। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা শপথ করলো, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিলো।
সুনানে আবু দাউদ 3243SahihSahihSahihSahih Bukhari (2416، 2417) Sahih Muslim (138)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ " . فَقَالَ الأَشْعَثُ فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قُلْتُ لاَ . قَالَ لِلْيَهُودِيِّ " احْلِفْ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفُ وَيَذْهَبُ بِمَالِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى { إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً } إِلَى آخِرِ الآيَةِ .
। ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ হাদীস আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমার এবং এক ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় একটি জমি ছিলো। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাক্ষী আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বললেনঃ তুমি কসম খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কসম করবে এবং আমার জমি তার হাতে চলে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের ওয়াদাসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশই নেই...।’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা আলে ইমরানঃ)
। আশ‘আস ইবনু কায়িস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কিনদাহ এলাকার একজন ও হাদরামাওত এলাকার একজন- এ দু’জনে ইয়ামেনে অবস্থিত এক খন্ড জমির মালিকানা দাবি করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মোকদ্দমা পেশ করলো। হাদরামাওতের লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তির পিতা আমার জমি জবরদখল করে নিয়েছে। সে এখন তার দখলে আছে। তিনি বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তাহলে আপনি তাকে এভাবে কসম করতে বলুন, ‘‘আল্লাহর শপথ, আমার এ জমি তার পিতা জবরদখল করে নিয়েছে এ বিষয়ে সে জানে না।’’ এ কথা শুনেই কিনদার লোকটি শপথ করতে উদ্ধত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শপথের মাধ্যমে কেউ কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলে সে হাত-পা কাটা অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। এ কথা শুনে কিনদী বললো, নিঃসন্দেহে এ জমিটা তার।
সুনানে আবু দাউদ 3245SahihSahihSahih Muslim (139)
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لأَبِي . فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَكَ يَمِينُهُ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ فَاجِرٌ لاَ يُبَالِي مَا حَلَفَ عَلَيْهِ لَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَىْءٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلاَّ ذَاكَ " . فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ لَهُ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالٍ لِيَأْكُلَهُ ظَالِمًا لَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ " .
। আলকামাহ ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর আল-হাদরামী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদরামাওতের একজন এবং কিনদাহ এলাকার একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। কিনদী বললো, এটা আমার দখলেই আছে। আমিই তাতে চাষাবাদ করি, এতে তার কোনো স্বত্ব নেই। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদরামীকে বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমাকে কিনদীর শপথের উপর নির্ভর করতে হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো মন্দ লোক। সে মিথ্যা কসম করতে পরোয়া করবে না। তার কোনো বাছ-বিচার নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এছাড়া তোমার কোনো বিকল্প নেই। কিনদী শপথ করতে অগ্রসর হলো। সে যখন পিঠ ফিরালো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রাখো! সে যুদি জুলুম করে অন্যের সম্পদ দখলের জন্য কসম খায়, তবে সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার মিম্বারের কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কসম খায়, তা একটি তাজা মিসওয়াকের জন্য হলেও- সে জাহান্নামে নিজের বাসস্থান ঠিক করে নিলো অথবা তার জন্য আগুন ওয়াজিব হয়ে গেলো।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ শপথ করতে গিয়ে যদি বলে, আমি লাত (নামক মূর্তির) নামে শপথ করে বলছি, তবে সে যেন অবশ্যই বলে- ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’’ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, আসো তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন কিছু সাদাকাহ করে।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতা-মাতা কিংবা দেবদেবীর নামে শপথ করবে না। তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে শপথ করবে। আর তোমরা আল্লাহর নামে কেবল সে বিষয়েই শপথ করবে যে বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী।
সুনানে আবু দাউদ 3249SahihSahihSahih Bukhari (6108) Sahih Muslim (1646)
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-কে একটি কাফেলার সাথে পেলেন। তখন তিনি তার পিতার নামে শপথ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কারো শপথ করার প্রয়োজন হলে সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে, অন্যথায় চুপ থাকে।
সুনানে আবু দাউদ 3250SahihSahihSahih Muslim (1646)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ مَعْنَاهُ إِلَى " بِآبَائِكُمْ " . زَادَ قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَذَا ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا .
। ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পিতার নামে কসম করতে শুনলেনঃ ‘বাপ-দাদার নামে কসম খেও না, এ পর্যন্ত উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কখনো ব্যক্তিগতভাবে বা বর্ণনা প্রসঙ্গে ঐরূপ শপথ করিনি।
। সাঈদ ইবনু আবূ উবাইদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে এভাবে শপথ করতে শুনলেনঃ ‘‘না! এ কা‘বার শপথ।’’ তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে সে শির্ক করলো।
। আবূ সুহাইল নাফি ইবনু মালিক ইবনু আবূ ‘আমির (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট জনৈক বেদুঈনের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার (বেদুঈনের) পিতার কসম! যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে সে সফলকাম হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তার পিতার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে। (হাদীসটি সম্ভবতঃ ইসলামের প্রথম যুগের- অনুঃ)।
সুনানে আবু দাউদ 3253SahihSahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ ثَعْلَبَةَ الطَّائِيُّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ بِالأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا " .
