির্দেশ দান করিলেন। (কাফির) মেহমান সমস্ত দুধ পান করিল। আবার দ্বিতীয় ছাগলের দুধ দোহন করা হইলে পর লোকটি উহাও সব পান করিল। অতঃপর তৃতীয় ছাগলের দুধও সব পান করিল। এইভাবে একে একে সাতটি ছাগলের দুধ সে (একাই) পান করিল। পরদিন সকালে লোকটি ইসলাম গ্রহণ করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে একটি ছাগলের দুধ পান করিতে দিলেন। কিন্তু সে তাহা পান করিতে সক্ষম হইল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেন, মুসলিম এক নাড়ীভূঁড়িতে পান করে, কিন্তু কাফির সাত নাড়ীভুড়িতে পান করে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 10
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1681 Sahih

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ১১. উম্মে সালমা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি রৌপ্যের (অথবা স্বর্ণের) পাত্রে করিয়া পানাহার করে, সে স্বীয় পেটে ঘটাঘট জাহান্নামের আগুন ভরিয়া লয়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 11
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1682 Hasan

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبٍ، مَوْلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَسَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنِ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ لَهُ أَبُو سَعِيدٍ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَرْوَى مِنْ نَفَسٍ وَاحِدٍ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَأَبِنِ الْقَدَحَ عَنْ فِيكَ ثُمَّ تَنَفَّسْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أَرَى الْقَذَاةَ فِيهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَهْرِقْهَا ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ১২. আবু মুসান্না জুহনী (রহঃ) বলেন, আমি মারওয়ান ইবন হাকাম (রাঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) আগমন করিলেন, তখন মারওয়ান তাহাকে বলিলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনিয়াছেন যে, তিনি পানিতে (কিংবা পানীয় বস্তুতে) শ্বাস ফেলিতে (ফুঁ দিতে) নিষেধ করিয়াছেন? আবু সাঈদ (রাঃ) উত্তর দিলেন, জি হ্যাঁ। এক ব্যক্তি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এক নিশ্বাসে (পানি পান করিয়া) তৃপ্ত হই না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, পাত্রটিকে মুখ হইতে পৃথক করিয়া নিশ্বাস গ্রহণ কর। সেই ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, পানিতে কোন ময়লা (জাতীয় কিছু ভাসিতে) দেখিলে তখন কি করিব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন (কিছু পানিসহ) সেইটা বাহিরে ফেলিয়া দাও।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 12
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1683 Mauquf Daif

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَعَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، كَانُوا يَشْرَبُونَ قِيَامًا ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৩. মালিক (রহঃ) সংবাদ পাইয়াছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ), আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) ও উসমান ইবন আফফান (রাঃ) দাঁড়াইয়া পানি পান করিতেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 13
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1684 Mauquf Daif

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، وَسَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، كَانَا لاَ يَرَيَانِ بِشُرْبِ الإِنْسَانِ وَهُوَ قَائِمٌ بَأْسًا ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৪. ইবন শিহাব (রহঃ)-এর বর্ণনা হইল যে, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) ও সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) দাঁড়াইয়া পানি পান করাকে খারাপ মনে করিতেন না।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 14
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1685 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْقَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَشْرَبُ قَائِمًا ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৫. আবু জাফর কারী (রহঃ) বলিয়াছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে দাঁড়াইয়া পানি পান করিতে দেখিয়াছেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 15
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1686 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَشْرَبُ قَائِمًا ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৬. আমির ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তাহার পিতা দাঁড়াইয়া পানি পান করিতেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 16
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1687 Sahih

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَبَنٍ قَدْ شِيبَ بِمَاءٍ مِنَ الْبِئْرِ وَعَنْ يَمِينِهِ أَعْرَابِيٌّ وَعَنْ يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فَشَرِبَ ثُمَّ أَعْطَى الأَعْرَابِيَّ وَقَالَ ‏ "‏ الأَيْمَنَ فَالأَيْمَنَ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৭. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে দুগ্ধ আনয়ন করা হইল। উহাতে পানি মিশ্রিত ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান দিকে উপবিষ্ট ছিলেন জনৈক মরুবাসী এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুগ্ধ পান করিলেন এবং সেই মরুবাসী লোকটিকে পান করিতে দিলেন আর বললেন, ডানদিক হইতে পরিবেশন কর।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 17
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1688 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ مِنْهُ وَعَنْ يَمِينِهِ غُلاَمٌ وَعَنْ يَسَارِهِ الأَشْيَاخُ فَقَالَ لِلْغُلاَمِ ‏ "‏ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أُعْطِيَ هَؤُلاَءِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الْغُلاَمُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ أُوثِرُ بِنَصِيبِي مِنْكَ أَحَدًا ‏.‏ قَالَ فَتَلَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَدِهِ ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৮. সাহল ইবন সা’দ আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে দুগ্ধ আনয়ন করা হইল। তিনি পান করিলেন। তাহার ডান দিকে একটি বালক এবং বাম দিকে কয়েকজন বৃদ্ধ লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকটিকে বলিলেন, তুমি অনুমতি দিলে আমি আগে এই (বাম দিকের) বৃদ্ধ লোকদেরকে দিই? বালকটি বলিল, না, আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার উচ্ছিষ্ট হইতে আমার অংশ আমি কাহাকেও দিতে চাহি না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে তাহাকেই দিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 18
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1689 Sahih

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لأُمِّ سُلَيْمٍ لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَعِيفًا أَعْرِفُ فِيهِ الْجُوعَ فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَىْءٍ فَقَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ ثُمَّ أَخَذَتْ خِمَارًا لَهَا فَلَفَّتِ الْخُبْزَ بِبَعْضِهِ ثُمَّ دَسَّتْهُ تَحْتَ يَدِي وَرَدَّتْنِي بِبَعْضِهِ ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَهَبْتُ بِهِ فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ النَّاسُ فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ آرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لِلطَّعَامِ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَنْ مَعَهُ ‏"‏ قُومُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ حَتَّى جِئْتُ أَبَا طَلْحَةَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاسِ وَلَيْسَ عِنْدَنَا مِنَ الطَّعَامِ مَا نُطْعِمُهُمْ ‏.‏ فَقَالَتِ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَهُ حَتَّى دَخَلاَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَلُمِّي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا عِنْدَكِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَتْ بِذَلِكَ الْخُبْزِ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَفُتَّ وَعَصَرَتْ عَلَيْهِ أُمُّ سُلَيْمٍ عُكَّةً لَهَا فَآدَمَتْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ بِالدُّخُولِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ حَتَّى أَكَلَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ رَجُلاً أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلاً ‏.‏