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমানতের উপর শপথ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার শপথ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তোমার প্রতিপক্ষ তা বিশ্বাস করবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আব্বাদ ইবনু আবূ সালিহ এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ সালিহ একই লোক।
। সুওয়াইদ ইবনু হানযালাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করতে রওয়ানা হলাম। তখন আমাদের সাথে ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ)-ও ছিলেন। এমন সময় তার এক শত্রু তাকে ধরে ফেললো। দলের লোকেরা এ ব্যাপারে শপথ করতে সংকোচবোধে করলে আমি শপথ করে বললাম, সে আমার ভাই। ফলে শত্রু তাকে ছেড়ে দিলো। ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে ঘটনাটি জানালাম এবং বললাম, দলের লোকেরা এভাবে শপথ করাকে ভালো মনে করেনি। তাই আমি শপথ করে বলেছি, সে আমার ভাই। তিনি বললেনঃ তুমি সঠিক বলেছো। কেননা এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।
সুনানে আবু দাউদ 3257SahihSahihSahihSahih Bukhari (4171) Sahih Muslim (110)
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، أَنَّ ثَابِتَ بْنَ الضَّحَّاكِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ الشَّجَرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ مِلَّةِ الإِسْلاَمِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُهُ " .
। সাবিত ইবনু দাহহাক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (হুদায়বিয়াতে) গাছের নীচে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করলে- সে যেরূপ বলতে তাই হবে। কেউ নিজেকে কোনো জিনিস দ্বারা হত্যা (আত্মহত্যা) করলে তাকে কিয়ামতের দিন ঐ জিনিস দ্বারা অবিরত শাস্তি দেয়া হবে। আর কেউ যদি এমন জিনিসের মানত করে যা মালিক সে নয়, তবে এ মানতের কোনো মূল্য নেই।
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি শপথ করে বলেঃ আমি ইসলাম থেকে মুক্ত। সে মিথ্যা বললেও সে যেরূপ বলেছে তদ্রূপই হবে। আর সত্যবাদী হলে তার পক্ষে নিরাপদে ইসলামে ফিরে আসা সম্ভব নয়।
। ইউসুফ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি দেখি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটির উপর খেজুর রেখে বললেনঃ এটা হচ্ছে এটার তরকারী।
। ইউসুফ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
সুনানে আবু দাউদ 3261SahihSahihSahihSahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَثْنَى " .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার পর ইনশাআল্লাহ বললো, সে ব্যতিক্রম করলো।
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ শপথ করে ইনশাআল্লাহ বললে সে ইচ্ছা করলে শপথ পূর্ণও করতে পারে আবার নাও করতে পারে, এতে কোনো দোষের কিছু নেই।
সুনানে আবু দাউদ 3263SahihSahihSahih Bukhari (6617)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ : أَكْثَرُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْلِفُ بِهَذِهِ الْيَمِينِ : " لاَ، وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ " .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে শপথ করতেনঃ ‘‘লা ওয়া মুকাল্লিবিল কুলূব।’’
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করার সময় বলতেনঃ ‘‘লা ওয়া আসতাগফিরুল্লাহ।’’
সুনানে আবু দাউদ 3266DaifDaifDaifIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَيَّاشٍ السَّمَعِيُّ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ دَلْهَمِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاجِبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ الْمُنْتَفِقِ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، لَقِيطِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ دَلْهَمٌ وَحَدَّثَنِيهِ أَيْضًا الأَسْوَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطٍ، : أَنَّ لَقِيطَ بْنَ عَامِرٍ، خَرَجَ وَافِدًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَقِيطٌ : فَقَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ حَدِيثًا فِيهِ : فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لَعَمْرُ إِلَهِكَ " .