রেওয়ায়ত ১৯. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আবু তালহা (আনাস ইবন মালিকের মাতা-উম্মে সুলাইম-এর দ্বিতীয় স্বামী) উম্মে সুলাইমকে বলিলেন যে, আমি দেখিলাম, ক্ষুধার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আওয়ায বাহির হইতেছে না। তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি? (ইহা শুনিয়া) উম্মে সুলাইম বলিল, হ্যাঁ আছে। অতঃপর যবের তৈরি কিছু রুটি সে বাহির করিল এবং একখানা কাপড়ে আবৃত করিয়া আমার (আনাসের) হাতে দিয়া দিল। অতঃপর আমার গায়ে একখানা কাপড় পরাইয়া আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে পাঠাইয়া দিল। আমি উহা লইয়া যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হইলাম, তখন তিনি মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। অনেক লোক তাহার কাছে বসা ছিল। আমি দাঁড়াইয়া রহিলাম। তিনি নিজেই জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাকে আবু তালহা পাঠাইয়াছে কি? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি (আবার) জিজ্ঞাসা করিলেন, খাদ্য লইয়া পাঠাইয়াছে? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত) সকলকে বলিলেন, তোমরা সকলেই উঠ। অতএব সকলেই উঠিল। আমি আগে আগে ছিলাম (আর উহারা আমার পিছনে পিছনে আসিতেছিলেন)। আমি (আনাস) আবু তালহাকে গিয়া খবর দিলাম। আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষজন সঙ্গে লইয়া আসিতেছেন। অথচ আমাদের কাছে এই পরিমাণ খাবার নাই যে, তাহদের সকলকে খাওয়াইতে পারি। উম্মে সুলাইম বলিলেন, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল খুব ভাল অবগত আছেন। আবু তালহা বাহির হইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহার সঙ্গে অগ্রসর হইলেন এবং তাহার গৃহে প্রবেশ করিলেন। চল, আল্লাহ্ বরকত দিবেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হে উম্মে সুলাইম! তোমার কাছে যাহা কিছু আছে আমার কাছে নিয়া আস। উম্মে সুলাইম সেই রুটি লইয়া আসিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাকে টুকরা টুকরা (খণ্ড খণ্ড) করার নির্দেশ দিলেন। উম্মে সুলাইম রুটির সেই খণ্ডগুলিতে এক কুপি ঘৃত ছিটাইয়া দিলেন তখন উহা মলীদা হইয়া গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ যাহা চাহেন তাহা বলিলেন,[1] (পড়িলেন)। তৎপর ইরশাদ করিলেন, দশজনকে ডাক। অতএব দশজনকে ডাকা হইল। তাহারা সকলেই খাইয়া তৃপ্ত হইয়া চলিয়া গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর দশজনকে ডাকিতে বলিলেন। সেই দশজনও আসিয়া তৃপ্ত হইয়া খাইলেন এবং চলিয়া গেলেন। এইভাবে আরও দশজনকে ডাকিতে বলিলেন। তাহারাও তৃপ্ত হইয়া খাইলেন এবং চলিয়া গেলেন। এমন কি যতজন মানুষ সঙ্গে আসিয়াছিলেন সত্তর কিংবা আশিজন সকলেই তৃপ্ত হইয়া খাইলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 19
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1690 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ طَعَامُ الاِثْنَيْنِ كَافِي الثَّلاَثَةِ وَطَعَامُ الثَّلاَثَةِ كَافِي الأَرْبَعَةِ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, দুইজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারিজনের জন্য যথেষ্ট।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 20
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1691 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَكْفِئُوا الإِنَاءَ - أَوْ خَمِّرُوا الإِنَاءَ - وَأَطْفِئُوا الْمِصْبَاحَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ غَلَقًا وَلاَ يَحُلُّ وِكَاءً وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً وَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى النَّاسِ بَيْتَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ আসলামী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, (ঘরের) দরজা বন্ধ কর, মোশকের মুখ বন্ধ কর, বরতন ঢাকিয়া রাখ এবং চেরাগ নিভাইয়া দাও। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খোলে না, (মোশকের মুখে দেয়া) ছিপি খোলে না, ঢাকা বরতন উল্টায় না। স্মরণ রাখ, ইদুর লোকদের ঘরবাড়ি জ্বালাইয়া দেয়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 21
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1692 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَضِيَافَتُهُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২২. আবু শুরাইহ আল কা'বী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন ভাল কথা বলে নতুবা নীরব থাকে। যেই ব্যক্তি আল্লাহর ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন তাহার প্রতিবেশীর সহিত সদ্ব্যবহার করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনয়ন করিয়াছে, সে যেন তাহার মেহমানের সম্মান করে। একদিন এক রাত ভাল মতো মেহমানদারী করিবে এবং তিন দিন পর্যন্ত যাহা আছে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিবে। ইহা অধিক সওয়াবের কাজ। আর মেহমানের জন্য ইহা শোভনীয় নহে যে, মেযবানকে (যাহার কাছে মেহমান হইয়াছে তাহাকে) কষ্ট দিয়া বেশি দিন তাহার কাছে অবস্থান করিবে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 22
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1693 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ إِذِ اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ فَوَجَدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيهَا فَشَرِبَ وَخَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ فَقَالَ الرَّجُلُ لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي بَلَغَ مِنِّي فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلأَ خُفَّهُ ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ لَنَا فِي الْبَهَائِمِ لأَجْرًا فَقَالَ ‏"‏ فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, এক ব্যক্তি পথ চলিতেছিল। সে খুব বেশি পিপাসা বোধ করিল। একটি কূপ দেখিল এবং উহাতে অবতরণ করিয়া পানি পান করিল। এরপর কূপ হইতে বাহিরে আসিয়া দেখিল যে, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হইয়া হাঁপাইতেছে এবং কাদা লেহন করিতেছে। লোকটি (মনে মনে) বলিল, আমার মতো এই কুকুরটিও পিপাসায় কাতর হইয়াছে। অতঃপর লোকটি (পুনরায়) কূপে নামিয়া তাহার মোজায় পানি মুখে ভর্তি করিয়া লইয়া বাহির হইয়া আসিল। অতঃপর লোকটি কুকুরটিকে পানি পান করাইল। (তাহার এই কাজে) আল্লাহ তা’আলা তাহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া তাহাকে মাফ করিয়া দিলেন। সাহাবীগণ আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জানোয়ারকে (জীবজন্তুকে) পানি খাওয়াইলে আমাদের সওয়াব হইবে কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নিশ্চয়ই প্রাণী মাত্রকেই পানি পান করানোর মধ্যে সওয়াব হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 23
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1694 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا قِبَلَ السَّاحِلِ فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَهُمْ ثَلاَثُمِائَةٍ ‏.‏ قَالَ وَأَنَا فِيهِمْ - قَالَ - فَخَرَجْنَا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ فَنِيَ الزَّادُ فَأَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِأَزْوَادِ ذَلِكَ الْجَيْشِ فَجُمِعَ ذَلِكَ كُلُّهُ فَكَانَ مِزْوَدَىْ تَمْرٍ - قَالَ - فَكَانَ يُقَوِّتُنَاهُ كُلَّ يَوْمٍ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى فَنِيَ وَلَمْ تُصِبْنَا إِلاَّ تَمْرَةٌ تَمْرَةٌ فَقُلْتُ وَمَا تُغْنِي تَمْرَةٌ فَقَالَ لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَنِيَتْ - قَالَ - ثُمَّ انْتَهَيْنَا إِلَى الْبَحْرِ فَإِذَا حُوتٌ مِثْلُ الظَّرِبِ فَأَكَلَ مِنْهُ ذَلِكَ الْجَيْشُ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً ثُمَّ أَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِضِلَعَيْنِ مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنُصِبَا ثُمَّ أَمَرَ بِرَاحِلَةٍ فَرُحِلَتْ ثُمَّ مَرَّتْ تَحْتَهُمَا وَلَمْ تُصِبْهُمَا

রেওয়ায়ত ২৪. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রেরণ করিলেন। আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে সেই বাহিনীর নেতা মনোনীত করিলেন। সেই বাহিনীতে তিন শত সৈনিক ছিল। আমিও (অর্থাৎ জাবির ইবন আবদুল্লাহ) সেই দলে শামিল ছিলাম। পথিমধ্যে (আমাদের) আহার্য ফুরাইয়া গেল। আবূ উবায়দা (রাঃ) যেই পরিমাণ খাদ্য অবশিষ্ট আছে উহা একত্র করার আদেশ করিলেন। অতএব সব একত্র করা হইলে পর দেখা গেল যে, দুই বরতন খেজুর মাত্র আছে। আবূ উবায়দা (রাঃ) আমাদেরকে প্রতিদিন অল্প অল্প দিতেন। শেষ পর্যন্ত জনপ্রতি (মাত্র) একটি করিয়া খেজুর পাওয়া যাইতে লাগিল। অতঃপর তাহাও নিঃশেষ হইয়া গেল। ওয়াহাব ইবনে কীসান (রাঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলাম, একটি করিয়া খেজুরে কি হয়? (কিছুই তো হয় না)। তিনি বলেন, সেইটাও যখন শেষ হইয়া গেল, এখন সেইটার কদর বুঝিতে পারিলাম। অতঃপর আমরা যখন সমুদ্র তীরে পৌছিলাম, তখন সেখানে পাহাড়সম এক বিরাট মৎস্য পাওয়া গেল। গোটা বাহিনী আঠার দিন পর্যন্ত সেই মৎস্য খাইল। অতঃপর আবু উবায়দা সেই মৎস্যের হাড় (কাঁটা) দাড় করাইবার নির্দেশ দিলেন। পাঁজরের দুইটি হাড় মুখোমুখি করিয়া দাড় করাইয়া রাখা হইল। উহার নিচে দিয়া উষ্ট্র চলিয়া গেল, উষ্ট্রের গায়ে হাড় লাগিল না।[1] ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, الظرب অর্থ পাহাড়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 24
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1695 Hasan

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لاَ تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقًا ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৫. সা’দ ইবনে মা'আযের দাদী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, হে মুসলিম মহিলাগণ! তোমাদের কেহই যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ না করে, যদিও সে ছাগলের পোড়া খুর পাঠায় না কেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 25
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1696 Sahih Lighairihi

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ نُهُوا عَنْ أَكْلِ الشَّحْمِ فَبَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, ইহুদীগণকে আল্লাহ ধ্বংস করুন, তাহদের উপর চর্বি খাওয়া হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু তাহারা উহা বিক্রয় করিয়া মূল্য খাইয়াছে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 26
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1697 Maqtu Daif