। আসিম ইবনু লাক্বীত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা লাক্বীত্ব ইবনু আসিম (রাঃ) একটি দলের প্রতিনিধি হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে রওয়ানা হলেন। লাক্বীত্ব (রাঃ) বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। অতঃপর তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন। যাতে রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘লা‘আমরু ইলাহিকা।’’
সুনানে আবু দাউদ 3267SahihSahihSahihSahih Bukhari (7046) Sahih Muslim (2269)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، أَقْسَمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لاَ تُقْسِمْ " .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কসম খেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এভাবে শপথ করো না।
সুনানে আবু দাউদ 3268SahihSahihSahihSahih Bukhari (7000) Sahih Muslim (2269)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - قَالَ ابْنُ يَحْيَى كَتَبْتُهُ مِنْ كِتَابِهِ - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي أَرَى اللَّيْلَةَ فَذَكَرَ رُؤْيَا فَعَبَّرَهَا أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " أَصَبْتَ بَعْضًا وَأَخْطَأْتَ بَعْضًا " . فَقَالَ : أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ لَتُحَدِّثَنِّي مَا الَّذِي أَخْطَأْتُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " لاَ تُقْسِمْ " .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি। এ বলে সে স্বপ্নে যা দেখেছে তা বর্ণনা করলো। আবূ বাকর (রাঃ) এর ব্যাখ্যা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যায় কিছুটা ঠিক বলেছো এবং কিছুটা ভুল করেছো। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক; আপনি ভুল অংশটি বলে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ শপথ করো না।
সুনানে আবু দাউদ 3269DaifDaifSahihSahih Muslim (2269)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرِ الْقَسَمَ، زَادَ فِيهِ وَلَمْ يُخْبِرْهُ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেন। কিন্তু এতে ‘শপথ’ শব্দটি উল্লেখ নেই। এতে রয়েছেঃ তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-কে তার ভুল দিক অবহিত করেননি।
সুনানে আবু দাউদ 3270SahihSahihSahihSahih Bukhari (6140) Sahih Muslim (2057)
। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের কাছে কিছু মেহমান আসলো। এ সময় রাতের বেলা আবূ বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি (আবূ বাকর) আমাদের বলে গেলেন যে, তুমি মেহমানদের থেকে অবসর হওয়ার পর আমি আসবো। ‘আব্দুর রাহমান মেহমানদের কাছে ফিরে এসে তাদেরকে খাবার দিলেন। মেহমানরা বললেন, আবূ বাকর ফিরে না আসা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করবো না। তিনি ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মেহমানদের কি অবস্থা, তাদের খাবার খাইয়েছো? ঘরের লোকেরা বললো, না। আমি বললাম, আমি তাদের খাবার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তারা আপনাকে ছেড়ে খেতে রাজি হননি। তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আপনি) ফিরে না আসা পর্যন্ত ‘আমরা খাবো না। মেহমানরা বললেন, ‘আব্দুর রাহমান সত্যিই বলেছেন। তিনি আমাদের জন্য খাবার এনেছিলেন, কিন্তু আপনি না আসা পর্যন্ত ‘আমরা খেতে রাজি হইনি। তিনি বললেন, কোন্ জিনিস তোমাদেরকে বাঁধা দিলো? তারা বললেন, আপনার অনুপস্থিতি। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আজ রাতে আহার করবো না। তারাও বললেন, আল্লাহর শপথ! আপনি না খেলে ‘আমরাও রাতে আহার করবো না। তিনি বললেনঃ আমি এ রাতের মতো খারাপ রাত কখনো দেখিনি। তিনি ‘আব্দুর রাহমানকে বললেন, খাবার নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাদেরকে খাদ্য দেয়া হলো। তিনি বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করলেন, তারাও খেলেন। আমি জানতে পারলাম, তিনি (আবূ বাকর) সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে রাতের ঘটনা বর্ণনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তুমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং সত্যবাদী।
সুনানে আবু দাউদ 3271SahihSahihSahihSahih Muslim (2057)
। ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে সালিম (রহঃ) সূত্রের বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি বলেন, তিনি (আবূ বাকর) কাফফারাহা দিয়েছিলেন কি না আমি জানতে পারিনি।
সুনানে আবু দাউদ 3272Daif IsnaadDaif IsnaadIsnaad Hasan
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আনসার সম্প্রদায়ের দু’ ভাইয়ের মধ্যে একটি (যৌথ) মীরাস ছিলো। এক ভাই অপর ভাইয়ের কাছে তা বণ্টনের দাবি করলে সে বললো, তুমি পুনরায় মীরাস বণ্টনের কথা বললে আমি আমার সমস্ত সম্পদ কা‘বা ঘরের জন্য ওয়াকফ করে দিবো। ‘উমার (রাঃ) লোকটিকে বললেন, কা‘বা ঘর তোমার সম্পত্তির মুখাপেক্ষী নয়। তোমার শপথের কাফফারাহ আদায় করো এবং তোমার ভাইয়ের সাথে (বণ্টনের) কথাবার্তা বলো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান রবের নাফরমানীতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করণে এবং যার মালিক তুমি নও তাতে তোমার কোনো শপথ ও মানত জায়িয নেই।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজেই করা যেতে পারে আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কসম খাওয়া নিষেধ।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যে বস্তুর মালিক নয় তাতে তার কোনো মানত নেই শপথও নেই; আল্লাহর নাফরমানীর কাজে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে কোনো মানত গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো লোক কসম খাওয়ার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে সে তার শপথ বর্জন করে অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবে। পূর্বের শপথ বর্জন করাই শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ গণ্য হবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত এ বিষয়ের সহীহ হাদীসসমূহের বক্তব্য হচ্ছেঃ ‘‘তাকে তার শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ দিতে হবে’’ কিন্তু যেসব হাদীস যথার্থ নয় সেগুলো ছাড়া। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ (রহঃ)-কে বললাম, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (রাঃ) ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন আহমাদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদের হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যাত এবং তার পিতা অজ্ঞাত।
সুনানে আবু দাউদ 3275SahihSahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ رَجُلَيْنِ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الطَّالِبَ الْبَيِّنَةَ، فَلَمْ تَكُنْ لَهُ بَيِّنَةٌ فَاسْتَحْلَفَ الْمَطْلُوبَ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " بَلَى قَدْ فَعَلْتَ، وَلَكِنْ قَدْ غُفِرَ لَكَ بِإِخْلاَصِ قَوْلِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : يُرَادُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لَمْ يَأْمُرْهُ بِالْكَفَّارَةِ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা দু’ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের বিবাদ পেশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদীর কাছে প্রমাণ চাইলেন। কিন্তু তার কাছে প্রমাণ ছিলো না। তিনি বিবাদীকে শপথ করতে বললে সে বলল, মহান আল্লাহর নামে শপথ, যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তো (মিথ্যা শপথ) করেছো। কিন্তু তোমাকে নিষ্ঠার সাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ বলার কারণে ক্ষমা করা হয়েছে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাফফারাহ প্রদানের নির্দেশ দেননি।
সুনানে আবু দাউদ 3276SahihSahihSahihSahih Bukhari (6623) Sahih Muslim (1649)
। আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কোনো কাজের শপথ করার পর তার বিপরীত দিকে কল্যাণ দেখতে পেলে ইনশাআল্লাহ আমি শপথ ভঙ্গ করে কাফফারাহ প্রদান করবো এবং অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো। অথবা তিনি বলেছেনঃ আমি অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ আদায় করবো।
সুনানে আবু দাউদ 3277SahihSahihSahih Bukhari (6722) Sahih Muslim (1652)
। ‘আব্দুর রাহমান (রাঃ) সূত্রে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আছেঃ ‘‘প্রথমে কাফফারাহ দিবে, তারপর কল্যাণকর কাজটি করবে।’’ আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা আল-আশ‘আরী, ‘আদী ইবনু হাতিম ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের পর কাফফারাহ আদায় করবে, আর কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারাহ আদায় করবে।
সুনানে আবু দাউদ 3279Daif IsnaadDaif IsnaadDaifDaif
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ عِيَاضٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبٍ بِنْتِ ذُؤَيْبِ بْنِ قَيْسٍ الْمُزَنِيَّةِ، - وَكَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ مِنْ أَسْلَمَ ثُمَّ كَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَخٍ لِصَفِيَّةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ حَرْمَلَةَ : فَوَهَبَتْ لَنَا أُمُّ حَبِيبٍ صَاعًا - حَدَّثَتْنَا عَنِ ابْنِ أَخِي صَفِيَّةَ عَنْ صَفِيَّةَ أَنَّهُ صَاعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَنَسٌ : فَجَرَّبْتُهُ، أَوْ قَالَ فَحَزَرْتُهُ فَوَجَدْتُهُ مُدَّيْنِ وَنِصْفًا بِمُدِّ هِشَامٍ .
। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু হারমালাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীব আমাদেরকে একটি সা‘ দিলেন। তিনি আমাদেরকে তার দ্বিতীয় স্বামী সাফিয়্যাহর ভ্রাতুষ্পুত্রের সূত্রে বলেন, তিনি সাফিয়্যাহর সূত্রে বলেছেন, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সা‘। আনাস (ইবনু ইয়াদ) বলেন, আমি তা যাচাই করে দেখেছি, তার ওজন হিশাম ইবনু আব্দুল মালিকের যুগের আড়াই মুদ্দের সমান।
। মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু খাল্লাদ আবূ ‘আমর (রহঃ) বলেন, ‘মাককূক খালিদ’ নামে আমাদের একটি মাক্কূক ছিলো। তা ছিলো হারূনুর রশীদের আমলের পরিমাপকের দ্বিগুণ। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, খালিদের সা‘ ছিলো হিশাম ইবনু মালিকের সা‘।
সুনানে আবু দাউদ 3281Sahih MaqtuSahih MaqtuIsnaad Hasan
। উমাইয়্যাহ ইবনু খালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ আল-কাসরী গভর্ণর হয়ে সা‘-কে দ্বিগুণ করলেন। তাতে এক সা‘ ষোল রতলের সমান হয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ খাল্লাদকে নিগ্রোরা বন্দী করে হত্যা করে। তিনি তার হাতের ইশরায় বলেন, এভাবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) তার হাত প্রসারিত করেন এবং দু’ হাতের তালু মাটির দিকে উপুর করে বলেন, আমি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনার বন্দী অবস্থা আপনার অনিষ্ট করতে পারেনি।
সুনানে আবু দাউদ 3282SahihSahihSahihSahih Muslim (537)
। মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি বাঁদী আছে। আমি তাকে জোরে থাপ্পড় মেরেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এটা কষ্টদায়ক মনে হলো। আমি বললাম, তাকে আযাদ করে দেই? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে নিয়ে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে। এরপর বললেন, আমি কে? সে বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তাকে আযাদ করে দাও, কারণ সে মু‘মিনা।
সুনানে আবু দাউদ 3283Hasan SahihHasan SahihHasanIsnaad Hasan
। আশ-শারীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তার মা তাকে একটি মু‘মিন বাঁদী আযাদ করতে তাকে ওসিয়াত করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা তার পক্ষ থেকে একটি মু‘মিন কৃতদাসী আযাদ করতে আমাকে ওসিয়াত করেছেন। কিন্তু আমার কাছে নুবা এলাকার একটি হাবশী ক্রীতদাসী আছে। এরপর হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসের শেষাংশের অনুরূপ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খালিদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ এটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আশ-শারীদের নাম উল্লেখ করেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি একটি কালো দাসী নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি মু‘মিন দাসী আযাদ করতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাসীটিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে তার হাতের আঙ্গুল আসমানের দিকে ইশারা করলো। তিনি তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কে? সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আকাশের দিকে ইশারা করে বললো, আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে মু‘মিন।
সুনানে আবু দাউদ 3285SahihSahihDaifDaif
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا، وَاللَّهِ لأَغْزُوَنَّ قُرَيْشًا " . ثُمَّ قَالَ : " إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَقَدْ أَسْنَدَ هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَسْنَدَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ شَرِيكٍ : ثُمَّ لَمْ يَغْزُهُمْ .
। ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি ইনশাআল্লাহ বললেন।[1] আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম (রহঃ) শারীক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
। ইকরিমাহ (রহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ। পুনরায় তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো ইনশাআল্লাহ তা‘আলা। অতঃপর তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অচিরেই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললেনঃ ইনশাআল্লাহ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) শারীক (রহঃ) সূত্রে হাদীসের শেষাংশে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
সুনানে আবু দাউদ 3287SahihSahihSahihSahih Bukhari (6608) Sahih Muslim (1639)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ عُثْمَانُ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنِ النَّذْرِ ثُمَّ اتَّفَقَا وَيَقُولُ : " لاَ يَرُدُّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ " . قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " النَّذْرُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا " .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করে বলেনঃ মানত (তাকদীরের) কোনো কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না, শুধু কৃপণের কিছু সম্পদ ব্যয় হয় মাত্র। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানত কোনো কিছুই প্রতিহত করতে পারে না।
সুনানে আবু দাউদ 3288SahihSahihSahihSahih Bukhari (6694) Sahih Muslim (1640)
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আল্লাহ বলেন) মানত আদম সন্তানের তাকদীরকে এমন কিছু দিতে পারে না- যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করিনি। বরং আমি তার তাকদীরে যা নির্ধারণ করেছি কেবল তাই মানত তাকে এনে দেয়। তা কৃপণের ধন থেকে কিছু পরিমাণ বের করে আনে এবং তার নিকট তা নিয়ে আসে যা আগে তার কাছে আসেনি।
সুনানে আবু দাউদ 3289SahihSahihSahihSahih Bukhari (6696، 6700)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَيْلِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ " .
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানীর মানত করে সে যেন তা না করে।
সুনানে আবু দাউদ 3290SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ، وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " .
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহের কাজে মানত করা জায়িয নেই। (কেউ করলে) এর কাফফারাহ হবে শপথ ভঙ্গের কাফফারাহর সমান।
। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু শাববুয়াহ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, ইবনুল মুবারাক (রহঃ) এ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন, যুহরী এ হাদীসটি আবূ সালামাহর কাছে শুনেননি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তারা আমাদের জন্য হাদীসকে ত্রুটিযুক্তভাবে বর্ণনা করেছে। সুতরাং এ কথা কি সঠিক? আর ইবনু উয়াইস ছাড়া অপর কেউ কি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন? তিনি উত্তরে বলেন, বিশ্বস্ততায় আইয়ূব ইবনু সুলাইমান ইবনু বিলাল আবূ উয়াইসের সমপর্যায়ের। হাদীসটি আইয়ূবও বর্ণনা করেছেন।
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘পাপকাজে কোনো মানত নেই। এর কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ।’’ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী (রহঃ) বলেন, সঠিক সনদ হলোঃ আলী ইবনুল মুবারক- ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর মুহাম্মাদ ইবনুয যুবায়র তার পিতা- ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল-মারওয়াযী এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এ হাদীস সম্পর্কে সুলাইমান ইবনু আরকাম সন্দেহান। তার থেকে আয-যুহরী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মুরসালভাবে আবূ সালামা ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বাকিয়্যাহ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আওযাঈ-ইয়াহইয়া মুহাম্মাদ ইবনুয যুবায়র আলী ইবনুল মুবারকের সনদে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।
। উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বোন পদব্রজে এবং খালি মাথায় হজ (হজ্জ) করার মানত করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ওড়না পড়তে, যানবাহনে আরোহণ করতে এবং তিন দিন সওম পালন করতে আদেশ করো।
। মাখলাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আর-রু‘আইনী উপরোক্ত হাদীস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত সনদের অনুরূপ সনদে একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সুনানে আবু দাউদ 3295DaifDaifDaifSahih
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُخْتِي نَذَرَتْ - يَعْنِي - أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَةً . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " إِنَّ اللَّهَ لاَ يَصْنَعُ بِشَقَاءِ أُخْتِكَ شَيْئًا، فَلْتَحُجَّ رَاكِبَةً وَلْتُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهَا " .
। ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বোন পদব্রজে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে যাওয়ার মানত করেন। তিনি আমাকে এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে বলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফতোয়া জানতে চাইলে তিনি বললেনঃ সে যেন পায়ে হেঁটে যায় এবং যানবাহনেও যায়।
সুনানে আবু দাউদ 3296SahihSahihHasan
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ أُخْتَ، عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ، إِلَى الْبَيْتِ، فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَرْكَبَ وَتُهْدِيَ هَدْيًا .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)-এর বোন পদব্রজে হজে (হজ্জে) যাওয়ার মানত করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাওয়ারীতে করে আসার এবং একটি কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন।
সুনানে আবু দাউদ 3297SahihSahihSahihHasan
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَلَغَهُ أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَةً قَالَ : " إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ نَذْرِهَا، مُرْهَا فَلْتَرْكَبْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ نَحْوَهُ وَخَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন, উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)-এর বোন পদব্রজে হজ (হজ্জ) করার মানত করেছেন তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তার এরূপ মানতের মুখাপেক্ষী নন। তাকে যানবাহনে চড়ে হজে (হজ্জে) আসার নির্দেশ দাও। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু আরূবাহ (রহঃ)-ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। খালীদ (রহঃ) ইকরিমাহ (রহঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)-এর বোন ... অতঃপর হিশামের হাদীসের সামর্থবোধক হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী কুরবানীর উল্লেখ করেননি। এতে আরো রয়েছেঃ তোমার বোনকে হুকুম করো সে যেন বাহনে চড়ে যায়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খালিদ (রহঃ) এ হাদীস ইকরিমাহ সূত্রে হিশামের হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেন।
সুনানে আবু দাউদ 3299SahihSahihSahih Bukhari (1866) Sahih Muslim (1644)
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ حَدَّثَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ : نَذَرَتْ أُخْتِي أَنْ تَمْشِيَ، إِلَى بَيْتِ اللَّهِ، فَأَمَرَتْنِي أَنْ أَسْتَفْتِيَ لَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : " لِتَمْشِ وَلْتَرْكَبْ " .
। উকবাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক বোন পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার মানত করেন। তিনি আমাকে হুকুম করলেন, আমি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফতোয়া জানতে চাইলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে যেন পায়ে হেঁটেও যায় এবং বাহনে চড়েও যায়।
সুনানে আবু দাউদ 3300SahihSahihSahihSahih Bukhari (6704)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখলেন, একটি লোক রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে লোকেরা বললো, সে আবূ ইসরাঈল। সে মানত করে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়া নিবে না, কথাবার্তা বলবে না এবং সওম পালন করবে। তখন তিনি বললেনঃ তাকে আদেশ করো, সে যেন কথা বলে, ছায়া নেয়, বসে এবং সওম পূর্ণ করে।
সুনানে আবু দাউদ 3301SahihSahihSahihSahih Bukhari (6701) Sahih Muslim (1642)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يُهَادَى بَيْنَ ابْنَيْهِ فَسَأَلَ عَنْهُ فَقَالُوا : نَذَرَ أَنْ يَمْشِيَ . فَقَالَ : " إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ تَعْذِيبِ هَذَا نَفْسَهُ " . وَأَمَرَهُ أَنْ يَرْكَبَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, এক ব্যক্তিকে তার দু’ ছেলের কাঁদে ভর করে হেঁটে যাচ্ছে। তিনি তার সম্পর্কে জানতে চাইলে লোকেরা বললো, সে পায়ে হেঁটে (হজে (হজ্জে)) যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বললেনঃ এ ব্যক্তি নিজেকে এভাবে কষ্ট দেয়া থেকে আল্লাহ সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি তাকে বাহনে চড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
সুনানে আবু দাউদ 3302SahihSahihSahihSahih Bukhari (1620)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الأَحْوَلُ، أَنَّ طَاوُسًا، أَخْبَرَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ بِإِنْسَانٍ يَقُودُهُ بِخِزَامَةٍ فِي أَنْفِهِ، فَقَطَعَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَقُودَهُ بِيَدِهِ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘর তাওয়াফ করার সময় এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করতে গিয়ে দেখলেন- তার নাকে আংটিযুক্ত রশি লাগিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজ হাতে কেটে ফেলেন এবং তাকে তার হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি (মক্কা) বিজয়ের দিন দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে মক্কা বিজয়ের গৌরব দান করলে আমি আল্লাহর জন্য বাইতুল মুকাদ্দাসে দু’ রাক‘আত সালাতের মানত করেছিলাম। তিনি বললেনঃ ঐ সালাত এখানেই আদায় করো। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বলেনঃ এখানে (মাসজিদুল হারামে) পড়ে নাও। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে তোমার স্বাধীনতা রয়েছে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
। ‘উমার ইবনু ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রহঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীর সূত্রে উপরের হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এতে রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি মুহাম্মাদকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন! তুমি এখানে তোমার মানতের সালাত আদায় করে নিলে এটা তোমার বাইতুল মুকাদ্দাসের সালাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট হতো।