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، كَانَ يَقُولُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَيْكُمْ بِالْمَاءِ الْقَرَاحِ وَالْبَقْلِ الْبَرِّيِّ وَخُبْزِ الشَّعِيرِ وَإِيَّاكُمْ وَخُبْزَ الْبُرِّ فَإِنَّكُمْ لَنْ تَقُومُوا بِشُكْرِهِ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৭. ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম বলিতেনঃ হে বনী ইসরাঈল! তোমরা স্বচ্ছ পানি, শাকপাতা ও যবের রুটি খাও গমের (আটার) রুটি খাইও না। কেননা তোমরা উহার শোকর আদায় করিতে পরিবে না।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 27
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1698 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَوَجَدَ فِيهِ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ وَعُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَسَأَلَهُمَا فَقَالاَ أَخْرَجَنَا الْجُوعُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَأَنَا أَخْرَجَنِي الْجُوعُ ‏"‏ ‏.‏ فَذَهَبُوا إِلَى أَبِي الْهَيْثَمِ بْنِ التَّيِّهَانِ الأَنْصَارِيِّ فَأَمَرَ لَهُمْ بِشَعِيرٍ عِنْدَهُ يُعْمَلُ وَقَامَ يَذْبَحُ لَهُمْ شَاةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ نَكِّبْ عَنْ ذَاتِ الدَّرِّ ‏"‏ ‏.‏ فَذَبَحَ لَهُمْ شَاةً وَاسْتَعْذَبَ لَهُمْ مَاءً فَعُلِّقَ فِي نَخْلَةٍ ثُمَّ أُتُوا بِذَلِكَ الطَّعَامِ فَأَكَلُوا مِنْهُ وَشَرِبُوا مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَتُسْئَلُنَّ عَنْ نَعِيمِ هَذَا الْيَوْمِ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করিলেন। সেখানে তিনি আবু বকর সিদ্দীক এবং উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে উপস্থিত পাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহদের কাছে মসজিদে আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা বলিলেন, ক্ষুধার তাড়নায় আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমাকেও ক্ষুধায় এখানে নিয়া আসিয়াছে। অতঃপর তাহারা [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর (রাঃ)] আবুল হাইশম ইবন তাইহান আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। তিনি যবের রুটি তৈরি করার নির্দেশ দিলেন এবং নিজে একটি ছাগল জবাই করার জন্য উদ্যত হইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, দুধের ছাগল জবাই করিও না। অতঃপর তিনি (আবুল হাইশম) আর একটি ছাগল জবাই করিলেন এবং মোশকে মিষ্ট পানি ভরিয়া (ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য) একটি খেজুর গাছে ঝুলাইয়া রাখিলেন । অতঃপর খাবার পরিবেশিত হইলে সকলে খাইলেন এবং সেই পানি পান করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহা সেই নিয়ামত। রোজ কিয়ামতে যাহার সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞাসিত হইবে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 28
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1699 Mauquf Daif

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَأْكُلُ خُبْزًا بِسَمْنٍ فَدَعَا رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ وَيَتَّبِعُ بِاللُّقْمَةِ وَضَرَ الصَّحْفَةِ فَقَالَ عُمَرُ كَأَنَّكَ مُقْفِرٌ ‏.‏ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ سَمْنًا وَلاَ رَأَيْتُ أَكْلاً بِهِ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لاَ آكُلُ السَّمْنَ حَتَّى يَحْيَا النَّاسُ مِنْ أَوَّلِ مَا يَحْيَوْنَ ‏.‏

রেওয়ায়ত ২৯. ইয়াহইয়া ইবন সায়ীদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) একদা রুটিতে ঘৃত মাখিয়া খাইতেছিলেন। এমন সময় জনৈক গ্রাম্য লোক আসিল। তিনি তাহাকেও ডাকিলেন। গ্রাম্য লোকটিও রুটি খাইতে লাগিল এবং রুটির সহিত ঘৃতের সেই ময়লাও খাইতে লগিল, যাহা ঘৃতের পাত্রে লাগিয়াছিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, তুমি কোনদিন কিছু খাও নাই মনে হইতেছে! লোকটি বলিল, আল্লাহর কসম! আমি অনেক দিন ধরিয়া ঘৃত খাই নাই এবং ঘৃত দিয়া রুটি খাইতে কাহাকেও দেখিও নাই। অতঃপর উমর (রাঃ) বলিলেন, যতদিন পর্যন্ত জনসাধারণের আর্থিক অবস্থা পূর্বে যেমন ছিল তেমন না হয়, ততদিন পর্যন্ত আমিও ঘৃত খাইব না।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 29
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1700 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ - يُطْرَحُ لَهُ صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ فَيَأْكُلُهُ حَتَّى يَأْكُلَ حَشَفَهَا ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩০. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) যখন আমীরুল মু'মিনীন ছিলেন, তখন তাহার সম্মুখে এক সা’ খেজুর রাখা হইত; আর তিনি উহা খাইতেন। এমন কি খারাপ ও শুকনা খেজুরও খাইতেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে যখন ফড়িং সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইল (ইহা কি হালাল, না হারাম)। তিনি বলিলেন, আমি পছন্দ করি যে, যদি আমার কাছে এক থলি ফড়িং হইত তবে আমি উহা খাইতাম (অর্থাৎ ফড়িং খাওয়া হালাল এবং উহা বেশ ভাল খাদ্য)। (ইহা পঙ্গপাল, এক বিশেষ ধরনের ফড়িং।)

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 30
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1701 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنِ الْجَرَادِ، فَقَالَ وَدِدْتُ أَنَّ عِنْدِي، قَفْعَةً نَأْكُلُ مِنْهُ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 31
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1702 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَالِكِ بْنِ خُثَيْمٍ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ بِأَرْضِهِ بِالْعَقِيقِ فَأَتَاهُ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَلَى دَوَابَّ فَنَزَلُوا عِنْدَهُ - قَالَ حُمَيْدٌ - فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اذْهَبْ إِلَى أُمِّي فَقُلْ إِنَّ ابْنَكِ يُقْرِئُكِ السَّلاَمَ وَيَقُولُ أَطْعِمِينَا شَيْئًا ‏.‏ قَالَ فَوَضَعَتْ ثَلاَثَةَ أَقْرَاصٍ فِي صَحْفَةٍ وَشَيْئًا مِنْ زَيْتٍ وَمِلْحٍ ثُمَّ وَضَعَتْهَا عَلَى رَأْسِي وَحَمَلْتُهَا إِلَيْهِمْ فَلَمَّا وَضَعْتُهَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ كَبَّرَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَشْبَعَنَا مِنَ الْخُبْزِ بَعْدَ أَنْ لَمْ يَكُنْ طَعَامُنَا إِلاَّ الأَسْوَدَيْنِ الْمَاءَ وَالتَّمْرَ ‏.‏ فَلَمْ يُصِبِ الْقَوْمُ مِنَ الطَّعَامِ شَيْئًا فَلَمَّا انْصَرَفُوا قَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَحْسِنْ إِلَى غَنَمِكَ وَامْسَحِ الرُّعَامَ عَنْهَا وَأَطِبْ مُرَاحَهَا وَصَلِّ فِي نَاحِيَتِهَا فَإِنَّهَا مِنْ دَوَابِّ الْجَنَّةِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ تَكُونُ الثُّلَّةُ مِنَ الْغَنَمِ أَحَبَّ إِلَى صَاحِبِهَا مِنْ دَارِ مَرْوَانَ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩১. হুমাইদ ইবনে মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট তাহার আকীকস্ত (জায়গার নাম) যমীনের খামারে বসিয়াছিলাম। এমন সময় তাহার নিকট কিছুসংখ্যক মদীনাবাসী সওয়ারীর উপর সওয়ার হইয়া আসিল এবং সেখানে নামিল। হুমাইদ বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বলিলেন, আমার আম্মার নিকট গিয়া আমার সালাম বল এবং আমাদেরকে কিছু খাওয়াইতে বল। হুমাইদ বলেন, (আমি তাহার আম্মার নিকট গিয়া উক্ত সংবাদ জানাইলাম)। তিনি তিনটি রুটি, কিছু যাইতুনের তেল এবং সামান্য লবণ পাত্রে রাখিয়া উহা আমার মাথার উপর রাখিলেন। উহা লইয়া আমি তাহদের (আবু হুরায়রা প্রমুখের) নিকট পৌছিলাম এবং তাঁহাদের সম্মুখে উহা রাখিলাম। আবু হুরায়রা (রাঃ) উহা দেখিয়া আল্লাহু আকবর বলিলেন এবং বলিলেন, আল্লাহর শোকর, যিনি পেট ভরিয়া রুটি খাওয়াইয়াছেন। ইতিপূর্বে আমাদের অবস্থা এই ছিল যে, খেজুর পানি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। উক্ত খাবার আগন্তুকদের জন্য যথেষ্ট হয় নাই। অতঃপর তাহারা চলিয়া গেল, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বলিলেন, ভাতিজা ছাগলগুলিকে ভালমতে যত্ন করিও, উহাদের নাক মুছিয়া দিও, উহাদের থাকার স্থানটা পরিষ্কার রাখিও এবং সেখানেই এক কোণে নামায পড়িও। কেননা উহা বেহেশতী জীব। সেই পাক জাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, অদূর ভবিষ্যতে জনসাধারণের উপর এমনই এক সময় আসিবে, যখন মারওয়ানের (আড়ম্বরপূর্ণ) ঘরের চেয়ে ছাগলের ছোট একটি পাল অধিক প্রিয় হইবে।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 32
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1703 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ وَمَعَهُ رَبِيبُهُ عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩২. আবু নঈম ওয়াহব ইবন কাইসান (রহঃ) জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লামের নিকট খাবার আনয়ন করা হইল। তাহার সহিত তাহার পালক ছেলে উমর ইবন আবী সালমাও ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেন, বিসমিল্লাহ বলিয়া তোমার সামনের দিক হইতে খাও।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 33
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1704 Mauquf Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَهُ إِنَّ لِي يَتِيمًا وَلَهُ إِبِلٌ أَفَأَشْرَبُ مِنْ لَبَنِ إِبِلِهِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنْ كُنْتَ تَبْغِي ضَالَّةَ إِبِلِهِ وَتَهْنَأُ جَرْبَاهَا وَتَلُطُّ حَوْضَهَا وَتَسْقِيهَا يَوْمَ وِرْدِهَا فَاشْرَبْ غَيْرَ مُضِرٍّ بِنَسْلٍ وَلاَ نَاهِكٍ فِي الْحَلْبِ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মদকে বলিতে শুনিয়াছি যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার নিকট একটি ইয়াতীম বালক আছে। তাহার উট আছে। আমি উহার দুগ্ধ পান করিব কি? ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি তুমি তাহার হারাইয়া যাওয়া উট তালাশ কর এবং উটের অসুখে-বিসুখে ঔষধ সেবন করাও, উহার (খড়-কুড়া ও পানির) হাউজ লেপন কর এবং পানের সময় পানি দাও তবে তুমি উহার দুগ্ধ এইভাবে পান করিতে পার যে, উটের বাচ্চার যেন ক্ষতি না হয় কিংবা উটের বংশ দৃদ্ধির জন্য উহা ক্ষতিকর না হয়।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 34
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1705 Maqtu Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ لاَ يُؤْتَى أَبَدًا بِطَعَامٍ وَلاَ شَرَابٍ حَتَّى الدَّوَاءُ فَيَطْعَمَهُ أَوْ يَشْرَبَهُ إِلاَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا وَأَطْعَمَنَا وَسَقَانَاوَنَعَّمَنَا اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ أَلْفَتْنَا نِعْمَتُكَ بِكُلِّ شَرٍّ فَأَصْبَحْنَا مِنْهَا وَأَمْسَيْنَا بِكُلِّ خَيْرٍ نَسْأَلُكَ تَمَامَهَا وَشُكْرَهَا لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ إِلَهَ الصَّالِحِينَ وَرَبَّ الْعَالَمِينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مَا شَاءَ اللَّهُ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِكٌ هَلْ تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ غَيْرِ ذِي مَحْرَمٍ مِنْهَا أَوْ مَعَ غُلاَمِهَا فَقَالَ مَالِكٌ لَيْسَ بِذَلِكَ بَأْسٌ إِذَا كَانَ ذَلِكَ عَلَى وَجْهِ مَا يُعْرَفُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَأْكُلَ مَعَهُ مِنَ الرِّجَالِ ‏.‏ قَالَ وَقَدْ تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ زَوْجِهَا وَمَعَ غَيْرِهِ مِمَّنْ يُؤَاكِلُهُ أَوْ مَعَ أَخِيهَا عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ وَيُكْرَهُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَخْلُوَ مَعَ الرَّجُلِ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا حُرْمَةٌ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ)-এর কাছে কেহ জিজ্ঞাসা করিল, যদি কোন স্ত্রীলোক গায়রে মাহরম পুরুষের সাথে (অর্থাৎ যাহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরীয়তসম্মত, তাহার সাথে) কিংবা স্বয়ং তাহার গোলামের সাথে খাবার খায়, তবে কি উহা জায়েয আছে? অতঃপর তিনি (ইমাম মালিক) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, যদি প্রচলিত প্রথানুযায়ী হয় এবং সেখানে অপরাপর মানুষও থাকে তবে কোন অসুবিধা নাই। মহিলা কখনও তাহার স্বামীর সাথে খায় এবং কখনও বা সেই সমস্ত লোকের সাথেও খায়, যাহাদেরকে তাহার স্বামী খাওয়ায়, আবার কখনও স্বীয় ভ্রাতার সহিত খায়। তবে স্ত্রীলোকের জন্য গায়রে মাহরমের সহিত নির্জনে থাকা মকরূহ (তাহরীমা)।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 35
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1706 Mauquf Hasan Lighairihi

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ إِيَّاكُمْ وَاللَّحْمَ فَإِنَّ لَهُ ضَرَاوَةً كَضَرَاوَةِ الْخَمْرِ ‏.‏

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 36
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1707 Mauquf Hasan Lighairihi

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَدْرَكَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَمَعَهُ حِمَالُ لَحْمٍ فَقَالَ مَا هَذَا فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَرِمْنَا إِلَى اللَّحْمِ فَاشْتَرَيْتُ بِدِرْهَمٍ لَحْمًا ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ أَمَا يُرِيدُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَطْوِيَ بَطْنَهُ عَنْ جَارِهِ أَوِ ابْنِ عَمِّهِ أَيْنَ تَذْهَبُ عَنْكُمْ هَذِهِ الآيَةُ ‏{‏أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا ‏}‏

রেওয়ায়ত ৩৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, গোশত খাওয়া হইতে বিরত থাক। কেননা শরাবের (মদের) মতো গোশত খাওয়ারও একটা নেশা হয়। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)-কে এমন অবস্থায় দেখিলেন যে, তখন তাহার (জাবিরের) সাথে গোশতের একটা পূর্ণ থলি ছিল। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা কি ? জাবির (রাঃ) জওয়াব দিলেন, ইয়া আমীরুল মু'মিনীন! আমার গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হইল, তাই এক দিরহামের গোশত ক্রয় করিলাম। উমর (রাঃ) বলিলেন, তোমাদের কেহই ইহা চায় না যে, নিজে না খাইয়া প্রতিবেশীকে খাওয়াইবে কিংবা তাহার চাচাত ভাইকে দিবে। তোমাদের নিকট হইতে এই আয়াতটি কোথায় গেল (যেখানে বলা হইয়াছে যে) (‏أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا) তোমরা পার্থিব জীবনে দুনিয়ার স্বাদ উপভোগ করিলে এবং বেশ উপকৃত হইলে (অতএব আজ উহার পরিণাম ভোগ কর)।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 37
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1708 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَلْبَسُ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَبَذَهُ وَقَالَ ‏ "‏ لاَ أَلْبَسُهُ أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩৭. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের একটি আংটি পরিধান করিতেন। একদা তিনি দাঁড়াইয়া উক্ত আংটি ফেলিয়া দিলেন এবং বলিলেন, আর কখনও ইহা পরিধান করিব না। (ইহা দেখিয়া) অন্যান্য সকলেই নিজ নিজ আংটি খুলিয়া ফেলিলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 38
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1709 Maqtu Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ لُبْسِ الْخَاتَمِ، فَقَالَ الْبَسْهُ وَأَخْبِرِ النَّاسَ، أَنِّي أَفْتَيْتُكَ بِذَلِكَ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩৮. সাদাকা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ)-এর কাছে আংটি পরিধান করার বৈধতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, পরিধান কর এবং লোকজনকে জানাইয়া দাও যে, আমি তোমাকে আংটি পরিধান করার পক্ষে ফতওয়া দিয়াছি।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 39
মুয়াত্তা ইমাম মালেক 1710 Sahih

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ أَبَا بَشِيرٍ الأَنْصَارِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ - قَالَ - فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَسُولاً قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ وَالنَّاسُ فِي مَقِيلِهِمْ ‏ "‏ لاَ تَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ ‏"‏ ‏.‏

রেওয়ায়ত ৩৯. আবু বসীর আনসারী আব্বাদ ইবনে তমীমকে বলিয়াছেন, তিনি (আবু বসীর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাথে কোনও একান্ত সফরে ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে কাজে পাঠাইলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমার বিশ্বাস যে, তখন সমস্ত লোক ঘুমাইয়াছিল। কাজটি ছিল কোন উটের গলায় কোন হার, তাবীয কিংবা ঘন্টা যেন না থাকে। থাকিলে কাটিয়া ফেলিতে বলেন।

রেফারেন্স: কিতাব 49, হাদিস 40

মূল পাঠ, অনুবাদ ও মান নির্ণয়: ওপেন-সোর্স Hadith API (fawazahmed0/hadith-api)। মান নির্ণয়গুলো উল্লিখিত মুহাদ্দিসদের।