সুনানে আবু দাউদ 3307SahihSahihSahih Bukhari (2761) Sahih Muslim (1638)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ لَمْ تَقْضِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْضِهِ عَنْهَا " .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। সা‘দ ইবনু উবাইদাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফতোয়া জানতে চেয়ে বললেন, আমার মা মারা গেছেন, কিন্তু তার একটি মানত আছে যা তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার পক্ষ থেকে তা আদায় করো।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা সমুদ্রে ভ্রমণে গিয়ে মানত করলো, আল্লাহ যদি তাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে একমাস সওম পালন করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে সমুদ্রে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু সওম পালনের পূর্বেই সে মারা গেলো। তার মেয়ে অথবা বোন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলে তিনি তাকে মৃতের পক্ষ থেকে সওম পালনের নির্দেশ দিলেন।
সুনানে আবু দাউদ 3309SahihSahihSahihSahih Muslim (1149)
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, আমি আমার মাকে একটি দাসী দিয়েছিলাম। তিনি ঐ দাসী রেখে মারা গেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘তুমি সওয়াব পেয়েছো এবং ঐ দাসী উত্তরাধিকার সূত্রে পুনরায় তোমার মালিকানায় ফিরে এসেছে।’ সে বললো, তিনি এক মাসের সওম বাকি রেখে মারা গেছেন। হাদীসের বাকি অংশ (উপরের) ‘আমর ইবনু আওন বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
সুনানে আবু দাউদ 3310SahihSahihSahihSahih Bukhari (1953) Sahih Muslim (1148)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, তার মায়ের এক মাসের সওম বাকি আছে। কাজেই আমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করবো? তিনি বলেনঃ তোমার মা ঋনগ্রস্ত হলে তুমি তা পরিশোধ করতে না? মহিলা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তবে আল্লাহর প্রাপ্য পরিশোধ করাটা অধিক গ্রহণযোগ্য।
সুনানে আবু দাউদ 3311SahihSahihSahih Bukhari (1952) Sahih Muslim (1147)
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোনো ব্যক্তি সওম অনাদায়ী রেখে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ সওম পালন করবে।
সুনানে আবু দাউদ 3312Hasan SahihHasan SahihSahih LighairihiIsnaad Hasan
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছি যে, আপনার মাথার উপর দফ বাজাবো। তিনি বললেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করো। মহিলাটি আবার বললেন, আমি অমুক অমুক স্থানে যাবাহ করার মানত করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ঐসব স্থানে জাহিলী যুগে কুরবানী করা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, তোমার এ কুরবানী কি কোনো মূর্তির জন্য? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমার মানত পূর্ণ করো।
সুনানে আবু দাউদ 3313SahihSahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ، قَالَ : نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ : " هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لاَ وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ " .
। সাবিত ইবনু দাহহাক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি মানত করে যে, সে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট যাবাহ করবে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, আমি বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার মানত করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেখানে কি জাহিলী যুগের কোনো মূর্তি রয়েছে? লোকেরা বললো, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি তাদের কোনো মেলা বসতো? লোকেরা বললো, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করতে পারো। কেননা আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজের জন্য কৃত মানত পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় তারও কোনো মানত নেই।
। কারদাম- কন্যা মাইমুনাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায় হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম। আমি যখন লোকজনকে বলতে শুনলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমি এক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার পিতা তাঁর কাছে গেলেন, তখন তিনি তাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত ছিলেন। তাঁর সাথে সচিবের চাবুকের মতো একটি চাবুক ছিলো। আমি লোকদেরকে এবং বেদুঈনদের বলতে শুনলাম, চাবুক, চাবুক। আমার পিতা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর পা ধরলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা তাঁর নাবুওয়াতের স্বীকারোক্তি করলেন এবং তাঁর কথা শুনলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছিলাম, আমার একটি পুত্র সন্তান হলে আমি বুওয়ানার শেষ প্রান্তে পাহাড়ের পাদদেশে কিছু সংখ্যক মেষ যাবাহ করবো। অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় মাইমূনাহ (রাঃ) পঞ্চাশটি বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি কোনো প্রতিমা আছে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আল্লাহর নামে কৃত মানত পূর্ণ করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার মেষগুলো একত্র করে যাবাহ করতে লাগলেন। তার মধ্য থেকে একটি মেষ ছুটে পালালে তিনি এই বলতে বলতে তার পিছু ধাওয়া করেনঃ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার মানত পূর্ণ করুন।’ সুতরাং তিনি সেটিকে ধরে ফেলেন এবং যাবাহ করেন।
সুনানে আবু দাউদ 3315SahihSahihHasan LighairihiIsnaad Hasan
। কারদাম ইবনু সুফিয়ান- কন্যা মাইমূনাহ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত, কিন্তু সংক্ষিপ্তভাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কোনো প্রতিমা আছে কি না? অথবা জাহিলী যুগে কোনো মেলা বসতো কি না? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, এ আমার মা, তার একটি মানত পবব্রজে (হজ (হজ্জ)) করার ইচ্ছা আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
সুনানে আবু দাউদ 3316SahihSahihHasan SahihSahih Muslim (1641)
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-আদবা নামক উটটি আক্বীল গোত্রের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিলো। এ উট হাজীদের কাফেলার আগে আগে চলতো। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটিকে বনদী করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে চাদর জড়িয়ে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলেন। আল-আদবার মালিক বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাকে এবং হাজীদের আগে আগে চলা আমার উষ্ট্রীকে কোনো অপরাধে গ্রেপ্তার করলেন? তিনি বললেনঃ তোমাকে তোমার বন্ধুগোত্র সাক্বীফদের অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সাক্বীফ গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিলো। আল-আদবার মালিক বললো, আমি মুসলিম অথবা সে বললো, আমি ইসলাম কবূল করেছি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন আমি এ কথাগুলো মুহাম্মাদ ইবনু ঈসার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কিছুদূর অগ্রসর হলেন তখন লোকটি উচ্চস্বরে হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ বলে ডাকলো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অনুগ্রহকারী ও সহানুভূতিশীল। তিনি তার ডাকে ফিরে এসে বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি মুসলিম। তিনি বললেনঃ তুমি বন্দী হওয়ার আগে এ কথা বললে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যেতে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি সুলাইমানের বর্ণিত হাদীসে প্রত্যাবর্তন করি। লোকটি বললো, হে মুহাম্মাদ! আমি ক্ষুধার্ত আমাকে খাদ্য দিন, আমি পিপাসার্ত, আমাকে পান করান। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই তোমার উদ্দেশ্য অথবা এটাই তার উদ্দেশ্য। বর্ণনাকারী বলেন, এ বন্দীর বিনিময়ে মুসলিম বন্দীদ্বয়কে মুক্ত করে আনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আদবা নামক উষ্ট্রীটি নিজের সওয়ারী হিসেবে রাখলেন। অতঃপর মুশরিকরা মদীনায় এসে উপকণ্ঠে হামলা করে আদবা উটকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় এবং একজন মুসলিম মহিলাকেও বন্দী করে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা রাতের বেলা উটগুলোকে ময়দানে ছেড়ে দিতো। এক রাতে তারা গভীর ঘুমে থাকলে মুসলিম বন্দী মহিলাটি গিয়ে যে উটের গায়েই হাত দিলেন সেটা আওয়াজ করলো। এভাবে তিনি আল-আদবার কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি একটি অনুগত ও সুদক্ষ উষ্ট্রীর কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি তার পিঠে চড়লেন, এবং আল্লাহর নামে মানত করলেন, আল্লাহ যদি মুশরিকদের কবল থেকে তাকে মুক্তি দেন তাহলে তিনি এ পশুটি যাবাহ করবেন। অতঃপর তিনি মদীনায় আসলে ঐ উটনীকে চেনা গেলো যে, এটি ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনী। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ খবর দেয়া হলো। তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর তাকে নিয়ে আসা হলো এবং তার মানত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানানো হলো। তিনি বললেনঃ তুমি উটনীকে খুবই নির্মম প্রতিদান দিতে চেয়েছো। আল্লাহ তাকে যে উটনীর সাহায্যে মুক্তি দিলেন সে তাকে যাবাহ করতে চায়। আল্লাহর নাফরমানীর কাছে মানত করলে তা পূরণ করা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যার মালিক নয় তার মানত করা ও তা পূর্ণ করা জায়িয নয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ মহিলা আবূ যার (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন।
। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য দান করে দিবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশে নিজের জন্য রেখে দেয়াই তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশ নিজের জন্য রেখে দিলাম।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তার তওবা কবূল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো ... ‘তোমার জন্য উত্তম হবে’ পর্যন্ত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
সুনানে আবু দাউদ 3319Sahih IsnaadSahih IsnaadHasan LighairihiHasan
। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বা আবূ লুবাবাহ কিংবা আল্লাহর ইচ্ছায় অপর কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার গোত্রের যে বাড়িতে অপরাধের শিকার হয়েছি তা ত্যাগ করবো এবং আমার সমস্ত সাদাকাহ করে দিবো। তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, আবূ লূবাবাহ (রাঃ) ছিলেন ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। ঘটনাটি আবূ লুবাবাহ (রাঃ) সংশ্লিষ্ট। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনু শিহাব থেকে তিনি বনু সায়িব ইবনু আবূ লুবাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
। কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে খরচ করবো। তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক সম্পদ? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললাম, খায়বারে প্রাপ্ত সম্পদ আমার নিজের জন্য রেখে দিলাম।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ নাম উল্লেখ (নির্দিষ্ট) না করে মানত করলে তার কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ। কেউ গানাহের কাজে মানত করলে তার কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারা অনুরূপ। কেউ যদি এমন মানত করে যা পূর্ণ করা তার সামর্থের বাইরে, তার কাফফারাহ হবে শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ। কোনো ব্যক্তি যদি সামর্থ্য অনুযায়ী মানত করে তবে সে যেন তা পূর্ণ করে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ওয়াকী ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ এ হাদীস ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ইবনু হিন্দ (রহঃ) থেকে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উপর মওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন।